বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সর্পদৃষ্টি-০৬

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X মেয়েটা আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল, আমাকে মাফ করে দিস। তোকে বাচানোর এই একটা রাস্তাই ছিল আমার হাতে। আমি ঝাড়া দিয়ে নিজেকে ছাড়াবার চেষ্টা করলাম কিন্তু মেয়েটার গায়ে অদ্ভুত জোর। ঝটকাঝটকিতে কিছুই হল না। মেয়েটার শরীরে অদ্ভুত একটা সুগন্ধি। নরম, কোমল আর মমতামাখা। আমি এক পর্যায়ে নেতিয়ে পড়লাম। মেয়েটি আমাকে কোলে তুলে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিল। ঘটি থেকে একটা পাত্রে খানিকটা পানি এনে তাতে এক টুকরো কাপড় ভিজিয়ে আমার সারা গা মুছতে মুছতে বলল, তোকে আমি কিছু ক্ষমতা দিয়েছি। কিন্তু তার বিনিময়ে তোকে একটা কাজ করতে হবে। আমি দুর্বল গলায় বললাম, কি কাজ? -আমরা যেখানে থাকি ঠিক এমনই আরেক টা জগৎ আছে। সেই জগতের মানুষগুলো একটু অন্যরকম। এরা সুযোগ পেলেই চাইবে আমাদের ক্ষতি করার। ওদের জগত আর আমাদের জগতের মাঝখানে একটা অদৃশ্য দরজা আছে। তোকে আমি ওই দরজাটার রক্ষক বানিয়ে দিয়েছি। তোকে প্রলয়ের আগ পর্যন্ত এই দরজার রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। এই দরজা ওদের জন্য যতদিন বন্ধ থাকে ততদিন পৃথিবীতে সবাই সুখে থাকবে। ওরা যদি কোন ভাবে সীমানা পেরোয় তাহলে পৃথিবীতে প্রলয় নেমে আসবে। মেয়েটা পানি ঢেলে আমার গা ধুয়ে দিল। আমার মাথার চুলগুলো ধুতে ধুতে মেয়েটা বলল, আমরা দুদিনের মধ্যে বের হব। তোকে অন্যদের কাছে নিয়ে যাব। তোর মত অনেক লোক আছে। তারা তোকে শেখাবে কিভাবে ওপার জগতেরবাসিন্দাদের সাথে লড়তে হয়। আমি বিড়বিড় করে বললাম, তুমি আসলেও ডাইনী। মেয়েটার হাসির শব্দ জলতরঙ্গের বাজনার মত ছড়িয়ে পড়ল ঘরময়। হাসতে হাসতেই মেয়েটা বলল, হয়তো, গত সাত হাজার বছর ধরেই তো লোকে আমাকে ডাইনী বলে আসছে। স্নানের পর মেয়েটা আমাকে খেতে দিল। খাওয়ার আয়োজন সামান্যই। চাল, কিছু ফল আর মাছ। ভয়ংকর ক্ষুধার্ত ছিলাম আমি। গোগ্রাসে খেয়ে নিলাম সবটা। রাতে মেয়েটা...... উঁহু মেয়েটা বলছি কেন? গৌরী। গৌরী আমার মাথায় হাত বুলিয়ে আমাকে ঘুম পাড়াল। জ্ঞান হবার পর এতটা মমতা আর ভালবাসা আমি কারো কাছে পাইনি। কতক্ষণ আমরা ঘুমিয়েছিলাম আমি জানি না। ঘুম ভাঙল প্রচন্ড চিৎকার চেঁচামেচিতে। গৌরী ছুটে বেরিয়ে গেল। আমিও ওর পেছন পেছন গেলাম। বাইরে তখন প্রায় মধ্যরাত। অন্ধকারে দেখতে পাই