বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
৯
পিজির সামনে যখন পৌছালাম তখন ভোর হয়ে গেছে। পুরো যাত্রাপথটা মেজাজ টং হয়ে ছিল কারণ ইয়াসমিনের পোষ্য ঘুলটা পুরো রাস্তা আমার পাশে বসে এসেছে। আমি গাড়ি থেকে নেমে ওটাকে ভেতরে রেখেই গাড়ির দরজা লক করে দিলাম। কুকুরের মত কুই কুই শব্দ শোনা গেল। ইয়াসমিন বলল, দরজা খোল।
আমি কড়া গলায় বললাম, হাসপাতালের মধ্যে এরকম একটা মানুষখেকো পিশাচকে ছাড়তে চাইছো? তোমার মাথা কি পুরোটাই গেছে?
ইয়াসমন বলল, না, ওর খাবারের সময় হয়ে গেছে।
রহমান সাহেব বললেন, তোমরা বেটার আমার রুমে চলে আসো। আমার একটু কাজ আছে আমি ততক্ষণ সেরে ফেলি।
ইয়াসমিনের কাধে ব্যাকপ্যাক। সে আসার আগে ধমক খেয়ে সত্যিকারের কাপড় পড়ে এসেছে। জিন্স আর সাদা ব্লাউজ। অপ্সরীর মত লাগছে দেখতে। সে ব্যাকপ্যাক থেকে একটা বড় ব্যাগ বের করে গাড়ির ভেতরে ঢুকিয়ে দিল। আমি দরজা ভাল করে লক করে দিলাম। তারপর গাড়ির চার দরজার গায়ে একটা করে স্ফটিক রাখলাম। এই স্ফটিক আমাকে ডক্টর রহমান দিয়েছেন। এর গন্ধ জ্বিন, বেতাল, ঘুল বা যেকোন অন্ধকারের জীবকে দূরে রাখে।
ইয়াসমিন বলল, চলো, হেটে আসি।
-এখন?
-হ্যা। ডাক্তার সাহেব ধার্মিক লোক আর কিছুক্ষণ আগেই আজান হয়েছে। সুতরাং উনি এখন নামাজ পড়বেন। আর আমার ক্ষিধে পেয়েছে। সেই সাথে আমি জানতে চাই তুমি এখনো ঠিক ততোটাই রোমান্টিক আছো কি না।
আমি আপত্তির কোন কারণ খুজে পেলাম না। পিজি থেকে বের হয়ে আমরা শিশুপার্কের পাশ দিয়ে সোহরাওয়ার্দিতে ঢুকলাম। ঢাকা জেগে উঠেছে ঘুম থেকে। ইয়াসমিন হাটতে হাটতে আমার কাছে ঘেষে এল। আমার একটা হাত নিয়ে রাখল নিজের কোমড়ে। ওর সাদা ব্লাউজের আড়ালে ঢেকে রাখা মাখনের মত চামড়ার স্পর্শ পেলাম আমি। ইয়াসমিন বলল, যুদ্ধের পর সব বদলে গেছে তাইনা?
দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে বললাম, হ্যা।
ইয়াসমিন বলল, নিজের জাতির একমাত্র জীবিত মানুষ হিসেবে তোমার কেমন লাগে?
-অদ্ভুত লাগে।
শেষযুদ্ধটাতে সাহিরা আর সাহিরদের রক্ষা করতে সব ইয়াতাশিরেরা প্রাণ দিয়েছিল। আমিই একমাত্র যে প্রাণে বেচে ফিরেছিলাম। নিজের কাছ থেকেই পালিয়ে বেড়াচ্ছিলাম এক দেশ থেকে আরেক দেশে। এখানে আসি মুক্তিযুদ্ধের পর পর। নিজের মতই ছিলাম। একদিন পরিচয় হয় প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর আর নিউরোলজিস্ট রহমান সাহেবের সাথে। একসাথে বহু হাতি ঘোড়া মেরেছি আমরা। বহু তদন্ত করেছি। নিজের ফেলে আসা জীবনটাকে আবার উপভোগ করার সুযোগটা হারাতে চাইছিলাম না। রহমান সাহেব এখন এই নিঃসঙ্গ শহরে আমার একমাত্র বন্ধু, অভিভাবক সবকিছু।
ইয়াসমিন আর আমি হাটতে হাটতে শিখা অনির্বাণের পাশে বসলাম। ইয়াসমিনকে প্রশ্ন করলাম, কিভাবে কি হল বলতো?
