বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
‘‘পৃথিবীটা আমার কাছে খুবই দুঃসহ আর যন্ত্রণার মনে হচ্ছে। আমার পাশে এখন আর কেউ নেই। কাউকেই আর বিশ্বাস করতে পারছিনা। বেঁচে থাকাটা কেমন যেন অসহ্য মনে হচ্ছে। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি এই পৃথিবীতে আর বেঁচে থাকব না, শেষ করে দেব নিজেকে। আমি আত্তহত্যা করবো। আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না।
এটা হচ্ছে একটা চিরকুট। কাগজের টুকরোটা হাতে নিয়ে বসে আছে রুদ্র। ও সিদ্ধান্ত নিয়েছে আত্মহত্যা করবে। কারণ রুপা ওকে ছেড়ে চলে গেছে। চলে গেছে মানে রুপা সাফ জানিয়ে দিয়েছে ওর সাথে আর সম্পর্ক রাখবে না। কেন রাখবে না কিছুই বলেনি। অনেক জানার চেষ্টা করেছে রুদ্র, কিন্তু পারেনি। রুপাহীন পৃতিবীতে ওর কিছুতেই বেঁচে থাকা সম্ভব নয়, তাই শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যারই সিদ্ধান্তই নিয়েছে সে।
ও বুঝতে পারছেনা ঘুমের ওষুধের সরবতটা কি এখনই খাবে নাকি সকালে খাবে। ১৫টা ঘুমের ওষুধ গুড়ো করে একগ্লাস পানি দিয়ে সরবত বানিয়েছে রুদ্র। তিতা লাগতে পারে সেজন্য কিছু পরিমান মধুও মিশিয়েছে সে। পৃথিবী ছেড়ে তো চলেই যাবে তাই যাবার আগে শেষ বারের মত ভোরের আলোটা দেখার খুব শখ হচ্ছে ওর, সেজন্য গ্লাসটা হাতে নিয়ে বসে আছে।
ইতোমধ্যে শরবতের একটা নামও ঠিক করে ফেলেছে সে সুইসাইড শরবত। এমন একটা নাম ঠিক করতে পেরে সে নিজেও খুব খুশি। মনে মনে ভীষণ উৎফুল্ল হয়ে উঠলো রুদ্র। আবিষ্কারের কথাটি সবাইকে না জানিয়ে সে কিছুতেই সুইসাইড করতে পারছেনা। রুদ্র কিছুতেই বুঝতে পারছেনা এমন একটা সহজ পদ্ধতি থাকতে মানুষ কেন মরার জন্য গলাই দড়ি দেবার মত আর বিষ খাওয়ার মত কঠিন জিনিস দিয়ে সুইসাইড করে। এই আবিষ্কার জানার পর যারা সুইসাইড করতে চাই তারা আর কষ্ট পেয়ে মরবেনা, সহজেই মরতে পারবে। ঘুমের মধ্যে মৃত্যু। কেউ টের পাবে না, চুপচাপ মরে যাবে।
রাতটা পার হয়ে কত সুন্দর একটা ভোর নামছে ধীরে ধীরে, এই ভোরটা আর কখনও দেখা হবেনা ভাবতেই বুকটা হু হু করে উঠলো ওর।
আচ্ছা বাবা মা আমার জন্য কি খুব বেশি কাঁদবে? আর আমার ছোট্ট আদরের টুনটনি বোন যে কিনা কেবল আধো আধো ভাবে বাইয়া বাইয়া বলে ডাকতে শিখেছে, বাসায় ফিরলেই ছোট্ট টুনটুনি বোনটা আমার চককেট চককেট করে কোলে ঝাঁপিয়ে পড়তো, চকলেট না পেলে অভিমান করতো, ও কি বুঝতে পারবে আমি মারা গেছি!
