বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

স্টেপ মতা

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md mainul islam (sagor) (০ পয়েন্ট)

X আমার মা মারা যাবার তিন বছর পর আমার বাবা আবার বিয়ে করেন। বিয়েতে বাবার তেমন ইচ্ছে না থাকলেও আত্মীয়দের মুনমুনিই বেশী ছিল।বাবার বিয়েতে আমার মতামত একদমই না থাকলেও আত্মীয়রা সার্ফএক্সেল দিয়ে ওয়াশিং মেশিনে আমার ব্রেইন ওয়াশ করে ছিল। ফলাফল আমিও রাজী হলাম। সবাই নাচতে নাচতে আমার বাবাকে বিয়ে দিল। আমি বাবার বিয়েতে ছিলাম না। বান্ধবীর বাসায় এক সপ্তাহ কাটিয়ে তারপর বাসায় ফিরে দেখি আমার স্টেপমাতা পুরো সংসারটা নিজের করে নিয়েছে। খুব রাগ হলো দেখে। আমার মায়ের হাতে তিলে তিলে গড়া এই সংসারটা ঐ মহিলা কেমন করে নিজের করে নিলো? আমি চুপচাপ ছেড়ে দেয়ার মত মেয়ে নই, কারণ আমি বাংলা সিনেমার নায়িকা নই যে, সব অত্যাচার মুখ বুজে সইবো। আমি উনাকে বললাম-"আপনি আমার মায়ের ব্যক্তিগত কোনো জিনিসে হাত দেবেন না। আমার মায়ের শাড়ী গহনা এসব ইউস করবেন না । আমার কথা শুনে উনি চুপচুপ দাড়িয়ে রইলেন। মনে মনে ভাবলাম বোবা টোবা নাকি? বোবা হলে অবশ্য বেশ হয়। সে যা-ই হোক প্রথম থেকেই উনাকে সব বলে দেয়াকে গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য মনে হলো। তাছাড়াও উনাকে আমি আমার মায়ের জায়গার আশে পাশেও স্থান দিতে পারবো না তাই আমি উনাকে বললাম -"আমি আপনাকে আন্টি বলে ডাকবো, এই নিয়ে আপনি বাবাকে বিচার দিয়ে অশান্তি করবেন না। আমার মায়ের জায়গা আমি কাউকে দিতে পারবো না। অবশ্য সৎমায়েরা সতীনের ছেলে মেয়ের মুখে মা ডাক শোনার অপেক্ষা করে না।" উনি আমার কথা চুপচাপ শুনলেন, মনে হলো একটু অবাক হয়েছেন। সে যা ইচ্ছে হোক আই ডোন্ট কেয়ার। আমি মুখ সরিয়ে নিয়ে একটু ভেঙচি কাটলাম। আমাদের কলনীতে কারো সৎমা নেই। তাই সৎ মা সম্পর্কে আমি বিশেষ কিছু জানি না, যা জেনেছি শুধুই সিনেমা নাটক দেখে। তবে আমার ছোট বেলার একটা বান্ধবী ছিল, ওর সৎমা ছিল। বান্ধবীটার নাম রীতা। ওর সৎমা রোজ ওকে মশুর ডাল দিয়ে ভাত খেতে দিত। ওর কথা শুনে আমার খুব খারাপ লাগতো। যেখানে আই ডোন্ট লাইক ডাল, সেখানে রীতা রোজ তিন বেলা ডাল দিয়ে ভাত খায়; এটা মেনে নেয়ার মত বিষয় নয়। রীতার সৎমা ওকে দিয়ে অনেক কাজ করাতো আর এই কাজের ভয়ে রীতা এক দিনও স্কুল বাদ দিত না। মাঝে মাঝে আমার মনে হতো ওর সৎমায়ের চুল ধরে ঝাঁকিয়ে আসি। এখন আমার নিজের ঘরেই সৎমা, অথচ আমার ইচ্ছে থাকা শর্তেও আমি