বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

টাইম ট্রাভেল

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মুন্না (০ পয়েন্ট)

X টাইম_ট্রাভেল⏰ মিস্টার "A" তাঁর বিয়ের তিনদিন পর স্ত্রীর কাছে বিদায় নিয়ে (????) একটি ট্রেনে চড়ে সাতদিনের জন্য ঘুরতে গেলেন। আসার পর দেখলেন তার ছেলের বয়স হয়ে গেছে ৬৫ বছর!!! (সর্বনাশ!!????) রহস্যময় জগতে সময় যাত্রা সবচেয়ে বিতর্কিত একটি বিষয়। সময় যাত্রা বা টাইম ট্রাভেল আসলে কি সম্ভব? এই সম্পর্কে পদার্থবিজ্ঞান কি বলে? বিজ্ঞানীরা টাইম ট্রাভেল বলতে আসলে কি বুঝিয়েছেন? আমরা সিনেমায় যে টাইম ট্রাভেল দেখি সেটা আর বিজ্ঞানীদের কল্পনার টাইম ট্রাভেল কি একই অর্থ বোঝায়? আলোর চেয়ে বেশি গতিতে গেলে কি আসলেই টাইম ট্রাভেল করা যায়? চলুন আজকে একটু টাইম ট্রাভেল করে আসা যাক। গত দিন ওয়ার্ম হোলের মাধ্যমে মহাবিশ্ব ভ্রমণ করেছি। আজকে আমরা ট্রেনে চড়ে টাইম ট্রাভেল করব। সময় যাত্রা কি সম্ভব? যে কাউকে জিগেস করলে বলবে এটা সম্ভব নয়। কিন্তু পদার্থবিজ্ঞান বলে সম্ভব। সময় সম্পর্কে পূর্বে বিজ্ঞানীদের মত ছিল যে এটি একটি ধ্রুবক। যেখান থেকেই দেখা হোক না কেম সময় সর্বত্রই একইভাবে বিরাজ করে। কিন্তু আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্ব এই কথাকে ভূল প্রমাণিত করে। এই তত্ত্ব থেকে দেখা যায় যে সময় কনস্ট্যান্ট নয়। এটাও একটা ভেরিয়েবল। অর্থ্যাৎ সময় সাপেক্ষের ওপর নির্ভর করে। আমাদের সৌরগজগতে সময় যেভাবে চলে অন্য কোথাও যে সেভাবেই চলবে তা না। এই তত্ত্ব বলে যে আমরা সকলেই টাইম ট্রাভেল করছি (বর্তমান থেকে ভবিষ্যৎ)। আইনস্টাইন এর "স্পেস টাইম ইকুয়েশন" থেকে জানা যায় যদি কোনো বস্তু খুব দ্রুতগতিতে চলে তবে তার জন্য সময় ধীরে চলে। (বলেন কি?) হ্যাঁ, কিন্তু এই সময়ের পার্থক্য খুব সামান্য বলে আমরা বুঝতে পারি না (ন্যানো সেকেন্ডের ভগ্নাংশ)। আমরা যদি কোনো দ্রুতগামী ট্রেনে চড়ে ভ্রমণ করি তবে আমাদের সময় স্থির মানুষের সময় থেকে ধীর মনে হবে। কিন্তু এটা বোঝা যায় না। এটা বোঝার জন্য আপনার গতি আলোর গতির সমতুল্য হতে হবে। তবেই এই সামান্য সময় অনুভব করা যাবে। এটা স্টিফেন হকিং যেভাবে কল্পনা করেছেন সেভাবে কল্পনা করা যাক। ধরা যাক একটি রেলওয়ে ট্র‍্যাক পৃথিবীকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে যার বেগ আলোর বেগের