বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সর্পদৃষ্টি-০১

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X সর্পদৃষ্টি শোভন নবী জেনারঃ ডার্ক ফ্যান্টাসি ১ চিঠিটা হাতে নিয়ে বসে আছি অনেকক্ষণ ধরে। কাগজটা বেশ দামী। সাদা আর পুরু। কাগজ থেকে মিষ্টি একটা ঘ্রাণ ভেসে আসছে। ঘ্রাণটা অদ্ভুত সুন্দর। অনেকটা হিমালয় অর্কিড আর স্পাইডারলিলির গন্ধ একত্র করলে যেমনটা হয় তেমন। কাগজে নীলচে কালিতে একটা শব্দ লেখা। “সিরি” আমি কাগজটার গন্ধ নিলাম। কালিটা বেশ দামী। কালির কলমে লেখা। আদ্যিকালের কালির কলম। খামটার মুখ গোল করে ঝাকি দিলাম। কিছু গোলাপের পাপড়ি ছড়িয়ে পড়লো আমার স্টাডি টেবিলের ওপর। আমি লম্বা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। এক মুহুর্ত আগেও খামটা খালি ছিল। চিঠিটাকে তুচ্ছ করার কোন কারণ নেই। আমি গায়ে একটা শার্ট চাপিয়ে বের হয়ে গেলাম। গন্তব্য রহমান সাহেবের বাসা। রহমান সাহেব পেশায় ডাক্তার এসময়ে উনি চেম্বারে থাকেন। উনার হাসপাতালে যাওয়াটাই সমীচীন, ভাবলাম আমি। চিঠি আর গোলাপের পাপড়ি খামে ভরে পকেটে পুরে নিলাম। আমার বাসা জিগাতলা। একটা সাততলা বাড়ির ছাদে চিলেকোঠার দুটো রুম নিয়ে আমার বসবাস। এই বাড়িটা আমার খুবই পছন্দের। ছাদে আমি কিছু গোলাপ গাছ লাগিয়েছি। কালো গোলাপ। বাসার দরজায় তালা মারার পর আমার মনে হল আজ গাছগুলোতে পানি দেওয়া হয়নি। তা না হলে নাই। পানি এসেও দেওয়া যাবে। আর বাড়িওয়ালার মেয়েটা প্রায়ই ছাদে আসে। আমি না থাকলে সে গাছে পানি দিয়ে দেয়। মাথার ওপর ইশ্বর আর নিচে বাড়িওয়ালার মেয়েকে স্মরণ করে আমি বের হয়ে গেলাম। রাস্তায় বের হয়ে প্রমাদ গুণলাম। সিটি কলেজ থেকে জিগাতলা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ঢাকার বিখ্যাত জ্যাম। আমাকে রাস্তায় বোকার মত দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেই হয়ত এক চেংড়া রিকশাওয়ালার দয়া হল। “মামা যাবেন কই?” ছেলেটার মুখে একান ওকান জোড়া হাসি। -পিজি হাসপাতাল। -ষাট টাকা লাগবো কিন্তু। আমি নিরুপায়, “ষাট টাকাই দেব।’ -চলেন। উড়ায়া লইয়া যামু। আমি রিকশায় উঠে বসলাম। এবং উড়ায়া লইয়া যাওয়ার একটা নমুনা দেখলাম। প্রায় একঘন্টা লাগলো এটুকু পথ আসতে। হেটে যাওয়াটা আরও ভাল বুদ্ধি ছিল। পিজির গেটে দাঁড়িয়ে রহমান সাহেবকে ফোন করলাম। রহমান সাহেব চরম ধার্মিক লোক। ফোন ধরেই সালাম দিলেন। আমি শুধু এটুকুই বললাম যে, “পিজির গেটে দাঁড়িয়ে আছি। তাড়াতাড়ি আসেন।” দশ মিনিট পর রহমান সাহেবের দেখা পেলাম। রহমান সাহেব পেশায় একজন কার্ডিওলজিস্ট। বাংলাদেশের সেরা পাচজন কার্ডিওলজিস্টের মধ্যে একজন। লোকটা পিপড়ের মত ব্যস্ত। হাসপাতালের ডিউটি, ক্লাস সব মিলিয়ে সারাদিনই দৌড়ের ওপর থাকেন তিনি। আমি একবার ডেকে তাকে দশমিনিটের মধ্যে পেয়ে যাওয়ায় আমার কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত কিনা চিন্তা করলাম। রহমান সাহেব বললেন, “চলো কোথাও বসি।” আমি বললাম, “কই বসবেন?” -ছবির হাটে চলো। আজ তোমার বাসায় যাব ভেবেছিলাম। কাজের চাপটা আজ কম। আমি মনে মনে ভাবলাম ব্যাটা আজ আমাকে আবার তার অতি প্রিয় অতি অখাদ্য গুড়ের চা খাওয়াতে নিয়ে যাচ্ছে। আমি ঘাড় নাড়লাম। ছবিরহাটে যাবার পথে রহমান সাহেব এক ঠোঙ্গা বাদাম কিনলেন। “বাদাম অতি পুষ্টিকর খাবার। নাও খাও। স্মরণশক্তি বাড়বে।” আমি কিছু বললাম না। তিনি আবার বললেন, “হঠাৎ এমন করে ডাকার কারণটা বলো এবার।” আমি প্যান্টের পকেটে হাত দিয়ে খামটা বের করে রহমান সাহেবের হাতে দিলাম। রহমান সাহেব। চিনাবাদামের ঠোঙ্গা আমার হাতে ধরিয়ে দিলেন। আমি শ্রাগ করে নিজের স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির কাজে মনোযোগ দিলাম। -সুগন্ধি ফুলের গন্ধ। বলতে বলতে খামের মুখ খুলে চিঠিটা বের করলেন তিনি। এবার আর গোলাপের পাপড়ি ছড়িয়ে পড়লো না। কাগজটার ভাজ খুললেন তিনি। ভ্রূ কুচকে উঠলো তার সেই সাথে আমারও। কাগজটা একদম সাদা! কিছুই লেখা নেই তাতে! যেন কোনদিন ছিলও না! আমি বড় করে একটা নিঃশ্বাস ফেললাম। আমার মনে হচ্ছিল এমনটাই হবে। সে এইধরণের ফাজলামি করতে ভালবাসে। রহমান সাহেব বুঝলেন ব্যাপারটা। চোখ বন্ধ করে কাগজটার মাঝে ডান হাতের তর্জনী ছুইয়ে বললেন, “তাকশিফ আশরারুক” লাভের মধ্যে লাভ হল দপ করে আগুন জ্বলে উঠল কাগজে। রহমান সাহেব হাত থেকে ফেলে পা দিয়ে পিষে ফেললেন কাগজটা। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, “কি লেখা ছিল ওটায়?” আমি বললাম, “সিরি।” -তোমার মেয়ের নাম তো সিরি, তাইনা? কে পাঠিয়েছিল চিঠিটা? ডি ফ্রয়? -হুম। -ডি ফ্রয়ের আসল নামটা কি এবার বলা যায়? আমি চুপ করে গেলাম। ডি ফ্রয় কারো নাম না। ইদ্দিশ ভাষায় ডি ফ্রয় মানে হচ্ছে স্ত্রীলোক। মেয়েটা আমাকে প্রায় দু হাজার বছর পর একটা চিঠি লিখেছে। ও কি বলতে চায় আমার জানা উচিত। রহমান সাহেবের সাহায্য আমার দরকার। পৃথিবীতে এই একটা লোককেই আমি বিশ্বাস করি।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সর্পদৃষ্টি-০১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now