তার চুল ধরে ঝাঁকাতে পারছি না। তবে এক দিন ঝাঁকিয়েই ছাড়বো, তেল দিয়ে দেবার ছলে হলেও। টেনশন হচ্ছে ডাল নিয়ে, যদি আমাকে রোজ ডাল দিয়ে ভাত খেতে দেয় তবে তো আমি না খেয়ে খেয়ে কার্টুন হয়ে যাবো। ভেরী চিন্তার বিষয়। তাই বুদ্ধি কষে উনাকে বললাম-"আমি কিন্তু মশুর ডালসহ কোনো ডালই খাই না, ডালে আমার এলার্জী আছে। শ্বাস কষ্টসহ সারা শরীর চুলকায়।" সে-"আর কিসে কিসে এলার্জী আছে তোমার?" উনার কথা শুনে চিন্তায় পড়ে গেলাম। আসলে তো এলার্জী নেই তাহলে আর কিসের কথা বলবো? ধ্যাত্তেরি কিছুই তো মনে পড়ছে না। আমি বেশ ভাব নিয়ে বললাম-"পরে বলবো, এক সাথে সব বললে গুলিয়ে ফেলবেন" উনি কি বুঝলেন কে জানে! এক দিন আমার স্টেপমাতা আমার রুমে এসে বললেন-"সারা দিন তো ফোন নিয়ে বসে থাকো, আমাকে রান্নায় একটু হেল্প করলেই তো পারো!" উনার কথা শুনে কি বলবো বুঝে পাচ্ছিলাম না কারণ আমার মেজাজ গরম হয়ে জিরো থেকে লাফ দিয়ে একশ তে উঠে গেছিল। কত বড় সাহস মহিলার! আমার জানু মানে আমার ফোন নিয়ে কথা বলে! খুব কষ্টে রাগ ঢেকে রেখে বললাম-"আমি ওসব পারি না" সে-"এত বড় হয়েছো তোমার তো পারা উচিত। শ্বশুর বাসায় গেলে কি করবা?" আমি-"আপনাকে সাথে নিয়ে যাবো" হাহা এবার মনে হলো ঢিল টা লেগেছে। সে চোখ কপালে তুলে বললেন-"মানে?" আমি-"মানে হলো আমি তো বাবাকে ছাড়া থাকতে পারি না, তাই বাবাকে আমার সাথে নিয়ে যাবো। আর আমার বিশ্বাস আপনিও বাবার পেছন পেছন যাবেন" মনে হলো মাতা কষ্ট পাইলো। তাই হন হন করে চলে গেলো। সেটা দেখে লুটি পুটি হয়ে হাসতে চেয়ে হঠাৎ মায়ের কথা মনে পড়ে আর হাসা হলো না। মাও আমাকে কাজ শিখতে বলতো। আমি পাত্তাই দিতাম না। মা বলতো-"কোনো কাজ পারিস না, কবে শিখবি? বিয়ের বয়স তো হতে চললো!" আমি-"বিয়ের পর শ্বাশুড়ীর থেকে শিখে নেবো মা তুমি টেনশন নিও না, আগেই যদি শিখি তাহলে শ্বাশুড়ী মা রাগ করবেন। হাজার হইলেও পতি দেবতার মাতা বলিয়া কথা" আমার কথা শুনে মা হাসতো। তবুও অনেক ভাবে আমাকে বুঝানোর চেষ্টা করতো। মা-"শোন মা, কাজ না শিখলে শ্বাশুড়ী কথা শোনাবে" আমি-"কি কথা মা?" মা-"গাল মন্দ করবে" আমি-"আমিও তার জবাব দেবো" মা-"তাহলে তো ঝগড়া হবে" আমি-"তাতে কি হয়েছে? ঝগড়া তো আর cow, got করে না! তাছাড়াও আমার ঝগড়া করতে হেব্বি লাগে। ঝগড়াটে শ্বাশুড়ীই চাই আমার" মা-"দিন রাত ঝগড়া করবি নাকি?" আমি-"হ্যা তাই করবো, মনে মনে ভেবেছি ঝগড়া করেই দিন পার করবো কাজ করার সময়ই পাবো না" মা-"আর বরের সাথেও বুঝি ঝগড়া করবি?" আমি-"শ্বাশুড়ীর সাথে