আমরা নতুন নতুন ইয়াতাশিরদের রিক্রুট করতাম। গত দুহাজার বছর ধরে শেষ যুদ্ধের পর থেকে আমরা নতুন করে সংগঠিত হবার চেষ্টা চালাচ্ছি। খুব একটা সফল হইনি যদিও। সিরির সে হিসেবে অনেক উন্নতি হয়েছিল। ওই একমাত্র নেফিলিম যে বিকলাঙ্গ বা মৃত জন্ম নেয়নি।
-হ্যা চরম মূল্য দিতে হয়েছিল ওর জন্য।
-গৌরীর মৃত্যুর জন্য তুমি সিরিকে দায়ী করতে পারো না। আমি ওর ধাত্রী ছিলাম। ওর প্রসব আমি করিয়েছিলাম। আমার আজও মনে আছে। বাইরে ভয়াবহ সাইমুম চলছিল। এক বেদুইনের তাবুতে ওর জন্ম। তুমি জানো ওর চোখ দুটো অবিকল তোমার চোখের মত? আর দেখতে হুবহু গৌরীর মত হয়েছে। একটাই সমস্যা যে মেয়েটা তোমার মতই জেদী আর মাথামোটা। তাই বলে ওকে যেমন তেমন মনে করো না। কোমাতে যাবার আগের বছর সে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করেছে। সবসময় তোমার কথা বলতো। আমি ওর যত যাই করি না কেন? বাপের অভাব একমাত্র বাবাই মেটাতে পারে।
আমি অস্বস্তি বোধ করলাম। প্রসঙ্গ বদলানোর জন্য বললাম, আহমাখের ঘটনাটা কি বলতো?
-ইয়াসমিনের কন্ঠ বদলে গেল। জোহাক ছাড়া পেয়ে গেছে নরক থেকে। তোমরা নির্বাসিত সাইয়ুতকে ক্ষমতায় বসিয়েছিলে কিন্তু সাইয়ুত টিকে থাকতে পারেনি। জোহাককে কেউ একজন মুক্ত করেছে। আমার ধারণা সে আমাদের মধ্যেই কেউ। পেট্রোনাসের শেকল খোলার কায়দা সাহিরা বা সাহির ছাড়া কেউ জানে না।
ইয়াসমিন গলা থেকে লকেটটা খুলে ঘাসের দিকে ছুড়ে মারল। ঘাসের ওপর পড়ার আগেই লকেটটা একটা কাক হয়ে উড়ে গেল। আমি বললাম, এটা কি করলে?
-ও আশেপাশে নজর রাখবে। আহমাখে সিরিকে মারা অসম্ভব কিন্তু এই পৃথিবীতে জোহাক ইচ্ছে করলেই সিরিকে মারতে পারে।
-আমি বুঝতে পারছি না জোহাককে মুক্ত করার মত ভুলটা কে করল? আর সিরি কি ক্ষতি করেছে জোহাকের?
