বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

টা টা বাই বাই

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X উপরতলার পিচ্ছি টা লাগাতার বলে ই চলছে ‘‘ টা টা বাই বাই, টাটা বাই বাই “ এটা ওর রোজকার রুটিন , দিনের বেশির ভাগ সময় জানালার পাশে দাড়িয়ে টা টা বাই বাই বলে চিৎকার করা। পিচ্চিটা খুব মিষ্টি। আমি থাকি তিন তলায় আর ও থাকে চার তলায় । চার মাস আগের কথা । আমাদের বাসার পাশে ই একটা একতলা বাসা। আগের ভাড়াটিয়ারা যাওয়ার পর নতুন ভাড়াটে আসলো । উপরের পিচ্চিটা তখনও বাই বাই বলে চেঁচায় প্রতিদিন কাউকে দেখেলেই। দুতিনদিন পর দেখতে পেলাম পিচ্ছিটার সাথে তাল মিলিয়ে ওই বাসার একটা ছেলে বাই বাই বলছে, পিচ্ছিকে নাম ধাম জিজ্ঞেস করলে ও পিচ্ছির এক ই কথা -বাই বাই । আমি আমদের জানালার পাশে পর্দা টানিয়ে বসে থাকতাম যার ফলে বাইরে থেকে কেউ আমাকে দেখতে পেতনা । পরদিনসকাল থেকে শুরু হল এই দুজনের বাই বাই খেলা । উপর তলার পিচ্ছিটাকে আমি দেখতে না পেলে ও নিচের ছেলে টাকে দেখতে পেতাম, রোজ একহাত নেড়ে, দুহাত নেড়ে, লাফিয়ে লাফিয়ে পিচ্ছির সঙ্গ দিত ছেলেটা । মাঝে মাঝে পিচ্ছিকে নিচে আসার জন্য ডাকত, নাম জিজ্ঞেস করত, কিন্তু ভদ্রলোকের যেমন এক কথা, তেমনি পিচ্ছির ও এক কথা - টা টা বাই বাই । তাদের দুজনের রুটিন হয়ে গেছিল রোজ সকালে একবার আর বিকেলে একবার দেখা করার । ধিরে ধিরে আমার ও কেমন রুটিন হয়ে গেল ওদের দুজনের খেলার নিরব দর্শক হবার । আমিও সকাল বিকাল জানালার পাশে বসে দুজনের খেলা দেখতাম । ও হ্যাঁ, দুজনের বললে ভুল হবে, আমি তো পিচ্চিটাকে দেখতে পেতাম না, শুধু ছেলেটাকে ই দেখতে পেতাম। তাদের দুজনের মধ্যে প্রচণ্ড টান । একজন ডাক দিলে ই আরেকজন ছুটে আসত বাই বাই বলার জন্য । আর আমিও পরম উৎসাহে উপভোগ করতাম । এর কিছুদিন পর কলেজ যাওয়ার পথে ছেলেটার সাথে দেখা হল আমার । আমি যে সিএনজি তে উঠবো, ছেলেটাও সেটায় উঠে বসে আছে । ওইদিন ওর পাশে বসে যেতে হল । সারাটা রাস্তা ও মোবাইল এ কথা বলতে বলতে গেল ওর বন্ধুর সাথে । বুঝতে পারলাম ও আমার এক ক্লাস সিনিয়র । অর্থাৎ, আমি ইন্টার ফাস্ট ইয়ার আর ও ইন্টার সেকেন্ড ইয়ার । ক্লাস জানতে পারলে ও কলেজ টা জানা হয়নি । আমার খুব ইচ্ছা করছিল ওর সাথে কথা বলতে,কিন্তু কি একটা সংকুচে যেন কথা বলতে পারলাম না ওর সাথে । আমার তখন আফসোস হল, যদি আমার জানালা টা খোলা থাকত, তাহলে হয়ত ও আমাকে দেখে চিনে ফেলত এবং ওর সাথে কথা বলতে পারতাম আমি । পরদিন বিকেলে আব্বু আম্মু কোথায় বেড়াতে যাবে, আমাকে যেতে বললে আমি না করলাম, কারন যদি যাই, তাহলে আমার প্রিয় খেলাটা মিস হয়ে যাবে । আর এটা আমি মিস দিতে