বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

Son Of The Werewolf

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সেজান জাকারীয়া (০ পয়েন্ট)

X সাদা আর কালো রঙে পেইন্ট করা একটা মাঝারি আকারের স্কুলবিল্ডিংয়ের সামনে রেলিং ঘেরা সুন্দর সবুজ মাঠে হৈ হৈ করে খেলছে একদল ছেলে। লায়ানডেনি গ্রামের একমাত্র স্কুল। স্কুলের খেলার মাঠের এক প্রান্তে রেলিঙ ঘেঁষে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে সেই ছেলেটা। আনমনাভাবে তাকিয়ে রয়েছে মাঠের দিকে। তারই সমবয়সী একদল ছেলে মহা ফূর্তিতে ফুটবল খেলছে নিজেদের মধ্যে! কি উচ্ছ্বাস ওদের মধ্যে! প্রতিদিন একই দৃশ্য দেখে ছেলেটা, চলছে তা দিনের পর দিন, সপ্তাহের পর সপ্তাহ....অন্যেরা খেলে আর সে দাঁড়িয়ে থাকে বেড়ার ধারে, চুপচাপ... একাকী। কেউ তাকে খেলতে ডাকে না, এমনকি তার দিকে তাকায়ও না পর্যন্ত। নিঃসঙ্গ....সম্পূর্ণ নিঃসঙ্গ ছেলেটি। কেন তাকে কেউ খেলতে ডাকে না বা তার দিকে তাকায় না, সে যেন বুঝেও বুঝতে পারে না। কিন্তু এই পনেরো বছর বয়সের অভিজ্ঞতায় এটা সে লক্ষ্য করেছে যে তাকে দেখলে বা তার দিকে নজর পড়লেই লোকের দৃষ্টি ভয়ার্ত হয়ে ওঠে। কেমন যেন আনকমফর্টেবল ফিল করতে থাকে লোকে। কেন তা অবশ্য সে জানে না। তার দৈহিক বৃদ্ধির হার অন্যান্য ছেলেদের তুলনায় বড্ড বেশী। এই মাত্র পনেরো বছর বয়সেই তার দৈহিক উচ্চতা প্রায় একজন পূর্ণবয়স্ক যুবকের মতো। অদ্ভুতরকম বলিষ্ঠ তার দেহ, যেন পাথর কুঁদে কুঁদে গড়া হয়েছে। বিশাল চওড়া কাঁধ। লম্বায় আর চওড়ায় এত অস্বাভাবিক বৃদ্ধি তার দেহের যে পরনের শার্ট আর ট্রাউজার্স'গুলোও আঁটোসাঁটো হয় তার শরীরে। শরীরের তুলনায় ক্ষুদে ক্ষুদে কুতকুতে চোখদুটোর ওপর মোটা ঘন ভ্রু। নাক খর্বাকৃতি, দেখলে মনে হয় যেন কোনোসময় আঘাত-টাঘাত পেয়েছিল যা চিকিৎসা করেও হয়তো সেট করা যায়নি। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর তার মুখের নিচের অংশটা। লম্বা, পাতলা ফিনফিনে ঠোঁটজোড়ার ওপর মুখের ভেতর থেকে ঠিকরে বেরিয়ে আসা হলদেটে দাঁতগুলো ভয়ঙ্কর দেখায়। ফলে মনে হয় যেন সবসময় বীভৎস দাঁত বের করে হাসছে! রুক্ষ জটার মতো চুলগুলো সবসময় ওর কাঁধের ওপর ছড়ানো, তেল-চিরুনির সঙ্গে যাদের সম্পর্ক হয়নি কোনোদিন....! এই হলো হিউজ গান। মার্গারেট গানে'র ছেলে। রেলিং -এর ধারে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হিউজ গানের, মাঠে ক্রীড়ারত ছেলেগুলোর ওপর দৃষ্টি আনমনাভাবে ঘুরে চলেছে। নিবিষ্ট মনে লক্ষ্য করছে তাদের প্রত্যেকটা নড়াচড়া। হিউজের মুখচোখ দেখলে স্পষ্টই বোঝা যায় যে সবসময় একটা চাপা ক্রোধ তার মনের মধ্যে সর্বদা ক্রিয়া করে চলেছে। স্বভাবে সে বড়ই উদ্ধত আর দুর্বিনীত। হয়তো এটাও একটা কারণ, তার সঙ্গে কেউ না মেলামেশা করার। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে পা টাটিয়ে উঠেছিল হিউজের। এবার একসময় বসে পড়ল ঘাসের ওপর। এতক্ষণ তার দিকে কারোর তেমন খেয়াল পড়েনি, এবার হৈ হৈ করে ক্রীড়ারত ছেলেদের একজনের দৃষ্টি পড়ল, মাঠের ধারে বসে থাকা হিউজের ওপর। সঙ্গে সঙ্গে ঘৃণায় মুখ বিকৃত হয়ে উঠল ছেলেটির। ওর দিক থেকে চকিতে চোখ সরিয়ে ফের খেলায় মন দিল সে। মাঠের দিকে চেয়ে থাকতে থাকতে একসময় ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে স্কুল বিল্ডিং'টার দিকে একবার তাকাল হিউজ গান। না, সেই রাগী-মুখওয়ালা মিঃ উইলিয়ামস'কে কোথাও দেখতে পেল না সে। লায়ানডেনি স্কুলের প্রধান শিক্ষক মিঃ উইলিয়ামস। এই লোকটাকে হিউজ এই দুনিয়ায় সবচেয়ে বেশী ঘেন্না করে। লোকটা সবসময় যেন তাকেই টার্গেট করে রেখেছে। যতটুকু সময় স্কুলে থাকে, সারাক্ষণ ওর ওপরেই কড়া নজর রেখে চলেছে। লোকটা যে ওকে মোটেও ভালো নজরে দেখে না, তা মনে মনে বেশ বুঝতে পারে হিউজ। হয়তো অন্যান্য ছেলেদের মা-বাবা'রা ঝুড়ি ঝুড়ি কমপ্লেন ঠুকেছে হিউজের এগেইনস্টে ওই লোকটার কাছে, সেটা একটা কারণ হবে। কিন্তু যা-ই হোক, হিউজ মিঃ উইলিয়ামস'কে একেবারেই দেখতে পারে না। ওর ইচ্ছে করে দু-হাত দিয়ে লোকটার টুঁটি টিপে ধরে। .....ভাবনার মাঝেই কোনো ছেলের শটে লেগে ফুটবল'টা হঠাৎ চলে এলো গড়াতে গড়াতে হিউজ যেখানটায় বসে আছে, সেইদিকে। উঠে দাঁড়াল হিউজ। বল'টার গায়ে কেডস পরা পা'টা ছুঁইয়ে দাঁড়িয়ে রইল নিষ্পন্দ হয়ে। ইচ্ছে করল বলটা'কে পালটা শট দিয়ে ছেলেগুলোর মাঝে পাঠিয়ে দেয়; কিন্তু সে তা করল না। বল'টার গায়ে পা ঠেকিয়ে কঠিন দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল সহপাঠীদের দিকে। চোয়াল হয়ে উঠেছে শক্ত আর ইস্পাতের মতো কঠিন, যেন নীরবে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে ওদের - ' আয়, কে নিবি এটা'কে আমার কাছ থেকে...আয় তো দেখি!' তার সহপাঠীরা ওর এই মূর্তি দেখে কিঞ্চিৎ বিব্রত হয়ে নিজেদের মধ্যে নিচু গলায় কিসব আলোচনা শুরু করে দিল। এভাবেই কেটে গেল মিনিটখানেক। শেষমেশ একটা সোনালি চুলের লম্বা দোহারা চেহারার ছেলে ওকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠল - "...ও, কাম অন হিউজ! যদি খেলবিই না তো বল'টা অ্যাট লিস্ট শট দিয়ে পাঠিয়ে দে এদিকে!" জবাবে তেমনই নির্বিকার রইল হিউজ গান। কিছুই বলল না সে। বল'টার গায়ে পা ঠেকিয়ে তেমনই অটলভাবে দাঁড়িয়ে রইল। অদ্ভুত কঠিন ঠাণ্ডা দৃষ্টি দিয়ে যেন ওদের গিলে খেতে লাগল। ছেলের দলের মধ্যে এবার একটা তীব্র অস্বস্তি ভাব ফুটে উঠল। কি করবে বা কি বলবে ঠিক যেন ভেবে উঠতে পারল না। সবাই পরস্পর মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে লাগল। হিউজের এরকম অদ্ভুত আচরণের কারণ বোধগম্য হচ্ছে না ওদের। ওদের মধ্যে থেকে তিনজন তবু সাহস করে এগিয়ে এলো। তবে খুব কাছাকাছি এলো না ওর, অনেকটা নাগালের বাইরে এসে দাঁড়িয়ে পড়ল ওরা। তারপর হিউজের কাছে মিনতি করার মতো করে বলল, " কি পাগলামো করছিস হিউজ? দে না রে বল'টাকে ব্যাক করে এদিকে....প্লিজ!" হিউজের গলা দিয়ে কিরকম একটা অদ্ভুত গড়গড় শব্দ বেরিয়ে এলো। ওর চোখমুখ'ও কিরকম অস্বাভাবিক দেখাচ্ছে। তার সহপাঠীদের ভয় করছিল কিন্তু যে কোনো উপায়ে হিউজের কাছ থেকে বল'টা ফেরত নিতে ওরা বদ্ধপরিকর। তাই যতটা সম্ভব নম্রভাবে, প্রায় হাতে-পায়ে ধরার মতো করে হিউজের কাছে বল'টা ফেরত দেবার কাকুতিমিনতি করতে লাগল। .....