বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
জারাঃ তুমি ছেলেদের সাথে রুম শেয়ার করতে পারো কিন্তু সাফা নয়। [অনেকটা রেগে]
নেহাঃ আমি ছেলেদের সাথে রুম শেয়ার করতে পারি-মানে কী?
জারাঃ মানে বুঝো না! নাকি বোঝার চেষ্টা করছ না?
নেহাঃ জারা যেটা বলবা স্পষ্ট করে বলো।
জারাঃ তুমি সাফার ব্যাপারে যে মিথ্যা অভিযোগ করছ সেটা কিন্তু আদৌ সত্য নাও হতে পারে।
নেহাঃ সত্য না হওয়ার কি আছে, সাফা যে একটা ছেলের সাথে রুমে ছিল এটা সবাই জানে।
জারাঃ তাই নাকি? তুমি কিভাবে জানলা? আর কে কে জানে এটা বলত?
নেহাঃ কলেজের সবাই জানে, আমি ক্লাসের একটা ছেলের মাধ্যমে জেনেছি।
জারাঃ তুমি নিজে দেখেছ কি?
নেহাঃ না, আমি দেখি নাই।
জারাঃ তাহলে তুমি এতো বিশ্বাস নিয়ে কিভাবে বলছ? সে ছেলেটা তো মিথ্যাও বলতে পারে।
নেহাঃ সে কেন মিথ্যা বলবে আমাকে?
জারা আর নেহার ঝগড়া বেধে যায়। তারা বারান্দায় দাঁড়িয়ে ঝগড়া করছিল। এমন সময় মিরা আসল সেখানে,
মিরাঃ এই তোমরা এভাবে ঝগড়া করছ কেন? কি হয়েছে? [অস্থির হয়ে]
জারাঃ নেহা সাফার ব্যাপারে মিথ্যা কথা বলছে।
মিরাঃ কেন? কি বলছে? তুমি কি বলেছ সাফার ব্যাপারে? [নেহারে দিক তাকিয়ে প্রশ্ন করে]
নেহাঃ দ্বিতীয় ক্লাসে সাফা নাহিদের সাথে ল্যাব ক্লাসে ছিল, তখন ল্যাব ক্লাসে কেউ ছিল না তাঁরা ছাড়া। এটা বলায় জারা আমার সাথে ঝগড়া করছে।
মিরাঃ তোমাকে কে বলল যে সাফা নাহিদের সাথে ফাঁকা ল্যাব ক্লাসে ছিল?
জারাঃ আমাকে ক্লাসের এক ছেলে বলেছে।
মিরাঃ সে তো মিথ্যাও বলতে পারে, পারে না?
জারাঃ কিন্তু সে আমাকে মিথ্যা কেন বলবে?
মিরাঃ সেটা জানি না। তবে তোমার এভাবে কথা যাচাই না করে সবাইকে কথাটা বলা উচিত না। হতেও পারে কথাটা মিথ্যা।
মিরার কথা শেষ হতে না হতেই টিফিনের শেষ ঘন্টাটা দিয়ে দেয়। এরপর আর দুটা ক্লাস আছে।
মিরাঃ চলো এখন ক্লাসে যাই। ক্লাস শেষে কথা হবে।
তারপর মিরা,নেহা,জারা ক্লাসে চলে যায়। তারা সবাই ইন্টারের ছাত্রী, সাফাও তাদের সহপাঠী। সাফা একটু চুপচাপ আর পর্দানশীন মেয়ে, সে অযথা কোন ছেলের সাথে কথা বলে না, সে কখনো বাজে কথা বা বেশি কথাও বলে না। মিরা আর জারা খুব বেশি পর্দাশীল না হলেও খুব সাধারণ আর শান্তশিষ্ট, নেহা পর্দা করে না, তার মেয়ে ফ্রেন্ডের চেয়ে ছেলে ফ্রেন্ড বেশি, আর খুব অহংকারী, হিংসুটে। সাফাকে কলেজের সবাই খুব পছন্দ করে তাই সে সাফাকে পছন্দ করে না। মিরা জারা সাফার বান্ধবী না হলেও সাফার সাথে তাদের ভালো সম্পর্ক।
ক্লাস শেষের ২০ মিনিট আগে কয়েকটা স্যার ক্লাসে ঢুকলেন। তাদের মাঝে ছিলেন বাংলা শিক্ষক বাদশাহ স্যার, ইংরেজি শিক্ষক বোরহান স্যার, ইসলাম শিক্ষক কাওসার স্যার। স্যারদের সাথে সাফা আর নাহিদও ছিল। তখন রওনক ম্যামের ক্লাস হচ্ছিল। স্যাররা ক্লাসে আসায় সবাই একটু চিন্তিত হয়ে যায়। সাফা আর নাহিদ ক্লাস না করে স্যারদের সাথে কেন।
বাদশাহ স্যারঃ ম্যাম আপনার কোন সমস্যা না থাকলে ক্লাসে কিছু কথা বলতাম।