পারবনা । ওইদিন ওদের খেলা দেখার সময় ভাবলাম জানালা টা খুলে দেই, কিন্তু মাথায় চিন্তা ঢুকল যে, যদি আমাকে দেখে সে আর এদিকে না তাকায়, তাহলে তো ওর হাসিমুখ আর দেখা হবেনা আমার । থাক, ও আমাকে নাইবা দেখুক, আমি ই দেখি ওকে । প্রতিদিন তাকিয়ে থাকতাম ওর দিকে । ধিরে ধিরে আমি কেমন যেন দুর্বল হয়ে গেলাম ওর প্রতি, ওকে না দেখলে আমার সময় কাটতনা । ওর দিকে তাকিয়ে থেকে আমি কোথায় যেন হারিয়ে যেতাম । ওকে যতবার ই দেখতাম, ইচ্ছা হত, ওকে সব কিছু খুলে বলি, আমি যে ধিরে ধিরে ওর মাঝে হারিয়ে যাচ্ছি এটা তো ওর জানার দরকার । নাম না জানা ছেলেটা যে আমার মাথা দখল করে নিয়েছিল । আমি জানিনা, কি একটা চলতে লাগল আমার ভিতর এ । সারাটাক্ষন ছেলেটার কথা ভাবতাম । কি করব না করব কিছু ই ভেবে পেতাম না । মন কে বুঝাতে লাগলাম, এটা তেমন কিছু না আমি শুধু ওর প্রতি আকর্ষিত হচ্ছি, আর কিছুনা । কিন্তু মন তো বুঝতে চাইতনা , সারাবেলা একটা প্রশ্ন করত, আমি কি তার প্রতি কিছু ফিল করছি, যার নাম ভালবাসা??? দুদিন পর ওর সাথে আবার দেখা হল কলেজ থেকে ফেরার পথে । মনে খুব সাহস সঞ্চয় করলাম , আজ কিছু বলতে এ হবে । ও দাড়িয়ে আছে রাস্তার মোড়ে । হয়তো গাড়ির অপেক্ষা করছে । স্কুল এ এবং কলেজ এ উঠে ও আমি বিভিন্ন অনুষ্ঠান এর উপস্থাপনা করতাম । সবাই বলত আমি নাকি খুব সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলতে পারি । কিন্তু ওইদিন আমার মধ্যে যেন আর আমি ছিলামনা । গুছগাছ করে কথা বলতে পারা মেয়েটা যেন কথা খুঁজে পাচ্ছিলনা । অতঃপর সাহস করে ওর দিকে হাটতে লাগলাম আর ভাবতে লাগলাম, মনের কথা বলতে না পারলে ও কিছু একটা আজ বলব ই । আমি অনুভব করলাম যে আমার পা কাপছে, কিন্তু নিজেকে বুঝিয়ে ওর পাশে আমাকে নিয়ে গেলাম এবং বললাম “ এই যে, আমি তৃষা “ ও মাথা ঘুরিয়ে এদিকে তাকাল আর পরক্ষনেই আমার হাত ধরে টান দিল । আমি হতভম্ভ হয়ে গেলাম । কিন্তু সাথেসাথে ই আমার পাশে একটা পাথরের টুকরো এসে পরায় বুঝতে পারলাম, কিছু একটা গণ্ডগোল হচ্ছে । ও পরক্ষনেই একটা গাড়িতে আমাকে তুলে দিয়ে ড্রাইভারের পাশে ও বসল । ও আমার কথা শুনেছিল কি না আমি বুঝতে পারলাম না । ওইদিন আর কিছু বলা হয়নি ওকে । এই ঘটনার আগে ও যেমন ছিল, পরে ও হয়তো তেমনি ছিল । কিন্তু আমার মধ্যে যেন এক ঝড় হয়ে গেল । বাসায় এসে দরজা লাগিয়ে বসে থাকলাম অনেকক্ষণ । হাতের দিকে তাকিয়ে অনুভব করতে লাগলাম ওর স্পর্শ । স্বাভাবিক হতে আমার সময় লাগ্ল, ওইদিন বিকেলে আর ওদের খেলা দেখতে পারিনি আমি । রাতে নিজের সাথে যুদ্ধ করলাম । হারলাম । বুঝাতে পারলাম না মন কে কোনো কিছু । শেষমেশ সিদ্ধান্ত নিলাম চিঠি লিখব একটা । মনের কথা