বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সত্য ঘটনা

"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সাইমন জাফরি (০ পয়েন্ট)

X পশ্চিমবঙ্গের একটি ছোট গ্রামের গল্প এটি, আসলে গল্প না বলে একটি সত্য ঘটনা বলা যেতে পারে। আজ থেকে প্রায় পঞ্চাশ , ষাট বছর আগের কথা। গ্রামটির আশি শতাংশ মানুষের জীবিকা নির্বাহের প্রধান উৎস ছিল কৃষি কাজ। গ্রামটি বেশ সচ্ছল ছিল। এই গ্রামের এক প্রান্তে একটি মাঠ ছিল আর মাঠের পাশেই ছিল বিশাল এবং শত বছর পুরানো একটি আম গাছ। আসলে শত বছর পুরানো বলাটা হয়ত ভুল হতে পারে কারন ওইটা কত পুরানো ছিল তা হয়ত গ্রামের সবচেয়ে প্রবিণ ব্যক্তিটিও বলতে পারবে না। গাছটির গোড়ায় বেশ বড় একটি কোটর ছিল, আর ওই কোটরে বাস করত এক পাগল। সব সময় সে কোটরের ভেতরেই থাকত। যখন তার খাবারের দরকার হত শুধু সে তখন বের হতো, গ্রামের কাউকেই সে কোন রকম জ্বালাতন করত না। আর গ্রামের সবাই তাকে খাবার দিত, সে জ্বালাতন করত না বলে কেউ তাকে ঘাটতেও যেতনা। মাঝে অবস্য গ্রামের কিছু দস্যি ছেলে দেখতে গিয়েছিল যে সে আসলে সারাদিন গাছের কোটরে কি করে কিন্তু তারা দেখতে পায় সে সব সময় বসে থাকে তো তাদের অতি উৎসাহে ভাটা পরে, তারা আর দেখতে যায় না। তো এভাবেই সবাই বেশ শান্তিতেই দিন কাটাচ্ছিল। একদিন গ্রামের কিছু গুরুজন সবাইকে ডেকে সিদ্ধান্ত নিল যে আমরা তো আল্লহর রহমতে সবাই বেশ সচ্ছল তাই সবাই মিলে গ্রামে একটি মাহফিলের আয়োজন করি। ওহ এখানে একটি কথা বলা হয়নি, গ্রামটি পশ্চিমবঙ্গের হলেও এটি মুলত ছিল মুসলিমপ্রধান । তো সবার কাছ থেকে চাঁদা তুলে মাহফিলের আয়োজন করা হল। প্রধাণ বক্তা হিসাবে দাওয়াত দেওয়া হল ফুরফুরা শরীফের বড় হুজুর ছাহেব কে। নির্দিষ্ট দিনে যথারীতি মাহফিল সুরু হয়ে গেল। অনেকেই হয়ত দেখে থাকবেন যে মাহফিল কে কেন্দ্র করে মাহফিলের আশে পাশে বেশ কিছু ছোট ছোট, খাবারের দোকান, মণিহারী দোকান বসে। এখানেও এর ব্যতিক্রম হলনা। বড় হুজুর কেবলা যখন স্টেজে উঠলেন ঠিক ওই সময় সেই পাগল টি মাহফিলে প্রবেশ করল এবং একটি খাবারের দোকানের সামনে যেয়ে হাত পেতে খাবার চাইল। দোকানি তখন জীলেপি ভাজছিল, দোকানি তাকে না দেখার ভান করল। পাগলটি আবার চাইল, এভাবে তিন চার বার চাওয়ার পর দোকানি রাগ হয়ে কড়াই থেকে ফুটন্ত জিলেপি তার হাতের ওপর ছেড়ে দিল। তখন পাগলটি চিৎকার করে উঠল জ্বলে গেল জ্বলে গেল। পাগলটি তখন ঘুরে দৌড়াতে লাগল আর চিৎকার করে বলতে লাগল জ্বলে গেল পুড়ে গেল, সব কিছু জ্বলে পুড়ে শেষ হয়ে যাবে। তার এই কথা গুলি বড় হুজুরের কানে গেল, তিনি সংগে সংগে কমিটির লোক পাঠাল ঘটনা জানার জন্য তারা এসে সব জানাল। সব শুনে হুজুর তাদের বললেন সব ছামিয়ানা কি তোমাদের ভাড়া করা? যদি তাই হয় তাহলে যেগুলি দামি সেগুলি দ্রুত খুলে ফেল আর সবাই কে সরে যেতে বল। আর ওই পাগল কোথায় থাকে যে জান আমার সাথে আস দেরি হয়ে গেলে অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। তো হুজুর আম গাছটার কাছে যখন গেলেন তখন দেখলেন কোটর শুন্য ওখানে কেউ নেই। ওদিকে চার, পাচ টি ছামিয়ানা খুলতে না খুলতেই সেই দোকান থেকে কিভাবে যেন আগুন লেগে গেল আর সংগে সংগে আগুন চার পাশে ছড়িয়ে গেল। সেই আগুনে আর কারো কোন ক্ষতি না হলেও সুধু মাত্র সেই দোকানি বাচতে পারল না পুড়ে মারা গেল। পরে হুজুরের কাছ থেকে জানা গেল যে সে কোন সাধারণ পাগল ছিল না সে ছিল আল্লাহর পাগল যে শুধু ওই কোটরে বসে আল্লাহ্‌রর ধ্যানে মশগুল থাকত। হুজুর যাবার সময় বলে গেলেন তোমরা আজ এমন একজন কে হারালে যার ক্ষতি পূরণ কখনই করতে পারবে না। ( পরিশেষে শুধু এটুকুই বলব যে আমরা অনেক সময় পাগল ভেবে খারাপ ব্যবহার করে ফেলি আসলে এটা করা ঠিক না কারন কে আল্লাহ্‌র পাগল আর কে সত্য পাগল এটা আমরা সাধারণ মানুষ কখই বুঝতে পারব না, তাই বলছি তাদের সাহায্য যদি না করতে পারি আমাদের দ্বারা তাদের যেন কোন ক্ষতি না হয়) ##জুবাইদা বাসেত


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৮৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আমার মায়ের সাথে ঘটা সত্যি ঘটনা
→ আমার মায়ের সাথে ঘটা সত্যি ঘটনা
→ সত্য ঘটনা
→ সত্য ভৌতিক ঘটনা
→ সত্যি ঘটনা
→ একটি সত্য ঘটনা
→ একদম সত্য একটা ঘটনা। নাপিতের কোটিপতি হওয়ার গল্প।
→ অন্ধকার রাতের ভয়ানক লোম খাড়া করা সত্য ভৌতিক ঘটনা
→ সত্য ঘটনা
→ সত্য ঘটনা
→ সত্য ঘটনা,,,,, সবাইকে পড়ার জন্য অনুরোধ
→ সত্য ঘটনা!!!
→ সত্যি ঘটনা
→ একটি সত্য ঘটনা
→ সত্য-ঘটনা(০১)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now