বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সর্পদৃষ্টি-০৭

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X জেনারঃ ডার্ক ফ্যান্টাসি রহমান সাহেবের দিকে তাকিয়ে বললাম, গুলশান চলুন। সেখানে ইয়াসমিনকে পাওয়া যেতে পারে। রহমান সাহেব মাথা নাড়ালেন। রকিবুলের দিকে তাকিয়ে বললাম, তদন্ত আমি করছি। আপডেট পেয়ে যাবেন। রকিবুল ইসলাম বললেন, আমি আপনাদের সাথে আসি? আমি হাসলাম, আপনার নার্ভ ওই জিনিষ নিতে পারবে না। -তবুও চলেন। আমি বললাম, না আপনার স্ত্রী বাসায় একা আপনার না যাওয়াটাই মঙ্গল। আপনি বাসায় যান। সময় খারাপ। রকিবুল আর কিছু বললেন না। আমরা থানার বাইরে দাঁড়ালাম। ভয়াবহ গরম পড়েছে কদিন ধরে। এটা খুব একটা ভাল লক্ষণ না। গাড়িতে বসে রহমান সাহেব বললেন, আমি সবসময় ভাবি একটা কথা। এত বছর ধরে বেচে আছো তুমি। ব্যাপারটা কেমন লাগে তোমার? আমি ড্রাইভিং সিটে বসলাম, বেচে থাকাটা আনন্দময় একটা ব্যাপার ভাইসাহেব। কিন্তু আনন্দের একটা সীমা আছে। অতিরিক্ত ব্যাবহারে যেকোন আনন্দময় ব্যাপার অসহ্য হয়ে যায়। আর প্রায় ছয় সাত হাজার বছর খুব বেশী লম্বাসময় আনন্দ ধরে রাখার জন্য। গাড়ি চালাতে শুরু করলাম আমি। গুলশানে খুবই গোপনীয় একটা নাইট ক্লাব আছে। লিলিথস ডেন। লিলিথের উপাসকেরা চালায় ক্লাবটা। ইয়াসমিন নিজেও লিলিথের উপাসনা করতো একটা সময়। সুতরাং আমার বিশ্বাস সে ওখানে না থাকলেও ওখানে তার খবর পাওয়া যাবে। ভালই গরম পড়েছে। আমি শার্টের আরেকটা বোতাম খুললাম। ফাকা রাস্তায় গাড়ি চালানোর আনন্দ রাতের রাস্তায় লং ড্রাইভে না বের হলে বোঝা যায় না। ৬ আমরা রুদ্রনগর থেকে পালানোর পর প্রায় ছ বসন্ত পেরিয়ে গেছে। আমরা যে জায়গাটায় আছি সেটা আর্যসভ্যতা থেকে বহুদুরে। আমি জীবনে কখনো বরফ পড়তে দেখিনি এখানে আসার আগে। এই অঞ্চলের লোকেরা সবাই যাযাবর। ভয়ানক হিংস্র এই লোকগুলোর প্রধান কাজ হচ্ছে ভেড়াচড়ানো আর তীরন্দাজী করা। এরা বর্বর। এদের সাথে থেকে এদের যুদ্ধের কায়দাটা আমার শেখা হয়ে গেছে। এদের মূল অস্ত্র হচ্ছে ধনুক আর কাস্তের মত বাকা তরোয়াল যেটাকে আরাখ বলে। প্রতিদিন সকালের তীরন্দাজীর অনুশীলন হয় আমাদের। এরা অদ্ভূতভাবে গৌরী আর আমাকে বেশ সম্মান করে। আমি মংজন নামের আমার সমবয়সী ছোকড়ার হাতে ধনুক তুলে দিলাম। সে অবাক হয়ে বলল, আপনি আর অনুশীলন করবেন না? আমি মংজনের চ্যাপ্টা নাকের দিকে তাকিয়ে বললাম, না, আজ থাক মংজন খানের পোষ্যপুত্র আমাকে বেশ ভালবাসে সে। বিশেষ করে তাকে মেরুনেকড়ের হাত থেকে বাচাবার পর থেকে। সে বলল, বেগমের তাবুতে আজ রাতে আপনাদের নেমন্তন্ন। আপনি ও আপনার স্ত্রীলোক সেখানে আমন্ত্রিত। আমি বললাম, বেগমকে আমার সম্মান জানাবে। আমরা অবশ্যই যাব। একপাশে রুখ নামের আরেক যোদ্ধা বাচ্চাদের ঘোড়ায় চড়ানো শেখাচ্ছে। রুখ ওদের অশ্বারোহণ শেখায়। রুখ আমাকে পছন্দ করে না। আমাকে সে ডাকে আল ঘুল। এর মানে হল শয়তান। আরাখের লড়াইয়ে তাকে হারানোর পর তার ঘৃণা আরও