সব খুলে বলব । ওকে নাইবা জয় করতে পারলাম, কিন্তু মনের কথা গোপন করবনা । ওইদিন রাতে ই লিখলাম ছোট একটা চিঠি । আমি জানতাম ওই চিঠি ওর কাছে পৌঁছানোর কোন মাধ্যম আমার নেই । চিঠি টা ওর কাছে যাবে কি না, তার ও কোন নিশ্চয়তা নেই । কিন্তু তবু ও আমি লিখলাম আধ গোছাল একটা চিঠি । মনের কথা গুলো লিখলাম চিঠিতে, কবে দেব জানিনা । এর চার পাঁচ দিন পর সকালে উঠে জানালার পাশে গেলাম , কিন্তু ওকে দেখলাম না । টাটা বাই বাই ও শুনলাম না । একটু পরে ই দেখলাম ওদের বাসার গেট এ মাল বুঝাই ২টা পিক-আপ ভ্যান । সাথে সাথে বুকের কোথায় যেন উঁকি দিলো কিছু হারানোর ভয়ে । ওকে দেখলাম দাড়িয়ে আছে ২ হাতে ২ টা ব্যাগ আর কাঁধে একটা ব্যাগ নিয়ে । আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম, পর মুহূর্তে কি করব না করব ভেবে পেলাম না । আমার চিন্তাশক্তি যেন কাজ করছিলোনা । হয়তো আমার অনেক কিছু ই করার ছিল ওই সময়ে , কিন্তু আমি কিছু ই করতে পারলাম না । যে কাজটি অনেক কষ্টে করলাম , তা হল, দক্ষিনের জানালা থেকে সরে গিয়ে পশ্চিমের জানালায় দাঁড়ানো । আমি ওর চলে যাওয়া দেখলাম । পারলাম না নিচে গিয়ে ওকে চিঠি টা দিয়ে আসতে । তাকে দেখলাম এদিকে তাকাচ্ছে হয়তবা পিচ্ছিটাকে দেখার জন্য । পশ্চিমের জানালায় পর্দা না থাকায় ও এই প্রথমবার আমার দিকে তাকাল । আমাকে দেখে তাকিয়ে ই থাকল, আমার মনের কথা আর বুঝা হল না তার । আমার হৃদয়ের হাহাকার ও আর শুনা হলনা । জানিনা ওকে আর দেখত পাব কি না, চিঠিটা দেয়া হবে কি না । চিঠিটা এখন আমি ই পড়ি রোজ সকালে একবার আর বিকেলে একবার । পিচ্ছিটা আজ ও টা টা বাই বাই বলে ডাকছে । ওর মনের খবর জানিনা, পিচ্ছি বোধহয় তার উত্তরের জন্য নিচের দিকে তাকিয়ে আছে । আমি ও তাকিয়ে আছি এই আশায়, যদি তাকে একটিবার দেখা যায় । হয়তো বা দেখব একদিন,পাব ওকে আপন করে । নয়তবা ওদের মত আমার ও বলতে হবে ওকে বিদায় ... -একজন লেখক- ৫ রেটিং চাই চাই


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বইয়ের বাইরের পাঠশালা
→ আস সবাই জানি নিজেদের নিয়ে
→ যা আছে বাইর কর”
→ খাঁচার বাইরে খাঁচার জন্তু
→ আমরা তো সবাই মানুষ!!!!
→ হযরত আবু উবাইদা রা. এর বিশ্বস্থতা
→ আমরা সবাই স্বার্থপর হয়ে গেছি:(:(:(
→ সবাই আপনার ব্যাক্তিগত জীবনে আগ্রহী নয়
→ মোবাইল
→ "সবাইকে ঈদুল আযহার অনেক অনেক শুভেচ্ছা"
→ ➤মোবাইল vs আমি➤
→ বাই জুপিটার – আইজাক আসিমভ বাংলা অনুবাদঃ অমিতানন্দ দাশ
→ ..জিজেরা সবাই হাসবে.. ..........."ওটা"...........
→ ভুল শিরোনামে ব্যস্ত সবাই
→ কোডেক্স গিগাসঃ শয়তানের বাইবেল

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now