ঝগড়া কম হলে বরের সাথে ঝগড়া করে পুশিয়ে নেবো" মা-"তাহলে তিন দিন পর তোকে ওরা ফেরত পাঠাবে" আমি-"তাই নাকি? তাহলে তো খুব সুবিধে হয় আমার" মা-"এই তুই বড় হবি কবে বল তো?" আমি-"হবো না, আর বিয়েও করবো না" মা-"তোর বয়সী সব মেয়েরাই ঘরের সব কাজ পারে, শুধু তুই-ই অকর্মা। নিজের বিছানাটা পর্যন্তও গোছাতে পারিস না" আমি-"আমি কিছু পারি না কে বললো? খেতে পারি, গোসল করতে পারি ,একাই ঘুমাতে পারি; বাবাকে আর কষ্ট করে আমার বালিশ দুলিয়ে আমাকে ঘুম পাড়িয়ে দিতে হয় না। এগুলো কাজ নয়?" মা-"থাক তোর কাজ শিখা লাগবে না, যে দিন আমি থাকবো না সেদিন বুঝবি" সত্যিই আজ বুঝতে পারছি মা। একবার ফিরে এসো মা, আমি সব কাজ শিখে নেবো, আর কেউ বলবে না যে তোমার তুতুল কিচ্ছু পারে না। ফিরে এসো মা, শুধু একবার। কথা গুলো ভাবতে ভাবতেই চোখ ভিজে এলো,পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ্য কষ্ট যার বুকে চেপে আছে তার চোখে তো জল আসবেই, কারণে অকারণেই আসবে। মা হারানোর ব্যাথা সে-ই শুধু বোঝে যার মা নেই। চোখের জল মুছে মনে মনে বললাম, নিজের মাকে সহযোগীতা করার জন্য যখন কাজ শিখিনী তখন ঐ চাইয়া আনা মাতার জন্যও শিখবো না, যা হয় হবে। আমি কাজ না করে বসে বসে খাই আর জানুর দিকে চেয়ে থাকি (পাঠক জানু মানে আমার সেলফোন, আপনারা অন্য কিছু ভেবেন না তাহলে কিন্তু আমার লজ্জা করবে) আর অবসর পেলে পাড়া বেড়াই। এটা নিয়ে স্টেপমাতা রাগে খিসখিস করে সেটা আমি বুঝতে পারি কিন্তু আমি পাত্তা দিই না। এক দিন শুনলাম ঐ কুড়িয়ে পাওয়া মাতা এই নিয়ে বাবাকে কথা শোনাচ্ছে। আর সেটা শুনেই আমার তো রাগে শরীর জ্বলতে শুরু করলো। ভেবে ছিলাম উনার পেছনে লাগবো না কিন্তু উনি তো ছাড়ছেনই না দেখছি। তাই বাধ্য হলাম লাগতে। পাড়ায় কিছু মহিলা থাকে যারা অন্যের সংসারে নাক গলায় এবং মুখের উপর টাসটাস করে কথা বলে বাঁশ ঝাড়ের সেরা বাঁশ প্রদান করে। অন্যকে বেজার করেই ওরা আনন্দ পায় আর আড়ালে গিয়ে বলে সেই রকম দিয়েছি। ঐ টাইপের মহিলাদের কাছে গিয়ে আমি স্টেপমাতাকে নিয়ে আমার মনের বানানো দুঃখের কথা বললাম কাঁদো কাঁদো স্বরে। জানতাম ওরা নতুন বউকে কথা শোনানোর জন্য ঠিক আসবেই। পরের দিন আমি স্টেপমাতাকে বললাম-"আজ আমি রান্নাসহ সব কাজ করবো, পারি কি না দেখবো। যদি না পারি তবে আর করবো না। আপনি যান শুয়ে থাকুন" উনি আমার কথায় বেশ খুশি হলেন। আমি মনে মনে বললাম দাড়াও তোমার খুশি হওয়া বের করছি। আমি কাজে হাত দিয়ে বসে পাড়ার ঐ দাদী চাচীদের জন্য অপেক্ষা করছি। ধ্যাত্তেরী! রাগ হচ্ছে। মনে মনে বলছি সব কাজ শেষ হলে তারপর ওরা আসবে নাকি? আমি স্লোমেশিনের বেগে কাজ করছি। তারপর কাঙ্খিত মানুষ গুলো এলেন। ততোক্ষণে আমি গালে মুখে কালি লাগিয়ে নিয়েছি। চুলায় রান্না বসিয়ে একগাদা বাসন নিয়ে মাজতে বসেছি। পাড়াত দাদী চাচীরা আমাকে দেখে বিনানো শুরু করলেন- কেউ বলছে-"হায় হায় রে এত টুকু মেয়েকে দিয়ে এত কাজ করাচ্ছে!" আরেক জন বলছে-"নিজের মা হলে এরকম করতে পারতো?" আরেক জন বলছে-"একেই বলে সৎমা" আমি কাঁদো কাঁদো নয়নে চেয়ে আছি। উনাদের চিৎকারে স্টেপ মাতা বেরিয়ে এলেন। তখন দাদী চাচীরা উনাকে আবার কথা শোনাতে লাগলো। আমি বেশ মজা পাচ্ছিলাম। বাবার কাছে আমার নামে নালিশ করার মজা নাও এখন। স্টেপ মাতা টাস্কি খেয়ে দাড়িয়ে রইলেন। দাদী চাচীরা আমার মায়ের নামে খুব প্রশংসা করলেন আর উনাকে বড় সড়ো বাঁশ দিয়ে চলে গেলেন। আমার মন পুরাই ভালো হয়ে গেলো, আহা কি আনন্দ! রুমে গিয়ে সেলোয়ার কামিজের উপরে বাবার লুঙ্গি পরে লুঙ্গী ড্যান্স দিলাম। স্টেপমাতার কথা যেনো বাবা বিশ্বাস না করে সে জন্য কিছু প্ল্যান আটলাম। বাবা অফিস থেকে বাসায় ফেরার কয়েক মিনিট আগে আমি বালতি ভরে পানি নিয়ে ঘর মুছতে শুরু করে দেই। দু একটা যা-ই কাজ করি বাবা বাসায় থাকলে। বাবার কাছে আমাকে খারাপ বানিয়ে উনি ভাল হবেন সেটা তুতুল কি করে হতে দেয়? কিন্তু ঐ মহিলাও খুব একটা সুবিধার নয়, উনিও কোনো দিশা না পেয়ে আমার বিয়ে দেবার জন্য উঠে পড়ে লাগলেন। পৃথিবীর সব সৎমা গুলো লেডী ভিলেনই হয়। বাবা বললেন আমার একটা মাত্রই সন্তান, সে বিয়ে হয়ে শ্বশুর বাড়ী চলে গেলে আমি থাকতে পারবো না। তাই ওকে ঘর জামাই বিয়ে দেবো। এটা শুনে মহিলার যে কলিজা শুখিয়ে গেছে সেটা আমি শিওর। উনি ঘটক ডেকে একটার পর একটা সম্বন্ধ আনতে শুরু করলেন। পাত্র গুলো দেখে তো আমার অন্ধ হয়ে যেতে ইচ্ছে করছিল। স্টেপমাতার ভাব খানা এমন যেনো আমার বর হবে আব্দুল, সে বাজার করে আনবে, আর আমি হবো কাজের বেটি রহিমা, আমি রান্না করবো। আর উনি রীনা খান বসে বসে খাবেন। কিন্তু তুতুল সেটা কিছুতেই হতে দেবে না। আমি নানান উছিলায় বিয়ে ভাঙতে শুরু করলাম। ওরা নিজে থেকেই আমাকে বিয়ে করতে চায় না। এটা নিয়ে আমি বেশ মজায় আছি। আহা কি সুখ বিয়ে ভাঙতে! একটা করে বিয়ে ভাঙার পরে আমি দরজা আটকে নাগিন ড্যান্স দিই। একদিন বাসায় স্টেপমাতার বোনের ছেলে এলো। ছেলেটার নাম পার্থ। ছেলেটা দেখতে খুব একটা খারাপ না, বুয়েট থেকে এক বছর আগে পাশ করে ঢাকায় জব করছে। মনে মনে বললাম স্টেপমাতাকে