বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সর্পদৃষ্টি-০৫

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X জ্ঞান ফিরতেই নিজেকে আবিষ্কার করলাম একটা কুড়েঘরে। একটা ঘিয়ের প্রদীপ জ্বলছে আমার সজ্জাপাশে। আমি ধরমরিয়ে উঠে বসলাম। কোথায় আছি বুঝতে সামান্য সময় লাগলো। প্রথমে মনে করতে পারলাম না আমি এখানে কিভাবে এলাম। পরক্ষণেই মনে পড়ল, কঞ্জের সাথে বাজি ধরা, রথ থেকে তীর মেরে আমাকে ফেলে দেয়া হয়েছিল। বুকের মাঝে হাত দিলাম। কোন জখম নেই। শুধু যেখানটায় তীর বিধেছিল সেই জায়গাটা একটু ফুলে আছে। তবে সেই জায়গার বদলে আমার সারা শরীরে হাতে পায়ে অসংখ্য কাটা দাগ। মনে হল কেউ নিখুঁত হাতে আমার শরীরের সব মাংস কেটে আবার সেলাই করে জোড়া দিয়েছে সেগুলো। তবে গায়ে কোন ব্যাথা নেই। খানিকটা অবসাদ আর মাথায় একটা চিনচিনে ব্যাথা ছাড়া। আমি উঠে টের পেলাম আরও কিছু পরিবর্তন এসেছে আমার মধ্যে। ঘিয়ের প্রদীপের হালকা আলোতে কখনো সব কিছউ এত পরিষ্কার দেখতে পাওয়ার কথা না। ঘরটা নানা রকমের আজব আজব বস্তুতে ঠাসা। প্রতিটা জিনিষ আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। হঠাৎ একটা পায়ের আওয়াজ পেলাম। বেশ মৃদু অথচ স্বচ্ছ। বাইরে থেকে আসছে শব্দটা। কুড়ের দরজা লাগানো থাকলেও জানালা খোলা। আমি বাইরে উকি দিলাম। একজন মানুষ হাতে একটা ঘটি নিয়ে হেটে আসছে। বাইরে ঘুটঘুটে অন্ধকার। তবুও আমি মানুষটাকে দেখতে পাচ্ছি। হাতে ঘটি জাতীয় কিছু একটা আছে। আস্তে ধীরে হেটে আসছে। আমি অবাকই হলাম। বাইরে রাত এখন সেটা বুঝতে পারছি, অমাবস্যা আজ সেটাও পরিষ্কার। আকাশে চাঁদ নেই। অথচ আমি সব পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি। দরজা খুলে একজন তরুণীকে ঢুকতে দেখলাম। তরুণী একটা ঘাঘরা আর চেলী পড়ে আছে। মাথায় একটা ওড়না। সেটা দিয়ে মুখটা ঢাকা। আমি বললাম, তুমি কে? আমি এখানে কেন? তরুণী মিষ্টি গলায় হেসে উঠল, আমাকে চিনিস না? না চেনারই কথা। পাচ পক্ষ ধরে তো বেহুশই ছিলি। -পাচ পক্ষ! -আরও বেশী হবার কথা। আমি হিসাব রাখিনি। মেয়েটা নিজের মাথার আচ্ছাদন সরিয়ে নিল। আমি মেয়েটার চেহারা দেখতে পেলাম। শান্ত সুন্দর গোলমত মুখ। মুখে র হাসিতে রাজ্যের দুষ্টুমি। আমি আবার বললাম, তুমি কে? মেয়েটা হেসে ফেলল, আমার নাম গৌরি। তবে নগরবাসী আমাকে ডাইনী বলে ডাকে। আমি ভ্রূ কুচকে বললাম, তুমি ডাইনী না। খিলখিল করে হাসল মেয়েটা। বলল, আমি ডাইনী না। আমি বললাম, তাহলে লোকে কেন বলে? মেয়েটা মুখ ঝামটা দিয়ে বলল, সেটা লোকের কাছে জিজ্ঞেস কর। আমাকে কেন জিজ্ঞেস করছিস? আর নিজের নতুন চেহারাটা আয়নায় দেখে নে। মেয়েটা ইশারা করলো ঘরের কোণার দিকে। সেখানে বড় একটা আয়না। কুড়ের দেয়ালে ঠেস দিয়ে রাখা। আমি শপথ করে বলতে পারি এক মুহুর্ত আগেও ওখানে কোন আয়না ছিল না। আমি আয়নায় নিজেকে দেখলাম। প্রথমে আমার শরীরের অসংখ্য কাটা ছেড়া ছাড়া আর কোন পরিবর্তন দেখতে পেলাম না। পরক্ষণেই চমকে উঠলাম। আমার চোখ! আমার চোখ পুরো পালটে গেছে। চোখের সাদা অংশ এখন কালো। মণিটা হলদে সবুজের মিশ্রণে তৈরি কোন এক অদ্ভূত রংয়ের। আর এর মাঝ বরাবর লম্বালম্বি কালো অংশ। অনেকটা সাপের চোখের মত। বেদের খেলা দেখার সময় এই সাপ দেখেছিলাম। সাপের শীতল চোখ দেখে শিউরে উঠেছিল আমার সারা শরীর। আমার দৃষ্টিও এখন সাপের মতই। শীতল, তীক্ষ্ণ আর ঘিনঘিনে। আমি চিৎকার করে বললাম, আমার চোখ? কি হয়েছে আমার চোখে? মেয়েটা ছুটে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলো। আমি দেখলাম সাবানের বুদবুদ যেভাবে ফাটে সেভাবেই আয়নাটা ফেটে যেন বাতাসে মিলিয়ে গেল। মেয়েটা আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল, আমাকে মাফ করে দিস। তোকে বাচানোর এই একটা রাস্তাই ছিল আমার হাতে। আমি ঝাড়া দিয়ে নিজেকে ছাড়াবার চেষ্টা করলাম কিন্তু মেয়েটার গায়ে অদ্ভুত জোর। ঝটকাঝটকিতে কিছুই হল না। মেয়েটার শরীরে অদ্ভুত একটা সুগন্ধি। নরম, কোমল আর মমতামাখা। আমি এক পর্যায়ে নেতিয়ে পড়লাম। মেয়েটি আমাকে কোলে তুলে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিল।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সর্পদৃষ্টি-০৫

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now