বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করলো?

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ-১ লেখাঃ- আরিফ আজাদ। ল্যাম্পপোস্টের অস্পষ্ট আলোয় একজন বয়স্ক লোকের ছায়ামূর্তি আমাদের দৃষ্টিগোচর হলো। গায়ে মোটা একটি শাল জড়ানো। পৌষের শীত। লোকটা হালকা কাপছেও । আমরা খুলনা থেকে ফিরছিলাম। আমি আর সাজিদ। স্টেশন মাস্টারের রুমের পাশের একটি বেঞ্চিতে লোকটা আঁটসাট হয়ে বসে আছে। স্টেশনে এরকম। কত লোকই তো বসে থাকে। তাই সেদিকে আমার বিশেষ কোনো কৌতুহল। ছিল না। কিন্তু সাজিদকে দেখলাম সেদিকে এগিয়ে গেল। লোকটার কাছে গিয়েই সাজিদ ধপাস করে বসে পড়ল। আমি দূর থেকে খেয়াল করলাম, লোকটার সাথে সাজিদ হেসে হেসে কথাও বলছে। আশ্চর্য! খুলনার স্টেশন। এখানে সাজিদের পরিচিত লোক কোথা থেকে এল? তাছাড়া লোকটিকে দেখে বিশেষ কেউ বলেও মনে হচ্ছে না। মনে হচ্ছে কোনো বাদাম। বিক্রেতা। বাদাম বিক্রি শেষে প্রতিদিন ঐ জায়গায় বসেই হয়তো রাত কাটিয়ে দেয়। আমাদের রাতের ট্রেন। এখন বাজে রাত দুইটা। এই সময়ে সাজিদের সাথে কারও দেখা করার কথা থাকলে তা তো আমি জানতামই । অৰ্ভত! আমি আরেকটু এগিয়ে গেলাম। একটু অগ্রসর হতেই দেখলাম, ভদ্রলোকের হাতে একটি বইও আছে। দূর থেকে আমি বুঝতে পারিনি। সাজিদ আমাকে ইশারা দিয়ে ডাকল। গেলাম। লোকটার চেহারাটা বেশ চেনাচেনা লাগছে, কিন্তু সঠিক মনে করতে পারছি না। সাজিদ বলল-এইখানে বস। ইনি হচ্ছেন হুমায়ুন স্যার।' হুমায়ুন স্যার? এই নামের কোনো স্যারকে তো আমি চিনি না। সাজিদকে জিজ্ঞেস করতে যাবো যে কোন হুমায়ুন স্যার, অমনি সাজিদ আবার। বলল-‘হুমায়ুন রুবায়েত আজাদকে চিনিস না? ইনি আর কী।' 52  এরপর সে লোকটার দিকে ফিরে বলল-স্যার , এ হলো আমার বন্ধু , আরিফ।’ লোকটা আমার দিকে তাকাল না। সাজিদের দিকে তাকিয়ে আছে। ঠোটে মৃদু হাসি। আমার তখনো ঘোর কাটছেই না। কী হচ্ছে এসব? আমিও ধপাস করে সাজিদের পাশে বসে গেলাম। সাজিদ আর হুমায়ুন রুবায়েত আজাদ নামের লোকটার মধ্যে আলাপ হচ্ছে। এমনভাবে কথা বলছে, যেন তারা পরস্পর পরস্পরকে অনেক আগে থেকেই চেনে। লোকটা সাজিদকে বলছে- ‘তোকে কত করে বলেছি, আমার লেখা ‘আমার অবিশ্বাস’ বইটা ভালোমতো পড়তে। পড়েছিলি?' সাজিদ বলল- হ্যা স্যার। পড়েছি তো।' ‘তাহলে আবার আস্তিক হয়ে গেলি কেন? নিশ্চয় কোনো ত্যাদড়ের ফাদে পড়েছিস? কে সে? নাম বল? পেছনে যে আছে- কী জানি নাম?' আরিফ'। হ্যা, এই ত্যাদড়ের ফাদে পড়েছিস বুঝি? দাড়া, তাকে আমি মজা দেখাচ্ছি।' এই বলে লোকটা বসা থেকে উঠতে গেল। সাজিদ জোরে বলে উঠল– ‘না না স্যার। ও কিছু জানে না। ‘তাহলে?’ আসলে স্যার, বলতে সংকোচ বোধ করলেও সত্য এটাই যে, নাস্তিকতার উপর আপনি যেসব লজিক দেখিয়েছেন, সেগুলো এতটাই দুর্বল যে, নাস্তিকতার উপর আমি বেশি দিন ঈমান রাখতে পারিনি।' এটুকু বলে সাজিদ মাথা নিচু করে ফেলল। লোকটার চেহারাটা মুহুর্তেই রুক্ষ ভাব ধারণ করল। বলল-‘তার মানে বলতে চাইছিস, তুই এখন আমার চেয়েও বড় পণ্ডিত হয়ে গেছিস? আমার চেয়েও বেশি। পড়ে ফেলেছিস? বেশি বুঝে ফেলেছিস?' সাজিদ তখনও মাথা নিচু করে আছে। লোকটা বলল-যাকগে! একটা সিগারেট খাব। ম্যাচ নেই । তোর কাছে আছে?' জ্বি স্যার। এই বলে সাজিদ ব্যাগ খুলে একটি ম্যাচ বের করে লোকটার হাতে দিল । সাজিদ সিগারেট খায় না। তবে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো তার ব্যাগে থাকে সবসময়। 53  লোকটা সিগারেট ধরাল। কয়েকটা জোরে জোরে টান দিয়ে ফুস করে একই ধোয়া ছাড়ল। ধোয়াগুলো মুহুর্তেই কুগুলি আকারে স্টেশন মাস্টারের ঘরের রেলিং বেয়ে উঠে যেতে লাগল। আমি সেদিকে তাকিয়ে আছি। লোকটার কাশি উঠে গেল। কাশতে কাশতে লোকটা বসা থেকে উঠে পড়ল। এই মুহুর্তে উনার সিগারেট খাওয়ার আর ইচ্ছে নেই সম্ভবত। লোকটা সিগারেটের টুকরো নিচে ফেলে পা দিয়ে একটি ঘষা দিল। অমনি সিগারেটের জ্বলন্ত টুকরোটি থেঁতলে গেল। সাজিদের দিকে ফিরে লোকটা বলল-‘তাহলে এখন বিশ্বাস করিস যে স্রষ্টা বলে। কেউ আছে?' সাজিদ হ্যা-সূচক মাথা নাড়ল । স্রষ্টা এই বিশ্বলোক, বিশ্বব্ৰহ্মাণ্ড সৃষ্টি করেছেন বলে বিশ্বাস করিস তো?' আবারও সাজিদ হ্যা-সূচক মাথা নাড়ল। এবার লোকটা একটা অদ্ভুত রকম হাসি দিল । এই হাসি এতটাই বিদঘুটে ছিল যে, তাতে আমার গা ছমছম করে উঠল। লোকটি বলল-“তাহলে বল দেখি, খ্ৰীষ্টাকে কে সৃষ্টি করল?' এই প্রশ্নটি করে লোকটি আবার সেই বিদঘুটে হাসিটা হাসল। সাজিদ বলল-স্যার, বাই ডেফিনিশন, স্রষ্টার কোনো সৃষ্টিকর্তা থাকতে পারে না। যদি বলি ক' সৃষ্টিকর্তাকে সৃষ্টি করেছে, তৎক্ষণাৎ আবার প্রশ্ন উঠবে, তাহলে ক' এর সৃষ্টিকর্তা কে? তখন যদি বলি ক' এর সৃষ্টিকর্তা খ’, তাহলে আবার প্রশ্ন উঠবে ‘খ’ এর সৃষ্টিকর্তা কে? এভাবে চলতেই থাকবে। কোনো সমাধানে যাওয়া যাবে না। লোকটি বলল-সমাধান আছে। কী সেটা? ‘মেনে নেয়া যে, স্রষ্টা নেই, ব্যস!', এটুকু বলে লোকটি আবার হাসি দিল। হা । হা হা হা । সাজিদ আপত্তি জানাল। বলল-“আপনি ভুল, স্যার। লোকটি চোখ কপালে তুলে বলল-কি? আমি? আমি ভুল? "জ্বি স্যার । 54  ‘তাহলে বল দেখি, খ্ৰীষ্টাকে কে সৃষ্টি করল? উত্তর দে। দেখি কত বড় জ্ঞানের জাহাজ হয়েছিস তুই । আমি বুঝতে পারলাম এই লোক সাজিদকে যুক্তির গাড়াকলে ফেলার চেষ্টা করছে। সাজিদ বলল-স্যার, গত শতাব্দীতেও বিজ্ঞানীরা ভাবতেন, এই মহাবিশ্ব অনন্তকাল ধরে আছে। মানে এটার কোনো শুরু নেই। তারা আরও ভাবত, এটার কোনো শেষও নেই। তাই তারা বলত যেহেতু এটার শুরু-শেষ কিছুই নেই, সুতরাং, এটার জন্য একটা সৃষ্টিকর্তারও দরকার নেই। কিন্তু থার্মোডাইনামিক্সের তাপ ও গতির সূত্রগুলো আবিষ্কার হওয়ার পর এই ধারণা পুরোপুরি