পায়ে পায়ে ধীরেধীরে বল'টাকে মৃদু ঠেলতে ঠেলতে ছেলেগুলোর দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে লাগল হিউজ। এক ইঞ্চি, দুই ইঞ্চি করে ঠেলে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে যেতে....আচমকা, প্রায় অপ্রত্যাশিতভাবে এমন একটা শট লাগাল যে যার জন্য তার সহপাঠীরা মোটেও প্রস্তুত ছিল না। তারা প্রায় চমকে উঠে হতভম্ব হয়ে জায়গাতেই পাথর হয়ে জমে দাঁড়িয়ে রইল। বলটা এত জোরে উড়ে গিয়ে ডেভিড জোনস নামে একটা ছেলের মাথায় হিট করল যে ছেলেটা চোখে অন্ধকার দেখে পড়ে গেল। যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠল সে। ডেভিড'কে আঘাত করেই বল'টা আবার ফিরে এলো হিউজের কাছে। কুৎসিত বিজয়ের কুটিল হাসির ছোঁয়া দেখা দিল হিউজের ঠোঁটের কোনায়। সে ফের বলটার গায়ে পা ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে রইল আগের মতো। সেইরকমই হিমশীতল দৃষ্টিতে জরিপ করে নিতে লাগল ওদের। "....এটা কি হলো হিউজ?" আহত ডেভিডের দিকে একবার তাকিয়ে ফের হিউজের দিকে তাকিয়ে বলে উঠল ছেলেদের মধ্যেকার দুজন। "....ভাইসব, আমাদের আর বল'টা নিয়ে কাজ নেই!" বলে উঠল এবার একটা সাদা চুলের ছেলে, ওকে তো চেনোই...." মুখ থেকে কথাগুলো খসতে যা দেরী, ভারী ভোঁতা একটা শব্দ করে আর একটা শক্তিশালী শট এসে লাগল সাদা চুল ছেলেটার মুখে। সে-ও পড়ে গেল আর্তনাদ করে। সঙ্গে সঙ্গে বমন করা শুরু করে দিল সে। চোট গুরুতর, সন্দেহ নেই। ছেলেটিকে আঘাত করে ফের বল'টা চলে এলো হিউজের কাছে। এবার আর আগের মতো বলের গায়ে পা ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে রইল না হিউজ। ছেলের দলটাকে লক্ষ্য করে একের পর এক শট মারতেই লাগল। সবাই পড়ি-কি-মরি করে ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল। মুহুর্তে মাঠ একেবারে ফাঁকা। শুধু বলের আঘাত লেগে আহত দু-একজন তখনো এদিকওদিক পড়ে কেউ অজ্ঞান আবার কেউ বা তখনো কাতরাচ্ছে। খানিকটা দূরে একটা বাচ্চা মেয়ে আপন মনে খেলছিল। হিউজের শট লাগা বল এসে আছড়ে পড়ল তার মুখে। চিৎকার করে উঠল বেচারী। যাকে নাগালের মধ্যে পাচ্ছে, তার দিকেই বল নিক্ষেপ করতে লাগল হিউজ। দারুণ এনজয় করছে এখন সে ব্যাপারটা। কিছুক্ষণ আগেও যে বল'টা ছিল বিনোদনের মাধ্যম, এখন সেটা-ই সবার কাছে ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দেখে মনে মনে আনন্দের সীমা রইল না তার। এটাই..... এটাই চাইছিল সে এতক্ষণ ধরে। মানুষের আতঙ্কিত অসহায় মুখ দেখতে তার বড় ভালো লাগে। এটাই তো আসল খেলা তার কাছে। দারুণ মজা পেয়ে সে বল'টাকে পায়ে পায়ে কখনো ড্রিবলিং করতে লাগল, কখনো 'হেড' করতে লাগল, আবার কখনো আবার বল'টাকে শট দেবার ভান করতে লাগল। গলা দিয়ে আবার কিরকম একটা অদ্ভুত গরগর শব্দ বেরোতে লাগল - কুকুর বা নেকড়ে জাতীয় প্রাণী আনন্দ পেলে যেরকম গরগর শব্দ করে, অনেকটা সেইরকম। খোলা মাঠের মধ্যে ফুটবল'টাকে নিয়ে নিজের মনে ড্রিবলিং করছিল হিউজ, হঠাৎ ওকে থেমে যেতে হলো মাঠের পেছন দিক থেকে ভেসে আসা একটা ভারিক্কী গলার আওয়াজে। "....