বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
৮
ঘোড়াগুলোর প্রায় সবই কিনে নিল গলের রাজা। ছোট দেশটাতে বেশ ভালই কামাই হয়ে গেল আমার। গৌরীর জন্য বেশ কিছু পোশাক আর অলংকার কিনে নিয়ে গেলাম।
ওগুলো পেয়ে আনন্দে আত্নহারা হয়ে গেল সে। আমি একটা ব্যাপার লক্ষ্য করে বেশ অবাক হলাম। সে আট দশটা মেয়ের মতই। গৌরী আমাকে একটা জাহাজ কিনতে বলল, এজরাক জায়গাটায় যাবার জন্য সাগর পাড়ি দিতে হবে আমাদের।
রাজার কাছে দশটা তাগড়া ঘোড়া ভেট হিসেবে পৌছে যেতেই সাগরে জাহাজ ভাসানোর অনুমতি চলে এল। সেই সাথে বিয়ের নিমন্ত্রণ পত্র। যুবরাজের বিয়ে।
বিয়ের অনুষ্ঠানেও গৌরীকে সবাই যখন আমার স্ত্রী হিসেবে সম্বোধন করছিল অদ্ভুত ভাল লেগেছিল আমার। কিন্তু সমস্যা বাধল অন্য জায়গায়।
গলের রাজা পৃথিবীর সবচেয়ে ধন্যাঢ্য তিন রাজার মধ্যে অন্যতম। কিন্তু একই সাথে সবচেয়ে নিষ্কর্মাও ছিলেন। রাজকোষের অর্থের বিপুল অপব্যাবহার সহ তার নামে অনেক কিছুই কানে এসেছিল। রাজ্যের বিভিন্ন অংশে বিদ্রোহ দানা বাধছে। পুত্রের বিয়েতেও নাকি ব্যাটা যাচ্ছেতাই অপচয় করেই চলেছে। একই সাথে আরও অন্যান্য অঞ্চলের নৃপতিদের সাথেও তার খুব একটা সুসম্পর্ক ছিল না। সব মিলিয়ে উনি ভাল ঝামেলাতেই আছেন বলা যায়।
বিশাল ভোজসভার চাকচিক্য দেখে আমার চোখ ধাধিয়ে গেল। থালাবাটি পর্যন্ত সোনার। এদিকে বাইরে গলের জনগণ দুবেলা খেতেও পায় না। আমি গৌরীকে নিয়ে যখন মন্দিরে প্রবেশ করলাম তখন পুরুষদের মুগ্ধ ও নারীদের ঈর্ষাকাতর দৃষ্টি একবার হলেও ওকে ছুয়ে গেল। গলের রাজার কাছে গেলাম। প্রথানুযায়ী নিমন্ত্রণকর্তাকে প্রথম অভিবাদন জানানোর নিয়ম। রাজা আমাকে দেখে যার পরনাই আহ্লাদিত হলেন। না হবার কিছু নেই। রাজ্যের সবচেয়ে দামী রথটা আর সেটাকে টানার জন্য কালো কুচকুচে বারোটা তেজী ঘোড়া তাকে উপহার দিয়েছি আমি। তিনি আমাকে দেখেই পরবর্তী অনুষ্ঠানসুচী আমার কাছে ব্যাখ্যা করা শুরু করলেন। বাসর রাতের পর কিভাবে যুবরাজ আর যুবরানীকে আমার দেওয়া রথে চড়িয়ে পুরো নগর পরিক্রমন করানো হবে। আমাদের আজ রাতের ভোজের অবশিষ্টাংশ বা উচ্ছিষ্ট কিভাবে উনি গরীবদের মধ্যে বিলাবেন। এই বিবাহের ফলে কিভাবে তার ক্ষমতা বেড়েছে। অর্থহীন সব কথা বার্তা। রানী গৌরীর নতুন পোশাক আর অলংকারের দিলখোলা তারিফ করছেন সব মিলিয়ে বিরক্তিকর পরিবেশ। একসময় ছাড়া পেয়ে হাফ ছেড়ে বাচলাম। অবশেষে আরও কিছু অর্থহীন অনুষ্ঠানের পর ভোজ শুরু হল। রাজার একপাশে নববিবাহিতা দম্পতি। আর অন্য পাশে রানী ও অন্য পুত্রকণ্যারা। ভোজ শুরু হল।
অসংখ্য রকম সুস্বাদু খাবার আর মদ পরিবেশিত হল আমাদের সামনে। গৌরী একটা পাখির মাংস মুখে দিয়েই আমার হাত ধরে ফেলল। আমার হাতে তখন একটা গরুর বৃক্ক। মুখে তুলতে যাব। আমি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালাম গৌরীর দিকে। সে বলল, খাবারে বিষ মেশানো আছে।
আমি চমকে উঠলাম।
গৌরীর কথা সত্য প্রমাণ করার জন্যই যেন আমার পাশের ভদ্রলোক কাশতে শুরু করলেন। উনার নাকমুখ দিয়ে রক্ত বের হয়ে এল।
সবার খাবারে বিষ। তারমানে রাজারও। হঠাৎ ঘটাং শব্দ শুনে পেছনে তাকিয়ে দেখি মন্দিরের দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে সৈনিকেরা। আমি হতভম্ব গলায় দেখলাম রাজা নিজের গলা চেপে ধরে উলটে গদি থেকে পড়ে গেলেন।
বাইরে প্রচন্ড হল্লা শোনা যাচ্ছে। গৌরী তখনো নির্বিকার ভঙ্গিতে খেয়েই চলছে। সে বলল, ব্যাস্ত হবার কিছু নেই। আমাদের বিষে কোন ক্ষতি হয় না। জনতা ক্ষিপ্ত ওরা মন্দিরে আগুন লাগাবে।
আমি অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম। মেয়েটা বলে কি!
ওর কথা সত্য প্রমাণ করার জন্যই যেন। মন্দিরের উচু জানালা গুলো দিয়ে কে যেন মশাল ছুড়ে মারল। বিষের যন্ত্রণায় অনেকেই মাটিতে গড়াচ্ছে। যন্ত্রণাকাতর চিৎকারে ভেতরের পরিবেশ গরম হয়ে গেল। আরো দুটো মশাল ছিটকে পড়ল মন্দিরের ভেতর। মন্দিরের কার্পেটে আগুন ধরে গেছে ততক্ষণে।
গৌরী উঠে দাঁড়িয়ে মুখ মুছল। শান্ত গলায় বলল, চল পালাই।
আমি আতংকিত গলায় বললাম, কিভাবে?
গৌরী জবাব না দিয়ে একটা ফল কাটার ছুরি নিয়ে দেওয়ালের কাছে গেল। নিজের আঙুল একটু কেটে রক্ত দিয়ে নকশা করা শুরু করল মেঝেতে। মোটামুটি বড় আকারের গোলাকৃতি নকশা ভেতরে আরো ছয়টা বৃত্ত। আমাকে বলল, চলো পালাই।
গৌরী এবারই প্রথমবার আমাকে তুমি বলে ডাকল। আমি ওর হাত ধরে বৃত্তের ওপর দাঁড়ালাম।
(চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now