বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সর্পদৃষ্টি-১১

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X এক পলকের ব্যাবধানে নিজেকে আমি এক ভিন্ন পারিপার্শ্বিকতায় আবিষ্কার করলাম। আমার পাশে গৌরী দাঁড়িয়ে আছে। আমরা দুজনেই সেই একই মন্দিরে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপারটা হচ্ছে মন্দিরটা একদম নতুনের মত ঝকঝক করছে। অদ্ভুত ব্যাপার! একটু আগেই এই মন্দিরটিকে আমি পুড়তে দেখেছি। গৌরীর দিকে তাকালাম জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে। সে বলল, ইয়াতাশির হিসেবে শপথ নেবার আগ পর্যন্ত এই জায়গায় আসা নিষিদ্ধ। আমরা নিয়ম ভেঙেছি। মেয়েটা কি বলল, ঠিক আমার মাথায় ঢুকল না। মন্দিরের ভেতর বিশাল একটা মুর্তি। কিসের মুর্তি কে জানে। বিকট চেহারা। পুরোটা তামায় তৈরি। নিচে বেশ কয়েকজন মানুষ উবু হয়ে বসে আছে। গৌরী বলল, আসলিহা। মন্দিরের পুরোহিত তিনজন ঘুরে তাকাল। আমি চমকে উঠলাম। ওরা মানুষ নয়। সারা শরীর লাল রংয়ের। দেখলে মনে হয় রক্তে ভেজা। চকচক করছে। এতক্ষণ বসে ছিল বলে বোঝা যাচ্ছিল না। ওগুলো আকারে স্বাভাবিক মানুষের প্রায় দ্বিগুণ। গৌরী বাতাসে হাতের আঙুল চালালো সম্ভবত কিছু লিখল বাতাসে। হঠাৎ টের পেলাম আমাদের পায়ের নিচের মাটি জ্যান্ত হয়ে উঠেছে। থরথর করে কাপতে শুরু করলো পুরো মন্দির। তিনজনের মধ্যে একজন মুর্তির পায়ের নিচ থেকে কিছু একটা টেনে বের করলো। বিশাল একটা তরোয়াল। মাথার ওপর সেটা একপাক ঘুরিয়ে ছুটে আসতে শুরু করলো আমাদের দিকে। তখন আমার কি হয়েছিল আমি জানি না। আমিও ছুটে গেলাম। আমি যে নিরস্ত্র সেটা আমার মাথায়ই রইল না। দুপাশে প্রার্থনাকারীদের বসার জায়গা। ছুটতে ছুটতেই সেখান থেকে একটা আসন তুলে নিয়ে গায়ের জোরে ছুড়ে মারলাম ধেয়ে আসতে থাকা জন্তুটির দিকে। পাথরে তৈরী আসনবেদী। মন্দিরের মেঝেতে পাকাপাকিভাবে লাগানো। এত ভারী আর শক্ত জিনিষ কিভাবে এমন খেলনার মত করে ছুড়ে মারলাম আমার মাথায়ই এলনা। জন্তুটা বেদীর ধাক্কায় উড়ে গিয়ে পড়ল বেদীর কাছে। আর উঠল না। বাকি দুজন আমার দিকে একটা ক্রুর দৃষ্টি দিল। নিজের অজান্তেই কোমরে হাত চলে গেল আমার। একটা আরাখ ঝুলছে আমার কোমরে। যাযাবরদের সাথে থাকতে থাকতে এই অস্ত্রটা ভালই চালানো শিখেছি। আরাখটা কোত্থেকে এসেছে কে জানে। শক্ত মুঠোয় ধরে রুখে দাঁড়ালাম। ঠিক সেই মুহুর্তেই লোকটাকে দেখলাম। আমার মতই পোশাক গায়ে। দেখতেও খুব সাধারণ। সে মৃত পেছন থেকে বের হয়ে এল। সে হাসি মুখে বলল, একজন ইয়াতাশির। বাহ! বহুদিন পর কাউকে দেখলাম। সে একটা আঙুল দিয়ে আমার দিকে তাক করল। আমি মুহুর্তে নিজের শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারালাম। আমার মনে হচ্ছে আমার সারাশরীর ধীরে ধীরে পালকের মত হালকা হয়ে যাচ্ছে। আমার হাত থেকে আরাখটা খসে পড়ল। আমি শুন্যে ভেসে উঠলাম। গৌরী কাতর গলায় চিৎকার করে বলল, ছাড়ো ওকে। লোকটা জবাবে ভয়াবহ হুংকার ছাড়ল, চুপ কর সাহিরা কুত্তী। তোর নাগরকে আজ দু টুকরো করে আমার সাপ দিয়ে খাওয়াব। লোকটার চোখের মণি দুটো যেন গলে ছড়িয়ে পড়ল তার পুরো চোখে। পুরো চোখটাই কুচকুচে কাল হয়ে উঠল তার। মাঝখানে লাল একটা বলয় তৈরী হল। তার মাঝে কালচে একটা বিন্দু। আর তার দামী কাপড়ের দুই কাধ ফুড়ে বের হয়ে এল দুটো সাপ। সাপদুটো ফনা তুলল মুখ হা করে। এতখানি দূর থেকেও ওদের বিষদাঁত স্পষ্ট দেখতে পেলাম আমি। লোকটা বলল, তোদের এত সাহস কি করে হল যে তোরা আহমাখের আইন ভেঙে আমার