বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সর্পদৃষ্টি-০৯

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ইয়াসমিন ধমকের গলায় বলল, ছাড়ো ওকে। জন্তুটা মিইয়ে গেল। চুপচাপ আমাকে ছেড়ে চলে গেল পেছনের দিকে। আমি গলায় হাত বুলালাম। জন্তুটার গায়ে অসম্ভব জোর। গলা যে এখনো আস্ত আছে সেটাই বেশী। আমি ইয়াসমিনের দিকে তাকিয়ে বললাম, ইয়ে মানে! আমার মনে হয় তোমার কাপড় পড়ে নেওয়া উচিত। -কেন? আমি কি এখন অতটা সুন্দরী নই? আমি লম্বা একটা নিঃশ্বাস ফেললাম। দীর্ঘ একটা সময় আমি ইয়াসমিনের সাথে ছিলাম। ওকে ভাল করেই চিনি আমি। সে কখনোই জামা পড়ে না। নিজের চারদিকে একটা মায়ার আবরণ তৈরি করে রাখে। ওকে সবাই পোশাক পড়া অবস্থাতেই দেখে। মানুষের মন নিয়ে নানা ধরণের খেলা খেলতে ইয়াসমিন বেশ পছন্দই করে। কিন্তু সমস্যা হল। সে আমার সাথে এই খেলাটা কখনোই খেলে না। আমিই একমাত্র ওকে আসল রূপে দেখতে পাই। এই কাজটা সে ইচ্ছে করেই করে। একজন নারীর অন্ধকারতম কামনা হল তার আরাধ্য পুরুষটি যেন কখনোই তার থেকে দৃষ্টি না ফেরায়। ইয়াসমিন সেই কামনাটাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে। আমি রহমান সাহেবকে ভেতরে আসতে বললাম। রহমান সাহেব ভেতরে ঢুকে ইয়াসমিনের দিকে ভ্রূ কুচকে তাকালেন। আমি মনে মনে শংকিত বোধ করলাম। রহমান সাহেব কি ইয়াসমিনের ইল্যুশন ভেদ করে দেখতে পাচ্ছেন? ইয়াসমিন যেন বহুদিন ধরে চেনে এমনভাবে রহমান সাহেবকে অভিবাদন জানাল। ঘরে একটা ফ্রিজ আছে। আমি ডালাটা খুললাম। ভেতরে বেশ কয়েকপদের মদের বোতল। একটা বুরবনের বোতল তুলে নিলাম। ইয়াসমিনের দিকে তাকিয়ে সরাসরি কাজের কথায় চলে গেলাম, ওই মানুষ দুটোকে কেন মারলে? ইয়াসমিন শ্রাগ করল, আমার কিছু করার ছিল না আসলে। তুমি বাহাশকে চেন। সে পোর্টাল ভেদ করে বেরিয়েই মেয়েটাকে পেয়ে যায়। বেচারা প্রায় তিন হাজার বছর ধরে অভুক্ত। -আর ছেলেটা? তাকে তো তুমিই মেরেছ। -সেটাও আমার দোষ না। সে জঙ্গলের বাইরে বের হলে আমার ও বাহাশের কথা সবাইকে বলে বেড়াত। সেটা আমার কাজের সুবিধা করতো না। -এটা আইনের বিরুদ্ধে। আমাদের এজরাকিয়ান আইনে অকারণে মানুষ হত্যায় নিষেধ আছে। -হোয়াট দ্য ফাক! এজরাক? তোমার মেয়ের চাইতে আশা করি আইন বড় না। তোমার মেয়ে বড় বিপদে আছে। তুমি তো ওর বাপ। তুমি কি করেছো ওর জন্য? -দ্যাটস নান অফ ইয়োর কনসার্ন। হু আর ইউ? -গৌরী ওকে আমার দায়িত্বে দিয়ে গেছে। তোমার না। কারণ সে জানত তুমি অযোগ্য। তোমার মেয়ে হবার আগে সে আমার মেয়ে। কারণ বাপের দায়িত্ব পালনে তুমি ব্যার্থ। ওকে বাচানোর জন্য দুইটা মানুষ তো কোন ব্যাপারই না। দরকার হলে পুরো সম্প্রদায়টাকেই মাটিতে মিশিয়ে দেব আমি। বাহাশকে নিয়ম ভেঙে। এমনি এমনি পৃথিবীতে টেনে আনিনি আমি। রহমান সাহেব পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলেন। বললেন, দেখুন ওর মেয়ের কি হয়েছে সেটা বলুন। আপনিই বলছেন যে বড় বিপদ। তাহলে নিজেরা কলহ করে লাভ কি? ইয়াসমিন হেসে ফেলল, তোমার বন্ধু অনেক বুদ্ধিমান। আমি ভ্রূ কুচকে ওর দিকে তাকালাম। ইয়াসমিন বলল, সিরিকে ওরা আহমাতে টেনে নিয়ে গেছে। ওর সাহায্যে কোড অফ দ্য ওয়াল ভেঙে ফেলেছে ওরা। বিপদটা টের পেতেই আমার হার্ট একটা বিট মিস করল। আমি বুরবনের বোতলে চুমুক দিলাম। বললাম, কিভাবে? সিরি তো প্রাইমদের মধ্যে একজন ছিল। ইয়াসমিন ক্লান্ত গলায় বলল, হ্যা ছিল। কিন্তু আমাদের মধ্যেই কেউ একজন বেইমানীটা করেছে। একজন সাহিরা ছাড়া কেউই আহমাত আর পৃথিবীর মাঝে পোর্টাল তৈরি করতে পারে না। আর বিপদ আরও আছে। সিরি হচ্ছে নেফিলিম। দ্রাকের প্রফেসি অনুযায়ী কোন দেবদুত বা শয়তান জোহাককে মারতে পারবে না। সিরি তোমার আর গৌরীর সন্তান। আমি বুঝে গেলাম ব্যাপারটা কি। আমার শিরদাড়া বেয়ে ঠান্ডা কিছু একটা নেমে গেল। ইয়াসমিনের কথার অর্থ আমি বুঝতে পেরেছি। আমি বললাম, জোহাক কি জানে ব্যাপারটা? -না। কিন্তু তাকে অবশ্যই জানানো হবে। যে সিরিকে এউ বিপদে ফেলেছে সেই জানাবে ব্যাপারটা। আমি বললাম, সিরি এখন কোথায়? ইয়াসমিন বলল, পিজি হাসপাতালে। ইনটেনসিভ কেয়ারে। আমি রহমান সাহেবকে জিজ্ঞেস করলাম, বাজে কয়টা? রহমান সাহেব এমনিতেও কথা কম বলেন। উনি পকেট থেকে গাড়ির চাবি বের করে আমার দিকে ছুড়ে দিলেন। বললেন, ইউ আর ড্রাইভিং।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সর্পদৃষ্টি-০৯

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now