কোনো কাজেই সফল হতে দিই না, সে জন্য মনে হয় স্টেপমাতা এবার ইঞ্জিনিয়ারিং প্ল্যানিং এ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবেন। সে যদি ভিলেন হয় তবে আমি ডাবল ভিলেন। উনার সব ষড়যন্ত্রণে তুতুল ফ্রীজের জল ঢালবে। পৃথিবীর কোনো ইঞ্জিনিয়ারের বাবাও কিচ্ছু করতে পারবে না। এমন একটা সুদর্শন ইঞ্জিনিয়ার ছেলেকে রেখে ঐ মহিলা শুধু আব্দুল খুঁজে আনে আমার জন্য, এটা ভেবেই আমার মাথা হট হয়ে আছে। তাই আমি ঐ ইঞ্জিনকে মানে ইঞ্জিনিয়ার কে পটানোর প্ল্যান করলাম। কিন্তু এই ইঞ্জিনকে পটানো ওয়ান টুর ব্যাপার নয়। কারণ এই ছেলেটা আমার চেয়েও বড় গিরিঙ্গিবাজ। সারাক্ষণ চুপচাপ থাকে। বোম মেরেও ওর পেট থেকে কথা বের করা ইম্পসিবল। একে অন্য স্টাইলে পটাতে হবে। স্টেপমাতাকে বললাম-"আপনার বোনের এত্তো সুন্দর ছেলে থাকতে আমার জন্য চীন থেকে চায়নীজ পাত্র খুঁজে আনছেন কেনো?" সে-"পার্থ তোমাকে বিয়ে করলে তো তার জীবণটা তছনছ হয়ে যাবে। আর আমার বড় আপার মাথার চুল তো একটাও থাকবে না" আমি-"মানে কি? আপনি কি আমাকে অপমান করার চেষ্টা করছেন নাকি?" সে-"যে মেয়ে ঘরের একটা কাজও পারে না তাকে কোন্ ভাল ছেলে বিয়ে করবে? বরকে কি রেঁধে খাওয়াবে?" আমি-"বুয়া থাকবে সে রান্না করে খাওয়াবে। রান্নার জন্য কেউ যদি বিয়ে করতে চায় তবে বুয়াকে বিয়ে করাই বেটার" সে-"তাহলে আমি কেনো রান্না করি?" আমি-"আপনার রান্না করতে ভাল্লাগে তাই" সে-"এক বছর ধরে যদি তোমাকে বুঝাই তাও তুমি বুঝবা না, আজব মেয়ে একটা!" আমি-"এই সব প্যাঁচাল বাদ দিয়ে আপনার বোনের ছেলের সাথে আমার বিয়ে ঠিক করেন, আর যদি না করেন তবে আমি চিরকুমারী থাকবো। আপনার বড় আপার সব চুল থাকবে কিন্তু আপনার একটাও থাকবে না" স্টেপমাতা হা করে চেয়ে থাকলো আর আমি হন হন করে হেটে রুম থেকে বেরিয়ে গেলাম। মনে মনে বললাম, লে এখন ঠ্যালা সামলা! তিন চার দিন কেটে গেলেও ছেলেটাকে এক চিমটিও পটাতে পারলাম না। মাঝখান থেকে আমি নিজেই পটে ভুত হয়ে আছি। অথচ এই ইঞ্জিনের আমার ব্যাপারে কোনো হেল দোল-ই নেই! আজিব ছেলে একটা! এরে বিয়ে করলে তো দেখছি চিমটা দিয়ে গলার ভেতর থেকে কথা বাইরে আনতে হবে। একটুও রোমান্টিক না, মুখ দেখে তো মনে হয় ছ্যাকা খাইছে। ধ্যাত্তেরি! অবশেষে এমন ছ্যাকাখোরের প্রেমে পড়লি তুতুল? ছিঃ ছিঃ একদিন ওকে নিয়ে গির্জাতে ঘুরতে গেলাম। জায়গাটা বেশ নিরিবিলি, আমি ওর সাথে হাটছি আর অনর্গল কথা বলে চলেছি। ছোট বেলা থেকে এই অব্দি আমার জীবণে যা কিছু ঘটেছে এবং আমি জীবণে যা কিছু দেখেছি