রওনক ম্যামঃ জ্বি স্যার, বলেন। কোন সমস্যা নাই।
বাদশাহ স্যারঃ জ্বি ধন্যবাদ ম্যাম।
সাফা আর নাহিদ তারা নিজেদের সিটে বসেছে। এরপর বাদশাহ স্যার সবার দিকে তাকিয়ে তার কথা শুরু করলেন।
বাদশাহ স্যারঃ তোমরা হয়ত সবাই এই কিছু সময়ের মাঝে জেনে গেছ যে সাফা আর নাহিদের ব্যাপার টা? [একটু থেমে আবার বলতে শুরু করলেন] আসলে তোমরা কে, কিভাবে, কতটা জানো জানি না তবে তোমরা যা জানো সেটা সত্য নয়।
স্যারের কথায় সবাই একটু চমকে গেল। ক্লাসের প্রায় সব ছেলেমেয়ে জানে যে সাফা আর নাহিদ ল্যাব ক্লাসে ছিল একটা পুরো পিরিয়ড। তারা দুজন ছাড়া তখন সে রুমে কেউ ছিল না।
বোরহান স্যারঃ শোন, তোমরা জানো যে দ্বিতীয় ক্লাস পুরোটা সাফা আর নাহিদ ল্যাব ক্লাসে একা ছিল। এটা সত্য যে তারা এক সাথে ক্লাসে ছিল তবে তারা ইচ্ছাকৃত ভাবে কেউ এক সাথে ছিল না। একটা দুর্ঘটনার জন্য এমন একটা পরিস্থিতিতে তারা একসাথে ফাঁকা রুমে ছিল। ঘটনা হলো, সাফা প্রথম ক্লাস শেষে ল্যাব ক্লাসে যায় তার নোট নিতে। গতকাল তোমাদের লাষ্ট ক্লাস ল্যাবে হয়। ক্লাস শেষে ঘন্টা পড়ার পর সবাই ক্লাস থেকে বের হয়ে যায়, সাফার নোট খাতা অন্য একজনের কাছে ছিল সেটা সাফার মনে ছিল না। আর যার কাছে নোট খাতাটা ছিল সে খেয়াল না করে সাফার খাতাটা না নিয়ে চলে আসে। আজ প্রথম ক্লাসে সে মেয়েটার কাছে খাতা চাইলে সে বলে সে খাতা না নিয়ে চলে যায়। তখন সাফা ক্লাস শেষে ল্যাবে যায় খাতা নিতে। আর সেই সময় নাহিদ আর রোহান সেই দিকে যায় দৌড়ে, তারা দুজন মারামারি করে, নাহিদ রোহানকে মেরে পালাই আর সে গিয়ে ল্যাব ক্লাসে গিয়ে ঢুকে পরে, রোহান রাগ করে নাহিদকে ল্যাব ক্লাসেই আটকিয়ে চলে আসে। ল্যাব ক্লাসটা নিচতলার কর্ণারে বিধায় সেখানে কেউ খুব একটা যায় না। সাফা যে ক্লাস রুমে আছে সেটা নাহিদ জানত না, দড়জা খোলা থাকাই সে সেই ক্লামে ঢুকে পরে, আর রোহান যখন নাহিদকে ঘরে আটকিয়ে চলে যায় তখন নাহিদ পেছনে তাকিয়ে দেখে সাফা ভয়ার্ত চোখে নাহিদের দিকে তাকিয়ে আছে। ঘটনাটা আকস্মিক হওয়ায় কেউ বুঝতে পারে নাই কি ঘটেছে। তারপর ঘটনা বুঝতে পেরে নাহিদ অনেক ডাকে রোহানকে কিন্তু ততক্ষণে সে ক্লাসে চলে এসেছে। ল্যাব ক্লাসের দিকে কোন ক্লাস রুমে ক্লাস না থাকাই সেই দিকে কেউ যায় না। তাই তারা কেউ বের হতে পারে নাই। তৃতীয় ক্লাস ল্যাবে ছিল তাই স্যার সে ক্লাসে ঢুকে তাদের দেখে। তারপর তাদেরকে নিয়ে প্রিন্সিপালের রুমে যায়। তাদের থেকে জানতে চাওয়া হয় যে তারা কেন সেই ক্লাসে ছিল। তারা সত্য বলে এবং তাদের কথা প্রমাণও করে আমাদের কাছে। কিন্তু ক্লাসে এই কথা অন্যভাবে ছড়ানোর কারণে সাফা খুব কষ্ট পায় আর সে স্যারদের রুমে গিয়ে কান্না করে দেয়। এই ঘটনাটা তোমাদের জানানোর জন্য আমাদের এখানে আসা।
সবাই বুঝতে পারে যে তারা যা জানত সেটা মিথ্যা। জারা আর মিরা নেহার দিকে তাকায়, তাদের তাকানোর মানে বুঝাতে চায়ছে যে নেহা মিথ্যা কথা বলেছে সাফার ব্যাপারে।
