বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
তোমার মেয়ের নাম তো সিরি, তাইনা? কে পাঠিয়েছিল চিঠিটা? ডি ফ্রয়?
-হুম।
-ডি ফ্রয়ের আসল নামটা কি এবার বলা যায়?
আমি চুপ করে গেলাম। ডি ফ্রয় কারো নাম না। ইদ্দিশ ভাষায় ডি ফ্রয় মানে হচ্ছে স্ত্রীলোক। মেয়েটা আমাকে প্রায় দু হাজার বছর পর একটা চিঠি লিখেছে। ও কি বলতে চায় আমার জানা উচিত। রহমান সাহেবের সাহায্য আমার দরকার। পৃথিবীতে এই একটা লোককেই আমি বিশ্বাস করি।
আমি বললাম, “ইয়াসমীন, ওর নাম ইয়াসমীন।”
-তোমার স্ত্রী?
-না।
-তোমার প্রেমিকা নিশ্চয়ই? সিরির মা কি সেই ছিল?
-না সিরির মা ছিল আমার স্ত্রী।
রহমান সাহেব বিরক্ত গলায় বললেন, “আমাকে কনফিউজ করবা না। ক্লিয়ার করে বল।”
আমি বললাম, “শুরুটা অনেক দীর্ঘ। আমাদের হাতে সময় কম। আপনার গাড়ি নিয়ে আসেন। আমাদের পারভেজকে খুজে বের করতে হবে। আমাদের জগতের সব খবর ওর কাছে থাকে।”
রহমান সাহেব মাথা নাড়লেন। আজ অন্য একটা কাজ আছে। গাজীপুর যেতে হবে। তোমার বাসায় এই জন্যই যেতে চাইছিলাম।
আমি অবাক হলাম, “গাজীপুরে কি?”
রহমান সাহেব বললেন, “রাজেন্দ্রপুরে গতকাল এক কাপলের মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে জানো না?”
-মাস্ট বি ডাকাতির কেস। এটা তো পুলিশ দেখবে। আমরা কেন?
রহমান সাহেব নিজের মোবাইল বের করে কিছুক্ষণ ঘাটাঘাটি করে একটা ছবি বের করে দেখালেন আমাকে। আমি মোবাইলটা হাতে নিলাম। ছবিটা দেখে চমকে উঠলাম।
রহমান সাহেব বললেন, “বোথ অফ দ্য বডিজ ওয়্যার ব্র্যান্ডেড। ওপার জগতের বাসিন্দারা ওদের চিহ্ন ছেড়ে গেছে আমাদের জন্য।”
আমি চিহ্নটা জুম করে দেখলাম। গোল একটা বৃত্তকে পেঁচিয়ে আছে একটা বিশাল সাপ। বৃত্তের মধ্যে কিছু লেখা আছে। ভাষাটা অনেকটা প্রাচীন ব্যাবীলনীয় ধাঁচের। যদি সেই অনুযায়ী মানে করতে যাই তাহলে এর অর্থ দাঁড়ায়, “প্রতিশোধ।”
রহমান সাহেবকে ফোনটা ফিরিয়ে দিলাম। বললাম, “চিঠিটা কেন পাঠিয়েছে ইয়েসমিন এবার বুঝেছি। ব্যাপারটা আপনি যা ভাবছেন তারচেয়ে অনেক বড়। আমাদের সামনে বিশাল বিপদ।”
রহমান সাহেব তার ড্রাইভারকে ফোন দিয়ে গাড়ি নিয়ে আসতে বললেন। তারপর বললেন, “যেতে যেতে সব শুনব। গাড়ি আসতে আসতে চলো দুকাপ গুড়ের চা খাই।”
আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। অখাদ্যটা খেতেই হবে তাহলে।
২
রহমান সাহেব ড্রাইভিং সিটে বসলেন। তিনি কাজে যাবার সময় তার ড্রাইভারকে সাধারণত সাথে নেন না। আমি তার পাশের সিটে বসলাম। বললাম, এসি ছাড়ে কিভাবে?
