বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পার্কের লাস্ট বেঞ্চে বসে আছে রবিন,অনেক্ষণ ধরে অপেক্ষা করতেছে কিন্তু রিয়ার আসার কোনো নাম নেই। বসে থাকতে বিরক্ত লাগায় সে মোবাইলটা বের করে ফেসবুকে লগ ইন করলো। ফেসবুকের হোম পেইজে দেখতে পেল একটা ছবি,অনেক দিন পর একটা ছবি পোস্ট করেছে,এমনিতে তার ছবি দেখলে রবিন ফেসবুক থেকে বের হয়ে আসে। কিন্তুু আজ কেনো জানি এক দৃষ্টিতে দেখতেছে,ছবিটি হলো মিমের। যাকে সে তার জীবনের থেকেও বেশি ভালবাসত। কিন্ত তিন বছর আগে সে তার জীবন থেকে হারিয়ে গেছে অজানা কারণে।
ছবির দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকায়,পুরোনো স্মৃতি মনে পড়ায় তার চোখ দুটি কেমন জানি ঝাপসা হয়ে আসছে। এদিকে রিয়া এসে দেখতেছে তার চোখে পানি,তাই সে রবিন কে বললো
-এই কাদছো কেন??
-এমনিই কিছু না
-তুমি বললেই হলো,
-(তোমার মিমের কথা মনে পরেছে তাই না এবং তুমি তার ছবিই দেখছিলে)
-হুুম,তুমি বুঝলে কিভাবে?
-আমি সব বুঝি, আর এরপর থেকে কোনো দিন মিমের ছবি দেখবে না।
-...........
-তোমার মোবাইল টা দাও।
-কেনো?
-দিতে বলেছি দাও
-হুুম
-পাসওয়ার্ড টা দাও।
-কেনো?
-দিতে বলছি দাও
-হুম
-পাসওয়ার্ড টা বলো
-জানি না
-জানো না মানে?আমি জানি,"ফারজানা মিম"এটাই তো?
-হুম (আস্তে করে)
-তুমি আজও ওর নাম পাসওয়ার্ড দিয়ে রাখছো?
-হুম চেঞ্জ করি নি
রিয়া জানে যে রবিন মিম কে আজও ভুলতে পারেনি তবুও তাকে ভালবাসে,কেনো তাকে এতো ভালবাসে সে নিজেও জানে না। রবিনের জন্য আজ পছন্দের খাবার রান্না করে নিয়ে এসেছে,
-এই নাও খেয়ে নাও
-আজ সকালে তো খাওনি মনে হচ্ছে, রিয়ার মুখের দিখে তাকালো রবিন,
মেয়েটা আমাকে এতো ভালবাসে,আর আমি.........
খাবার টা দুজনে খেয়ে নিলো,....রবিন ঢাকা ভার্সিটিতে তৃতীয় বর্ষে পড়ে,তার নিকট টাকা থাকেনা বলে মাঝে মাঝেই সকালে না খেয়ে থাকতেই হয়। পার্ক থেকেই বের হয়ে বাহিরে রিক্সার জন্য ওয়েট করতেছে....রবিনের কাছে একটা টাকাও নেই তাই সে রিক্সায় যেতে চাচ্ছে না যদিও সে জানে রিয়া তার ভাড়া টা দিয়ে দিবে তবুও সে যেতে নারাজ।
কয়দিন ই বা অন্যের ভাড়ায় যাওয়া যায়,তারপর একটা রিক্সা করে তারা বাসায় চলে আসলো। রাত এগারোটার বেশি বাজে,মন ভাল না থাকায় গিটার টা হাতে নিয়ে ছাদের দিকে এগোচ্ছে। ছাদের এক কোণায় পড়ে থাকা চেয়ারে বসে এশেজের একটা গান গাইলো। সকালে ঘুম থেকে উঠলো রিয়ার ফোনে
-হ্যালো,তুমি বুঝি এখনো ঘুম থেকে উঠনি
-এই তো উঠলাম মাএ
-তারাতারি ক্যাম্পাসে আসো
-ওকে,আসতেছি
ভার্সিটিতে যাওয়ার পর ক্লাস শেষ করে দুজন কথা বলতেছে
-চলো না আজকে কোথাও ঘুরে আসি
-আজকে নাহ,আরেক দিন
-তুমি তো শুধু এই কথায় বলো
-সত্যি অন্য দিন নিয়ে যাবো
ভার্সিটি থেকে বাসায় এসে ফ্রেস হয়ে খেয়ে নিল রবিন। বিকেলের দিকে রাস্তার মোড়ের দোকানে চা খাওয়ার সময় দেখলো মিম কে একটা ছেলের সাথে রিক্সা করে যাচ্ছে,তাই সে মাথা নিচু করে বসে রইলো। রাতে নেশা করে এসে বিছানায় শুয়ে আছে এমন সময় রিয়ার ফোন,কি করো?খাইছো?
-না খাবো না
-তোমার কণ্ঠ এমন শুনাচ্ছে কেন?
-আজকেও নেশা করেছো নাকি?
-হুম একটু।
ফোনের লাইন না কেটেই কান্না শুরু করলো রিয়া,রবিন বুঝতেছে রিয়া কান্না করতেছে। রিয়া ভাবতেছে রবিন কি তাকে আসলে ভালবাসে? নাকি মিথ্যা?রিয়ার কথা মোটেও শুনে না রবিন,তাই ভাবলো রবিন কে সে মুক্তি দিবে। তাই বিকালে দেখা করতে বললো। পার্কের সেই বেঞ্চেই বসে আছে রবিন। একটু পর রিয়া এসে....
-একটা কথার উওর দিতে এক্ষণি
-বলো কি কথা
-তুমি কি আসলে আমাকে ভালবাসো?
-এটা আবার জিজ্ঞাসা করতে হয়!
-মনে হয় না,আমাকে যদিই ভালোই ভাসতে তাহলে আর কষ্ট দিতে না
-কৈ কষ্ট দিলাম
-বার বার বারণ করা সত্ত্বেও নেশা করো,আরো অনেক কাজ কর যা করতে নিষেধ করা সত্ত্বেও,এগুলোর কারণে আমার কষ্ট লাগে না বুঝি?(কেঁদে দিয়ে)
রিয়াকে জরিয়ে ধরে রবিন....
-আর কেদনা,আর কোনো দিনও কষ্ট দিবো না এই প্রমিজ।
-মনে থাকে যেন,
-থাকবে সোনা,আই লাভ ইউ
-লাভ ইউ টু
-কখনো আমাকে ছেরে চলে যাবে না তো,
-কখনো না, চিরদিন তোমার পাশে থাকবো।
দুইবছর আজ তাদের বাসর রাত,হ্যা পারিবারিক সম্মতিতেই বিয়েটা হচ্ছে।
বি:দ্র : সবাই গল্পটি পড়ে জানাবেন, কার কেমন লাগল।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now