ভ্যানিশ তো হয়ই, সাথে পদার্থবিজ্ঞানেও ঘটে যায় একটা বিপ্লব। থার্মোডাইনামিক্সের তাপ ও গতির দ্বিতীয় সূত্র বলছে—এই মহাবিশ্ব ক্রমাগত ও নিরবচ্ছিন্ন উত্তাপ অস্তিত্ব থেকে পর্যায়ক্রমে উত্তাপহীন অস্তিত্বের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এই সূত্রকে উল্টো থেকে প্রয়োগ কখনোই সম্ভব নয়। অর্থাৎ কম উত্তাপ অস্তিত্ব থেকে এটাকে বেশি উত্তাপ অস্তিত্বের দিকে নিয়ে যাওয়া আদৌ সম্ভব নয়। এই ধারণা থেকে প্রমাণ হয়। মহাবিশ্ব চিরন্তন নয়। এটা অনন্তকাল ধরে এভাবে নেই। এটার একটা নির্দিষ্ট শুরু আছে। থার্মোডাইনামিক্সের সূত্র আরও বলে, এভাবে চলতে চলতে একসময় মহাবিশ্বের সকল শক্তি নিঃশেষ হয়ে যাবে। আর মহাবিশ্ব ধ্বংস হবে। লোকটি বলল-উফ! আসছেন বৈজ্ঞানিক লম্ভ । সহজ করে বল ব্যাটা। সাজিদ বলল-স্যার, একটা গরম কফির কাপ টেবিলে রাখা হলে, সেটা সময়ের সাথে আস্তে আস্তে তাপ হারাতে হারাতে ঠাণ্ডা হতেই থাকবে। কিন্তু সেটা। টেবিলে রাখার পর যে পরিমাণ গরম ছিল, সময়ের সাথে সাথে সেটা আরও বেশি গরম হয়ে উঠবে-এটা অসম্ভব। এটা কেবল ঠাণ্ডাই হতে থাকবে। একটা পর্যায়ে গিয়ে দেখা যাবে, কফির কাপটা সমস্ত তাপ হারিয়ে একেবারে ঠাণ্ডা হয়ে গেছে। এটাই হচ্ছে থার্মোডাইনামিক্সের সূত্র । হুম, তো?' এর থেকে প্রমাণ হয়, মহাবিশ্বের একটা গুরু আছে। মহাবিশ্বের যে একটা শুরু আছে-তারও প্রমাণ বিজ্ঞানীরা পেয়েছে। মহাবিশ্ব সৃষ্টিতত্ত্বের উপর এ যাবৎ যতগুলো থিওরি বিজ্ঞানী মহলে এসেছে, তন্মধ্যে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ও প্রমাণের দিক থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী থিওরি হলোবিগব্যাং থিওরি। বিগব্যাং থিওরি। বলছে- মহাবিশ্বের জন্ম হয়েছে একটি বিস্ফোরণের ফলে। তাহলে স্যার, এটা এখন নিশ্চিত যে, মহাবিশ্বের একটি শুরু আছে। লোকটা হ্যা- সূচক মাথা নাড়ল । 55  সাজিদ আবার বলতে শুরু করল-স্যার, সহজ সমীকরণ পদ্ধতিতে আমরা দেখব স্রষ্টাকে সৃষ্টির প্রয়োজন আছে কিনা মানে, স্রষ্টার সৃষ্টিকর্তা থাকতে পারে কিনা। সকল সৃষ্টির একটা নির্দিষ্ট শুরু আছে এবং শেষ আছে; ধরি, এটা সমীকরণ ১। মহাবিশ্ব একটি সৃষ্টি; এটা সমীকরণ ২ । ‘এখন সমীকরণ ১ আর ২ থেকে পাই সকল সৃষ্টির শুরু এবং শেষ আছে। মহাবিশ্ব একটি সৃষ্টি, তাই এটারও একটা শুরু এবং শেষ আছে। ‘তাহলে আমরা দেখলাম; ‘উপরের দুটি শর্ত পরস্পর মিলে গেল এবং তাতে থার্মোডাইনামিক্সের তাপ ও গতির সূত্রের কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি। ‘হু’ আমার তৃতীয় সমীকরণ হচ্ছে: স্রষ্টা সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। তাহলে খেয়াল করুন, আমার প্রথম শর্তের সাথে কিন্তু তৃতীয় শর্ত ম্যাচ হচ্ছে না। ‘আমার প্রথম শর্ত ছিল: সকল সৃষ্টির