বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আহমাকের সম্রাটের প্রাসাদ দেখে চোখ ধাধিয়ে গেল। বিশাল প্রাসাদ। সুবিশাল হল। এমনকি একটা পাঠাগারও আছে। প্রাসাদের সামনে সুরম্য বাগান। আকাশে উড়ছে মহিমান্বিত সরীসৃপেরা। আমাকে ওগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে সাইয়ুত বললেন, ওরা এখানকার পাহারাদার। ওরা যুদ্ধে ভাল বাহন হিসেবেও কাজ করে। আপনি আগে কখনো এই জাতটি দেখেননি?
আমি চোখ না সরিয়ে মাথা নাড়লাম। সাইয়ুত বললেন, চলুন।
আমরা প্রাসাদে প্রবেশ করলাম। প্রায় পঞ্চাশজন রক্ষী ঘুল আমাদের অভিবাদন জানাল। একটা মেয়েকে ডেকে সাইয়ুত বললেন, মহামান্য ইয়াতাশির আর সায়ীরাকে অতিথিভবনে নিয়ে যাও। ওনাদের পানাহার আর স্নানের ব্যাবস্থা কর।
মেয়েটা আমাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে চলল, একপ্রান্তে দেখলাম বিশাল এক নদী। নদীর জল গাঢ় সবুজ রঙের। মেয়েটিকে প্রশ্ন করলাম, পানি অমন কেন তোমাদের এখানে?
মেয়েটি আমার প্রশ্ন শুনে হেসে ফেলল। বলল, ওটা জীবনদায়িনী হ্রদ। নদী না। ইয়াতাশিরদের অভিষেক ওখানেই করা হয়।
উত্তর শুনে আমি গৌরীর দিকে তাকালাম। গৌরী কোন কথা বলছে না। আমাদের অতিথিশালায় রেখে মেয়েটি চলে যাচ্ছিল আমি তাকে ফেরালাম। বললাম, আপনাকে দেখে তো কোনভাবেই আলঘুল মনে হচ্ছে না।
খুব মজা পেয়েছে এমন ভঙ্গিতে হাসল মেয়েটি। মেয়েটির চোয়াল ঠোটসহ দুভাগ হয়ে গেল। মাঝখান দিয়ে বের হয়ে এল সাপের মত সুচাল জিভ।
আমি শিউরে উঠলাম। মেয়েটি নিজের মুখ আবার স্বাভাবিক করে বের হয়ে গেল।
মেয়েটি বের হতেই গৌরী একটা অদ্ভূত কাজ করে বসল। আমাকে জড়িয়ে ধরে আমার ঠোট কামড়ে ধরল। আমি চমকে উঠলাম। ঝাড়া দিয়েও ছাড়াতে পারলাম না। আমার ঠোট চুষতে শুরু করল সে। কতক্ষণ আর নিজেকে থামিয়ে রাখতাম?
একপর্যায়ে সারা দিলাম। ওর জামার কয়েকটা ফিতে খুলতেই সেটা খসে পড়ল ওর গা থেকে। ওকে দুহাতে শক্ত করে ধরে বিছানার দিকে টেনে নিয়ে গেলাম।
ভয়ংকর হিংস্র হয়ে উঠেছিলাম। গৌরী যন্ত্রণায় ককিয়ে উঠছিল তবুও থামলাম না। গৌরী আমাকে চার হাতপায়ে পেচিয়ে ধরে আমার পিঠে নখ বসিয়ে দিল।
কখন সব শেষ হয়েছিল ভুলেই গেছিলাম। ঘুমিয়ে পড়েছিলাম খুব সম্ভবত। ঘুম ভাঙতে দেখলাম রাত হয়ে গেছে। গৌরী আমার বুকের মধ্যে গুটিসুটি মেরে ঘুমাচ্ছে। আমি ওকে আলতো করে সরিয়ে উঠে বসলাম। ওর গায়ে জায়গায় জায়গায় রক্ত জমে কালশিটে পড়ে গেছে। আমি ওর আচরণে অবাকই হয়েছি। এতগুলো বছর একসাথে থাকার পরও সে আমাকে কখনো চায়নি। আমিও চাইতাম না এমনটা বললে মিথ্যে বলা হবে। কখনো সে সাড়া দেয়নি। তাহলে