আমি। কিন্তু আমার ক্ষমতা প্রয়োগের কোন প্রয়োজনই হল না। নগরের প্রাচীরে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। রাস্তার ওপর দিয়ে চলতে থাকা একটা রথের সারথিকে গৌরী প্রশ্ন করল, কি হয়েছে? সারথীর কাপা গলা থেকে শুধু একটাই শব্দ বের হল। একটা নাম! পরশুরাম! গৌরী আমার হাত শক্ত করে চেপে ধরে ঘরের ভেতর ঢুকে গেল। কুড়ের কোণায় রাখা একটা ঝোলা কাধে ঝুলিয়ে একটা চাদর দিয়ে নিজের গা মাথা ঢেকে নিল। তারপর আমার হাত চেপে ধরে বলল, চল। পালাই। আমরা ছুটতে শুরু করলাম নগরীর পথে। নগরীর রাস্তা ক্ষত্রিয়ের লাশে ছেয়ে আছে। ওর ওপর দিয়েই ছুটছি আমরা। রুদ্রনগর ছেড়ে না পালালে পরশুরামের হাত থেকে কারো নিস্তার নেই। হঠাৎ হোচট খেয়ে পড়লাম। যে লাশটার ওপর হোচট খেয়েছি সেটার দিকে এক ঝলক তাকাতেই চিনতে পারলাম। কঞ্জ! ছেলেটার ধড় থেকে মাথা প্রায় আলাদা হয়ে গেছে। গৌরী আমাকে টেনে তুলল। হোচট ঠেলা আর ধাক্কা খেতে খেতে দৌড়াচ্ছি। হঠাৎ জনক সোনারের প্রাসাদের ওপার থেকে একটা চিকন আলোর রেখা সোজা আকাশের দিকে উঠে যেতে দেখলাম। পরক্ষণেই বৃষ্টির মত অগ্নিবাণের বর্ষণ হতে শুরু করল। অসংখ্য লোক মুহুর্তে মাটিতে শুয়ে পড়ল। গৌরী আমার হাত ছেড়ে দিয়ে। নিজের হাত একবার বাতাসে দোলাল। আমি বিস্ফোরিত চোখে দেখলাম। বৃংহিত কামারের কামারশালার চালাটা ভেঙে উড়ে এল আর আমাদের মাথার ওপর স্থির বাতাসে ভাসতে শুরু করলো। গৌরী আবার আমার হাত ধরে ছুটতে শুরু করল। এবার আমাদের মাথার ওপর ভাসতে ভাসতে চালাটাও যাচ্ছে। দূরে রাজপ্রাসাদ তখনো দেখা যাচ্ছিল। প্রাসাদের প্রবেশ দ্বারের সেতুতে প্রায় কয়েকশ সৈনিকব্যুহ তৈরী করে দাঁড়িয়ে আছে। গৌরী চিৎকার করে বলল, রুদ্র জোরে দৌড়া। আমি গতি বাড়িয়ে দিতেই লোকটাকে দেখলাম। দেখতে পুরো মুনিঋষিদের মতই। কাধে ধনুক। আর একহাতে খাড়া আরেক হাতে যুদ্ধ কুঠার নিয়ে লোকটা ক্ষিপ্রগতিতে সেতুর ওপর ব্যুহ তৈরি করা সৈনিকদের দিকে ছুটে যাচ্ছে। আমি শিউরে উঠলাম। তখনই আমার বিস্ফোরিত চোখের সামনেই আকাশ থেকে বিশাল এক আগুনের গোলা আছড়ে পড়ল রাজপ্রাসাদের ওপর। ভয়ংকর বিস্ফোরণে মাটি থরথর করে কাপছে। রাজপ্রাসাদের অর্ধেক দেখলাম উধাও। আজ এই ক্ষত্রিয় রাজার বংশ শেষ। নন্দী কামারকে দেখলাম ঠেলে একটা বিশাল পাথর সরাচ্ছে। পাথরটা সরতেই কালো একটা গর্ত দেখা গেল। নন্দী হুংকার ছাড়ল, সবাই এক এক করে ঢোক! কে শোনে কার কথা। ভয়াবহ যুদ্ধ বেধে গেল সুড়ঙ্গ পথে প্রবেশ নিয়ে। গৌরীকে দেখলাম অসহায় চোখে