শুরু আর শেষ আছে। কিন্তু তৃতীয় শর্তে কথা বলছি স্রষ্টা নিয়ে। তিনি সৃষ্টি নন, তিনি স্রষ্টা। তাই এখানে প্রথম শর্ত খাটে না। সাথে, তাপ ও গতির সূত্রটিও এখানে আর খাটছে না। তার মানে, স্রষ্টার শুরুও নেই, শেষও নেই। অর্থাৎ, তাকে নতুন করে সৃষ্টিরও প্রয়োজন নেই। তার মানে স্রষ্টার আরেকজন স্রষ্টা থাকারও প্রয়োজন নেই। তিনি অনাদি, অনন্ত। এতটুকু বলে সাজিদ থামল। হুমায়ুন আজাদ নামের লোকটি কপালের ভাজ দীর্ঘ করে বললেন-কী ভংচং বুঝালি এগুলো? কী সব সমীকরণ-টমীকরণ? এসব কী? সোজা সাল্টা বল। আমাকে অঙ্ক শিখাচ্ছিস? Laws of Causality সম্পর্কে ধারণা আছে? Laws of Causality মতে, সবকিছুর পেছনে একটা Cause বা কারণ থাকে। সেই সূত্রমতে, স্রষ্টার পেছনেও একটা কারণ থাকতে হবে।' সাজিদ বলল-স্যার, উত্তেজিত হবেন না প্লিজ। আমি আপনাকে অঙ্ক শিখাতে যাব কোন সাহসে? আমি শুধু আমার মতো ব্যাপারটি ব্যাখ্যা করেছি।' কচু করেছিস তুই। Laws of Causality দিয়ে ব্যাখ্যা কর' । লোকটা উচম্বরে বলল। স্যার, Laws of Causality বলবৎ হয় তখনই, যখন থেকে Time, Space এবং Matter জন্ম লাভ করে, ঠিক না? কারণ আইনস্টাইনের থিওরি অফ রিলেটিভিটিও স্বীকার করে যে- Time জিনিসটা নিজেই Space আর Matter-এর সাথে। কানেকেড। Cause-এর ধারণা তখনই আসবে, যখন Time, Space, Matter এই ব্যাপারগুলো তৈরি হবে। তাহলে যিনিই এই Time, Space, Matter- 56  এর স্রষ্টা তাকে কী করে আমরা Time-space-Matter-এর বাটখারাতে বসিয়ে Laws Of Causality দিয়ে বিচার করব, স্যার? এটা তো লজিক বিরুদ্ধ, বিজ্ঞান বিরুদ্ধ।' লোকটা চুপ করে আছে। কিছু হয়তো বলতে যাচ্ছিল। এর মধ্যেই আবার সাজিদ। বলল-স্যার, আপনি Laws OfCausality-এর যে সংজ্ঞা দিয়েছেন, সেটা ভুল। লোকটা আবার রেগে গেল । রেগে অগ্নিশর্মা হয়ে বলল-“এই ছোকড়া! আমি ভুল বলেছি মানে কী? তুই কি বলতে চাস আমি বিজ্ঞান বুঝি না?' সাজিদ বলল-‘না না স্যার, একদম তা বলিনি। আমার ভুল হয়েছে। আসলে বলা উচিৎ ছিল যে, Laws of Causality-এর সংজ্ঞা বলতে গিয়ে আপনি ছোট্ট একটা জিনিস মিস করেছেন। লোকটার চেহারা এবার একটু স্বাভাবিক হলো। বলল-‘কী মিস করেছি?' আপনি বলেছেন, Laws Of Causality মতে, সবকিছুরই একটি Cause থাকে। আসলে এটা স্যার সেরকম নয়। Laws OfCausality হচ্ছে: Everything which has a beginning has a cause অর্থাৎ, এমন সবকিছু, যেগুলোর একটা নির্দিষ্ট শুরু আছে, কেবল তাদেরই Cause থাকে। স্রষ্টার কোনো শুরু নেই, তাই স্রষ্টাকে Laws Of Causality দিয়ে মাপাটা যুক্তি এবং বিজ্ঞান বিরুদ্ধ।' লোকটার মুখ কিছুটা গম্ভীর হয়ে গেল। বলল-তুই কি ভেবেছিস, এরকম ভারী ভারী কিছু শব্দ ব্যবহার করে কথা বললেই আমি তোর যুক্তি মেনে নেব? অসম্ভব। সাজিদ এবার মুচকি হাসল। হেসে বলল-স্যার, আপনার হাতে একটি বই দেখছি। ওটা কী বই?' ‘এটা আমার লেখা বই: ‘আমার অবিশ্বাস'।' স্যার, ওটা আমাকে দেবেন একটু?' ‘এই নে, ধর।' সাজিদ বইটা হাতে নিয়ে উল্টাল। উল্টাতে উল্টাতে বলল-স্যার, এই বইয়ের কোন লাইনে আপনি আছেন?' লোকটা ভ্ৰ কুঁচকে বলল- মানে? বলছি, এই বইয়ের কোন অধ্যায়ের, কোন পৃষ্ঠায়, কোন লাইনে আপনি আছেন?’ ‘তুই অদ্ভুত কথা বলছিস। আমি বইয়ে থাকব কেন?' 57  কেন থাকবেন না? আপনি এর স্রষ্টা না? হ্যা। এই বইটা কালি আর কাগজ দিয়ে তৈরি। আপনিও কী কালি আর কাগজ দিয়ে। তৈরি স্যার?' ‘খুবই ঘূপিডিটি টাইপ প্রশ্ন। আমি এই বইয়ের স্রষ্টা। এই বই তৈরির সংজ্ঞা। দিয়ে কি আমাকে ব্যাখ্যা করা যাবে?' সাজিদ আবার হেসে দিল। বলল-‘না স্যার। এই বই তৈরির যে সংজ্ঞা, সে। সংজ্ঞা দিয়ে মোটেও আপনাকে ব্যাখ্যা করা যাবে না। ঠিক সেভাবে, এই মহাবিশ্ব যিনি সৃষ্টি করেছেন, তাকেও তার সৃষ্টির Time-space-Matter-Cause এসব দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবে না। ‘আপনি কালি, কলম বা কাগজের তৈরি নন, তার উর্ধে। কিন্তু আপনি Time Space-Mater-Cause-এর উর্ধে নন। আপনাকে এগুলো দিয়ে ব্যাখ্যা করাই যায়। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা হচ্ছেন এমন একজন, যিনি নিজেই Time-space-MatterCause- এর সৃষ্টিকর্তা। তাই তাকে Time-space-Matter-Cause দিয়ে পরিমাপ করা যাবে না। অর্থাৎ তিনি এসবের উর্ধে। তার কোনো Time-space-Matter-Cause নেই। তার কোনো শুরু-শেষ নেই। অর্থাৎ তার কোনো সৃষ্টিকর্তা নেই। লোকটা উঠে দাড়াল। দাড়াতে দাড়াতে বলল-“ভালো ব্রেইনওয়াশড! ভালো ব্রেইনওয়াশড! আমরা কি এই তরুণ প্রজন্ম চেয়েছিলাম? হায়! আমরা কি এই তরুণ প্রজন্ম চেয়েছিলাম?’ এটা বলতে বলতে লোকটা হাটা ধরল। দেখতে দেখতেই উনি স্টেশনে। মানুষের ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে গেলেন। ঠিক সেই মুহুর্তেই আমার ঘুম ভেঙে গেল। ঘুম ভাঙার পর আমি কিছুক্ষণ ঝিম। মেরে ছিলাম। ঘড়িতে সময় দেখলাম-রাত দেড়টা বাজে। সাজিদের বিছানার দিকে তাকালাম। দেখলাম, সে বিছানায় শুয়ে শুয়ে বই পড়ছে। আমি উঠে তার কাছে গেলাম। গিয়ে দেখলাম সে যে বইটা পড়ছে, সেটার নাম; ‘আমার অবিশ্বাস' । বইয়ের লেখক হুমায়ুন আজাদ। সাজিদ বই থেকে মুখ তুলে আমার দিকে তাকাল। তার ঠোঁটের কোণায় একটি অদ্ভুত হাসি। আমি বিরাট একটা শক খেলাম। নাহ! এটা হতে পারে না। স্বর্গের উপর কারও হাত নেই; আমি বিড়বিড় করে বলতে লাগলাম।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করলো?
→ স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করলো?।। ২য় অংশ
→ স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করলো?।। ১ম অংশ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now