বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সততাও মূল্যহীন।

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X সততাও মূল্যহীন। লেখিকা : জীবনের কালো অধ্যায়। তিথীর বাবা একজন চাকুরীজীবি। মধ্যবিত্ত পরিবার। তিথী বাবা মার একমাত্র মেয়ে। বৃদ্ধ দাদা দাদী নিয়েই তাদের বসবাস। তিথীদের সংসারে ছেলে মানুষের কোনো কাজই তিথীর বাবা করে না। তার একটাই কথা -- অামি কি সংসারে টাকা দেয় না? কাজ ফেলে রাখো কেন? এমনতো না যে অামি টাকা দেই না। কথাটি তিথীর বাবার নিত্যসঙ্গী হয়ে গেছে। বাজারও সে করতে চায় না। তিথীর মা একদিন একদিন বাহিরে গেলো.. --রিকশা যাবে নাকি? --হ কই যাইবেন? --হাতিরঝিল --উঠেন --কই থাকো --ঐ পাশের এক বস্তিতে --কে কে থাকো --অামি অার মা --বাবা নাই? --ঐ শালা শুয়ারের বাচ্চা লিকা করছে। অহন অামাগো অার চেনে না। --রিকশা চালিয়ে দিন কতো পাও? --ঠিক নাই। ৩০০ হয়। ২০০ হয়। বেশিও হয়। কমও হয়। --অামার বাসায় থাকবে? --অাপনে অামাক রাইখা কি করবেন? --অামাদের বাজার করে দিবে, যখন যা লাগে এনে দিবে। অামাদের সংসারের একজন হয়ে থাকবে। তোমাকে মাসে ২০০০ টাকা দিবো। রিকশা মাথা নিচু করে কিছু ভেবে বললো অামি রাজি। --নাম কি তোমার? --রহমত --অাচ্ছা রহমত রিকশা থামাও। অামি নামবো। তুমি থেকো। অামি যাবো কাজ সেরেই অাসবো। --অাইচ্ছা যান অামি থাহুমনে তিথীর মা চলে গেলো। দেখে মনে হলো একটা ব্যাংক। রহমত ভাবতেছে সারা দিন রোদে পুইরা না ঘুইরা এক বারিতে কাজ করলে ভালোই হয়। তিন বেলা খাবার পাবে। কিছুদিন গেলে না হয় বেতন বারিয়ে নিবে। কিছুদিন পর পর মাকে টাকা দিয়ে অাসবে অার দেখে অাসবে --রহমত চলো --উঠেন --তাহলে কি ভাবলা --কাজ করুম তো --তাইলে অাজ থেকেই থাকো --না অাজ অাপনের বাড়ি চিনি। মারে কইয়া কাল যামুনে। --ঠিক অাছে দুজনেই চুপ। কিছুক্ষণ পর.. --রহমত দারাও, এই যে দেখছো নীল গেট, অামাদের বাসা। কাল সকাল সকাল এসো। --জ্বী অাচ্ছা --অাচ্ছা যাও তিথীর মা চলে গেলো। ভিতরে সবাইকে খবর টা দিলো। সব বৃত্তান্ত বলতে লাগলো। তিথীর বাবা --বয়স কতো --১৭ হবে --ঠিক অাছে দেখ, ভালো হলেই ভালো। পরের দিন রহমত চলে এলো। --চলে এসেছো --জ্বী। অামি অাপনেক কি বলে ডাকমু? --অামাকে খালাম্মা, অার এই যে তিথী ওকে অাপুমনি ডাকবে। --জে অাস্তে অাস্তে রহমত এই বাড়ির একজন হতে লাগলো। তিথীর মা এখন তুই করেই বলে। একদিন তিথীদের বাসায় কিছু মেহমান অাসবে। তাই তিথীর বাবা ভাবলো মেহমানদের জন্য সে নিজেই বাজার করবে। মেহমান বলে কথা। কিন্তু রহমত কিছুতেই তাক যেতে দিবে না। --স্যার অামি থাকতে অাপনে ক্যন যাইবেন। অার অামাক তো এর লাইগাই বেতন দিয়ে রাখছেন --অারে মেহমান খাবে তো --অামি যেমন তেমন বাজার করুম না। --দ্যান টাকা অামিই যামু। অাপনে থাকেন। --এই নে ধর ১০০০ টাকা। একটু দাগ অাছে, তুই চালিয়ে নিস। জে . রহমত টাকা নিয়ে চলে গেলো। তিথীর দাদু বললো অামার কেমন লাগলো, কেননা অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ। তিথীর মা বললো: না অাব্বা ওকে বিশ্বাস করা যায়। ৫ ঘন্টা, ৭ ঘন্টা যায় রহমত অাসে না। ২ দিন ৩ দিন পার। সবার যা বোঝা বুঝলো। ১০০০ টাকা নিয়ে পালিয়েছে। সবাই তিথীর মাকে অনেক কথা শুনালো। কারণ রহমত তিথীর মার জন্যই বাড়িতে ঢুকেছে। অানেক দিন কথা সুনালো। ৩ মাস কেটে গেলো। একদিন কলিং বেল তিথী খুলেই দেখে সেই রহমত। চিৎকার করে ডাকলো সবাইকে তিথীর মা দেখলো এতো রহমত। তিথীর মা কিছু না বুঝেই রহমতকে মারতে লাগলো, অার বলতে লাগলো তোর টাকার দরকার অামাক বললি না ক্যন। পালালি ক্যন। বেধম মার মারতে লাগলো। কারণ রহমতের জন্য তিথীর মাকে অপমান হইতে হইছে। মার গুলো কেন মারছে তিথীর মা নিজেও জানে না --খালাম্মা অামাক কিছু কইবার দেন --এই তুই কি বলবি --এই নেন সেই ১০০০ টাকার নোট। --একিরে এতো সেই দাগয়ালা নোট টাই। কি হয়েছিলো? (কাদতে কাদতে) সে দিন বাজার যাইতে অামি এক্সিডেন্ট করি। রক্ত দিতে হইছে। অামি চিকিৎসার জন্য টাকার অনেক কষ্ট করছি। কিন্তু অাপনের টাকাটা নষ্ট করি নি। কথাটা শুনে কেউ কোনো কথা বলতে পারলো না। থমথমে পরিবেশ। যেনো সবাই বাক প্রতিবন্ধী। কেউ কিছু বলছে না।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সততাও মূল্যহীন।

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now