বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সোনা বউ -----৩য় অংশ--------

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X .... হালকা চোখ খুলে দেখি আমার মাথার পাশে তুসি বসে আছে, আমি হাসপাতালের ব্রেডে শুয়ে আছি, আমি এখানে কেনো? --আপনার বন্ধু জয় এখানে নিয়ে এসেছে, সকালে তাড়াহুড়া করে না খেয়ে বাসা থেকে বের হয়ে আসলেন, কাল রাতেও কিছু খাননি, তাই মাথা ঘুরে অজ্ঞান হয়ে গেছিলেন(তুসি) . সেদিন বিকালে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও গত এক সাপ্তাহ ব্রেড থেকে ছাড়া পায়নি, মেয়েটা আমাকে বাসা থেকে বের হতে দেয়নি, মেয়েটা এতো সাহস কোথায় পায়, আমি ভাবলে অবাক হয়ে যাই, মনে হয় আমি বড় কোনো রোগের রুগি আর কিছুদিন বাঁচবো এমন সব সেবাযত্ন, . তুসির অভিযোগ ....বিয়ের আজ পাঁচ মাস হলো, আমাকে কোথায়ও ঘুড়তে নিয়ে যাননি, কেমন লোক আপনি?, --আমি এমনি, সেটা নিয়ে আপনাকে না ভাবলেও চলবে --আমি ভাববো কেন, আপনার ভাবার জন্য তো অরনী আছে, সে আপনার জন্য ভাববো --এক্মকিউসমি, আপনি অরনীকে এর মধ্যে টানছেন কেন, --না হয়তো কি, আপনার জন্য অরনী ভালো ছিলো, অরনী বলার অাগেই অাপনি সুরশুর করে অরনীকে নিয়ে ঘুড়তে যেতেন। আপনি ঘুড়তে যাবেন, সরাসরি বললে হয়, এতো ঘুড়িয়ে কথা বলার কি আছে, আজিব তো, বিকালে রেডি হয়ে থাকবেন, আপনাকে নিয়ে ঘুড়তে যাবো, একথা বলার পর তুসির দিকে তাকিয়ে দেখি মেয়েটার খুশিতে চোখ-মুখ জ্বল জ্বল করছে, যেন হাতে আলাদিনের প্রদীপ পেয়েছে,বলেই অফিসের দিকে রওনা দিলাম. .. সারাদিন অফিসের ব্যস্ততায় সকালে তুসিকে দিয়ে আসা কথা ভূলে গিয়েছিলাম. .... তুসি অনেক বার ফোন দিয়ে মিটিংয়ে থাকায় ফোন ধরতে পারিনি, এই মেয়েটার জন্য,, শুধু মাত্র তুসি জন্য এতো বড় ঝামেলা আমার উপর পড়েছে -আব্বু অফিসের সমস্ত দায়িত্ব আমার উপর দিয়েছে, তুসি আমাকে প্রতিদিন অফিসের জন্য ঘুম থেকে ডেকে তুলে দিয়া থেকে শুরু করে নাস্তা করা, কোন ড্রেস পড়ে অফিস যাবো, সেটা ঠিক করে দেওয়া এবং দুপুরের খাবার তৈরী করে দেওয়া পৃযন্ত সমস্ত কাজ এক হাতে করে, তার হুকুম দুপুরে বাহিরের খাবার একদম খাওয়া যাবে না, তার সব কথা না শুনলে হয় আম্মুর কাছে অভিযোগ, না হয় অরনীকে নিয়ে প্যরা দেওয়া ...এজন্য সমস্ত কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হয়, কারণ একবার নিজের অজান্তেই আব্বু-আম্মুকে কষ্ট দিয়েছি, দ্বিতীয় বার সেই ভূল আমি করতে চাই না..... শারীরিক সর্ম্পক যে সবকিছু নয় তার বাস্তব প্রমাণ আমরা, কারণ দীর্ঘ পাঁচ মাস আমাদের স্বামী-স্ত্রী সর্ম্পক থাকলেও, আমি কোনো দিন তার সাথে শারীরিক সর্ম্পকে যায়নি এবং সেও আমাকে বাধ্য করেনি,... এ নিয়ে তুসির সাথে আমার কোনো দিন কথাও হয়নি, তুসির এ নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই,... . তুসি ফোন এখনো ব্যাক করা হয়নি, হয়তো মেয়েটা অনেক কষ্ট পেয়েছে ফোন রিসিভ না করায়, ইতিমধ্যে আবার তুসির ফোন.. .