রহমান সাহেব বললেন, “এসি আমি ছাড়ছি। তুমি গল্প শুরু কর।”
গুড়ের চা খাওয়ার পর থেকে মুখ বিস্বাদ হয়ে আছে। আমি তিক্ত গলায় বললাম, “এটা কোন গল্প না।”
-একই কথা। তুমি শুরু কর।
আমি চোখের ওপর আঙুল ছুইয়ে, “কন্ট্যাক্ট লেন্স দুটো খুললাম।”
আমার চোখের দিকে তাকিয়ে রহমান সাহেব বললেন, “তোমার চোখের দিকে যতবার তাকাই ততবারই চমকে উঠি।”
আমি হাসলাম, “এই চোখের কারণে কন্ট্যাক্ট লেন্স তৈরির আগের যুগের লোকেরা আমাকে এড়িয়ে চলতো।”
আমার চোখ দুটো অবিকল সাপের মত। সোনালী সবুজ চোখের পটভূমিতে লম্বাটে কাল মণি। রিয়ার ভিউ মিররে নিজের চোখ দেখে নিজেও শিউরে উঠলাম।
আমি বলতে শুরু করলাম, “একটা সময় ছিল যখন আমিও আর দশজনের মত স্বাভাবিক একজন মানুষ ছিলাম। তখন ভয়াবহ যুদ্ধ চলছে। পরশুরাম নামের এক ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয়দের ভারতজুড়ে কচুকাটা করছে। লোকটার মূল অস্ত্র একটা বিশাল কুড়াল। আমার জন্ম হয় রুদ্রনগর নামের এক রাজ্যে।
সত্যযুগ তখন কেবল শেষ হয়ে ত্রেতা যুগের শুরু হয়েছে। লোকেরা একটা সময় ছিল যখন ধর্ম কর্ম নিয়েই বেশী ব্যস্ত থাকত। এই সময়টাতে সবাই বৈষয়িক হয়ে উঠেছিল। আমাদের রাজা সবসময়ই ভয়ে ভয়ে থাকতেন পরশুরামের কারণে। ক্ষত্রিয় রাজাদের বেশীরভাগই প্রজাদের প্রতি সদয় ছিলেন না। প্রজারা যে সবাই পরশুরামের পক্ষ নিবে এই ব্যাপারে তারা সবাই নিশ্চিত ছিলেন। আমি ছিলাম নিচু জাতির এক অনাথ শিশু। হয়তো কোন উচ্চবংশীয় কারো অবৈধ সন্তান। পথে পথে ঘুরতে ঘুরতে একসময় আমার পরিচয় হয় কঞ্জ নামের এক কিশোরের সাথে। কঞ্জ নিজের রুটিরুজির ব্যাবস্থা করত চুরি করে। ওই যে যাকে বলে স্ট্রিট স্মার্ট। সে আমাকে নিজের সব বিদ্যেই শেখাল।
কিভাবে নিঃশব্দে বেড়ালের মত চলাফেরা করতে হয়, কিভাবে চাবি ছাড়া তালা খুলতে হয়, বড় বড় ভবনের দেওয়াল বেয়ে সেগুলোর ছাদ পর্যন্ত উঠে যাওয়া সবই আমি শিখেছিলাম তার কাছে। একদিন শিক্ষা শেষ হল। কঞ্জ আর আমি চুরি করে বেড়াতাম।
আমি ফিরে গেলাম প্রায় সাত হাজার বছর আগে।
কঞ্জ আর আমি বড় একটা ভবনের ছাদে দাড়ালাম। ভবনটা ছিল কীর্তনিয়ার। কীর্তনিয়া সোনার কারবার করে বেশ ভালই টাকা কামিয়েছিল। ভাবত কষ্ট হয় ওর জীবন শুরু হয়েছিল রুদ্রনগরে কুলী হিসেবে। এটা ত্রেতা যুগ এযুগে জাতে উঠতে মানুষের সময় লাগে না। অর্থের ভাষা মানুষ শিখে নিয়েছে এতদিনে। পথ দিয়ে রাজকীয় বহর যাচ্ছে। সেদিকে তাকিয়ে কঞ্জ বলল, “শালার রাজারাই যত ফুর্তি করে গেল।” কঞ্জর কোমরে শুধু একটা নেংটি। মাত্থায় একটা ন্যাকড়া বাধা। এই পোশাকে রাজাদের হিংসা করতেও লজ্জা করা উচিত।
আমি এক কাঠি ওপরে উঠে বললাম, “আগে জানলে রাজা হয়েই জন্মাতাম।”
আমার রসিকতায় কঞ্জ হেসে উঠল। বলল, “তুই চাইলেই নিজেকে রাজা ভাবতে পারিস।”
কঞ্জ হাসতে হাসতেই বলল, “যা এই রুদ্রনগরটাকেই আমি তোর নামে করে দিলাম।”
-কিভাবে?
-আজ থেকে তোর নাম রুদ্র। তোর নামে এই নগরীর নাম। তুই এর রাজা।
কঞ্জ আমার দিকে ফিরে চোখ টিপলো, “তোর এই নামকরণটাকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য একটা কাজ করলে কেমন হয়?”
আমি অবাক গলায় বললাম, “কি কাজ?”
-গিয়ে রাজকীয় পালকি যেটাতে করে রানী যাচ্ছে সেটা থেকে কিছু চুরি করে নিয়ে আয়।
-পাগল নাকি?
-আরে দেখ পুরো পালকিটাই সোনায় বানানো। যা পারিস নিয়ে আয় অনেক দাম হবে।
-তুমি যাবে না।
-তোর নামকরণ হয়েছে। তুই যাবি। আমি কেন যাব?
আমি ছুট দিলাম। রাজকীয় বহরের কাছে যাওয়াটাই চরম সাহসিকতার ব্যাপার। তারমধ্যে রাস্তায় প্রচন্ড ভিড়। রাস্তা দিয়ে যাওয়া রানীকে ঝুকে সবাই সম্মান দেখাচ্ছে। আমি ভিড়ের পেছন গলে কোনমতে ঢুকে গেলাম।
(চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now