বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সর্পদৃষ্টি-০৪

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X রহমান সাহেব চুপ করে গেলেন। তার কপালে চিন্তার ছাপ। আমি বললাম, লাশগুলো দেখা দরকার। -ওসি সাহেব আসুক। আমি সিগারেটের প্যাকেট বের করলাম। কিছুক্ষণ ড্যাম কেয়ার ভাব নিয়ে থাকাই যায়। এখান থেকে কি বের হয়েছে তা আমি বুঝতে পেরেছি। রহমান সাহেবকে ইচ্ছে করেই বলিনি কিছু। খুনদুটো ইয়াসমিনের পোষা ঘুলটার কাজ। ও ঐ কুতসিৎ বস্তুটাকে কেন সাথে নিয়ে ঘোরে কে জানে? আমার মনে পড়ে গেল। একদিন আমাদের প্রেম করার সময় ঘুলটা আমাকে ইয়াসমিনের বাসা থেকে ছুড়ে বাইরে ফেলে দিয়েছিল। আমার মুখনিঃসৃত ধোয়ার মধ্য দিয়ে আমি ওসি সাহেবকে দেখতে পেলাম। ওসির নাম রকিবুল আলম। এই ওসির সাথে আমাদের দেখা হবার গল্পটা অনেক মজার। একবার সিলেট থেকে ডাক পেয়েছিলেন রহমান সাহেব। এক তরুণী মেয়েকে নাকি জ্বিনে আসর করেছে। রহমান সাহেব এসব ব্যাপারে বেশ অভিজ্ঞ। উনি আমাকে নিয়ে রওনা হলেন। গিয়ে জানতে পারলাম আমাদের অনেক দেরী হয়ে গেছে। মেয়েটা মারা গেছে। বাসার বাইরে গাছে মেয়েটাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে মেয়েটার বাবাকে। মেয়েটা নাকি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। অবিবাহিতা অন্তঃসত্ত্বা মেয়ের অপঘাতে মৃত্যু। পুলিশ ধরেই নিয়েছে যে অনার কিলিং। মেয়ের বাবার সাথে দেখা করলাম। বেচারা একেবারেই ভেঙে পড়েছে। খারাপই লাগল। রহমান সাহেব আবার নিজে মমেয়েটার পোস্টমর্টেম করার অনুমতি চাইলেন। সবচেয়ে চমকপ্রদ ঘটনা ঘটল পোস্ট মর্টেমের সময়। মেয়েটার পেটের ভেতর যে বাচ্চাটা ছিল সেটার কোন মাথা নেই। এমনকি মেয়েটার স্কাল ওপেন করার পর দেখা গেল মেয়েটার মাথার ব্রেনও অদৃশ্য। পুলিশ অফিসার রকিবুল আলম অবস্থা দেখেশুনে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লেন। আমি আর রহমান সাহেব মেয়েটার আরেকবার পোস্ট মর্টেম করলাম। যেটা বুঝলাম সেটা আরও চমকপ্রদ। মেয়েটা কম করে হলেও এক সপ্তাহ আগে মারা গেছে। অন্তত শরীরের রক্তের স্যাম্পল আর ইন্টার্নাল অর্গানের অবস্থা তাই বলে। আমরা নিশ্চিত হলাম যে এটা ছিল একটা ঘুল। মেয়েটাকে মেরে ওর দেহের ভেতর ঢুকে গিয়েছিল। আস্তে ধীরে মেয়েটাকে ভেতর থেকে খেয়ে ফেলেছে। ঘুলের স্বভাব অনেকটা বাঘের মত সময় নিয়ে তাড়িয়ে তাড়িয়ে খাওয়া। আমি আর রহমান সাহেব ওসিকে অবস্থা বুঝিয়ে বলতেই উনি আমাদের পাগল ঠাওরালেন। আমরা মেয়েটার বাসায় গেলাম। ওদের বাসায় যেসব অতিলৌকিক ঘটনা ঘটেছ সেসবের কথা শুনলাম। সিদ্ধান্ত নিলাম আমি রহমান সাহেব আর ওসি সাহেব মিলে রাতে থাকব। রাতে ওসি সাহেব পানি খেতে উঠলেন। চাদের আলোতে দেখলেন দেওয়ালে কালো একটা ফুটো। মাঝারি সাইজের। সেটা দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে বের হচ্ছে বিশাল একটা কালোচে জমাট অন্ধকারের মত দেখতে অবয়ব। ওসি সাহেব রিভলবার দিয়ে গুলি চালালেন। গুলির শব্দে ঘুম ভেঙে আমি আর রহমান সাহেব আমি ছুটে গেলাম। দেখলাম জমাট অন্ধকারের মত বিশাল একটা অবয়ব ওসি সাহেবের বুকের ওপর চেপে বসে ওনার মুখ টেনে হা করিয়ে মুখের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা চালাচ্ছে। আমি সাথে সাথে মন্ত্রোচ্চারণ করে জানোয়ারটার দিকে ইশারা করলাম। মন্ত্রটা আমাকে কিছু সময়ের জন্য যে কোন বস্তুকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা দিয়েছিল। পেছনে দাঁড়িয়ে রহমান সাহেব জোরে জোরে সুরা জ্বিন তেলাওয়াত করছিলেন। আমি আবার বাতাসে ইশারা করলাম। মৃত্যুর ছক। কোন অশুভ শক্তির ক্ষমতা নাই এই চার্ম সহ্য করার। রহমান সাহেব আমাকে মারণমন্ত্র উচ্চারণ করতে দেখে বললেন, ওকে মারবেন না। ওর জাতি তাহলে প্রতিশোধ নিতে আসবে। এই পরিবারটিকেও ওরা ছাড়বে না। আমি বুঝলাম বিপদটা। অর্ধসমাপ্ত ছক ছেড়ে দিলাম। ঘুলটা দেয়ালে আটকে ছিল। আমি রহমান সাহেবকে বললাম, এটাকে কিছু সময়ের জন্য আটকান। একটা পোর্টাল খুলতে হবে। রহমান সাহেব পানির জগ হাতে নিয়ে ঘুলের দিকে ছেটাতে শুরু করলেন। ঘুলটা এবার ভয়ংকর হুংকার ছাড়ল। আমার কান ফেটে যাবার যোগাড় হল শব্দের তীব্রতায়। আমি পকেট থেকে এক টুকরো কয়লা বার করে এগিয়ে গেলাম। ওটার পেছনের দেওয়ালে ঘুল যেখানে বন্দী তার নিচে আমি একটা চিহ্ন আঁকালাম বড় করে। চিহ্নটা একটা পোর্টালের রূপ নিয়ে শুষে নিতে শুরু করল অন্ধকারটুকু। ঘুলের ভয়ংকর গর্জনে ঘরে টেকা দায় হয়ে গেল আমাদের জন্য। পুরোটা শুষে নেবার পর দেওয়াল থেকে মিলিয়ে গেল পোর্টালটা। ওসি সাহেবের নার্ভ আর নিতে পারল না। তিনি ফিট হয়ে পড়ে গেলেন। সেদিন থেকে ওসি সাহেব আমাদের অন্ধভক্ত। ভদ্রলোক আমাকে দেখেই হাসিমুখে বললেন, আজ বাসায় ইলিশের ডিম ভাজা রান্না করতে বলেছি আপনার ভাবিকে। আপনার পছন্দের খাবার। আমি হাসলাম। ওসি বললেন, কি বুঝলেন? আমি বললাম, আমরা লাশগুলো দেখতে চাই। শুধু জায়গা দেখে কিছুই বলা যাচ্ছে না। -অবশ্যই অবশ্যই। ডিনারের পর নিয়ে যাব। আগে বাসায় চলেন। ওসি সাহেব কয়েকসপ্তাহ আগেই বিয়ে করেছেন। আমি আর রহমান সাহেব বিয়েতে উপস্থিত ছিলাম। এরপর দুবার দেখা হয়েছে উনার সাথে। প্রতিবারই ভদ্রলোক খুব আগ্রহ নিয়ে কপট বিরক্তির সাথে স্ত্রীর গল্প করেন, ভাইসাহেব বিয়া কইরা আছি বিপদে। বুঝলেন, গতকাল রাত্রে আপনাদের ভাবি কয় যে তার নাকি চাঁদ দেখতে ইচ্ছা করতেছে ছাদে। রাত তখন সাড়ে এগারোটা। সে আমার সাথে ছাদে গিয়া চাঁদ দেখবে। বুঝেন অবস্থা! সারাদিন অফিস কইরা রাত্রে বাসায় ফিরছি। এখন এই কথা। আমি কইলাম ঢং অফ কইরা ঘুমাও। সাথে সাথে চোখে পানি। এই মেয়ে কাঁদতেও পারে। কিচ্ছু বলার উপায় নাই। তার ছলছল চোখ দেখলেই এত মায়া লাগে..... রহমান সাহেব বাধা দিলেন। বললেন, তারপর কি করলেন? চাঁদ দেখতে নিয়ে গেলেন? ওসি সাহেব বললেন, আর কি করবো বলেন? কান্নাকাটি শুরু কইরা দিল। না পাইরা ছাদে নিয়া গেলাম। যতক্ষণ আসমানে চান ছিল ততক্ষণ সে আমার হাত ধইরা ছাদে বসা। আমারে কয় একটা গান শোনাও। আমি পড়লাম বিপদে। কি যন্ত্রণা কন তো! আমি কি আর গান জানি? তখন... কথা বলার সময় ওসি সাহেবের মুখ আনন্দে ঝলমল করে। দেখতে ভালই লাগে। (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সর্পদৃষ্টি-০৪

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now