এলাকায় ঢুকিস? আজ তোদের আমার সাপগুলোকে দিয়ে খাওয়াব। মুহুর্তের মধ্যে কোন এক অদৃশ্য শক্তির টানে আমি ছিটকে লোকটার কাছাকাছি চলে এলাম। সে আমাকে কাছ থেকে একনজর দেখেই অবাক গলায় বলল, একি! এটা তো ইয়াতাশির না। এ তো নেদ্রিফ। গৌরী বলল, আমি সাইয়ুতের সাথে কথা বলতে চাই। ওকে ছাড়ো। সাইয়ুত যা বলবে আমি মেনে নেব। তোমার কথায় হবে না। লোকটার একটা সাপ আমার মুখের খুব কাছে এসে হা করল, ওটার মুখ এত বিশাল যে আমার মাথা অনায়াসে ঢুকে যাবে। আরেকটা ব্যাপার লক্ষ্য করলাম। ওগুলো গজিয়েছে অদ্ভুত লোকটার কাধ থেকে। সাপটা অনেকটা বিমর্ষ চোখে আমার দিকে তাকিয়ে রইল। লোকটার চোখে আমার প্রতি তীব্র ঘৃণা দেখতে পেলাম আমি। সে হাত দিয়ে মাছি তাড়ানোর মত ভঙ্গি করলো। আমার মনে হল আমাকে কেউ ছুড়ে মারল। ছিটকে মন্দিরের দেওয়ালে আছড়ে পড়লাম। বুক থেকে সবটা বাতাস বের হয়ে গেল। ধুপ করে মেঝের ওপর পড়লাম। গৌরীকে আমি কখনো রাগতে দেখিনি। আজ তাকে রাগতে দেখলাম। সে একবার পেছন ফিরে আমার দিকে তাকাল। ওর সেই চোখ আমি সারাজীবনেও ভুলবোনা। চোখদুটো দপদপ করে জ্বলছে। আমি বাজি ধরতে পারি অন্ধকারেও ওর চোখ দেখা যাবে। সে হেটে মন্দিরের মাঝামাঝি চলে গেল। না হেটে না। হাওয়ায় ভেসে। আরো অনেকখানি ওপরে ভেসে উঠল সে। প্রচন্ড বাতাস বইছে যেন মন্দিরের ভেতর। আগেই বলেছি যে মন্দিরের ভেতরকার বসার বেদীগুলো পাথরে তৈরী আর মেঝের সাথে লাগানো। প্রতিটা আসন একে একে ভেঙে শুন্যে ভেসে উঠতে শুরু করল। সবগুলো ভেসে ওঠার পর সেগুলো শুন্যে ভাসতে থাকা গৌরীকে কেন্দ্র করে চক্রাকারে ঘুরতে শুরু করল। পুরোহিতের পোশাক পড়া জন্তুদুটোর মধ্যে একটা ধনুক দিয়ে গৌরীকে নিশানা করতে দেখলাম। মুহুর্তের মধ্যেই চক্রাকারে ঘুরতে থাকা পাথরের আসনগুলোর মধ্য থেকে একটা প্রচন্ড বেগে ওটাকে আর ওটার সঙ্গীকে উলটো দিকের দেয়ালের সাথে পিষে ফেলল। একই ভাবে প্রচন্ড গতিতে একের পর এক আসন ছুটে যেতে লাগল অদ্ভুত লোকটার দিকে। লোকটা বাধাদেবার জন্য হাত তুলতেই ওর গায়ে একটার পর একটা আসন আছড়ে পড়তে শুরু করল। সাপগুলোর ভয়ংকর গর্জন আর ফোসফোসানিও শুনতে পেলাম। লোকটার কোন ক্ষতি না হলেও সে আঘাত পাচ্ছে সেটা বুঝতে পারছি প্রতি আগাতে তার পেছানো দেখে। হঠাৎ আসন ছোড়া থেমে গেল। সব কিছু যেন শুন্যে স্থির হয়ে ভাসছে। হঠাৎ আমাকে কেউ একজন ধরে দাড় করিয়ে দিল। সাহায্যকর্তার দিকে তাকালাম। কুৎসিত একটা মুখ চোখে পড়ল। গায়ের রঙ কুচকুচে কাল। যেন আধার জমাট বেধে তৈরি হয়েছে দেহটা। তার পাশে আরেকজন দাঁড়ানো। অসম্ভব সুদর্শন দীর্ঘদেহী এক যুবাপুরুষ। তার একটা হাত গৌরীর দিকে তাক করা। কাধে সাপওয়ালা লোকটা উঠে দাড়িয়েই একটা ছোরা বের করল। হাতের ভাব দেখে বুঝতে পারলাম সে সেটা ছুড়তে যাচ্ছে গৌরীর দিকে। সুদর্শন লোকটা নিজের অন্য হাত তার দিকে তাক করে আঙুলগুলো মুঠো করে ধরল। সাপওয়ালা লোকটা জমে গেল মুহুর্তের মধ্যে। লোকটা এবার হাসি হাসি মুখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, আহমাখে স্বাগতম। আমার সেনানায়কের আচরণের জন্য আমি আপনার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। একজন শিক্ষাণবিশ ইয়াতাশির আহমাখে কি করছে জানতে পারি? আমি বললাম, আপনি কে? সুদর্শন লোকটা হাসল। হাসতে হাসতেই জবাব দিল, আমি সাইয়ুত। আহমাখের শাসক। অন্ধকারের সম্রাট নামে আপনারা আমাকে চেনেন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সর্পদৃষ্টি-১১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now