তাকিয়ে আছে। এই ভীড় ঠেলে যাওয়া সম্ভব না। আমি ওকে ঠেলে ভীড়ের বাইরে নিয়ে গেলাম। বললাম, ঘোড়া চালাতে জানো? গৌরী আমার দিকে এক মুহুর্ত অবাক চোখে তাকিয়ে থেকে বলল, জানি। আমি ওর হাত টেনে ছুটলাম নগরের আরেক মাথায়। রাজকীয় আস্তাবলের দিকে। যাত্রাপথে আবার চোখ পড়ল সেতুর দিকে। কুড়াল হাতের সেই যোদ্ধামুনিকে সবাই মৌমাছির মত করে ঘিরে ধরে আছে। হঠাৎ শত শত উল্কাপাতের মত আওয়াজে সেতুর ওপর বাজ পড়ল। আর দেখার সময় পেলাম না। আস্তাবলের সামনে দেখতে পেলাম সেনাপতি আর তার সারথী মাতলীকে। ওদের দেখামাত্র গৌরী বুঝে গেল কি করতে হবে। আমরা সামনে পড়ে যাবার পরেও ওরা রথ থামাল না। গৌরী আমাকে জড়িয়ে ধরল। তীব্র একটা আলোর ঝলকানি দেখতে পেলাম। আলোর তীব্রতায় চোখ বুজে ফেললাম। চোখ খুলতেই নিজেদের আবিষ্কার করলাম সেনাপতির রথে। সেনাপতি বিস্ফোরিত চোখে তাকিয়ে আছে আমাদের দিকে। গৌরী দেরী করলো না। সেনাপতির দিকে আলতোভাবে হাত দোলাল। মুহুর্তের মধ্যে সেনাপতি নিজের জায়গায় জমে গেলেন। গৌরী বলল, শহরের বাইরে চল। সেনাপতির চোখ বিস্ফোরিত। সে ভাবলেশহীন গলায় সারথীকে আদেশ দিল, রথ নগরীর বাইরে নিয়ে চল। সারথী অবাক চোখে পিছনে তাকাতেই আমার চোখে চোখ পড়ল তার। চমকে উঠল সে। আমি বললাম, নগরীর বাইরে চল যদি বাচতে চাও। সারথি ঘোড়াগুলোর তীব্র আপত্তি সত্বেও রথের মুখ ঘুরিয়ে নিল। গৌরী ধাক্কা দিয়ে রথ থেকে ফেলে দিল সেনাপতিকে। আগুনে পুড়তে থাকা নগরীর প্রবেশদ্বার দিয়ে আমরা যখন বের হয়ে গেলাম তখন আমি আর গৌরী শেষবারের মত তাকালাম পেছনে। নগরটাকে এখন আর ধ্বংসস্তূপ ছাড়া আর কিছুই বলার উপায় নেই। রথ চলতে শুরু করলো। গহীন অরণ্যের ভেতর দিয়ে রথ চলছে। আমি আর গৌরী রথের ভেতর জড়াজড়ি করে বসে রইলাম। ৫ রাতের খাবারটা ভালই হল। শুধু একটাই সমস্যা হল যে আমি আমার বা চোখের লেন্স হারিয়ে ফেললাম মুখ ধুতে গিয়ে। রহমান সাহেব বুঝতে পেরে পকেট থেকে একটা মোটা কাচের চশমা বের করে দিলেন। ওটা পড়ে চোখে কিছুই দেখতে পারছিলাম না। আন্দাজে বাথরুম থেকে বের হতে গিয়ে দরজায় বাড়ি খেয়ে মাথা ফুলিয়ে ফেললাম। রকিবুলের স্ত্রীর নাম রুমানা। সে আমার অবস্থা দেখে বলল, আপনি চশমা খুলে বসেন। আপনার চোখের অসুখের কথা আমি জানি। আমি আর রহমান সাহেব মুখ চাওয়াচাওয়ি করছিলাম। রকিবুল এগিয়ে এল, রুদ্র ভাই ওরে বলছি সে আপনার চোখের অসুখ আছে বইলা আপনার চোখ অমন। আপনে চশমা খুইলা হাটেন। রহমান সাহেব বললেন, রকিব তোমার বুদ্ধি আছে। রকিবুল বিনয়ে গলে গিয়ে বললেন,আপনারা কামেল মানুষ, স্যার আপনাদের দোয়া। রকিবের স্ত্রী আমার চোখের দিকে তাকিয়ে একবার শুধু চমকে উঠল। তারপর আবার স্বাভাবিক ভঙ্গিতে আমাদের প্লেটে মুড়িঘন্ট তুলে দিল। আমি বললাম, ভাবী আমি আকবরের রাজসভাতেও এত ভাল রান্না খাইনি। রহমান সাহেব আর রকিবুল হো হো করে হেসে উঠল। আমিও হাসিতে যোগ দিলাম কিন্তু এটা রসিকতা ছিল না। খাওয়া শেষ করে রকিবুল পান নিয়ে এল রহমান সাহেবের জন্য। আমি ঝিম মেরে গেলাম। রহমান সাহেবকে বললাম, রহমান সাহেব, সরি। রহমান সাহেব অবাক গলায় বললেন, সরি কেন? -আমি বললাম খুনগুলো কে করেছে আমি জানি। ইচ্ছে করেই আপনাকে বলিনি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে কাজটা ঠিক হয়নি। রহমান সাহেব অবাক গলায় বললেন, কে করেছে খুন? আমি আস্তে করে উত্তর দিলাম, আমার চিঠির সাথে ওটার সম্পর্ক আছে। ওর নাম বাহাশ। ইয়াসমিনের পোষ্য। রহমান সাহেব বললেন, ওপারের অধিবাসী? আমি মাথা নাড়লাম, সামথিং বিগ ইজ গনা হ্যাপেন। নইলে বাহাশকে ডেকে আনতো না ইয়াসমিন। রহমান সাহেব বললেন, সামথিং বিগটা কি? আমি বললাম, জোহাক। সে দুই জগতের মধ্যকার বাধা ভেঙে ফেলেছে। বহুদিন ধরেই চেষ্টা করছিল। -জোহাকটা কে? -পাতালের সম্রাট বলতে পারেন। রহমান সাহেব আর কিছু বললেন না। রাত বারোটায় আমরা মর্গের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। মর্গের ভেতরটায় বোটকা একটা গন্ধ। রকিবুল ইসলাম নাক চেপে ধরে একটা লাশের ওপর থেকে পর্দা সরালেন। মেয়েটার বডি খুব বাজে ভাবে বিকৃত করা। পেট চিড়ে ফেলা হয়েছে। হাত পা চারটার একটাও নেই। গোড়া থেকে টেনে ছিড়ে ফেলেছে। ক্ষতগুলো অনেকটা চাপাতি বা কুড়ালের কোপের মত। রকিবুল আরেকটা লাশের ওপর থেকে পর্দা সরাতে ছেলেটার লাশ দেখলাম। এর অবস্থা আরো শোচনীয়। পেটের পর থেকে শরীরের নিচের অংশ গায়েব। বাকি নানা জায়গা থেকে মাংস খুবলে নেওয়া হয়েছে। একটা চোখে বিশাল গর্ত। কিছু একটা চোখের মধ্যে ঢুকে খুলি ছেদা করে বের হয়ে গেছে। আমি গর্তটার বেড় মাপলাম। হাত গর্ত থেকে বের করে শুঁকে দেখলাম। রহমান সাহেবকে বললাম, মেয়েটা যদিও বাহাশের হাতেই মারা পড়েছে কিন্তু ছেলেটা বাহাশের হাতে মরেনি। রহমান সাহেব বললেন, তবে? -ছেলেটাকে ইয়াসমিনই খুন করেছে। চলুন। ওকে খুজে বার করতে হবে হাতে সময় কম। (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সর্পদৃষ্টি-০৬

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now