বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সতিন কাটা

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান suborna akhter zhumur(guest) (০ পয়েন্ট)

X পারুলের সাথে তিয়াসের বিয়ের দেড় বছর হতে চল্ল। এই দেড় বছরে একবারের জন্য সে পারুলকে বিন্দুমাত্র ও অবহেলা করেনি, কখনো মনে করিয়ে দেয়নি তার সন্তানের বাবা তিয়াস নয় অন্য কেউ। স্বামী হিসেবে, বাবা হিসেবে সব কর্তব্য সে পালন করেছে। তবুও তিয়াসের মনে আজও জুইয়ের অস্তিত্বটা কাটার মতো বিধে আছে। তাইতো সে ক্যালেন্ডারের দিকে তাকিয়ে আছে। পারুল সেটা খেয়াল করতেই মনে পরলো আজ জুইয়ের মৃত্যুর দুবছর পুরো হল। পারুলকে বাইরে যাওয়ার জন্য রেডি হতে দেখে তিয়াস জিজ্ঞাসা করলো," কোথাও যাবে নাকি "? শুধু আমি নই, তুমিও যাবে আর যাওয়ার পথে অনেক গুলো গোলাপ কিনে নেবে। একথা বলার পর তিয়াসকেও রেডি হতে বলে রুমের বাইরে গেল। কিছুক্ষণ পর পারুলের কথামতো গোলাপ নিয়ে আজিমপুর কবরস্থানে গেলো। এতক্ষণ পর তিয়াস বুঝতে পারলো আজকের দিনটার কথা শুধু তার না আরও একজনের মনে আছে, তিয়াস অবাক চোখে তাকিয়ে দেখল পারুল গোলাপ ফুল দিয়ে জুইয়ের কবরটাকে সাজাচ্ছে। অবাক হবার আরেকটি কারন হচ্ছে, কোনো স্ত্রীই তার স্বামীর প্রেমিকাকে সহ্য করতে পারেনা। তিয়াস ভাবল, পারুল খুব সরল মনের মানুষ। বাসায় ফিরে পারুল পাচ বছর আগার কথা কল্পনা করতে লাগল যখন সে তিয়াসের বড় ভাই গিয়াসের বউ হিসেবে এই বাড়িতে এসেছিল। গিয়াসের সাথে যদিও তার সম্বন্ধ করে বিয়ে হয়েছিল কিন্তু সবাই তাদের ভালবাসা দেখে ভাবতো যে তাদের প্রেমের বিয়ে। এভাবে কখন যে তাদের বিয়ের দুই বছর কেটে গেল গিয়াস অথবা পারুল কেউই টের পায়নি। তারপর সেই নির্মম দিনটি আসে যে দিন তাদের বিয়ের দুবছর পুরন হওয়ার কথা, পারুল নতুন শাড়ি, চুড়ি, চোখে কাজল, বেলি ফুলের মালা দিয়ে চুল বেধে গিয়াসের অপেক্ষা করছিল। অন্যদিকে গিয়াস অফিসের কাজ তাড়াতাড়ি শেষ করে বাসায় ফিরছিল কিন্তু পিছন থেকে একটা গাড়ি তাকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। পথচারীরা তাকে হসপিটালে নিয়ে যায়। অরেকদিকে, এক্সিডেন্ট এর খবর শুনে হসপিটালে গিয়ে গিয়াসের লাশ দেখতে পায়। পারুল মারাত্মক আঘাত পেয়ে জ্ঞান হারায়। পরে জানা যায় শুধুমাত্র মানসিক আঘাত নয় বরং তার জ্ঞান হারানোর অন্যতম কারন হচ্ছে সে মা হতে চলেছে। পরবর্তীতে কয়েকমাস পর তার স্বশুর, শাশুড়ি ভাবতে থাকে পারুল অল্পবয়সী মেয়ে, তাকে আবার বিয়ে করতেই হবে। সবকিছু জেনেও যদি কেউ তার এবং বাচ্চার দায়িত্ব নেয়ও পরে যদি নিজের সন্তান হবার পর তাদের নাতিকে কস্ট দেয়, অবহেলা করে। তাই তারা তাদের আরেক ছেলে তিয়াসের সাথে পারুলের বিয়ে দিতে চায়। যাতে তাদের নাতি তাদের চোখের সামনেই থাকে, আর পারুলের মতো সুন্দরী, এতো ভাল মেয়ে বর্তমান যুগে পাওয়া যায়না। কিন্তু তিয়াসের সাথে জুইয়ের সম্পর্ক ছিল, তাই সে তার ভাবির প্রতি রেগে যায়। অপরদিকে পারুল ভাবতে থাকে যে করেই হোক তিয়াসের জিবন থেকে, নিজের জিবন থেকে জুই নামের কাটাটা উপড়ে ফেলতে হবে। কারন, এই বাড়িতে সে আর তার সন্তান যতোটা ভালো থাকবে অন্য কোনো বাড়িতে সে ততোটা ভালবাসা পাবেনা। কারন সে বিধবা, আর বাচ্চাটা আরেকজনের। এরপর একদিন সে জুইয়ের সাথে দেখা করে, তাকে বলে তার দেবরের সাথে বিয়ে দেবে, নিজ হাতে জুইকে সাজিয়ে দেবে। একথা শুনে জুই খুব খুশি হয়, কিন্তু তার এই খুশি স্থায়ী হয়না। কারন পারুল তাকে পেছন থেকে ধাক্কা মেরে চলন্ত বাসের সামনে ফেলে দিয়ে চুপিসারে কেটে পড়ে। জুইয়ের মৃত্যুর কথা শুনে তিয়াস ভেংে পড়লে পারুল তাকে ভালবাসা দিয়ে, তার খেয়াল রেখে আস্তে আস্তে তিয়াসের মনে জায়গা করে নেয়। যদিও জুইয়ের জায়গাটা সে কখনোই নিতে পারেনি। এরপর তিয়াস পারুলের সাথে বিয়েতে অমত করেনি। কারন, জুইকে যখন সে হারিয়ে ফেলেছে তখন ভাইয়ের সন্তানকে পিতৃপরিচয় দিয়ে বড় করতে তার কোনো বাধাই রইলোনা। জুইয়ের মৃত্যুর রহস্যটা কেউই জানেনা শুধুমাত্র পারুল ছাড়া।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সতিন কাটা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now