আজ কেন? বিছানা থেকে নেমে গায়ে একটা চাদর জড়ালাম। বাইরে এলাম দরজা খুলে। আকাশে ফিনিকফোটা জোছনা। প্রাসাদের বাগান ফুলে ঝলমল করছে। আমি বাগানে নেমে হাটতে শুরু করলাম। মহিমান্বিত সরীসৃপদের মধ্যে একটা বাগানের মাঝামাঝি জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। এত কাছ থেকে এই বস্তু কখনো দেখব স্বপ্নেও ভাবিনি। সারা পিঠ সাপের মত আশে ঢাকা। বিশাল আকৃতির দুজোড়া পা। সাপের লেজের মত লেজ মুখটাও অমন। আমার পায়ের আওয়াজেই হয়ত আমার দিকে ঘুরে তাকাল ওটা। ওর চোখ দেখতে পেলাম আমি।
এতদিন আমি ভাবতাম আমার চোখ সম্ভবত সাপের চোখের মত। আজ টের পেলাম। আমার চোখ এই মহিমান্বিত সরীসৃপের চোখের মত।
পেছনে একটা কন্ঠস্বর শুনে ঘুরে তাকালাম। বিশাল আকৃতির কালো একটা কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে সেখানে। দেখে মনে হচ্ছে। খানিকটা অন্ধকার এসে যেন জমে আছে জোছনার মধ্যে।
-মহামান্য ইয়াতাশির, প্রভু সাইয়ুত আছেন পাঠাগারে। আপনি যদি এখন উনার সঙ্গী হতেন তাহলে উনি অত্যন্ত আনন্দিত হবেন।
আমি বললাম, পাঠাগার কোথায়?
ছায়াটা আমাকে পথ দেখিয়ে বিশাল এক দরজার সামনে নিয়ে এল। দরজায় ঠেলা দিয়ে আমি ভেতরে ঢুকলাম। সাইয়ুত একটা কাঠের তৈরী আসনে বসে আছেন। উনার হাতে বিশাল এক বই। দরজা খোলার শব্দে উনি মুখ তুলে তাকালেন। এই লোকটাকে যতই দেখছি ততই পছন্দ হচ্ছে। উনি আনন্দিত গলায় বললেন, আসুন মহামান্য ইয়াতাশির। মদ্যপান আর আলোচনা কখনো একা করা যায় না। আপনাকে বাগানে ঘুরতে দেখে তাই ডেকে পাঠালাম। আমন্ত্রণ রক্ষার জন্য ধন্যবাদ।
আমি কুর্নিশ করলাম সাইয়ুতকে।
সাইয়ুতের টেবিলের উলটো দিকেই আরেকটি আসন রাখা। তাতে আমি বসলাম। সাইয়ুত একটি সোনায় তৈরি পানপাত্র এগিয়ে দিলেন আমার দিকে। পাত্রে টলটলে আঙুরের মদ। উনি নিজের পাত্র উচু করে বললেন, পৃথিবী ও আহমাকের সকল জীবের শান্তি ও সুস্বাস্থ্য পান করছি।
আমি গ্লাসটা উনার দেখাদেখি সামান্য উচু করলাম তারপর চুমুক দিলাম।
উনি বললেন, আপনাদের ঘটনা কি? এভাবে তো কখনো কোন ইয়াতাশিরকে আহমাকে প্রবেশ করতে দেখিনি।
আমি মদ খেতে খেতে পুরো কাহিনী সাইয়ুতের কাছে ব্যাখ্যা করলাম। উনি সবটা শুনলেন। বললেন, জগয় রহস্যময় মহামান্য। চলুন আরেক পাত্র পান করি। আপনার ও আপনার সঙ্গিনীর স্বাস্থ্যের উদ্দেশ্যে।
আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনি আমাকে পুরো ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলুন তো দয়া করে। আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। ইয়াতাশির, ঘুল, আহমাক? মানে কি এসবের?