-ইয়াতাশিরেরা শয়তান বা পিশাচদের রিপ্রেজেন্ট করে আর সাহিরারা রিপ্রেজেন্ট করে দেবদুত বা এঞ্জেলদের। এদের মিলনের ফলে যদি সন্তান জন্ম নেয় তবে তাকে বলে নেফিলিম। এদের মিলনের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানেরা কখনোই স্বাভাবিক হয় না। সব বাচ্চাই বিকলাঙ্গ বা মৃত জন্ম নিত। গৌরী সাহিরা ছিল রুদ্র। তুমি ইয়াতাশির। সিরি প্রথম ও একমাত্র পূর্ণাঙ্গ এবং সুস্থ্য নেফিলিম। দ্রাকের প্রফেসি অনুযায়ী জোহাককে শুধু মারতে পারে কোন নেফিলিম। আহমাকবাসীরা এখন দেওয়ালের সন্ধি ভাঙতে চাইছে। ওরা আবার পৃথিবীতে রাজত্ব করতে চায়। জোহাকের পৃথিবীতে আসা কোন ব্যাপার না এখন। একজন পোর্টালমেকার সাহিরা আছে ওদের হাতে। ওর একমাত্র বাধা সিরি। যদি সিরি বেচে থাকে তাহলে জোহাক বাচবে না। সে জন্যই তো এত আয়োজন।
আমার মাথা চক্কর দিয়ে উঠল।
ইয়াসমিন আবার বলল, সিরির হাতে জোহাকের মৃত্যু হবে। এজন্য জোহাক এত আয়োজন করে সিরির পেছনে লেগেছে। সোল পোর্টাল দিয়ে সিরির আত্মাকে আ'নুন বা পরপারে আটকে ফেলেছে। একারণেই সিরি কোমাতে। জীবিত ও মৃতের মধ্যকার সেতু শুধু একজন ইয়াতাসিরই লঙ্ঘন করতে পারে। সিরিকে বাচানোর জন্য তোমাকে আহমাকে যেতে হবে। সিরিকে মুক্ত করতে হবে সেখান থেকে।
-কিভাবে?
-যে ম্যাজিশিয়ান সিরির আত্মাকে আটকেছে সেই ম্যাজিশিয়ানকে শেষ করে দিতে হবে। তবে তার সন্ধান সিরি দিতে পারবে। মানে ওর আত্মা আর কি। ওর আত্মার সাথে আমাদের কথা বলতে হবে। আমাদের ভাল একজন মিডিয়াম প্রয়োজন।
-ব্যাবস্থা হয়ে যাবে ডক্টর রহমান যোগার করে দেবেন।
১০
লোকটা গৌরীকে নামিয়ে আনল। ওর ওপর প্রচন্ড চাপ পড়েছে আমি বুঝতে পারলাম। আমার বুকে এলিয়ে পড়ল ও। লোকটা আমাকে বলল, আমার সাথে এসো।
আমি মানা করার কোন কারণ দেখতে পেলাম না। আমরা মন্দির থেকে বের হবার সময় পেছন থেকে কাধে সাপওয়ালার চিৎকার শুনতে পেলাম। সে গর্জন করে বলল, ওদের ছেড়ে দেবার পরিনাম ভাল হবে না প্রভু। আপনি ভুল করছেন।
সে কথাটুকু শেষ করার আগেই প্রচন্ড বেদনায় চিৎকার করে উঠল। আমি ঘুরে তাকালাম। কাধে সাপওয়ালা শুন্যে ভেসে উঠেছে। অদৃশ্য কোন শক্তি যেন তাকে হিড়হিড় করে নিয়ে এল সামনে। প্রচন্ড যন্ত্রণায় কুকড়ে আছে সে। সাইয়ুত বললেন, ভুল বা শুদ্ধের শিক্ষা আমি তোমার কাছে নেব না জোহাক। যখন পরামর্শের দরকার হবে আমি নিজে চেয়ে নেব তোমার কাছে। নিজের প্রতি ভালবাসা থাকলে কখনো আর আমাকে উপদেশ দেবার ধৃষ্টতা দেখিও না।
আমি বুঝলাম সাপওয়ালার নাম জোহাক। জোহাককে শক্তির কবল থেকে মুক্ত করতেই সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। সাইয়ুত আমার দিকে তাকিয়ে বলল, ইয়াতাশির আপনি চলুন। আপনাকে কয়েকদিন আহমাকে অতিথি হিসেবে রাখব ভাবছি। এজরাক বহু দুরের পথ। আপনার স্ত্রী সুস্থ্য না হলে এত দুরের যাত্রা করতে পারবেন না আপনারা।
আপনি ইয়াতাশির হয়ে একজন সাহিরাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেছেন দেখে অবাক হয়েছি।
আমি অবাক হলাম, কেন মহামান্য?
উনি ঘোড়ায় উঠতে উঠতে জবাব দিলেন,একজন সাহিরা ও একজন ইয়াতাশিরের সন্তান হয় মৃত বা বিকলাঙ্গ। এজন্য এই দুই গোত্রের মধ্যে বিবাহ বা মিলন নিষিদ্ধ।
আমি ভ্রু কুচকে সাইয়ুতের দিকে তাকিয়ে রইলাম।
(চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now