অ্যাই, এসব কি হচ্ছে হিউজ? থামো বলছি! এসো এদিকে!" কন্ঠস্বরটা চিনতে পারল হিউজ। এসে গেছে ওর জীবনের সবচেয়ে ঘৃণীত লোকটা। তারপরেই দেখল, স্কুলবিল্ডিংয়ের সামনের দিকের দরজা খুলে গেল। বেরিয়ে এলেন মিঃ উইলিয়ামস। ওঁকে দেখেই ভেতরে ভেতরে রাগে জ্বলে উঠল হিউজ। সেই রাগের বেগ'টা সামলাতে পায়ের ওপর ড্রিবলিং করতে থাকা বল'টাকে এমন জোরে শট দিল যে অনেক ওপর দিয়ে বাতাস কেটে শূন্যে উড়ে গেল বল'টা। গিয়ে পড়ল মাঠের ধারের বেড়া ডিঙিয়ে পাশের রাস্তা ছাড়িয়ে ওদিকের ফুটপাতের ওপর । এরকম অদ্ভুত শট মিঃ উইলিয়ামসও দেখেননি নিজের জীবনে কখনো। তিনি অবশ্য টেলিভিশনে নিয়মিত ফুটবল দেখেন কিন্তু এরকম অদ্ভুত জোরে শট মারতে কাউকে এই প্রথম দেখলেন। বল'টাকে একশো গজের মতো তফাতে উড়িয়ে দিয়ে হিউজ এবার ধীরেধীরে ঘুরে তাকাল মিঃ উইলিয়ামসের দিকে। হতভম্ব মিঃ উইলিয়ামসও তাকিয়ে ছিলেন হিউজের দিকে। তাঁর চোখে চোখ রাখল হিউজ। স্থির দুটো চোখের তারা। পলকহীন দৃষ্টি। তার ওই দৃষ্টির সামনে কেমন যেন বিব্রত বোধ করলেন মিঃ উইলিয়ামস। এভাবে ছেলেটা তাকিয়ে রয়েছে কেন ওর দিকে? চারপাশে এখন এই মূহুর্তে কেউ নেই! হঠাৎ কিছু করে বসবে না তো? সঙ্কোচ কাটাতে হিউজ'কে লক্ষ্য করে তাড়াতাড়ি তিনি বলে উঠলেন - "....কি হলো হিউজ, দাঁড়িয়ে রইলে কি? এসো এদিকে!" মুখ রাগে লাল হয়ে উঠেছে মিঃ উইলিয়ামসের। কপালের দু'পাশের শিরাগুলো দপদপ করছে। কাঁপছে রীতিমতো তাঁর শরীর। হিউজ নির্বিকার। মিঃ উইলিয়ামসের দিকে তেমনই স্থির চোখের দৃষ্টি মেলে ধরে ঠায় দাঁড়িয়ে রইল সে জায়গাতেই। যেন হয় সে মিঃ উইলিয়ামসের আদেশ শুনতে পায়নি বা শুনলেও মোটেও পাত্তা দিচ্ছে না। চারপাশে এই মূহুর্তে সেই জনা দুই ছেলে আর একটি মেয়ে ছাড়া আর কেউ নেই, যদিও তারা প্রত্যেকে আহত; হিউজের কিক করা বলের ঘায়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। শুধু ওই তিনজনেরই আর্তস্বর কানে আসছে মিঃ উইলিয়ামসের। হিউজের অবশ্য ওদের দিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। তার ঠাণ্ডা দৃষ্টি এখন মিঃ উইলিয়ামসের দিকে নিবদ্ধ। আর ধৈর্য ধরল না মিঃ উইলিয়ামসের। তিনি অন্যদিকে তাকিয়ে কারোর নাম ধরে হেঁকে উঠলেন, "চার্লস!....চার্লস!" খানিকক্ষণ ডাকাডাকির পর স্কুলের এক জন বেয়ারা ছুটে এলো। হিউজের দিক থেকে দৃষ্টি না সরিয়েই মিঃ উইলিয়ামস চার্লস'কে উদ্দেশ্য করে বললেন, "জোনস, ডেভিস আর এমা'কে ডক্টরের রুমে নিয়ে যাও। ওখানে ওদের ফার্স্ট এইড দেয়ার ব্যবস্থা করো...!" এই বলেই তিনি এবার হিউজের দিকে ঘুরে বললেন, "এদিকে তুমি....আমার ঘরে এসো। তোমার সঙ্গে কথা আছে!" বলেই আর দ্বিরুক্তি না করে হনহন করে স্কুল বিল্ডিংয়ের দিকে হাঁটা দিলেন মিঃ উইলিয়ামস। ************************************************************* হেডমাস্টারের ঘর বলতে এই স্কুলবিল্ডিংয়ের লিভিং রুম'টা। আবার ওই রুম'টাই হেড স্যারের স্টাডি রুম। দেওয়ালের তাক জুড়ে অজস্র বই আর বই। একদিকে একটা ডেস্ক আর একটা চেয়ার। হিউজ গান'কে নিয়ে মিলিটারি কায়দায় গটমট করতে