সাইয়ুত বলতে শুরু করলেন। ভদ্রলোকের গল্প বলার ভঙ্গি চমৎকার। মুগ্ধ হতেই হয়।
বহু বছর আগে। সৃষ্টি যখন শুরু তখন দুটো জাতির অস্তিত্ব ছিল। আমরা, মানে আহমাকি আর মানুষেরা। আমার বলতে লজ্জা নেই। আহমাকিরা ছিল শক্তিশালি। আপনি তো আমাদের ক্ষমতার নমুনা দেখেছেন। মানুষেরা স্বভাবতই ছিল দুর্বল। আহমাকিরা একপর্যায়ে ইশ্বরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বসে। আমার উর্ধ্বতন ষষ্ঠ পুরুষ। জাহাশ ছিলেন এই বিদ্রোহের প্রধান। তারা মানুষকে বাধ্য করে ইশ্বরকে বাদ দিয়ে তাদের উপাসনা করতে। তারা আগুনের তৈরি ছিল। অহংকারের পতন হবারই ছিল। ইশ্বরের শাস্তি নেমে এল গোটা জাতির ওপর। আকাশ থেকে দেবদূতেরা দলে দলে নেমে এল। ভয়ংকর যুদ্ধ হল। আহমাকিয় বাহিনী হেরে গেল। মুষ্ঠিমেয় যারা জীবিত ছিল তাদের এখানে নির্বাসন দেওয়া হয়।
দুই দুনিয়ার মাঝে একটা দেওয়াল তৈরি করে দেওয়া হয়। মানুষ বা কোন আহমাকীয় এই দেয়াল ভেদ করতে পারবে না। দুই পৃথিবীর নিয়ম শৃঙ্খলা আর আইন কানুন সঠিক রাখার জন্য উভয় পৃথিবীর কিছু মানুষকে বাছাই করে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকেরাই হচ্ছে ইয়াতাশির, সাহির আর সাহিরা। ইয়াতাশিরদের সাহায্য করার জন্য সাহির আর সাহিরারা আছে। এদের নানাবিধ ক্ষমতা থাকে যেমনটা আপনার বা আপনার সাথের সাহিরার আছে। ইয়াতাশিরেরা সকলেই ছিল আহমাকীয়। কিন্তু সাহির বা সাহিরাদের বাছাই করা হয় মানুষদের মধ্য থেকে। দেবদুতদের সাথে এসেছিলেন দুই জাতির মহাগুরু দ্রাখ। উনিই ছিলেন দেওয়ালের সন্ধির রচয়িতা। উনার তৈরি আইনের রক্ষণাবেক্ষণই ইয়াতাশিরদের কাজ। আর সাহিরাদের ক্ষমতা আছে আহমাকে প্রবেশ করার বা করানোর। তারা হচ্ছে আহমাকের দ্বাররক্ষক।
আমি নিজের পাত্র পূর্ণ করতে করতে বললাম, তাহলে আপনি যে বললেন ইয়াতাশির আর সাহিরাদের মধ্যে কোন রকম সম্পর্ক বৈধ না। এর মানে কি ছিল?
সাইয়ুত নিজের পানপাত্রে চুমুক দিয়ে বললেন, দ্রাখের পুস্তকে লেখা আছে। দ্রাখের ভবিষ্যৎ দেখার ক্ষমতা ছিল। মহাপ্রলয়ের আগে এমন একটা সময় আসবে যখন মানুষেরাও আহমাকীয়দের মত আচরণ শুরু করবে। তখন দুই পৃথিবীর মধ্যবর্তী দেওয়াল ভেঙে পড়বে। আহমাকীয়দের একজন সম্রাট যে হবে তার পূর্বপুরুষদের মত সে আবার পৃথিবীবাসীর সাথে যুদ্ধে নামবে। তখন একজন নেফিলিম হত্যা করবে সেই সম্রাটকে। নেফিলিম হচ্ছে ইয়াতাশির ও সাহিরার মিলনের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তান। আমার পূর্বপুরুষ তাই অভিশাপ দিয়ে গেছেন। ইয়াতাশির ও সাহিরার মিলনের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তান হবে মৃত। তারপরেও ইয়াতাশির ও সাহিরাদের মধ্যে বিয়ে বা শারীরিক সম্পর্ককে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যদি কোন নেফিলিম জন্ম নেয় তাহলে আবার যুদ্ধ শুরু হবে। দেওয়ালের সন্ধির কোন অস্তিত্বই থাকবে না। দুই পৃথিবীর মধ্যে শান্তি বজায় রাখবার জন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আপনাকে ও আপনার সাথের সাহিরাকে দেখে আমি চিন্তিত। আপনার চোখে যা আছে তাকে বলে বয়সন্ধির প্রেম। আপনি আর দশজন মানুষের মত সাধারণ কেউ হলেও একটা কথা ছিল। আপনার বয়স কম। কিশোর বয়সের আবেগের বশবর্তী হয়ে কোন ভূল সিদ্ধান্ত নেবেন না।
আমি মদের গ্লাসে চুমুক দিলাম। তরলটা বিষাক্ত মনে হল আমার কাছে। আমি বললাম, ওই লোকটা কে ছিল? কাধে সাপওয়ালা?
-ও জোহাক। আমার ভাই ও সেনাপতি। ছোটবেলায় খুব দুষ্ট ছিল। একটা ঘুলের বাচ্চাকে খালি হাতে টেনে ছিড়ে ফেলেছিল। বাবা ঘুলটার অভিশাপে বেচারার এই অবস্থা। সাপগুলোর কারণে ওর মেজাজ অমন চড়া থাকে। তবে এই বোধবুদ্ধিহীন জানোয়ারের সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ করতে হলে জোহাকের মতই কাউকে দরকার আমার।
আমি কিছু বললাম না। এখানে আসার আগে আমি আর গৌরী যা করছিলাম এটা জানলে নগদে এখানেই যুদ্ধ শুরু হবে। নিজেকে আর গৌরীকে বাচাতে হবে আমার যে কোন মূল্যে। আমি বললাম, ধন্যবাদ মহামান্য। আপনার কথা আমি মাথায় রাখব।
সেদিন রাতে ভগ্ন পায়ে বিশাল বাগান পার হয়ে আমি অতিথি কক্ষে এসে ঢুকলাম। ফেরার পথে সেই মহিমান্বিত সরীসৃপটাকে আর দেখলাম না। ঘরের দরজা লাগিয়ে চাদর ছেড়ে আবার বিছানায় উঠলাম। গৌরী তখনই কথা বলে উঠল, কোথায় গিয়েছিলে?
-সাইয়ুত ডেকে পাঠিয়েছিলেন।
-তুমি কি ওনাকে কিছু বলেছো?
-না।
-বলো না। এটা আমাদের মধ্যেই থাক।
আমি চুপচাপ শুয়ে রইলাম। গৌরী বলল, তোমার গা ঠান্ডা হয়ে আছে। কাছে এসো।
সে আমাকে আবার জড়িয়ে ধরলো। আমি সাড়া দিলাম। আমি ভালোবাসি এই মেয়েটাকে। যত যাই হোক। আমি ওকে রক্ষা করবো। দাঁড়িয়ে যাব আহমাকের পুরো সেনাবাহিনী আর জোহাকের বিরুদ্ধে।
বোকার মত চিন্তা হবে হয়তো। তবুও আমার মাথায় তখনো এছাড়া আর কোন চিন্তাই ছিল না। গৌরীর স্পর্শে আমি বুভুক্ষের মত করে সাড়া দিলাম। আমার ঠোট গৌরীর সারা শরীরে ঘুরে বেড়াতে শুরু করল। শিউরে উঠে আমার মাথার চুলগুলো খামচে ধরলো সে।
সকালে উঠে আমরা খুবই স্বাভাবিক আচরণ করলাম সবার সামনে। সাইয়ুত আমাকে প্রায়ই ডেকে পাটাহতেন। ঘন্টার পর ঘন্টা পাঠাগারে আমরা আলোচনা করতাম, ইতিহাস, যুদ্ধবিদ্যা, জাদুচর্চা আরও অনেক ব্যাপারে। অদ্ভুত একটা বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল আমাদের মাঝে। উনার বয়স হাজারের ওপরে আর আমার বয়স কতই আর হবে? উনিশ কি বিশ। বন্ধুত্ব তো আর কোন বাধা মানে না। সাইয়ুতের রাজত্বে আমাদের ওপর সারাক্ষণ নজরদারি চলতো। কিন্তু তা আমাদের থামাতে পারলো না। প্রায় প্রতিরাতেই বিছানায় মিলিত হতাম আমরা। অনেকসময় দিনের বেলাতেও। অদ্ভূত ছিল সেই অনুভুতি। এতটাই গভীর ছিল যে এত বছর পরেও আমি আমার ত্বকের বিপরীতে ওর মাখনের মত নরম ত্বকের স্পর্শ অনুভব করতে পারি।
মানুষের সুখ কখনোই চিরস্থায়ী হয় না। একদিন সকালে উঠে আমি গৌরীকে আমার বিছানার পাশে পেলাম না। আমি তখনো বুঝিনি ব্যাপারটা কি! আমি ঘরের বাইরে বের হতেই একজন দাসকে দেখতে পেলাম। সে বললো, মহামান্য সাইয়ুত আপনার জন্য পাঠাগারে অপেক্ষা করছেন।
আমি বললাম, তুমি কি গৌরীকে কোথাও দেখেছো?
