বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সোনালী ভালবাসা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X এইত তারেক আসছে। কিরে দোস্ত এত দেরী করলি কেন? আর তোর হাত দিয়ে রক্ত কেন? "আরে আর বলিস না। আসার সময় দেখলাম একজন তার ছেলেকে মারছে। ছেলেটাকে বাছাতে গিয়ে হাতে একটু ছুট লাগছে।" এই বলে হাটা শুরু করল তারেক। "দোস্ত একটু তাড়াতাড়ি আয় না তোরা। একটা মানুষের জীবন মরন নিয়ে কথা। তাড়াতাড়ি আয় প্লিজ"। এই বলে পিছনে তাকিয়ে আবার হাটা শুরু করল তারেক। আজ তারা একটি রোগীকে বাছাতে যাবে। সকালে রাজীব ফোন করে বলল যে একজনের ও পজেটিভ রক্ত লাগবে। তারেক দ্রুত রক্তদাতা সংগ্রহ করে চলল হাসপাতালের দিকে। ক্যান্সারের রোগী। দ্রুত রক্ত না দিলে অনেক সমস্যা হয়ে যাবে। "হ্যালো ভাইয়া আপনি কই? এইত ভাইয়া আমি হাসপাতালের সামনে" রক্তদাতা হাসপাতালের সামনে দাড়িয়ে আছে। তারেকের হাটার গতি আরও দ্রুত হল। তারেকরা মোট ৫জন। সবাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। যেখানেই বিপদ সেখানেই ওদের কাজ। এইত বিছুদিন আগে পাড়ার একটা মেয়ের বিয়ে হচ্ছিল না। তারা সবাই মিলে। সবার থেকে চাঁদা সংগ্রহ করে মেয়েটির মা বাবার হাতে তুলে দিল। এবং সবাই মিলে সুষ্টভাবে মেয়েটির বিয়ে দিল। তারেক তাড়াতাড়ি রক্তদাতাকে নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ক্যান্সার বিভাগে গেল। তারেক বের হয়ে একটি সিগারেট ধরাল। হঠাৎ ফোন বেজে উঠল। স্ক্রিনে রেখা নামটি ভাসতেই ফোনটা কেটে দিয়ে রেখে দিল। রেখা তারেকের ২ ক্লাশের ছোট। তাদের কলেজ থেকে এইচএসসি দিবে। আবার ফোন বেজে উঠল তারেকের। বিরক্ত নিয়ে রিসিভ করল। ...হ্যালো। ... এতক্ষন রিসিভ কর নাই কেন? ... ব্যাস্ত ছিলাম। ... কি এমন কাজ যে এত ব্যাস্ত? ... তোমাকে বলতে হবে নাকি? কত বার নিষেধ করলাম আমাকে বিরক্ত কর না। তবু কেন???? ... আমি তোমাকে ভালবাসি। লাইন কেটে দিল তারেক। ফোনটা বিছানায় ছুড়ে রেখা কাদতে লাগল। রেখা তারেককে অনেক ভালবাসে। সেবার যখন রেখা এক্সিডেন্ট করে তারেকই তাকে বাছিয়েছিল। তখন থেকেই রেখা তারেকের নাম্বার নিয়ে তারেককে ফোন করত। কত বার বলেছে তোমাকে ভালবাসি, তোমাকে ভালবাসি। তবু তারেক রাজি হয়না। তার কোনো গার্লফ্রেন্ড ও নেই। তবু কেন এমন করে ছেলেটা বুঝতে পারে না। হাসপাতালের কাজ শেষ করে তারেক বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়। মাকে ডাক দিয়ে ভাত দিতে বলে। মা ভাত নিয়ে এসে তাকে খাইয়ে দেয়। মাঝে মাঝে তাকে জড়িয়ে ধরে কান্নাও করে। তার বোনও তার দিকে তাকিয়ে কান্না করে দেয়। বোনকে সে অনেক ভালবাসে। বাবাও একই। সবাই এমন কেন? হয়ত প্রিয়জনের বিদায় বেলা এলে মানুষ এমনই করে। কিছুদিন পর......... ...