বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করল? বিভ্রান্তি নাকি সত্যি?

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সাইম আরাফাত (০ পয়েন্ট)

X ——-আসসালামু আলাইকুম——— প্রশ্নঃ স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করল? বিভ্রান্তি নাকি সত্যি? ট্যাগঃ নাস্তিক্যবাদ বিরুধী। উৎসর্গঃ আমার আম্মুকে। লেখকঃ সাইম আরাফাত। ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~ কষ্ট করে লিখি,তাই নাম ব্যাতিত কপি করবেন না। ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~ এই প্রশ্নটা অনেক নাস্তিক আমাদের করে থাকেন।এটা একটা এতই কমন প্রশ্ন যে ৫ বছরে একটা বাচ্চাও জানে।কিন্তু নাস্তিকরা তা বুঝতে চায়না,কারন তারা নিজেদের খুব বড় বড় জ্ঞানের জাহাজ ভাবেন আর আমরা ধর্মে বিশ্বাসীরা তাদের কাছে সবচে বড় মূর্খ। নাস্তিকরা এটা দিয়ে আমাদের বিপদে ফেলতে চান।চলুন আজকে আজকে এটা সম্পর্কে জানি। এই প্রশ্নটা অনেকটা এরকম যে “মুরগি আগে নাকি ডিম আগে”? একবার দুই বন্ধুর মধ্যে ঝগড়া হচ্ছে যে কোনটা আগে মুরগি না ডিম?[আপনার মনে হচ্ছে না যে আমি মূল বিষয়ের বাইরে চলে যাচ্ছি? আপনাদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে,আমি মূল বিষয়ের বাইরে যাচ্ছি না।শেষ পর্যস্ত পড়ুন তাহলেই বুঝিতে পারিবেন।] ১ম বন্ধু ডিমের পক্ষে বলল,ডিম থেকেই তো মুরগি হয়,সুতরাং ডিম আগে।২য় বন্ধু বলল,ডিম তো আর ফাকা মাঠে হয় না তার জন্য মুরগির দরকার।১ম বন্ধু আবার বলল,তাহলে মুরগি ফাকা মাঠে এমনি এমনি হলো কিভাবে?তার তো ডিম থেকে আসবার কথা।এবার দুজনেই চিন্তিত হয়ে পড়ে।দুজনেই যুক্তিই ঠিক।এমন সময় তাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন এক জ্ঞানী লোক।তারা দুজন জ্ঞানীর কাছে সব ব্যক্ত করলে জ্ঞানী বললেন,যদি মুরগি আগে আসে তবে তার সাথে লাগবে একটা মোরগ।কারন মোরগ ছাড়া ডিম থেকে বাচ্চা হয় না।আর ডিম না থাকলে মুরগির অস্তিত্বই থাকত না।আর যদি ডিম আগে আসে তাহলে এদুটা একটা নয় দুটা ডিম হবে।একটা মুগির আরেকটা মোরগের।এটাও না হলে মুরগির জাতের অস্তিত্বই থাকবে না।একটু পর জ্ঞানী আবার বলল,এখন আমি তোমাদের প্রশ্ন করি যে ডিম এলো কোত্থেকে?১ম জন বলল,মুরগি ও মোরগ থেকে।তাহলে মুরগি ও মোরগ এলো কোত্থেকে?২য় জন বলল,ডিম থেকে।এবার জ্ঞানী লোকটি হেসে ফেলেন।বললেন,ডিমবা আসবে কোত্থেকে আর মুরগিইবা আসবে কোত্থেকে?আসল কথা ডিম ছাড়া মুরগি সম্ভব না আর মুরগি ছাড়াও ডিম সম্ভব না।নিজে নিজে কেউ তৈরি হয় নি।এতএব কেউ একজন তাদের তৈরি করেছেন এবং অস্তিত্ব রক্ষার ক্ষমতাও দিয়েছেন।দুজন এবার এই উত্তরে একমত হলো।কিন্তু প্রশ্ন কি এখানেই শেষ,না প্রশ্ন এখানে শেষ নয়।প্রশ্ন রয়েই গেলো,যে তৈরি করেছেন তাকে কে সৃষ্টি করল?অর্থাৎ স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করল।এবার জ্ঞানী লোকটি বেশ ক্ষাণীক্ষণ চিন্তা করে বললেন,মুরগি বা ডিম একজন স্রষ্টা তৈরি করেছন এটা বিশ্বাস কর?দুজনেই বলল,অবশ্যই করি।তখন জ্ঞানী লোকটি বলল,যদি সকল সৃষ্টির স্রষ্টা থাকেন তবে তিনিও কোনো না কোনো ভাবে সৃষ্টি হয়েছেন এর চেয়ে ভালো উত্তর আমার জানা নেই। কিন্তু আজকে এর চেয়েও ভালো উত্তর খুজি আমরা।