বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সন্ধা হয়ে গেলো এখনো উনার আসার খবর নাই।
বাজার আনবে কখন রান্না করবো কখন?
আসুক আজ...
উনার একদিন কি আমার একদিন।
.
খুব ভোরে উঠে রফিক দু-মুঠো পান্তা ভাত খেয়ে কাজে গেছে।
তাতের কাজ করে রফিক। সকালে খেয়ে যায় আর দুপুরে দোকান থেকে কলা, পাউরুটি খেয়ে বিকেল পর্যন্ত কাজ করে বাসায় ফেরে।
আজ অবশ্য দুপুরে তরকারি রান্না করার মতো কিছু ঘরে ছিলো না বলে রফিককে তার স্ত্রী হুমায়রা বাজার করে একটু তাড়াতাড়ি ফিরতে বলেছে বাড়িতে।
.
এমনেই দুপুরে কিছু খায়নি হুমায়রা। তার উপর আবার সন্ধা হয়ে এলো এখনো স্বামী রফিক আসছে না বলে রাগে গম্ভীর হয়ে বসে আছে হুমায়রা।
.
মাগরিবের আজান কানে আসতেই হুমায়রা দৌড়ে ঘরে যায়।
সন্ধা বাতি জ্বালিয়ে আবার বাইরে আসে।
রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছে হুমায়রা। হঠাৎ চোখে পড়ে কে যেনো আসছে মাথায় একটা বোঝা আর হাতে একটা ব্যাগ নিয়ে।
সূর্য ডুবে আবছা আলোয় মুখ দেখা যাচ্ছে না।
কিন্তু হাটা দেখেই হুমায়রা বুঝতে পারে ওটা ওর স্বামী রফিক আসছে।
.
রফিক উঠানে আসতেই হুমায়রা দৌড়ে যায়।
স্বামীর হাত থেকে ব্যাগটা নিয়ে মাটিতে রেখে আবার স্বামীর মাথার বোঝাতে নামাতে সহযোগিতা করে।
ব্যাগটা নিয়ে ঘরে রেখে তাড়াতাড়ি একটা পাটি ও হাতপাখা নিয়ে বের হয়ে আসে হুমায়রা।
উঠানের মাঝে পাটি পেরে স্বামীকে বসতে দেয়।
এরপর নিজ হাতে স্বামীর শার্টের বোতামগুলো খুলে দেয়।
ঘেমে মাথা থেকে পানি চুয়ে পড়ছে শরীর দিয়ে রফিকের।
গামছাটা হাতে নিয়ে স্বামীর ঘামা শরীর মুছে তারপর হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে থাকে।
.
রফিক বউয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বলে রাগ করেছো তাইনা সোনা..?
হুমায়রার চোখে পানি টলমল করছে।
রফিক ওর পাখাটা হাত থেকে নিয়ে বুকের মাঝে টেনে নেয় প্রিয়তমা বউকে।
একটু তাড়াতাড়িই আসতাম। কিন্তু কাজ শেষ করে মহাজনকে পাইনি।
মহাজন আসার পর টাকা নিয়ে বাজার করতেই এতোটা দেরি হলো।
জানি আমার লক্ষিটি না খেয়ে আছে দুপুরে।
খুব কষ্ট দিলাম আমার লক্ষি বউটাকে তাইনা?
হুমায়রা হাতটা রফিকের মুখে চেপে ধরে বলে চুপ করো তো।
হা একটু রাগ হয়েছিলো। কিন্তু যখন দেখলাম আমার স্বামীটা এতো কষ্ট করে কাজ করে ঘামা শরীরে বাড়ি ফিরেছে তখন রাগটা পানি হয়ে গেলো নিমেষেই।
তুমি এতো কষ্ট করে প্রতিদিন দুপুরে না খেয়ে সারাদিন কাজ করে বাড়ি ফেরো। আর আমি একদিন দুপুরে না খেয়ে থাকলে কি হবে?
বউকে আরেকটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রফিক। কপালে একটা চুমো দিয়ে বলে লক্ষি বউ আমার।
.
যাও কষ্ট তো করলেই আরেকটু কষ্ট করে খাওয়ার গোছ করো।
ক্ষুধায় আমার ও পেট জ্বলতেছে। রান্না হলে দুজন একসাথে খাবো।
.
রান্না শেষ করে দুটো প্লেটে ভাত বাড়ে হুমায়রা।
দুজন পাটিতে বসে একসাথে খায়। খাওয়ার পর রফিক বিছানায় গা টা এলিয়ে দেয়।
.
একটুে পর হুমায়রা থালা-বাসন গুছিয়ে রেখে বিছানায় ওঠে।
স্বামীর পাশে শুয়ে হাত বুলিয়ে দেয় স্বামীর মাথায়।
রফিকের চোখে পানি টলমল করছে।
হুমায়রা তা খেয়াল করে বলে কি হলো গো?
রফিক বউয়ের দুই গালে দুটো চুমো দিয়ে বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরে।
বলে তুমি বড়লোকের মেয়ে হয়ে আমার হাত ধরে এসেছো।
কি পেয়েছো আমার কাছে? তোমাকে আমি কিছুই দিতে পারছি না।
হুমায়রা স্বামীকে টেনে বুকর উপর তোলে। এই যে তুমি আর আমি দুজন-দুজনার বুকের মাঝে ঠাই পেয়েছি।
এর চেয়ে বড় সুখ আর কি আছে বলো?
তুমি যখন সারাদিন গায়ে খেটে, হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করে বাড়িতে এসে আমায় বুকে টেনে নাও।
আদর করে চুমো খাও, ভালোবাসো।
সত্যি তখন আমার এই পৃথিবীর সব ভালোবাসা তুচ্ছ মনে হয়।
.
দেখোনা আমার বড় আপুটার কতো বড়লোক স্বামীর সাথে বিয়ে হয়েছে।
অথচ ওর স্বামী জুয়া খেলে, নেশা করে আর রাতে বাড়িতে এসে আপুকে মারধোর করে নেশার ঘোরে।
আপু কিছু বললে মেরে রক্তাক্ত করে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।
আর আমার স্বামীটার কিচ্ছু না থাকলেও আছে সুন্দর একটা মন।
এই মনের মধ্যে শুধু আমায় লুকিয়ে রেখো, ঠাই দিয়ো সারাজীবন...
আর কিচ্ছু লাগবে না আমার।
.
এই জানো? বাবা-মা নাকি ২/১ দিনের মধ্যে আসবে আমাদের এখানে। তোমার আমার সুখের কথা শুনে তারা নাকি মেনে নেবে আমাদের।
রফিককে জড়িয়ে ধরে এসব বলছে আর অজস্র চুমোয় ভরিয়ে দিচ্ছে হুমায়রা।
রফিক ও সাড়া দিচ্ছে বউয়ের ভালোবাসার আদরে।
এভাবেই চলতে আছে গ্রামের গরীব মানুষগুলোর ভালোবাসা।
আর এই ভালোবাসগুলোই হলো... ***খাটি ভালোবাসা***
....
....
আমি এমন ভালোবাসার খোঁজেই ভালোবেসেছিলাম কাউকে। কিন্তু ভাগ্য বিধাতা হয়তো চায়নি ও আমার হোক। তাইতো ও আজ পরের ঘরের ঘরনী।
সবার কাছে অনুরোধ কাউকে ভালোবাসলে তাকে মন থেকে ভালোবাসুন। সে হোকনা গরীব। তার বুকে আছে অজস্র ভালোবাসা।
***
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now