করতে নিজের সেই ঘরে এসে ঢুকলেন মিঃ উইলিয়ামস। ওকে ডেস্কের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে বলে নিজে ঘুরে গিয়ে বসলেন উল্টোদিকের চেয়ারে। এর আগে তাঁর এই শিক্ষকজীবনের লম্বা কেরিয়ারে কখনও তাঁকে কোনো ছাত্রকে এত কড়াভাবে শাসন করার দরকার হয় নি। কিন্তু আজ যা ঘটল, তাতে তিনি স্পষ্ট বুঝতে পারছেন যে পরিস্থিতি ক্রমশ আয়ত্ত্বের বাইরে চলে যাচ্ছে, তার ওপর যেভাবে হিউজ তাঁর আদেশ পালন না করে কঠিন ঠাণ্ডা দৃষ্টিতে চেয়েছিল তাঁর দিকে, তাতে তার স্বভাবের বেপরোয়া দিকটাই ফুটে উঠেছে। তাই অবিলম্বে একে শাসন করা দরকার, নইলে কোনদিন এই ছেলে যে কোনো বড় মাপের বিপদ ঘটিয়ে দেবে। মিঃ উইলিয়ামস ভেবেছিলেন, হিউজ গান'কে হেডটিচার রুমে ডেকে নিয়ে আসার পর সে এবার ঘাবড়ে যাবে। নার্ভাস হয়ে পড়বে, মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে পড়বে; কিন্তু দেখলেন, হিউজ এসবের কোনোটাই করল না। "....এবার বলো!" নিজের চেয়ারে বসে হিউজের দিকে মাথাটা সামান্য ঝুঁকিয়ে অনুচ্চ স্বরে বললেন মিঃ ক্লাইভ উইলিয়ামস। রাগে থরথর করে কাঁপছে তাঁর কণ্ঠস্বর, "তুমি মাঠে ওটা কি করছিলে?" "....আমি তো জাস্ট ফুটবল খেলছিলাম!" এমন নিরুত্তাপ, নির্বিকার গলায় হেডমাস্টারের প্রশ্নটার উত্তর দিল হিউজ গান যেন মনে হলো কোনো রোবট কথা বলছে, "লাঞ্চের সময় আমরা সবাই ফুটবল খেলি মাঠে"। "....মিথ্যে কথা!" চাপা হিসহিসে গলায় বললেন মিঃ উইলিয়ামস, "আমি এর আগে কোনোদিন তোমায় ফুটবলে একটা কিক'ও মারতে দেখিনি। কিন্তু তুমি আজ যেটা করলে সেটা স্রেফ ওদের'কে 'উন্ডেড' করার জন্য। অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে আজ তুমি ফুটবলে পা ছুঁইয়েছিলে। খেলার উদ্দেশ্য ছিল না তোমার!" "....আমি ফুটবল'ই খেলছিলাম!" এবার আরও দৃঢ় স্বরে বলল হিউজ গান। বদ্ধ ঘরে ওর গলাটা কেমন হিসহিসে শোনাল যদিও একইরকম আবেগহীন এবং যান্ত্রিক। "....হ্যাঁ, ফুটবল'টায় একটা কিক মেরেছিলে!" অনেকটা বিদ্রুপমাখানো স্বরে হিউজের কথাটাকে সংকশোধন করে দিয়ে বললেন মিঃ উইলিয়ামস, "অদ্ভুত দক্ষতায়। তিনবার 'কিক' দিয়েছ। আর তিনবারই তিন-তিনজন মানুষ ঘায়েল হয়েছে তোমার শটের ঘায়ে...." "....না, মানে....!" হিউজ'কে প্রায় থামিয়ে দিয়ে মিঃ উইলিয়ামস বলতে লাগলেন, "আর তোমার তিনটে শটে'রই লক্ষ্য ছিল ওই তিন-তিনজন। একটি দশ বছরের মেয়েকে সামনে দেখে তাকেও লক্ষ্য করে তুমি শট দিতে গিয়েছিলে....কিন্তু শেষটায় পারোনি আমি বাধা দিয়েছিলাম, তাই! এবার নিশ্চয়ই তুমি বলবে না যে গোটা ব্যাপারটা একটা অ্যাক্সিডেন্ট ছিল?" বলে কয়েক সেকেন্ড খর দৃষ্টিতে হিউজের দিকে চেয়ে রইলেন মিঃ উইলিয়ামস। হিউজ কিছু না বলে শুধু সেই আগের মতো স্থির দৃষ্টি মেলে চেয়ে রইল প্রধান শিক্ষকের দিকে। মিঃ উইলিয়ামস এবার তাকে ঢালাও সার্টিফিকেট দিতে গিয়ে বললেন, "এতদিন হয়ে গেল তুমি এই স্কুলে পড়ছ, আমি তোমায় যা দেখে বুঝেছি, তা হলো তুমি লোক'কে খারাপ ভাবে ভয় দেখাতে বা আতঙ্কিত করতে খুব ভালোবাসো। মানে এই ধরনের কাজে খুব এনজয় করো তুমি। ইন ফ্যাক্ট প্রচণ্ড উদ্ধত টাইপের তুমি!" বলতে বলতে গলা সামান্য চড়ল মিঃ উইলিয়ামসের। .......