বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখাঃ অনয়.....
প্রথম অংশের পর......
গ্রীষ্মে সূর্যের অগ্নিঝরা রুপ। গরমের পরিমানও অতিমাত্রায়। পুকুরে স্বচ্ছ পানি। তাই আশপাশের প্রায় সবাই আসে সুমাদের পুকুরে গোসল করতে।
চারদিন পর সুমার আব্বু অনেকগুলো ছোটমাছের পোনা এনে পুকুরে ছেড়ে দেয়। পুকুরের পাড় দিয়ে সারি বদ্ধভাবে সুপারি আর নারকেল গাছের চারা এনে লাগায় সুমার চাচ্চু। পরিবারের ছোটদের আনন্দ সীমানা পেরিয়ে দুর আকাশে ডানা মেলে।
এভাবেই সুমাদের নতুন বাড়িতে পেরিয়ে যায় তের দিন। সব কিছু ঠিকভাবেই চলছিল। বিপত্তি বাধে চৌদ্দ দিনের রাতে।
সুমার চাচি রাতে স্বপ্ন দেখে এক বৃদ্ধা মহিলা তার কাছে এসে খাবার চাচ্ছে। সে নাকি ভিশন ক্ষুধার্ত।
অনেকদিন হলো কিছু খাইনি। সুমার চাচি যতই বুঝানোর চেষ্টা করতেছে এখনো রান্না হয়নি আর ঘরে কোন খাবারও নেই।
বৃদ্ধ মহিলাটি কিছুতেই বুঝ মানতেছে না। জোর করেই ঘরে ঢোকার চেষ্টা করতেছে।
এক পর্যায়ে সুমার চাচি ভয় পেয়ে অনেক জোরে চিৎকার দিয়ে ওঠে। পরিবারের প্রায় সবার ঘুম ভেঙ্গে যায়।
পরে তার কাছে এই ঘটনা শুনে সবাই বলে এটা নিছক একটা স্বপ্ন। এর বাইরে কিছু নয়। বলেই সবাই ঘুমিয়ে পড়ে।
কয়েক দিন পর পর ই এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে থাকে। একদিন সুমার আম্মুও একই স্বপ্ন দেখে চিৎকার করে ওঠে।
তাই পরের দিনই কবিরাজ ডেকে এনে বাড়ির চারপাশ বন্ধ করা হয়। তারপর বেশকিছু তারা আর এ স্বপ্নটা দেখে নি।
সেদিন ছিল মঙ্গলবার। সূর্যের প্রখরতা প্রায় সহ্য সীমার বাইরে গিয়ে ঠেকেছে। মাঠে গরুগুলো প্রচন্ড তাপে হাপাচ্ছিল। তাই সুমার চাচা গরুগুলোকে বাড়িতে নিয়ে আসে এবং গোসল করানোর সিদ্ধান্ত নেই।
সবগুলোর গোছল করানো শেষ। একটা মাত্র ষাঁড় বাকি আছে। সবগুলোকে ছায়ায় রেখে এসে ষাঁড়টাকে পুকুরের পানিতে নামিয়েছে। লাল বর্ণের ষাঁড়। গজ টা অনেক বড়। কুরবানির ঈদে বিক্রি করবে বলে অনেক যত্ন করে খাইয়ে মোটা তাজা বানিয়েছে।
গোসল করানো প্রায় শেষ শধু মাথাটা একটু ভালভাবে ভিজিয়ে দিয়ে নিয়ে চলে আসবে। একটু বেশি পানিতে নিয়ে গিয়ে ষাঁড়ের মাথাটা পানিতে ডুবানোর জন্য মাথাটা ধরে নিচের দিকে চাপ দিয়েছে।
ষাঁড়ের গলায় লাগারো রশিটা তার হাতেই ছিল। হঠাৎ সে অনুভব করলো কেউ যেন তার হাত থেকে রশিটা টান দিয়ে নিয়ে গেল।
ষাঁড়ও পানিতে তলিয়ে গেছে। সুমার চাচ্চু নিজেই কিছুক্ষন খোঁজার পর না পেয়ে লোকজনেক ডাকা শুরু করল। সবাই এসে গরু পানিতে তলিয়ে গেছে শুনে নেমে খোঁজা শুরু করেছে। প্রায় আড়াই ঘন্টা পর ষাঁড়ের মৃতদেহ খোঁজে পাই।
ঐ দিন রাতে সুমার চাচি আবারও সেই বৃদ্ধাকে দেখত পায়। অনেক ভয়ানক আর ক্ষুধার্ত। ভয়ে চিৎকার দিয়ে ওঠে। ঘটনাটা প্রায় গ্রামের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।
তারপর থেকে ঐ পুকুরে কেউ একা নামতে সাহস পায় না। বৃদ্ধাকে স্বপ্নে দেখার মাত্রাটা বৃদ্ধি পেতে থাকে। তাই আবারও কবিরাজ ডেকে আনা হয়।
সে তার অনুগত আত্মাকে হাজির করার মাধ্যমে সবাই কে জানায় এই পুকুরে ভাল আত্মার সাথে একটি খারাপ অতৃপ্ত আত্মা আছে যে মানুষের ক্ষতি করে।
তাই কেউ যেন বিশেষ করে শনিবার, মঙ্গলবার, ভর দুপুর এবং সন্ধ্যায় পুকুরে না নামে।
তাহলে এই অতৃপ্ত আত্মা ক্ষতি করবে। তার পর বাড়ির চার পাশ আবারও বন্ধ করে দিয়ে কবিরাজ চলে যায়।
তারপর কিছুদিন বেশ ভালভাবেই কাটতে থাকে। ঐ বুড়িকেও আর দেখা যায় না।
পুকুরের চারধারে লাগানো সুপারি আর নারিকেল গাছগুলো বেশ বড় হয়ে গেছে। দেখেতেও অনেক সুন্দর লাগে। সুমার বাবা পুরাতন সুপারির গাছ কেটে বাড়ির সাথেই লাগানো পুকুরের পাড়ে টঙ পেতে দিয়েছে। প্রতিদিন বিকাল বেলা অনেকে এসে পুকুরের ধারে বসে থাকে।
একদিন সুমার খালু, খালামনি আর দুই খালাতো ভাই বোন বেড়াতে আসে সুমাদের বাড়িতে।
চলবে............
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now