দোস্ত তুই কই? ... এইত পুকুর পাড়ে। কেন? ... দোস্ত সোহান এক্সিডেন্ট করছে। ... কি বলিস? তারেকের চোখে আধার কালো মেঘের ঘনঘটা। কি শুনছে এটা। সেই সোহান যার গানে আড্ডা চলত চরমভাবে। তার গলা এতই সুন্দর যে দিনে একবার না শুনলে তাদের আড্ডা জমতই না। আর সে সোহানের আজ একি হল? তারেক দ্রুত গেল। এবং রক্তাক্ত শরীর দেখে চোখ বন্ধ করে ফেলল। সোহানকে ডাক্তাররা অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে গেল। অনেক রক্তের প্রয়োজন। তারেক বেরিয়ে পড়ল রক্তের সন্ধানে। সোহানের রক্তের গ্রুপ তাদের কোনো বন্ধুর সাথে মিলল না। অনেক খোজাখুজির পরও রক্তের কোনো সন্ধান পেল না তারেক। রাস্তার ফুটপাতে বসে পড়ল তারেক। দুহাত তুলে আল্লাহরর কাছে দোয়া ছাইল সোহানের জন্য। সাথে সাথে রাজীবের ফোন। "দোস্ত দ্রুত আয়, রক্তদাতা পাওয়া গেছে। তারেক ছুটে গেল হাসপাতালে। এবং দেখল তার রক্ত দিচ্ছে একজন। রক্ত দেয়া শেষে ডাকতার বের হল। তারেক ডাক্তারকে প্রশ্ন করল .... স্যার, সোহানের কি অবস্হা? ....বিপদ নেই। তবে একটা দুসংবাদ আছে। ... কি স্যার? ... সোহানের দৃষ্টি শক্তি আর ফিরে পাবে না। তারেকের অশ্রু যেন আর বাধা মানে না। সোহান পরিবারের বড় ছেলে। তার পরে আরও দুজন আছে। তার বাবা মারা গেছে ৬ বছর আগে। কি করবে সোহানের পরিবার। কে চালাবে তাদের? পৃথিবীটা এমন কেন? এত নিষ্টুর কেন? সোহানের এই খবর শুনে সবাই কান্না করতে লাগল। সবাইকে তারেক সান্তনা দিতে লাগল। "আরে তোরা কাদছিস কেন? আমি বেছে থাকতে সোহানের এই অবস্হা কখনও হতে দিব না।" দুদিন পর....... সবাই কান্নার নোনা জলে খেলা করছে। অঝর কান্নার ঢ়ল পুরো মেডিকেল জুড়ে। সবাই এল। ঔ যে চাঁদা তুলে যে মেয়েটিকে বিয়ে দিল। সে সহ যাদের যাদের তারেক বিপদের বন্ধু হয়েছিল সবাই এল। এমনকি রেখাও এল। সবাই কাদছে। সোহান, রাজীব, রিফাত সবাই কাদছে। সামনে তারেকের প্রানহীন দেহ পড়ে আছে। কি নিষ্পাপ ছাহনি তার। চোখদুটো বন্ধ। কিছুক্ষণ পর পর সোহান বলতে লাগল সব আমার জন্য হয়ছে। সোহান দৌড়ে গিয়ে লাশের পাশে গিয়ে বলল " ঔ কুত্তা উঠছিস না কেন? আর কত ঘুমাবি? আর কত আমাদের কাদাবি? মানুষের বিপদে সাহায্য করার জন্য আমাদের কে ফোন করবে? কে আমাদের আড্ডায় কবিতা শোনাবে? কে আমাদের উপদেশ দিবে? বল না কুত্তা কে করবে এসব? কেন এভাবে আমাদের ছেড়ে ছলে গেলি? কেন? নিজের মাথা ওয়ালে বাড়ী দিতে দিতে রক্তাক্ত করে দিল সোহান। ডাক্তার বলল তারেক ক্যান্সার রোগী। অনেক আগে থেকে তিনি আক্রান্ত ছিলেন। তাই তাকে বাঁচানো আমাদের সম্ভব হয়নি। আমরা দুঃখিত। তারেক চলে গেল না ফেরার দেশে। সেদিন সবাই তারেকের বাসায় গেল। রেখাসহ গিয়েছিল। সেও কম কান্না করেনি। হঠাৎ রেখা তারেকের রুমে গেল। একটা সুন্দর মোড়কে একটা ডাইরি দেখতে পেল। পড়া শুরু করল। কোন দিন কি হয়ছে সব লিখে রাখছে তারেক। হঠাৎ রেখার চোখ আটকালো একটি লেখা। " জীবনের প্রথম যাকে ভালবেসেছি, সেই শেষ প্রেম প্রতিজ্ঞা করছি। জনম জনম ভালবেসে যাব তাকে, কখনও ভুলব না প্রিয় রেখা তোমাকে।" রেখা আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি। জানি তুমি বিশ্বাস করবে না। কারন আমি তোমার সে বিশ্বাসের জায়গা থেকে অনেক দুরে। আসলে আমার ক্ষনিকের জীবন। এই ক্ষনিকের জীবন তোমায় কিছুই দিতে পারব না। তাই দূরে থাকছি তোমার থেকে। " রেখা তাদের বাসা থেকে বেরিয়ে গেল। সে আজ অনেক সুখি। সে এমন একজনকে ভালবেসেছে। যেকিনা তাকে অনেক ভালবাসত। যে ভালবাসার নাম দিয়েছে সোনালী ভালবাসা। ভালবাসি। অনেক ভালবাসি।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সোনালী ভালবাসা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now