বেড়েছে। জায়গাটা ভয়ংকর ঠান্ডা। কদিন আগে শীত গেছে সে তুলনায় এখন কিছুটা ভাল আছি আমরা। শীতের দীর্ঘ রাতগুলো শেষই হতে চাইত না। তাবুর ভেতর আমি আর গৌরী জড়াজড়ি করে থাকতাম। ওকে জড়িয়ে ধরে থাকার সময়টায় আজব একটা অনুভুতি হত আমার। বুকের ভেতরটা শুন্য মনে হত। ইচ্ছে করতো ওকে সবসময় জড়িয়ে ধরে থাকতে। এই যাযাবরেরা ভাবে ও আমার বউ। ওরা আমাকে আলঘুল বলে আড়ালে। সামনে ডাকে আলরুখ বলে। গৌরীকে বলে সে আমার স্ত্রীলোক। গৌরীও দেখি ব্যাপারটাকে পাত্তা দেয় না। ওকে বেগম আল রুখ বলে ডাকলে সে সারা দেয়। আমাদের অদ্ভূত এই সম্পর্কটা নিয়ে আমি চিন্তিত। আরও চিন্তিত গৌরীকে নিয়ে। গত ছবছর সে তাবুর বাইরে বের হয়নি। আমি তাবুতে থাকলে সে আমাকে জাদু শেখায়। এখন আমি শুন্য থেকে আগুন জ্বালাতে বা বাজ ফেলতে পারি। এছাড়া আমি ছোটখাটো জিনিষ শুধু মনের শক্তি ব্যবহার করে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিতে পারি। দিনদিন আমার ক্ষমতা বাড়ছে। আমি বুঝতে পারি ব্যাপারটা। আমি পর্দা ঠেলে তাবুর ভেতরে ঢুকলাম। ভেতরে ছোট একটা আগুন জ্বলছে। গৌরী আগুনের দিকে তাকিয়ে ছিল। আমি ঢোকার পরেও ফিরে তাকাল না। আমি কোমর থেকে আরাখটা খুলে নামিয়ে রাখলাম। গৌরী হঠাৎ আগুন নিভিয়ে দিল। অন্ধকার যেন ঝুপ করে নেমে এল তাবুর ভেতরে। গৌরী বলল, আগুন জ্বালাও। আমি গৌরীর পাশে বসলাম। আগুন জ্বালানোটা খুবই সহজ। পৃথিবীর সকল বস্তুই খুব ছোট ছোট কণা দিয়ে তৈরী। এই কণাগুলো প্রতিনিয়ত কাঁপছে। বস্তুকণার এই কম্পন বেড়ে গেলে তাপ উৎপন্ন হয়। এই কম্পন বাড়াতে হয় মনের শক্তি দিয়ে। এসব তো ছেলেখেলা। আমি কাঠগুলোর দিকে একবার হাত ইশারা করলাম। ফট করে বাতাসে একটা আগুনের ফুলকি তৈরী হয়ে লাকড়ির ওপর পড়ল। মুহুর্তে আগুন জ্বলে উঠল। আমি গৌরীর হাত ধরলাম। আগুনের লালচে আলোয় মেয়েটাকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে। দীর্ঘ একটা মুহুর্ত আমরা কোন কথা বললাম না। গৌরী বলল, আমরা আর অল্প কদিনের মধ্যেই এজরাকে পৌছাব। আমি বললাম, এজরাক মানে? সেখানে আমাদের মত আরও অনেকেই থাকে। সেখানে আর কেউ তোকে শয়তান বলে ডাকবে না। আমি বললাম, ওরা আমাকে শয়তান বললে তোমার খারাপ লাগে? গৌরী কিছু বলল না। ওর চোখ পানিতে চিকচিক করছে। ওর হাতটা তুলে ধরে আমি ঠোটে ছোঁয়ালাম। হ্যা। প্রেম এসেছে আমার জীবনে। না এসেছে না। এসেছিল। রাতে বেগমের তাবুতে ভোজ হল। বিশাল তাবু। ঘোড়ার চামড়ায় বানানো।ভেতরে প্রায় দুশো লোকের জায়গা হবে। আমরা যখন এই যাযাবরদের এখানে প্রথম আসি তখন বেগম সন্তানসম্ভবা ছিলেন। সন্তান প্রসব জনিত জটিলতায় তার প্রায় মরণদশা। গৌরী বাচিয়েছিল তাকে সেদিন। সেদিন থেকে এই যাযাবরদের কাছে আমার আর গৌরীর আলাদা সম্মান। তারপর নেকড়ের হাত থেকে মংজনকে বাচানোর পর সসেই সমসম্মানের সাথে যোগ হয়েছে ভয়। গৌরীকে বেগম ডেকে নিজের পাশে বসালেন। আমার জায়গা হল সর্দার আর তার সভাসদদের সাথে। আমার শোনার ক্ষমতা সাধারণ মানুষদের চেয়ে