সব ওকে বলা শেষ। পার্থ একটা কথাও বললো না, আমার কথা শুনে মাঝে মাঝে মুচকি হাসছিল। ওর ভাব ভঙিমা দেখে আমার খুব রাগ হচ্ছিল তাই রাগ করেই বললাম-"আপনি কি মনে করেন আপনার জীবণেই শুধু কষ্ট আছে? আপনার চেয়েও বেশী কষ্ট নিয়েও মানুষ হাসি খুশি জীবণ কাটায়" আমার কথা শুনে সে চমকে উঠে আমার দিকে তাকিয়ে বললো-"আমার কষ্ট! কি কষ্ট আছে আমার?" মনে মনে বললাম, কথা বলবি না, কথা তোকে বলিয়েই ছাড়বো ননসিরিয়াস বয়। আমি-"সেটা জানি না তবে কষ্টের ছাপ মাকড়সার জালের মত আপনার চোখে মুখে ছড়িয়ে আছে।" সে-"এটা তোমার ভুল ধারণা" আমি-"দেখেন আমার মা মরে গেছে এটা পৃথিবীর সেরা কষ্ট। আর এই কষ্ট নিয়ে আমি জীবণ কাটাচ্ছি। রোজ মাঝ রাতে আমার মায়ের কাছে চলে যেতে ইচ্ছে করে। ইচ্ছে করে ছেলে বেলার মত মাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাই। ইচ্ছে করে মায়ের আঁচলে মুখ মুছি। ইচ্ছে করে মাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলি, মা তোমাকে আর কোথাও যেতে দেবো না। ইচ্ছে করে চিৎকার করে আল্লাহ্ কে বলি, আমার সব নিয়ে শুধু আমার মাকে ফিরিয়ে দাও; মাকে ছাড়া যে আমি একটুও ভাল নেই, একটুও নয়" কথা গুলো কি ভাবে বললাম জানি না, চেতনা ফিরতেই দেখলাম আমি কাঁদছি। অশ্রুতে আমার গলা আর ওরনা ভিজে গেছে। পার্থ এতক্ষণ ধরে আমার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। কিন্তু সেই দৃষ্টির মাঝে গভীর মমতা দেখতে পেলাম। পার্থ-"তুমি ছোট খালাকে মা ভাবতে কেনো পারো না? জানো তুমি আমার ছোট খালা কতটা ভাল মানুষ?" ওর কথা শুনে এমন রাগ হলো যে কিছুতেই রাগ আর চেপে রাখতে পারলাম না।তাই রাগ করেই বললাম-"জানি আপনার ছোট খালা কত ভালো, আব্দুল মার্কা ছেলের সাথে আমাকে বিয়ে দিতে চায়" এবার পার্থ হাহা করে হেসে উঠে বললো-"ও.. তাহলে আমাকে আব্দুল আব্দুল লাগে তাই তো?" আমি ওর কথা শুনে অবাক হলাম। আমি-"মানে? আপনাকে কখন আব্দুল বললাম?" সে-"তুমিই তো বললে যে ছোট খালা আব্দুল মার্কা ছেলের সাথে তোমার বিয়ে দিতে চায়! আমাকেও তো এখানে এনেছে তোমার সাথে বিয়ে দেয়ার জন্য তাহলে আমিও তো আব্দুল তাই নয় কি?" আমি পার্থর কথা শুনে অবাক বনের গহীনে হারিয়ে গেলাম। ওর কথা শুনে এতটাই ভাল লাগলো যে আমি নিরবতাকে আঁকড়ে ধরলাম। মনে হলো আমি একটু লজ্জাও পাচ্ছি। মনে মনে বললাম স্টেপ মাতাকে যতটা খারাপ ভেবে ছিলাম আসলে তিনি অতোটা খারাপ নন। মহিলাটার মধ্যে আমার জন্য কি তাহলে মমত্ববোধ আছে? উনি কি তাহলে আমার মায়ের মত ভালোবাসেন? বাসেনই বোধ হয়, না হলে নিজের বোনের ছেলের সাথে আমার বিয়ে দিতে চাইতেন না। আমিই শুধু শুধু উনার পেছনে লেগে ছিলাম। ঠিক আছে তাকে সরি বলবো। পার্থ আমার সামনে হাত নড়িয়ে আমার চেতনা ফিরিয়ে বললো-"জানো আমার ছোট খালার ডিভোর্স কেনো হয়ে ছিল?" আমি-"সেটা জেনে আমি কি করবো?" সে-"যে মানুষটা তোমাকে সন্তান ভাবে তার জীবণ সম্পর্কে তোমার জানতে ইচ্ছে করে না?" পার্থর কথা শুনে আমি কেমন যেনো হয়ে গেলাম। হঠাৎ স্টেপমাতাকে আমার মা মনে হলো। আমি-"বলুন শুনবো" সে-"ছোট খালার সন্তান হচ্ছিল না বলেই তার এগারো বছরের সংসার ভেঙে গেছে। উনার স্বামী ডিভোর্স দিয়ে আবার বিয়ে করেছে। একটা সন্তানের আক্ষেপ কি শুধু ঐ লোকটার মধ্যেই ছিল? আমার খালার কি মা হবার কোনো আক্ষেপ ছিল না? তবুও নিজ হাতে তিলে তিলে গড়া সংসারটাকে ছাড়তে হয়েছে কাগজের একটা সাক্ষরের মাধ্যমে" পার্থর কথা শুনে মনে হলো আমি শক খেলাম। এতটা কষ্ট বুকে চেপে স্টেপমাতা জীবণ কাটাচ্ছে অথচ আমি তার পেছনে কি ভাবে লেগে আছি! ছিঃ ছিঃ নিজের কাছে খুব লজ্জা করছে। আমি স্তব্ধ হয়ে পার্থর দিকে চেয়ে আছি। পার্থ আবার বলতে শুরু করলো- "জানো ছোট খালা তোমার মুখ থেকে 'মা' ডাকটা শোনার জন্য কতটা ব্যাকুল?" আমি কি বলবো ভেবে পাচ্ছি না। টিভিতে সৎ মায়ের আচরণ দেখে ভেবে ছিলাম উনিও এমন; এতে আমার দোষ কোথায়? আমার নিরবতা আর ছলছল দুটি চোখের দিকে তাকিয়ে পার্থ হতভম্বের মত চেয়ে রইল। আমি কি বলবো? মনে হচ্ছে আমার গলার স্বর কে যেনো আটকে ধরে আছে! ছলছল জল গুলো লুকানোর চেষ্টা করছিলাম ঠিক তখনই পার্থ আমার হাত ধরে বললো-"কি এই আব্দুল কে পছন্দ হয়নী?" তবুও আমি কিচ্ছু বলতে পারছি না। পার্থ আমাকে স্বাভাবিক করার জন্য অনেক কিছুই বলে চলেছে সে-"শোনো এই আব্দুল ইঞ্জিনিয়ার কিন্তু বাজার করতে পারে না। আসলে আমি একটু সাহেব প্রকৃতির আব্দুল।" এবার ওর কথা শুনে হেসেই ফেললাম কিন্তু আশ্চর্য্যের বিষয় হলো, আমি হাসছি আর আমার চোখ দিয়ে ঝরঝর করে পানি পড়ছে। আমি চোখ মুছে বেশ ভাব নিয়ে বললাম-"আমি কিন্তু কোনো কাজ করতে পারি না, তাই আমার রান্না খাওয়ার স্বপ্ন ভুলেও দেইখেন না কিন্তু" সে-"আমি তো কাজের বুয়ার হাতের রান্না খেতে পারি না" আমি-"তাহলে রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার কিনে আনবেন! ইঞ্জিনিয়ারদের তো ডানে বামে টাকা পড়ে থাকে" সে-"তাহলে থাক বিয়ে করে কাজ নেই" আমি-"আমি কাজ করতে পারি না বলে আপনি আমাকে বিয়ে করবেন না? ঠিক আছে একটা সুন্দরী দেখে বুয়াকে বিয়ে কইরেন। যদি আরো ভাল রান্না