সে জবাব দিল না। আমাকে বলল, আপনাকে সম্রাট পাঠাগারে ডেকেছেন।
আমি তার পিছনে রওনা হলাম। পাঠাগারে সাইয়ুত একা বসে আছেন। উনি দাসকে বললেন, বাইরে গিয়ে দাড়াও।, কাউকে প্রবেশ করতে দেবে না।
আমি অবাকই হলাম খানিকটা।
দাস বের হতেই সাইয়ুত বললেন, আমি যা ভেবেছিলাম তাই হয়েছে। আমার নিষেধ সত্বেও আপনারা মিলিত হয়েছেন। কাজটা ঠিক করেন নাই।
আমি অবাকই হলাম, এই লোক জানলো কিভাবে?
আমি কিছু না বলে চুপ করে ছিলাম। উনি বললেন, ইয়াতাশির আপনি কিভাবে এত বড় ভুল করলেন? আমি নাহয় চেপে গেলাম কিন্তু আর কেউ জানতে পারলে আপনি বুঝতে পারছেন কি হবে?
আমি অপরাধীর মত বললাম, মহামান্য আমি ওকে নিয়ে দূরে কোথাও চলে যাব আপনি চিন্তা করবেন না। কেউ জানবে না।
সাইয়ুত এমন ভাবে হাসলেন যেন আমি খুব মজার কোন কথা বলে ফেলেছি। উনি বললেন, দূরে যাওয়াটা তো কোন সমস্যাই না। সমস্যা হচ্ছে কেউ যদি জেনে যায় যে একজন সাহিরা পেটে একটা নেফিলিম নিয়ে ঘুরছে প্রলয় হয়ে যাবে। আহমাকিয় সেনাবাহিনীর জন্য সারা পৃথিবী আর আর আহমাক সম্মিলিত ভাবেও খুবই ক্ষুদ্র জায়গা।
আমার জগত দুলে উঠল চোখের সামনে। লোকটা বলে কি!
সাইয়ুত দুঃসংবাদ দেবার ভঙ্গীতে বললেন, তার গর্ভে সন্তান চলে এসেছে ইয়াতাশির। আমি খুব ভালো করেই জানি যে সন্তানটা আপনার। সাহিরার সাথে আমার কথা হয়েছে। সে বুঝেছে আসল বিপদটা। ভুলটা আপনাদের দুজনেরই ছিল। এমনিতেই যদিও নেফিলিম মৃত জন্ম নেবে তবুও আমি তাকে নিরাপদ স্থানে পাঠিয়ে দিয়েছি। এমনিতেই চুক্তি ভেঙ্গে গেছে। এখন এই ব্যাপারটা লোকে না জানে তাতেই মঙ্গল। আপনার গোত্রের একজন এসেছে রাজকীয় অতিথিশালায়। উনি আপনাকে সাথে করে নিয়ে যাবেন। গৌরীকে খোজার চেষ্টা করবেন না।
আমি বজ্রাহতের মত হেটে বাইরে গেলাম। ওরা আমার কাছ থেকে গৌরীকে কেড়ে নিল। বের হবার আগের মুহুর্তে সাইয়ুত আমাকে ডেকে ফেরালেন, মহামান্য ইয়াতাশির। আমার বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে আপনাকে একটা উপহার দিয়েছি আমি। ওটার কারণে হলেও আপনি আমাকে মনে রাখবেন। বিদায় বন্ধু।
আমি বাইরে চলে এলাম। মাথা মোটেও কাজ করছিল না। দুপুরের খাবারের টেবিলে সাইয়ুত আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন হাইয়ানের সাথে। সেও আমারই মত ছিল। একজন ইয়াতাশির। অবিকল আমার মত চোখ, রক্তশুন্য ফ্যাকাশে চামড়া, ধুসর চুল। অসংখ্য কাটাছেড়া আর সেলাইয়ের ক্ষতে ভর্তি সারা দেহ।
হাইয়ান সেদিন রাতেই আমাকে নিয়ে চলে গেল এজরাকে।
ইয়াতাশিরদের প্রধান দূর্গ। কয়েক হাজার ইয়াতাশিরের এক বিশাল বাহিনী এই দুর্গে অবস্থান করে। এখানে আমাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
আমার নতুন জীবন শুরু হল এজরাক দুর্গে। প্রতিদিন যুদ্ধ, যাদুবিদ্যা, ইতিহাস, চিকিতসাবিদ্যা, জ্যোতির্বিদ্যা, রাজনীতি, অর্থশাস্ত্র আরও অনেক বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এখানে। একটা সময়ের পর গৌরী আমার জীবনের একটা অংশ থেকে কেবল স্মৃতির একটা ছেড়া সুতো হয়ে রয়ে গেল।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now