বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কয়েকজনের কোমর থেকে ঝুলতে থাকা
পয়সার থলি হাতসাফাই করে দিলাম।
রাতে ভাল্মন্দ খাওয়ার মত পয়সা জমে
গেছে, ভাবলাম। সামনের সারিতে
মোটা দুজন মহিলাকে ঠেলে সরিয়ে মুখ
বার করলাম। এবং প্রথমবারের মত
রানীকে দেখলাম। কঞ্জ বলেছিল
রানীর মত রূপবতী মহিলা নাকি ভূ
ভারতে আর নেই। আমার কাছে তাকে
আহামরি কিছু মনে হল না। আমি আর
কঞ্জ যে মন্দিরে থাকি সেই মন্দিরের
সেবায়েতের স্ত্রী এর চেয়ে অনেক
সুন্দরী। মহিলা এই রানীর চেয়েও
দয়াবতী। তার কল্যাণেই আমি আর কঞ্জ
প্রতিদিন একবেলা ভালমন্দ খেতে
পাই। আমি আস্তে করে রানীর রথের
দিকে এগিয়ে গেলাম। রানীর রথটা
প্রায় ছয়টা ঘোড়া টেনে নিয়ে যাচ্ছে।
রথের ছাতাটা সোনা দিয়ে মোড়া।
আমি দৌড়ে রথের পেছনটা ধরে ঝুলে
পড়লাম। ভাগ্য সুপ্রসন্ন। হঠাৎ একটা পর্দা
আমার ওপর পড়ে আমাকে ঢেকে দিল। এই
ভিড় আর হাউকাউয়ে আমাকে কেউ
লক্ষ্যই করেনি। এটা ভাল। কম লোক
দেখাটাই মঙ্গল। আমি রথের পেছনটা
ধরে উঠে বসলাম। তখনই বুঝলাম কি ভুল
করেছি। আমার বয়সী একটা ছেলে তীর
তাক করে রেখেছে আমার দিকে।
ছেলেটাকে চিনি আমি। রাজকুমার
ব্রক্ষা।
রানীমাতা সম্ভবত বুঝে গিয়েছিলেন
কি হতে যাচ্ছে। তিনি নিজ পুত্রকে
বারণ করবার আগেই আমার বুকে ধা করে
কিছু একটা লাগল। আমি উড়ে গিয়ে
মাটিতে পড়লাম।
আমার বুকের মাঝ বরাবর একটা তীরের
লেজ উচু হয়ে আছে। ছেলেটার হাতে
অসম্ভব জোর। প্রায় এফোঁড়ওফোঁড় করে
ফেলেছিল আমাকে। প্রাথমিক
হতভম্বতা কাটার পরই ভয়ংকর ব্যাথা
টের পেলাম বুকে। নিঃশ্বাস নিতে
পারছিলাম না। চারপাশে অনেকগুলো
মুখকে আবিষ্কার করলাম। টুকরো কথা
ভেসে এল কানে,
“রথে উঠে বসেছিল। রাজপুত্র শরসন্ধানে
ফেলে দিয়েছে”।
‘আরে এটা তো সেই বাচ্চা চোরটা।
আমার দোকান থেকে ফল চুরি করে
পালিয়েছিল। উচিত শিক্ষা হয়েছে’।
নানারকম টুকরো কথা কানে আসছে
আমার। সবাই হা আফসোস করছে কিন্তু
কেউ আমাকে বৈদ্যের কাছে নিয়ে
যেতে চাইল না।
হঠাৎ শোরগোল কমে গেল। একটা খিস্তি
শুনতে পেলাম। কয়েকজন চিৎকার করে
বলল,“ডাকিনীটা এসেছে। ডাকিনীটা
এসেছে।”
জ্ঞান হারাবার আগের মুহুর্তে
টেরপেলাম আমাকে কেউ পরম মমতায়
কোলে তুলে নিল।
৩
রাজেন্দ্রপুর পৌছালাম বিকেলে থানার
ওসির সাথে কথা বললেন রহমান সাহেব।
এই ওসির আমাদের কাজে বিশ্বাস
স্থাপন করার কোন কারণ নাই। একবার
উনি আমাদের সাথে গিয়েছিলেন বাধ্য
হয়ে।
সেদিনের পর থেকে যদি আমি বা
রহমান সাহেব বলি যে আপনার পেটে
সন্তান সেটাও উনি বিশ্বাস করবেন।
আমি গাড়িতে বসেই কন্ট্যাক্ট লেন্স
পড়ে নিলাম।
ক্রাইম সিনটা বেশ ভেতরের দিকে।
শালবনের ভেতর দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন
রহমান সাহেব। বললেন, "ওসির আসতে
লেট হবে। ওখানে ইনচার্জ আপাতত
আমরাই। আমি মাথা নাড়লাম। দুজন
কনস্টেবলকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা
গেল। আমরা গাড়ি থেকে নেমে এগিয়ে
গেলাম।
শালবনের মাঝখানে গোল মত জায়গা
পুড়ে একদম কাল হয়ে আছে। আমি ঝুকে
পড়ে খানিকটা ছাই তুলে নিলাম।
গাছের ছাই ওগুলো। একদম মিহি
পাউডারের মত হয়ে আছে। রহমান সাহেব
একটা সিগারেট ধরালেন। আমি কাছের
একটা গাছের দিকে এগিয়ে গেলাম।
গাছের গায়ে একটা থাবার দাগ। যেন
তিনটা কুড়াল একসাথে চালানো হয়েছে
ওখানে।
রহমান সাহেব বললেন, কিসের দাগ?
আমার অতীত মনে পড়ে গেল। কিন্তু
বললাম, বুঝতে পারছি না। কোন জংলী
জানোয়ার হবে।
রহমান সাহেব অবাকই হলেন, এখানে
জানোয়ার কোথা থেকে আসবে?
আমি শ্রাগ করে বললাম, চলে এসেছে।
এখানে একটা পোর্টাল তৈরি হয়েছিল।
পোর্টালের আরেক মাথা কোথায় ছিল
আমি জানি না। কিন্তু যেখানেই থাকুক
আর যেই খুলে থাকুক সে কাউকে ডেকে
এনেছে। পোর্টালের আরেক মাথা
যেখানে সে জায়গাটা ছিল আগুনে
ভরপুর। সেই তাপেই ওখানকার গাছগুলোর
এই অবস্থা।
রহমান সাহেব অবাকই হলেন, ওই চিহ্নটা
কিসের?
-আপোটেট। অন্ধকার জগতকে যে শক্তি
নিয়ন্ত্রণ করে। যাকে আমরা শয়তান
বলি। শয়তানের অনেক রূপ অনেক চিহ্ন
আছে। আপোটেট তার মধ্যে একটা।
প্রাচীন মিশরীয় পুথিতে আছে
বিস্তারিত।
রহমান সাহেব চুপ করে গেলেন। তার
কপালে চিন্তার ছাপ। আমি বললাম,
লাশগুলো দেখা দরকার।
-ওসি সাহেব আসুক।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now