বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
--বাবা, দশটা টাকা দাওতো!
--আমি তো একটা টাকার গাছ লাগাইছি, খালি নাড়া দিলেই টাকা পরে? গত ১ মাসে ১হাজার টাকাও আয় হয় নাই। খরচ হইছে ২৭হাজার টাকা। প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা দেনায় পরছি। ক'দিন পর বাজারেই বের হওয়া বন্ধ হয়ে যাবে, তখন তোরা থাকিস এই সংসার নিয়া। আর লোকের টাকা না দিতে পারলে আমার তো একটা কিছু খেয়ে ঘুম দিতে হবে!
অর কথা বাড়ালাম না। আমি বাবাকে চিনি। এই মূহুর্তে কথা বাড়ালেই ঝগড়া বাধবে। রাগের মাথায় হয়তো আমিও কিছু বলে বসবো! তার থেকে চুপ থাকাটাই ভালো।
আমার বাবা একজন সামান্য মাছের ব্যাবসায়ী, তাও আবার তিনজনে ভাগে। অর্থাৎ একটা দোকান থেকে আয় হওয়া মোট টাকার তিনভাগের একভাগ দিয়েই কোনরকমে টেনেটুনে চলছে আমাদের পাঁচটি জীবন। তবে বংশগত ভাবে তিনি এই পেশায় আসেন নি, নিন্তান্ত বেঁচে থাকার তাগিদে তিনি এই পেশা বেছে নিয়েছেন।
নিন্তান্ত নিম্ম-মধ্যবিত্তের জীবন আমাদের। আমার এইটুক জীবনে আমার বাবার কাছ থেকে আবদার করে পেয়েছি এমন জিনিস হাতে গোনা। সত্যি বলতে কি বাবার একটা বিশাল মন আছে শুধু সামর্থের সাথে পাল্লা দিতে গিয়ে হেরে যেতে হয়েছে বারবার।
কিছুক্ষন পর ঘরে ফিরে দেখি টেবিলে রাখা বইয়ের ভাঁজে লাল দুটো দশ টাকার নোট। নোট দুটো যে বাবা-ই রেখেছে বুঝতে অসুবিদা হলো না। নোট দুটো দেখে চোখের কোনায় জল চলে আসছিলো।
মাঝে মাঝে ভাবি, বাবা না থাকলে কি অবস্থা হতো আমাদের?
আবার রাগও হয় বাবার উপর। শুনেছি দাদুর অনেক কিছু ছিলো। বিশাল সম্পত্তি ছিলো। শুধুমাত্র তার একমাত্র ছেলে অর্থাৎ আমার বাবার বাউন্ডুলে জীবন যাপনের নির্মমতার শিকারে আজ আমরা নিঃস্ব!
আবার ভাবি, হয়তো আমাদের ভাগ্য দেবতা সহায় নেই বলে আজ এই অবস্থা!
এইতো কালকেই....
ভাত খাওয়ার সময় বাবা আমাকে বললো, "দেখ বাবা, আমি আমি যে এত কষ্ট করি সব কিন্তু তোদের মুখের দিকে চেয়ে। আমার সব স্বপ্ন কিন্তু তোকে নিয়েই। কোনদিন হুট করে যদি আমার কিছু হয়ে যায় তোদের কি অবস্থা হবে ভেবে দেখছো?"
জীবনেই এই প্রথম বাবার চোখে জল দেখলাম। কেন জানি আমি কিছু বলতে পারছিলাম না।
হ্যা, আমারও একটা স্বপ্ন আছে। যদিও আমাদের মত মানুষের বড় স্বপ্ন দেখাটা অনেকের কাছে হাস্যকর মনে হতে পারে, তবুও একটি স্বপ্ন সেই ছোট বেলা থেকে তিল তিল করে পুষে যাচ্ছি--আমার একটি বাড়ি হবে, ইয়া বড় বাড়ি। সুখের সবটুকু উপকরন থাকবে সেখানে।
আমার মাকে আমি কোনদিন সামান্য সুখ পেতে দেখিনি, তাই আমার স্বপ্নের সবটুকু জুড়ে আমার বাবা-মায়ের সুখ।
আমার ছাদের কার্নিশে বসে আমার বাবা-মা খুনসুটির গল্প করবে, আর আমি আড়ালে দাড়িয়ে দু'ফোটা আনন্দাশ্রু জড়াবো, এমন স্বপ্ন আমিও দেখি।
কি করবো, আমাদের নিম্ম-মধ্যবিত্তদের জীবনটাই এমন। স্বপ্নই আমাদের বেঁচে থাকার জ্বালানী।
হয়তো কাল সকালেও সূর্য ওঠার পরে আবার সেই চিরায়িত দৃশ্য। স্নানের পরে বাবার ক্রমশ ভেঙে যাওয়া পরিশ্রমী শরীর, মায়ের ছিড়ে যাওয়া শাড়ির আঁচলটা আমাকে দেখেই লুকয়ে ফেলা, আর একবুক স্বপ্ন নিয়ে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকা.....গল্পটা আমার নয়, গল্পটা আমাদের, গল্পটা জীবনের।
লিখাঃ প্রসেনজিৎ রায়
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now