আর কখনই ওর জন্য চকলেট নিয়ে আসবোনা ও কি সেটা জানতে পারবে, দরজায় টোকা পড়লেই কি ও ছুটে আসবে বাইয়া বাইয়া করে...
প্রতিদিন বিকেলে কি বন্ধুরা সবাই আমাকে ছাড়াই আড্ডা দেবে? ওরা কি আমাকে নিয়ে আলোচনা করবে?
ভাববে আমার কথা?
আমার কথা ভেবে কি কষ্ট পাবে? অভিমান করে কি বলবে বোকা ছেলে কোথাকার এভাবে কি কেউ যায়! যাবার আগে কি তোর আমাদের কথা একবারও মনে পড়লো না?
তুই ভাবলি না যে তোকে ছাড়া আমরা কষ্ট পেতে পারি ? তুই ছাড়া আমাদের প্রতিটা মুহুর্ত শুন্য শুন্য লাগতে পারে ? কি এমন হয়েছিল যে আমাদেরকেও বলতে পারলি না। আমরা কি তোর বন্ধু ছিলাম না?
ওরা কি রাগে অভিমানে ক্ষোভে আমাকে গালি দেবে?
মরে যাওয়ার পরে আর হয়তো কিছুই জানা হবে না কিংবা সে যে এসব ব্যাপারগুলো জানতে পারছে, সব বুঝতে পারছে এগুলোও কাউকে জানানো হবে না। এমন একটা ব্যবস্থা থাকলে খুবই ভাল হতো। নাহ সে কেন এসব কথা ভাবছে তাকেতো মরতেই হবে। সে যখন সুইসাইড করবে পণ করেছে তখন সে তা করবেই।
রুদ্রদের বাড়ি ভর্তি মানুষ। পুলিশও এসেছে একটু আগে। মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে বাড়ির পাশের কিছু লোকদের সাথে তারা কথা বলছেন। যদিও এই মুহুর্তে তারা বাড়ির কারও সাথেই কথা বলতে পারছেন না, কারণ সবাই শোকাহত। কান্না অবস্থায় কি বলছে পুলিশ সেটা বুঝতে পারছে না।
রুদ্রর মা বার বার মৃত সন্তানের জন্য মূর্ছা যাচ্ছেন। লাশ ইতোমধ্যে পোস্টমের্টেমের জন্য মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রুদ্রের শরীর গলার নিচ থেকে একেবারে নাভির নীচ পর্যন্ত চিরে ফেলবে তারপর একটা একটা করে শরীরের প্রয়োজনীয় পার্স গুলো খুলে রাখা হবে। এরপর সেলাই দেয়া হবে। তারপর কয়দিন পর একটা রিপোর্ট বের হবে এটা একটা ‘আত্মঘাতি ও অস্বাভাবিক মৃত্যু।’
এই রুদ্র কিরে ওঠ আর কতক্ষণ ঘুমাবি? রুদ্রের মায়ের ডাকে ওর ঘুম ভেঙে গেল। রুদ্রের সমস্ত শরীরটা কাঁপছে, সে ভয়ার্ত চোখে মায়ের দিকে তাকিয়ে আছে। ও যে মরেনি এটা বুঝতে ওর কিছুক্ষণ সময় লাগল। কিরে এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন? রুদ্রের মা ওর গায়ে হাত দিলেন দেখলেন শরীরটা ঘামে ভেজা।
রুদ্রের মা আরও প্রশ্ন করতে যাচ্ছিলেন কিন্তু রুদ্র নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, না মা কিছুনা একটা খারাপ স্বপ্ন দেখছিলাম। রুদ্রের মা সুরা পড়ে ছেলের গায়ে মাথায় ফু দিলেন। তারপর ওকে হাত মুখ ধুয়ে খেয়ে নিতে বললেন।
বিছানায় থাকা অবস্থায় টেবিলে রাখা সুইসাইড শরবতটার দিকে চোখ গেল রুদ্র’র। সেটার দিকেই অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে সে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now