বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ষ্টুডেন্টে বাসায় ঢুকতে গিয়ে চৌকাঠে বাড়ি খেয়ে মাথায় আলুগুলা উঠে গেলো । কোনমতে কোঁকাতে কোঁকাতে চেয়ারে বসে আস্তে আস্তে করে কপালে হাত বুলাচ্ছি । তখনই এই বাড়ির সবচেয়ে কনিষ্ট বান্দরটি (বড় বান্দরটিকে আমি পড়াই) এসে আমাকে স্যার স্যার করে ঝাকাতে লাগলো । এমনিতে মাথার ব্যাথায় বাঁচছি না তার উপর আরেক মাথা ব্যাথা হাজির
.
-- কিরে ?
-- স্যার টাকা দেন
.
যেভাবে টাকা খুঁজছে মনে হচ্ছে কোন কালে আমি তার টাকা খেয়ে দিয়েছি !
.
-- কিসের টাকা ?
-- আমি পরীক্ষা দিচ্ছি
-- কিসের পরীক্ষা ?
-- পি এস সি পরীক্ষা
-- তো ?
-- তো আবার কি ? এইসব পরীক্ষা দিবার আগে টাকা দিতে হয় জানেন না ?
.
একটু থমকালাম । আমার মনে আছে আমাদের সময়ে আমরা এস এস সি পরীক্ষা দিবার সময় আত্মীয়দের বাসায় যেতাম দোয়া চাইতে । তারা খুশি হয়ে হাজার পাঁচশ করে টাকা দিতো । সেই ট্রাডিশনটা এইচ এস সি পযর্ন্ত বহাল ছিল । কিন্তু সরকারের এই ঘন ঘন সরকারী পরীক্ষা দিবার ট্রাডিশনটা শিক্ষার্থীদের কাছে এখন দেখি শাপে বর হয়ে দেখা দিয়েছে
.
-- স্যার টাকা দেন
-- পা ধরে সালাম করেছিস ?
-- না
--তাহলে ?
.
বান্দরটা তাড়াতাড়ি করে সালাম করে হাত পাতলো । দিলাম ২০ টাকা ।
.
-- যা দিলাম , এখন খা পি অ্যাশ কর
-- স্যার ১০০০ টাকা দেন
-- কি ! হাটু সমান পোলা না , ১০০০ টাকা পাইছিস কখনো ?
-- আজকে সকালে ছোট চাচ্চু ১০০০ টাকা দিছে
.
ইজ্জতের ফালুদা হয়ে গেলো ।
মিন মিন করে বললাম "টাকা পয়সা নাই . ধর ৫০ টাকা নে আর বিষয়টা রফাদফা কর" বলে মানিব্যাগটা খুললাম
.
বান্দরটা আমার চোখের সামনে সো করে মানিব্যাগ থেকে দুটো ১০০ টাকার নোট নিয়ে ( শেষ সম্বল ) মুর্হুতের মধ্যে পাগারপার হয়ে গেল !
.
বাংলা ভাষায় কিংকর্তব্যবিমুঢ় বলে একটা শব্দ আছে আমি সেটাই হয়ে গেলাম । কিছুক্ষণ পর ষ্টুডেন্টের মা নাস্তা নিয়ে এলেন ।
.
-- কি ব্যাপার শান্তু ব্যাথা পেয়েছো নাকি ?
-- না মানে আন্টি একটু ব্যাথা পেয়েছি
-- তোমার আজকালকার ছেলেরা কেন যেন দেখে শুনে চলতে পারো না বুঝি না ... ব্লা ব্লা বলে একটা নাতির্দীর্ঘ লেকচার ঝেড়ে দিলেন
.
ষ্টুডেন্টের মা চলে যাওয়ার পর । বড় বান্দরটা চোখ নাচিয়ে বলল
-- স্যার ঠিক কোন ব্যাথাটার কথা বলছেন ?
.
মানিব্যাগটাতে মোলায়ম ভাবে হাত বুলাতে বুলাতে বললাম
-- চুপ থাক
[] শান্তনু চৌধুরী শান্তু []
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now