সমান। আইনস্টাইনের তত্তে অনুযায়ী যখন এই বেগে ট্রেনটি চলবে তখন তার যাত্রিদের সময় ধীরগতিসম্পন্ন হয়ে যাবে। এতটাই ধীরগতির হবে যে তাদের সাপেক্ষে পৃথিবীতে চলা ঘটনা খুব দ্রুত মনে হবে? যেন তাদের এক সেকেন্ডে পৃথিবীর কয়েক বছর কেটে যাচ্ছে। অথচ তাদের কাছে ট্রেনের অভ্যন্তরের সময় স্বাভাবিক মনে হবে। আর বাইরের পৃথিবীর সাপেক্ষে ট্রেনের অভ্যন্তরীণ সময় আত্যন্ত ধীরগতির মনে হবে। আর ট্রেনের ভিতরের যাত্রির হিসাব অনুযায়ী ট্রেনটি এক সপ্তাহ পর থামলে পৃথিবী হিসেবে অনেক বছর কেটে যাবে, আর ওই যাত্রি নিজেকে ভবিষ্যতে পাবেন। অর্থ্যাৎ ট্রেন থেকে নামার পর দেখবেন যে তার ছেলে তার থেকে বৃদ্ধ হয়ে গেছে। আইনস্টাইন এর স্পেস টাইম ইকুয়েশন অনুযায়ী কেবলমাত্র ভবিষ্যতেই টাইম ট্রাভেল সম্ভব। অর্থ্যাৎ এই পদ্ধতিতে ভবিষ্যতে গেলে আর বর্তমামে ফিরে আসা সম্ভব হবে না। কিন্তু আলোর বেগের সমান গতিসম্পন্ন যান তৈরি কি আদৌ সম্ভব হবে? কিন্তু স্টিফেন হকিং এর মত একজন মহান ফিজিসিস্ট যখন এই তত্ত্ব দিয়েছেন, আশা করা যায় অদূর ভবিষ্যতে এটা সম্ভব হবে। এতক্ষন আমরা জানলাম সময় যাত্রা করে ভবিষ্যতে যাওয়া সম্ভব কিনা। এখন প্রশ্ন হলো সময় যাত্রা করে অতীতকে দেখা সম্ভব কিনা? কি হবে যখন আপনি আলোর চেয়ে বেশি গতিবেগ নিয়ে চলেন? আমরা কিভাবে কোনো বস্তু বা ব্যাক্তিকে দেখতে পাই। সামনে থেকে ওই বস্তু থেকে প্রতিফলিত আলো এসে আমাদের চোখে পড়ে বলে আমরা তাকে দেখতে পাই। এই আলোর গতিবেগ প্রতি সেকেন্ডে ১ লক্ষ ৮৬ হাজার ২৮২ মাইল। আপনি যদি একটি ঘটনা ১ ফুট, ২ ফুট, আধা মাইল বা এক মাইল দূর থেকে দেখেন তাহলে মনে হবে ঘটনাটি ওই সময়ই ঘটছে। কিন্তু আপনি যদি ৬৭ কোটি ৬ লক্ষ ১৫ হাজার ২০০ মাইল দূর থেকে দেখেন তাহলে যে ঘটনা এখন ঘটছে সেটা আপনার কাছে পৌঁছাতে এক ঘণ্টা সময় লাগবে। কারন ৬৭ কোটি ৬ লক্ষ ১৫ হাজার ২০০ মাইল অতিক্রম করতে আলোর সময় লাগে এক ঘণ্টা। ব্যাপারটা একটু বুঝিয়ে বলি। তো মনে করুন এখন ঘড়িতে ঠিক ৪টা বাজছে। আর জানালা থেকে একটি বিড়াল লাফ দিচ্ছে। তারপর আপনি কোনো অদ্ভুতভাবে এক মুহূর্তে ৬৭ কোটি মাইল দূরে চলে গেলেন। আর টেলিস্কোপ তাক করলেন সেই ঘড়ি আর জানালার দিকে। আপনি দেখবেন যে ঘড়িতে ৪টা বাজতে আর বিড়ালটির লাফ দিতে আরো এক ঘণ্টা বাকি। অর্থ্যাৎ এখন যা দেখছেন তা এক ঘণ্টা আগের ঘটনা। অর্থ্যাৎ এই এক ঘণ্টা যা যা দেখবে সেটা হবে আপনার অতীত দর্শন। কারন