শুনতে শুনতে হিউজ গানে'র চোখদুটো সরু সরু হয়ে গেল। প্রচণ্ড একটা চাপা ক্রোধ আর ঘৃণা যেন উছলে উঠতে লাগল চোখদুটো থেকে। কিন্তু তবু মুখে কুলুপ এঁটে জায়গাতেই দাঁড়িয়ে রইল। একটা শব্দও ওর মুখ থেকে উচ্চারিত হলো না। শুধু সামনে বসা লোকটার দিকে সেইরকম স্থির দৃষ্টি মেলে তাকিয়েই রইল। "....তোমাকে এই স্কুল ছাড়ার জন্য দু-সপ্তাহ টাইম দেওয়া হলো", ফের গম্ভীর স্বরে বললেন মিঃ উইলিয়ামস, "হ্যাঁ, এখান থেকে তোমার ছুটি হয়ে গেলেই আমার আর এখানকার বাকি সব স্টুডেন্ট'দের রিলিফ। এ ছাড়া আমার এই মূহুর্তে কিছু করার নেই কিন্তু এটাই বুঝতে পারছি তোমাকে মানুষ তৈরি করতে আমি ব্যর্থ হয়েছি। কমপ্লিটলি 'ফেইলড' হয়েছি আমি। তোমার পড়াশোনার রেকর্ড'ও অতি শোচনীয়। এতদিন তোমায় এই স্কুলে রেখে দিয়েছিলাম স্রেফ তোমার মায়ের মুখের দিকে চেয়ে! নইলে কবেই তাড়িয়ে দিতাম! কোনোদিন পড়াশোনার করার কোনো ইচ্ছে তোমার ভেতরে ছিল না! শুধু লিখতে-পড়তে শিখেছ, ব্যস এর বাইরে কিছু না! কোনো জ্ঞানই অর্জন করো নি তুমি। জানি না তোমার 'আইকিউব' অতটা 'লো' কিনা নাকি হয়তো তুমিই পড়াশুনো করতে চাওনি...সেটা তুমি-ই জানো।" একটানা বলার পর একটু থামলেন মিঃ উইলিয়ামস। তারপর যেন ভারী ব্যস্ত মানুষ, এমনভাবে সামনে রাখা টেবিলের ওপরের কাগজপত্রগুলো ঘাঁটতে ঘাঁটতে বললেন, "এনিওয়ে, দু সপ্তাহ সময় দিলাম। এর মধ্যে আর যদি কোনো তোমার 'মিসবিহেভ' দেখি তো আমি শুধু স্কুল থেকে তাড়ানো নয়, আরও বড় অ্যাকশন নেব!" "....আপনার হাতে কি আইন আছে, স্যার?" হঠাৎ তাচ্ছিল্যভরে জিজ্ঞেস করে বসল হিউজ। ওর ঠোঁটের কোণায় একটা বাঁকা হাসি। সে বলল, "আপনি একবার আমার গায়ে হাত দিয়েই দেখুন না, তারপর দেখুন আমি কি করি!" "....কি করবে তুমি, শুনি?" হিউজের কথা বলার ধরন দেখে আর তার ঔদ্ধত্যে হতভম্ব মিঃ উইলিয়ামস এবার চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন। ডেস্কের সামনের দিকে মাথাটা সামান্য ঝুঁকিয়ে চোখ সরু করে তাকালেন সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দুর্বিনীত চেহারার ছেলেটির দিকে। তারপর হিসহিসে গলায় চিবিয়ে চিবিয়ে বললেন, " তোর ওই দিনগুলোর কথা মনে নেই যখন মিঃ পি.সি.উইন্টার এখানকার লোকাল থানার ইন্সপেক্টর ছিলেন। তিনি তাঁর থানার এলাকা অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। এই গ্রামে এই তোদের মতো যত গেঁয়ো আর বাজে লোক বাস করে, তাদের আইনের শাসনের বাইরে রেখেছিলেন মিঃ উইন্টার। কারণ তোরা হলি আইনের চোখে অসভ্য বুনো জাতি। তোরা আইনের আওতায় পড়িস না বা আইন তোদের ভালো-মন্দের দিকে আর তাকাবেও না। তোদের জন্য আলাদারকম আইন চালু আছে এখানে। সভ্য দেশের আইন তোদের জন্য নয়। তাই কাজটাও এখন আমার পক্ষে সোজা হয়ে গেছে। আমি তোদের ডরাই না। আর কোনোরকম বেগড়বাই কর, দ্যাখ আমি তোর কি হাল করি!" বলতে বলতে হিউজের দিকে একবার জ্বলন্ত কড়া দৃষ্টি নিক্ষেপ করে আবার নিজের চেয়ারে বসে পড়লেন মিঃ উইলিয়ামস। *************************************************************** একঘেয়ে