বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অনেক দিন পর হুট করেই সোম্য'র সাথে দেখা।
কিন্তু আমি যে সোম্যকে চিনতাম আর এই সোম্যর সাথে তফাৎটা বিস্তর।
উষ্কো-সুস্কো চুল, অনেকদিন না কামানো দাড়ি-গোফ আর বিলীন হওয়া চেহারার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা, এর সাথে ওর অস্বাভাবিক আচারন সব কিছুই আমাকে একটা বড় সড়ো ধাক্কা দিলো।
স্কুল লাইফের অন্যতম প্রিয় বন্ধুটিকে অনেকদিন পর দেখে জড়িয়ে ধরতে গেলে আমার দিকে কিছুক্ষন ফ্যালফ্যালিয়ে তাকিয়ে মাথা চুলকাকে চুলকাতে হেটে গেল! সোম্যর আমাকে এড়িয়ে চলা দেখে যতটা না কষ্ট পেয়েছি তার থেকে বেশী কষ্ট দিয়েছে সৌম্যর বর্তমান অবস্থা।
সোম্যকে কোনদিন এই অবস্থায় দেখতে হবে ভাবি নি।
যে বন্ধুর সাথে জীবনের বহুগুলো বছর কাটিয়েছি সে-ই আমাকে চিনতে পারছে না!
শুনেছি রিধিতার থেকে কষ্ট পাওয়ার পরে ও মানসিক ভাবে ভেঙে পরেছে, কিন্তু তা যে এতটা খারাপ তা কখনও ভাবতেই পারি নি!
আজ নিজের উপরই বড্ড রাগ হচ্ছে আমার। আমি এতটাই স্বার্থবাদী যে একটি বারও বন্ধুর খোঁজ নেয়ার প্রয়োজন মনে করি নি।
বছর দশেক আগের কথা,
তখন আমরা মাধ্যমিকের ছাত্র। হুট করেই সোম্য একদিন বলে বসে ও সোমলতাকে ভালোবাসে। এর আগে ও অন্য একটা মেয়েকে ভালোবাসতো জানতাম। কিন্তু সেখান থেকে কষ্ট পেয়ে ফিরে আসে। তাই সোমলতার ব্যাপারটা আমরা বেশ গুরুত্বের সাথেই নিয়েছিলাম।
সোমলতা দেখতে অতটা শুশ্রী না হলেও বন্ধুর ভালোবাসার জন্য আমরা যে কোন উপায়ে সম্পর্কটা করিয়ে দিতে প্রস্তুত ছিলাম। আসলে টিন-এজ ইমোশনে বন্ধু কিংবা বন্ধুর ভালোবাসা অথবা নিজের ভালোবাসার জন্য সবাই সবকিছু করতে প্রস্তুত থাকে। তখন বাকি পৃথিবী থেকে চোখ-কান গুটিয়ে নিয়ে মন যেটা সঠিক মনে করে সেটাই থাকে টিনএজদের পৃথিবী। আমাদের বেলায়ও ঠিক সেটাই ঘটেছিলো।
প্রথম দিকে এক পর্যায়ে সোমলতা সোম্যকে যত বেশী এড়িয়ে চলতো সোম্য ততবেশী পাগলামী করতো। এক পর্যায়ে সোমলতা আর সোম্যর মাঝে একটা সম্পর্ক ঠিকই তৈরী হয়।
তখনকার সোম্য ছিলো আমাদের দেখা পৃথিবীর সব থেকে সুখি মানুষদের একজন।
কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই সোম্য জানতে পারে সোমলতা আসলে ওকে কোনদিনও ভালোবাসে নি, ভালোবাসার অভিনয় করেছে মাত্র!
সে ভালোবাসে অন্য কাউকে।
প্রচন্ড ভেঙে পড়ে সোম্য। মানসিক ভাবে বিধ্বস্ততার প্রভাব পরে পড়ালেখায়ও।
কয়েকবার আত্মহত্যা করতে চেয়েও বাবা-মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে করতে পারেনী।
এভাবেই কেটে যায় আরও বছর আড়াই।
সোম্য তখন কেবল নিজেকে গুছিয়ে উঠছে। পুরোটা না হলেও কিছুটা গুছিয়ে উঠেছে। ঠিক এমন সমই ফেইসবুকে পরিচয় হয় রিধিতার সাথে। একদিন হুট করেই মেয়েটা প্রপোজ করে বসে সোম্যকে।
সোম্য প্রথমে রাজি না হলেও এক পর্যায়ে জীবনের সবকিছু খুলে বলে। রিধিতা মেয়েটি ওকে স্বপ্ন দেখিয়েছিলো নিজ হাতে ওর জীবনটা গড়ে দিবে। এরপর সারাদিন চ্যাটিং আর ফোনে ফোনেই কেটে যেত ওদের সময়। কিন্তু সোম্য দেখা করার কথা বললেই মেয়েটা নানান বাহানা দেখাতো দেখা না করার।
একদিন সোম্য জানতে পারে মেয়েটি আসলে তার পুরাতন প্রেমিককে এখনও ভালোবাসে। সোম্যকে না জানিয়ে প্রায়ই তার সাথে দেখাও করে।
সোম্য আর এই আঘাতটি সয্য করতে পারেনী। প্রচন্ড মানসিক ভেবে ভেঙে পড়ে।
এরপর নানান ব্যাস্ততায় সোম্যর আর খোঁজ করা হয়নি বেশ কয়েক বছর।
আজ এত বছর পর সোম্যকে দেখলাম, চোখের জল আর আটকে রাখতে পারিনি।
সোম্য আর আমাদের সেই সোম্য নেই, ও বদ্ধ পাগল!
[বিঃ দ্রঃ :: লেখাটির মূল থিম সত্য ঘটনা অবলম্বনে, সংক্ষেপিত এবং কমপক্ষে সত্তর পার্সেন্ট কাল্পনিক]
লেখাঃ প্রসেনজিৎ রায়
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now