অনেক বেশী। আমি এখানে বসেই গৌরীর সাথে বেগমের কথা স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি। ওরা আমার সম্পর্কেই কথা বলছে। কিছুক্ষণ শোনার পর আমার কান গরম হয়ে উঠল। আমি অন্য দিকে মন ফেরালাম। সর্দার সেনাপতির সাথে কথা বলছে। সামনে নাকি একটা বড় গ্রাম আছে তারা সেটা লুট করবে। ওরা নাকি শীতেও শস্য ফলায়। মোটা লাভ হবে ওই গ্রামে লুট করলে। নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল এখান থেকে মাত্র একপক্ষের যাত্রাপথ। আমি চুপচাপ খাওয়ায় মন দিলাম। ভোজ শেষ হলে আমি সর্দারকে ধন্যবাদ জানাতে গেলাম তার তাবুতে। সর্দারের নাম ইয়াতুজ খান। লোকটার বিশাল শরীর। এই লোক একাই ছ সাতজন অস্ত্রধারী সৈনিককে খালি হাতে শুইয়ে দিতে পারে। তার সামনে গিয়ে আমি কুর্নিশ করলাম। -মহামান্য খান। -আলরুখ। বলুন। সম্রাট আমাকে আলরুখ বলেন। ওদের ভাষায় এর মানে হচ্ছে রক্ষক। মংজনকে বাচানোর পর থেকে ওরা আমাকে এই নামে ডাকে। আমি বললাম, মহামান্য আপনার নিমন্ত্রণে আমি সম্মানিত ও ধন্য। খাবার অত্যন্ত সুস্বাদু ছিল। সাত আকাশের ইশ্বরেরা আপনার ও আপনার জাতির শক্তি বৃদ্ধি করুন। আপনাকে আরো সম্মানিত করুন। সর্দারকে দেখে মনে হল খুশিই হয়েছেন তিনি। আমি বললাম, মহামান্য আপনি অনুমতি দিলে আমি আর আমার স্ত্রী আগামীকাল ভোরেই যাত্রা করতে চাই। যে মহানুভবতা ও আতিথেয়তা আপনার এখানে পেয়েছি তার কোন তুলনা হয় না। আমরা বাকিজীবন আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব। সর্দার বললেন, আপনাকে তো আমরা যেতে দিতে পারি না। আমি চমকে উঠলাম। পাহাড়টা বলে কি! বললাম, কেন? -রাজজ্যোতিষী বলেছেন, সামনের যুদ্ধে আমাদের প্রবল বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হবে। এই বিপর্যয় এড়াতে হলে একটি উৎসর্গ করতে হবে সাত ইশ্বরের নামে। একজন পুরুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার স্ত্রী। শয়তানের ক্ষেত্রেও এর বাত্যয় হবার কথা নয়। শয়তানকে আঘাত করাটাই ইশ্বরের কাছে সবচেয়ে পছন্দনীয়। তাই সভার জাদুকর আর জ্যোতিষিরা আলঘুলের স্ত্রীকেই দেবতাদের নৈবেদ্য হিসেবে বাছাই করেছে। আপনাকে অভিনন্দন। আমি অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম। রাজজ্যোতিষী আমার আর গৌরীর এখানে আসার পর থেকে ক্ষেপে আছে। আমরা আসার পর থেকে ওর প্রভাব কমে গেছে গোত্রের কাছে। রাগে মুখ ফসকে বের হয়ে গেল, হারামজাদা মোটা ষাঁড়, তোর মাথা ঠিক আছে? তখনই সৈনিক রুখকে দেখলাম একটা মুগুর দোলাতে দোলাতে তাবুতে ঢুকলো। আমার হাত শুন্য। খালি হাতে চলে এসেছি ভোজ খেতে। আমি মনকে কেন্দ্রীভূত করার চেষ্টা করলাম। প্রতিটা বস্তুকণার নিয়ন্ত্রণ হাতে চলে আসতে হবে। নইলে আমার ক্ষমতা কাজে লাগাতে পারব না। রুখের পেছন পেছন আরো তিন চারজন সৈন্য ঘরে ঢুকে আমাকে ঘিরে ফেলল।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সর্পদৃষ্টি-০৭

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now