ক্লান্তিকর দিন যেন আর কাটতে চায় না। সারাদিন শ্রসবেরী'র লাইব্রেরিতে কাটিয়ে এসে নিজের বাড়িতে এসে ঢুকল মার্গারেট গান। কিচেনে গিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল রাতের খানা তৈরি করতে। কিন্তু তার হাতদুটো কাজ করলেও মাথায় সর্বক্ষণ ঘুরতে লাগল লাইব্রেরিতে পড়া বইটায় লেখা কথাগুলো। মাইথোলজি'র ওপর লেখা বইটা। তাতে 'লাইক্যানথ্রপি' বা ডাকিনীবিদ্যা নিয়ে বিভিন্ন 'রেফারেন্স' দেখতে পেয়েছে আজ মার্গারেট। বিস্তৃতভাবে লেখা ছিল ভ্যাম্পায়ার বা রক্তচোষা পিশাচ'দের নিয়েও। অন্ধকারের যাবতীয় শক্তি'র অস্তিত্ব আর তাদের কর্মকান্ডের ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে বইটাতে। ভ্যাম্পায়ার আর ওয়্যারউলফ - এই দুটো হচ্ছে অন্ধকারের প্রধান অশুভ শক্তি। দুটো'র মধ্যে অনেকখানিই সাদৃশ্য আছে। তবে মার্গারেট কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছে না, ঠিক কোন বয়স থেকে কোনো অল্পবয়সী ছেলের ওপর সেই অভিশাপের প্রভাব পড়তে শুরু করে, যার ফলস্বরূপ একটা সাধারণ ছেলে ওয়্যারউলফ হয়ে যায়? মনে মনে অনুমান করার চেষ্টা করছে সে। বয়ঃসন্ধিকাল থেকে সেই ভয়ঙ্কর পরিবর্তনগুলো শুরু হয় কি? হিউজ এখনো বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছয়নি কিন্তু ওর বিছানার চাদর পরীক্ষা করে মার্গারেট বুঝতে পেরেছে, হিউজ এই বয়সেই রাতে তার বিছানায় একাকী শুয়ে শুয়ে হস্তমৈথুন করে। ওর মুখের ওপর যে নরম রোমগুলো, মার্গারেট লক্ষ্য করেছে, তা এখন থেকেই ক্রমশ খাটো আর শক্ত হতে শুরু করেছে। 'রেজর' এর সাহায্যে দাড়ি কামাবার মতো সেই রোমগুলোকে না শেভ করলে সেগুলো ক্রমশ আরও বড় হতে থাকবে। তাকে আরও একটা ব্যাপারে এখন থেকে খেয়াল রাখতে হবে - পূর্ণিমার চাঁদ দেখলে এখন থেকেই হিউজের ভেতরে কোনো আচরণগত পরিবর্তন আসছে কিনা। ফিলিপের ব্যাপার'টা মনে আছে তার। সে শুনেছে, কিভাবে গাইন আওয়েন আর তার স্ত্রী মিসেস আওয়েন তাঁদের ওয়্যারউলফ ছেলে'কে পূর্ণিমার রাতে বদ্ধ ঘরে আটকে রাখতে চেয়েছিলেন আর তার পরের সেই ভয়ঙ্কর ঘটনার কথা সবারই জানা। মার্গারেটের চিন্তা আবার হিউজ'কে ঘিরে আবর্তিত হতে লাগল। ওর ছেলেবেলার দিনগুলোর কথা মনে করতে লাগল সে। ছোট থেকেই হিউজের স্বভাবের নৃশংসতার পরিচয় পেয়েছে মার্গারেট। তখন সে ছোট ছোট জীবজন্তুদের ধরে ছুরি দিয়ে তাদের জ্যান্ত চিরে ফালা ফালা করত। উপভোগ করত তাদের মৃত্যুযন্ত্রণা। একদিন মার্গারেটের হাতে ধরা পড়ে যাওয়ায় তারপর থেকেই মার্গারেট ওকে চোখে চোখে রাখত। সেদিন থেকেই বন্ধ হলো হিউজের এসব বদ খেয়াল। কিন্তু এবার বোধহয় ঘটনা অন্য দিকে মোড় নিচ্ছে। আর বোধহয় ওকে সামলে রাখা যাবে না। গরম ধোঁয়া ওঠা খাবারের প্লেট হাতে মার্গারেট যখন হিউজের ঘরে প্রবেশ করল তখন দেখতে পেল, সে পা টেনে টেনে নিজের ডেস্কের দিকে এগোচ্ছে। তারপর ডেস্কের কাছে এসে ধপ করে বসে পড়ল চেয়ারে। খাবারের প্লেটগুলো ওর সামনে রাখতে না রাখতেই অতি ক্ষুধার্ত লোলুপ জানোয়ারের মতোই প্লেটগুলোর ওপর হামলে পড়ল হিউজ। অসভ্য বুনো