খুজে পাওয়া আদৌ সম্ভব কিনা এটা আপনার মনকে জিজ্ঞেস করুন।আপনার মনই বলে দেবে আপনার জ্ঞানের সীমা কতটুকু। আপনি যদি একটা ২ বছরের বাচ্চাকে পৃথিবীর সবচেয়ে সহজ কাজের সিস্টেম সম্পর্কে বলেন,তাহলে কি সে পারবে? অবশ্যই পারবে না।কারন তার জ্ঞানের সীমানা এতদূর যায় নি।তার জ্ঞানের পরিধি সীমাবদ্ধ।তার জ্ঞানের পরিধির বাইরে সে কিছুই করতে পারবে না বা জানতে পারবে না।প্রকৃতি তাকে জানাতে দেবে না। Now All of you think,বড় বড় জ্ঞানীদের জ্ঞানই বা কতদূর।তারা অবশ্যই শিশুদের চেয়ে বেশি জ্ঞানী কিন্তু একটা জায়গায় সে শিশুর সমান(হোক না সে সক্রেটিস,প্লেটো,অ্যারিস্টটল)যে,শিশুরও জ্ঞানের সীমা আছে জ্ঞানীরো জ্ঞানের সীমা আছে।শিশু যেমন তার জ্ঞানের সীমার বাইরে গিয়ে কিছু করতে পারে না ঠিক বেশি জ্ঞানী ব্যক্তিও তার জ্ঞানের বাইরে গিয়ে কিছু করতে পারে না।জ্ঞানীও(হোক সে আইনস্টাইন)এই জায়গায় অজ্ঞ।আমরা আমাদের জ্ঞানকে বড় করে দেখব কেন?কতটুকুই জানি আমরা।নাস্তিকদের বলছি যে,তারা যদি আমাকে ডিম-মুরগির সমস্যার সমাধান দিতে পারে(অর্থাৎ যদি নিশ্চিত হয়ে বলতে পারে যে,কোনটা আগে?)তবে আমি নাস্তিক হয়ে যাব।কিন্তু আমি জানি আপনারা সেটা পারবেন না কারন আপনার আমার জ্ঞান সেটা সমাধানের বাইরে।যা আমরা কখনো পারব না।তবে আমি”স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করল”? এর সমাধান দিতে না পারলেও বিভ্রান্তি দূর করে দিতে পারব।আর সেটা হচ্ছে যে,এটা বিশ্বাস করে নেয়া যে স্রষ্টা বলে কেউ একজন আছেন এবং তাকে কেউ সৃষ্টি করে নি।যদি স্রষ্টাকে কেউ সৃষ্টি করে তাহলে স্রষ্টা তার স্রষ্টাত্ব হারাবে আর সেটা কখনো সম্ভব না। [নাস্তিকদের বলছি যে,আপনারা তো স্রষ্টাতেই বিশ্বাস করেন না তবে স্রষ্টাকে নিয়ে এত মাতামাতি করেন কেন।এটা তো ডাবল স্ট্যান্ডার্ড হয়ে যায়,যাকে এক মুখে দুই কথা বলে,তাই নয় কি??] একবার চিন্তা করুন যে,সামান্য একটা ডিম-মুরগির সমস্যার সমাধান করতে পারি না তাহলে স্রষ্টার অস্তিত্ব কিভাবে সমাধান করব।আসলে এটা সমাধানের জ্ঞান আমাদের নেই,এটা আমাদের জ্ঞানের বাহিরে।আমাদের জ্ঞান ধরা ছোয়ার বাইরে না কিন্তু স্রষ্টা ধরা ছোয়ার বাইরে।ধরুন পৃথিবীতে যদি ফল না থাকত তবে কি আমরা ফলের স্বাদ,প্রকৃতি জানতে পারতাম?যদি পৃথিবীতে ক্ষুধা,তৃষ্ণার না থাকত তবে কি আমরা এর যন্ত্রনা বুঝতে সক্ষম হতাম?তদ্রুপ স্রষ্টা আমাদের সামনে বিদ্যমান।তিনি তার সৃষ্টির মাধ্যমে আমাদের সামনে বিদ্যমান।তার সৃষ্টিই তার অস্তিত্বকে আমাদের সামনে প্রমাণ করে।এতএব স্রষ্টা একজন আছেন কিন্তু তিনি কিভাবে সৃষ্টি হয়েছেন এটা আমরা জানতে পারব না কারন এটা আমাদের জ্ঞানের সীমার বাইরে।আমরা স্রষ্টাকে নিয়ে নয় তার সৃষ্টিকে নিয়ে চিন্তা করলেই তাকে খুজে পাব।আমাদের জ্ঞান সীমাবদ্ধ।সুতরাং আমাদের জ্ঞানের বাইরে এই রহস্যময় মহাবিশ্বে অনেক কিছুই থাকতে পারে। “হে আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক পথ দেখান”(Amin)..... ~~~~~~~The End~~~~~~~


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করল? বিভ্রান্তি নাকি সত্যি?

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now