আপনি আমাকে নিয়ে ঘুড়তে যাবেন সেটা মনে আছে, কোথায় আপনি? (তুসি) --একটু ওয়েট করুন, আমি চলে আসছি গাড়ীটা দ্রুত বাসায় পৌঁছে গেলাম, মেয়েটা অাগে থেকে তৈরী হয়ে বসে আসে, বুদ্ধি আছে বলতে হবে, গাড়ীটা নিয়ে বের হলাম.. মেয়েটাকে অনেক সুন্দর লাগছে, তবে অন্য সব মেয়েদের মতো সাজতে পছন্দ করে না তুসি, এমনিতে তুসিকে অনেক সুন্দর দেখতে,তবে আজ একটু চোখে কাজল দেওয়ায় বাড়তি সৌন্দর্য সৃষ্টি করেছে, তাছাড়া আমার পছন্দের কালো শাড়িঁটা পড়েছে, অরনীকে একটা কালো শাড়িঁ গিফট করে বলেছিলাম পড়ে আসতে, কিন্তু কোনোদিন পড়েনি, বলে শাড়িঁ নাকি ক্ষ্যাত মেয়েরা পড়ে,শাড়িঁটা অবশ্য ফেরত দিয়েছিলো, --এই মিস্টার কোথায় হারিয়ে গেলেন (তুসি) --না, মানে, ইয়ে, আপনাকে কালো শাড়িঁতে অনেক সুন্দর লাগছে, যাক বাবা, আজ পাঁচ মাস পর আমার বরের মুখে বুলি ফুটেছে, তা মিস্টার লজ্জাটা কবে ভাঙ্গবে? --কিসের লজ্জা? --স্বামী-স্ত্রীর মাঝে যে লজ্জা থাকতে নেই। কালো শাড়িঁটাকে সত্যি আপনাকে অনেক সুন্দর লাগছে, কালো পরীদের মতো, (আমি কথার প্রসঙ্গ অন্য দিকে ঘুড়িয়ে নিলাম) --কালো পরী হয় নাকী, জানতাম না তো, শুনেছি লাল, নীল, সাদা রংয়ের পরী হয়। --মনে কল্পনায় সব কিছু হয়, আর কালো পরী আমার কল্পনার, যাকে আমি ... (মাঝ পথে কথা বন্ধ) --যাকে আপনি আলমারিতে লুকিয়ে রাখেন --মানে? --মানে হলো আপনি খুব অদ্ভুদ, উপরের দেখাবেন আমাকে আপনি পছন্দ করেন না, কিন্তু ঠিকই আমার জন্য গিফট কিনা হয়.. --আপনার জন্য কি গিফট কিনলাম --ন্যকা ষষ্টি, বাসর ঘরের নেকলেসটা পর এখন এই কালো শাড়িঁটা, আপনি কিভাবে বুঝলেন আমার কালো রং খুব পছন্দ, আলমারিতে পুরনো বিয়ের অ্যালবাম খুজতে গিয়ে শাড়িঁটা পেলাম, হাতে দিতে বুঝি আপনার সম্যসা? তাহলে রুমের মধ্যে চিঠির বক্সের মতো বড় একটা বক্স ঝুলিয়ে রাখবো, সেটার মাঝে যা দেওয়ার দিয়ে যাবেন.।।। আসলে হয়েছি কি ... আমি বলি আসলে কি হয়েছে, রাতে আপনি শাড়িঁটা নিয়ে এসে দেখেন আমি ঘুমিয়ে পড়ছি, তাই ওখানে রাখছেন তাই না? ---মানে, হুম, (কিন্তু এটা অরনীর গিফট করা শাড়িঁ যা আমাকে ফেরত পাঠানো হয়েছিলো,সত্যি বললে কষ্ট পাবে, তাই বলা হলো না, সাঝে মাঝে অন্যের সুখের জন্য মিথ্যা বললে পাপ হয় না) --আপনার আমার পোশাকের রং এক, এতোক্ষণ খেয়াল করি নাই, যে আমি কালো রংয়ের পোশাক পড়ে আছি, প্রতিদিন তুসি নিজেই অফিসের যাওয়ার সমস্ত ড্রেস প্রস্তুত করে দেয়, তাই আমাকে এটা নিয়ে আমাকে ভাবতে হয় না, , , চলেন বাসায় যাই, স্যন্ধা ঘনিয়ে এসেছে, গাড়ী কালো, দুজন মানুষের পোশাক কালো, সাথে পরিবেশটা কেমন কালো অন্ধকারে ঘনিয়ে এসেছে, কিন্তু আসার পাশে বসে থাকা মেয়েটা একদম সাদ-সিধে মেয়েটার সরলতা আমাকে মুগ্ধ করছে, গ্রাম বাংলার আট-দশটা সাধারণ গৃহবধুর মতো তুসি, যদিও উচ্চশিক্ষত, তবুও তার মধ্যে বিন্দু পরিমান অাধুনিকতার ছোঁয়া লাগে নি, রাতে খাবারটা অাজ অনেক সুস্বাদ হয়েছে, অাম্মাকে ধন্যবাদ দিলাম, সুন্দর রান্নার জন্য, কারণ আমার পছন্দের বিরিয়ানি আম্মু নিজেই রান্না করে, কাজের লোক দিয়ে আমি রান্না করতে বারণ করেছি, কিন্তু আম্মু আজ রান্না করেনি, আজ রান্না করেছে তুসি, তুসিকে ধন্যবাদটা দেওয়া হলো না.. . এতো কষ্ট করে আমি তোমার জন্য রান্না জন্য রান্না করলাম, একটা ধন্যবাদ দিলে না, কিন্তু ঠিক ই হাত চেটে-পুটে খেলে। (মেয়েটার আজ প্রথম আমাকে তুমি করে বললো)মতলবটা কি? জয় মেসেজ দিয়েছে, অরনীর সম্পকে কি যেন বলবে, খাটের উপর শুয়ে শরৎচন্দ্রের একটা বই পড়ছিলাম, এমন সময় তুসি এসে আমার হাত থেকে বইটা সরিয়ে, রুমের ড্রিম লাইট অফ করে দিয়ে, আমাকে বুকের মাঝে চাপ দিয়ে জড়িয়ে ধরলো, যেন তার বুকের সাথে মিশে গেলাম, একটুপর তার কোমল ঠোঁটের সাথে আমার ঠোঁট মিলিয়ে দিলো, আমি তাতে সায় দিলাম, তারপর.....


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সোনা বউ -----৩য় অংশ--------

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now