মানুষের মতো আঙুল দিয়ে ভেড়ার মাংসের খন্ডগুলো নেড়েচেড়ে একটার পর একটা গপাগপ করে মুখে পুরতে লাগল। ছেলে'টাকে ছুরি আর কাঁটাচামচ ব্যবহার করে ভদ্রদুরস্থ মানুষের মতো খাওয়ার অভ্যাস করানোর কত চেষ্টা করেছে মার্গারেট, পারেনি। মিনিটখানেক টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে হিউজের ওই জন্তুর মতো খাওয়ার ধরন'টাকে সজল চোখে নিরীক্ষণ করতে লাগল মার্গারেট। কি অমানুষের মতো খাচ্ছে ছেলেটা! বড় বড় হাঁ'য়ে মুখে পুরে ফেলছে মাংসের একেকটা বড় বড় খন্ড। শূকরের পেছনের গোটা একটা পা আস্ত গলাধঃকরণ করে ফেলল হিউজ! রুটিগুলোকে দু-হাত দিয়ে ছিঁড়ছে, তারপর মুখে পুরতে গিয়েই থু থুঃ করে ফেলে দিচ্ছে। আর সহ্য করতে পারল না মার্গারেট। তাড়াতাড়ি বেরিয়ে এলো হিউজের ঘর থেকে। ছোটবেলা থেকেই একমাত্র মাংসের প্রতিই হিউজের তীব্র ঝোঁক। অন্য কোনো নিরামিষ জাতীয় খাবার মুখেও তুলতে চায় না হিউজ। মাংসের প্রতি আশ্চর্য রকম একটা রাক্ষুসে ক্ষুধা ওর। একবার বাজার থেকে এক-দেড় কেজি মতো গোমাংস কিনে এনে রেফ্রিজারেটরে রেখেছিল মার্গারেট। ভেবেছিল সেদিন 'গোসত' বানাবে। হিউজ কি করেছিল? সেই মাংস কাঁচাই চুরি করে খেয়ে নিয়েছিল। অবশ্য ধরা পড়বার ভয়ে পুরোটা খায়নি, বাছুরের পেছন দিকের একটা গোটা পা সে খেয়ে নিয়েছিল। মার্গারেট পরে ফ্রিজ খুলে মাংস বের করতে গিয়ে দেখে, মাংস প্রায় অনেকটাই নেই। পরে হিউজের মুখ থেকে কাঁচা মাংসের গন্ধ পেয়ে মার্গারেট বুঝতে পেরে গিয়েছিল, কে মাংস চুরি করেছে। কিন্তু হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল এটা দেখে যে হিউজ কাঁচা মাংস খেয়েছে! তারপর থেকে মার্গারেট আর কখনো হিউজের খাওয়ার সময় তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকত না। আসলে ওর ওই ভয়ঙ্কর খাওয়াদাওয়া সে চাক্ষুষ করতে পারত না। কিন্তু এখন সে নিরুপায়। যে অভিশাপ তার ওপর বর্তেছে তাকে সে চাইলেও ফেলে দিতে পারবে না। হিউজের এই প্রকৃতিগত রহস্যের কারণ একমাত্র সে জানে। টমে'র সেই চেহারাটা বার বার ওর চোখের সামনে ভেসে উঠছে। টম'কে এখনো এ গ্রামের সবাই 'সাইকো কিলার' বলে জানে কিন্তু ওর আসল রহস্যটা একমাত্র জানে মার্গারেট, গর্ডন হল, ইন্সপেক্টর উইন্টার আর স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের সেই দুজন গোয়েন্দা। টমের সেই ছোট ছোট লোমে আবৃত চেহারাটা যা ওর মৃত্যুর কিছুক্ষণ পরেই ধীরেধীরে ঢুকে গিয়েছিল ওর দেহের ভেতর! ওয়্যারউলফ! হ্যাঁ, টম'ও ওয়্যারউলফ'ই ছিল। আর সেই ওয়্যারউলফের সন্তান তার গর্ভে এসেছিল....হা ভগবান! শৈশবেই যদি তার আসল রহস্য সবার কাছে ফাঁস করে দিত মার্গারেট তাহলে হয়তো কিছু একটা করা সম্ভব হতো। কিন্তু এখন? এখন আর কোনো উপায় নেই, শুধু নীরবে নিভৃতে অশ্রুবিসর্জন করা ছাড়া। এখন হিউজ পূর্ণ যুবক। তার মানে....তার মানে যে কোনো সময়ে ভরা পূর্ণিমার রাত হলেই হিউজের ভেতর জেগে উঠতে পারে সেই বিভীষিকা......


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ Son Of The Werewolf

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now