খেতে চান তবে কেকা আন্টিকে বিয়ে করতে পারেন। উনি আপনাকে বিস্ময়কর খাদ্য খাওয়াবে" সে-"কি আমি কেকা মুটকী কে বিয়ে করবো?" আমি-"আমাকে তো আপনার পছন্দ নয় তাই কেকা ইজ বেটার" সে-"কখন বললাম তোমাকে পছন্দ হয়নী? বাট একটাই শর্ত হলো আমি কিন্তু ঘর জামাই হতে পারবো না।" ওর কথা শুনে মনে মনে বললাম স্টেপ মাতা আমাকে বাড়ি থেকে তাড়ানোর ষড়যন্ত্রটা ভালই করেছে; মহিলাটা আসলেই সুবিধার নয়। বিয়ে ক্যান্সিল করতাম কিন্তু প্রেমে তো অলরেডী পিছলে পড়ে গিয়ে হৃদয় মন মচকে আছে তাই কি আর করা! আকাশের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বললাম-"এই মা তুমি দেখতে পাচ্ছো? তোমার তুতুলের জন্য তুমিই নিশ্চয়ই ঐ স্টেপমাতার রূপ ধরে এসেছো তাই না? আমার জন্য তুমি ছাড়া আর কেউ এ ভাবে ভাববে না সেটা আমি জানি। মা আমি যদি স্টেপমাতাকে মা বলে ডাকি তাহলে কি তুমি খুব রাগ করবে? বাসায় ফিরেই দেখি স্টেপমাতা টিভি দেখছে। উনাকে দেখেই মনে পড়ে গেলো তার মা হবার আক্ষেপের কথা, আর আমার বুকের ভেতর একটা অজানা কষ্ট অনুভব হতে শুরু করলো। মনে মনে ভাবলাম ঐ সন্তানহীন নারীর সন্তান হবো আমি। আজ থেকে সে আমার স্টেপমাতা নয় সে আমার মা, যে মা মরে গিয়েও হয়ত ফিরে এসেছে। কিন্তু যাকে কিছু বলেই ডাকি না তাকে হুট করে মা ডাকবোই বা কেমন করে? আমি একটা কাশি দিয়ে একদম এ বললাম-"মা আমার খিদে পেয়েছে। তোমার বোনের ছেলে খুব কিপটে, কিচ্ছু খাওয়ায়নী" আমার কথা শুনে উনি ছোফা থেকে দাড়িয়ে গিয়ে হতভম্বের মত কিছুক্ষণ চেয়ে রইলেন তারপর বললেন-"আমাকে কি বলে ডাকলে আবার বলো" মনে মনে বললাম একবার বলতেই যে পরিমান লজ্জা করছিল, আবার রিপিট করতে হবে, উনি কি কানে কম শোনেন নাকি? এদিকে পার্থও আমার দিকে তাকিয়ে আছে, ডাবল লজ্জা অতিবাহিত করছি। তবুও লজ্জার খোলস এড়িয়ে বললাম -"মা বলে ডেকেছি, আপনার অমত থাকলে আর ডাকবো না" উনি আচমকা আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরে হাউ মাউ করে কাঁদতে শুরু করলেন। উনার কাঁন্না দেখে আমিও কাঁদতে শুরু করলাম। মনে হলো মা আমাকে বুকে জড়িয়ে আছে। হঠাৎ নিজের মায়ের মুখটা সামনে এসে দাড়ালো। হাসি হাসি মুখ করে মা দূরে দাড়িয়ে আছে। আমি এক মায়ের বুকে মাথা রেখে অশ্রুশিক্ত নয়নে আরেক মায়ের দিকে চেয়ে আছি..... শেষ


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১৩০৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ স্টেপ মতা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now