আপনি তো এক মুহূর্তে ৬৭ কোটি মাইল দূরে চলে এসেছেন। কিন্তু আলোর এই পথ টা আসতে এক ঘণ্টা লাগবে। টেকনিক্যালি অতীত দেখা সম্ভব কিন্তু প্র‍্যাক্টিক্যালি দেখা সম্ভব নয়। কারন আলোর চেয়ে দ্রুত কিছু চলতে পারে না। আর তাই এক মুহূর্তে ৬৭ কোটি মাইল অতিক্রম করা কোনো কিছুর পক্ষেই সম্ভব না। এবার ভবিষ্যৎ। ভবিষ্যতে অবস্থান করা ছাড়া ভবিষ্যৎ দেখা সম্ভব নয়। একজন ব্যাক্তির বর্তমান থেকে এক মুহূর্তে ভবিষ্যৎ দেখা মানে তার বর্তমানকে ধীর করে দেওয়া বা থামিয়ে দেওয়া। ঘণ্টায় ১০০ মাইল গতির ট্রেনে কোনো বল ঘণ্টায় ১৫ মাইল বেগে ছুড়লে বলের বেগ হবে ১১৫ মাইল। ধরা যাক ট্রেনের বেগ ঘণ্টায় ৬৭ কোটি ৬ লক্ষ ১৫ হাজার ২০০ মাইল। অর্থ্যাৎ আলোর বেগের সমান। এখন ট্রেন থেকে আগের বেগে একটি বল ছুড়ে মারলে কি হবে? আআইনস্টাইন এর থিওরি অফ রিলেটিভিটি থেকে জানা যায় আলোর বেগের বেশি কোনো বেগ হতে পারে না। তাহলে ওই অতিরিক্ত ১৫ মাইল বেগ কোথায় যাবে? উত্তর হলো যেই বল আলোর গতিবেগ অতিক্রম কথা সেটা হল্ট পজিশনে চলে যাবে। অর্থ্যাৎ সবকিছুও ধীর হয়ে পরবে। কি হবে মানুষ যদি আলোর চেয়ে দ্রুত গতিতে ভ্রমণ করে? বিংশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের "স্পেশাল থিওরি অফ রিলেটিভিটি" এর একটা পর্যায়ে বলা হয়েছে টাইম ট্রাভেলের কথা। কিন্তু এই টাইম ট্রাভেল ভবিষ্যৎ বা অতীত দেখা বা অতীতে গমন করা না। এর তত্ত্ব হলো গতিশীল বস্তুর জন্য সময় ধীরে চলে। সর্বোপরি তাত্ত্বিকভাবে আমরা দুই ধরনের টাইম ট্রাভেল দেখলাম: ১. ভবিষ্যতে গমন করা (একবার গেলে আর বর্তমানে ফিরে আসা সম্ভব না), ২. অতীত দেখা... [বিজ্ঞান আমাদের অনেক কিছু ভাবতে সেখায়। এতে আমাদের জানার পথ খুলে যায়। যত ভাববো তত চিন্তাশক্তি প্রশস্ত হবে। আমরা সিনেমার টাইম ট্রাভেল দেখতে অভ্যস্ত তাই বিজ্ঞানীরা আসলে টাইম ট্রাভেল বলতে কি বুঝিয়েছেন সেটাই বুঝি না। অতীতে গিয়ে তা চেঞ্জ করে আসা সম্ভব নয়। তাই সময় থাকতেই আমাদের কাজের মাধ্যমে ভবিষ্যতকে উজ্জ্বল করতে হবে। ভাবতে হবে কোনটা ঠিক কোনটা ভূল আর ভূলগুলো সংশোধন করতে হবে।] ????ধন্যবাদ???? (সংগ্রহীত Wikipedia)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৭৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ টাইম ট্রাভেল
→ টাইম ট্রাভেল
→ টাইম ট্রাভেল

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now