কাওসার স্যারঃ দেখো বাচ্চারা, তোমরা এখন যথেষ্ট বড় হয়েছ। তোমাদের এখন উচিত অন্যকে কোন ব্যাপারে হেয় প্রতিপন্ন না করে তাকে সাহায্য করা, কথার সত্যতা যাচাই করা, অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকা এবং অন্যকেও বিরত রাখা। আল্লেহ তায়ালা বলেছেন,
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا ٱجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِّنَ ٱلظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ ٱلظَّنِّ إِثْمٌ وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَغْتَب بَّعْضُكُم بَعْضًا أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَن يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ وَٱتَّقُوا ٱللَّهَ إِنَّ ٱللَّهَ تَوَّابٌ رَّحِيمٌ
হে মুমিনগণ, তোমরা অধিক অনুমান থেকে দূরে থাক। নিশ্চয় কোন কোন অনুমান তো পাপ। আর তোমরা গোপন বিষয় অনুসন্ধান করো না এবং একে অপরের গীবত করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? তোমরা তো তা অপছন্দই করে থাক। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ অধিক তাওবা কবূলকারী, অসীম দয়ালু। [আল হুজুরাত-12]
হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, তোমরা কু-ধারণা হতে বিরত থাক, কেননা কু-ধারণা সবচেয়ে বড় মিথ্যা কথা। তোমরা কারো গোপন তথ্য সন্ধান করো না। একে অপরের বুযুর্গী হওয়ার চেষ্টায় লেগে থেকো না, হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করো না, একে অপরের পশ্চাতে নিন্দা করো না, এবং তোমরা সবাই মিলে আল্লাহর বান্দার ভাই ভাই হয়ে যাও। [সহীহ বুখারী]
কুরআনের আয়াত ও হাদিসের মাধ্যমে তোমরা কি বুঝলে?
১. কু-ধারণা করা যাবে না, কু-ধারণা করা বড় গুনাহ।
২. গোপন বিষয় অনুসন্ধান করা যাবে না।
৩. হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করা যাবে না।
৪. পশ্চাতে নিন্দা করা যাবে না।
৫. গীবত না করা। অর্থাৎ কারো অনুপস্থিতিতে তার সম্পর্কে এমন কিছু বলা যা তার সামনে বললে সে কষ্ট পাবে।
৬. সবাই মিলে মিশে থাকতে হবে।
শুধু সাফার ঘটনা নিয়ে নয়। যে কোন ঘটনাই যাচাই না করে বলা উচিত না। কারো সম্পর্কে কোন কিছু না বলা যা শুনলে যার সম্পর্কে বলা হচ্ছে সে কষ্ট পায়। তোমরা সবাই একই ক্লাসে থাক, সবাই সবার সাথে মিলেমিশে থাকবা, হিংসা-বিদ্বেষ করবা না। একে অপরের সাহায্য করবা।
বাদশাহ স্যারঃ আচ্ছা বাচ্চারা তোমরা সবাই ভালো থাক। আর মন দিয়ে পড়াশুনা কর। আচ্ছা ম্যাম আমরা আসি।
স্যাররা সবাই ক্লাস রুম থেকে চলে যায় সবাইকে নতুন কিছু শিখিয়ে।। সবাই এখন বুঝতে পারে তারা কতটা অন্যায় কাজ করেছে তাই সবাই এখন সাফা আর নাহিদের কাছে ক্ষমা চাইছে।
#বইপোকা
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now