বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সোলেমানের পাগলী

"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান টি.বি তৌহিদ (০ পয়েন্ট)

X শৈশবটা আমার কেটেছে এক মফঃস্বল শহরে। ঠিক মফঃস্বলও বলা যায় না একটা বাজার বলা চলে। প্রতি সোম এবং বৃহস্পতিবার হাট বসে। হাটে তরিতরকারি বিশেষ করে পাটের বেচাকিনা বেশী হয়। দুর-দুরান্ত থেকে গ্রামের মানুষ তাঁদের সাপ্তাহিক সওদা কিনতে এবং উৎপাদিত পন্য বিক্রি করতে আসত। এই এলাকাটার একটা বিশেষত্ব ছিল যে, বেশ কিছু ধনাঢ্য হিন্দু ও মুসলিম পরিবার বসবাস করত। যারা ব্যবসায়ীক দিক দিয়ে ঝানু ব্যবসায়ী। হিন্দু ব্যবসায়ীরা জাতে মাড়োয়ারি, তারা বাঙ্গাল হিন্দু ছিল না। তাদের অধিকাংশই ভারতের কানপুর ও গুজরাটি ছিল। তাঁদের মূল ব্যবসা ছিল পাট আর কাপড়ের। তাঁদের সাথে অবাধ মেলামেশা ছিল আমাদের। তাঁদের কোন পর্বণে আমাদের দাওয়াত করত, আমরাও করতাম। আমি যে পরিবারে জন্ম গ্রহণ করি সে পরিবারটি ধনাঢ্য পরিবারই বলা চলে। আমার দাদার বাবা কি করতেন আমার জানা নাই। তাঁদের নামের সাথে কবিরাজ পদবী ছিল। হয়তো বা কবিরাজি করতেন, তাই এই পদবী। আমার দাদার বাবা খুব একটা ধনী ছিলেন না। কৃষি কাজই জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন। দাদা সেই ব্রিটিশ আমলে ক্লাস নাইন পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। কৃষি কর্ম তার ভালো লাগতো না। একদিন তার বাবাকে বললেন- বাজান হামার কৃষি কাজ ভালো লাগে না, হামি ব্যবসা কোরবার চাই, হামাক কিছু টাকা দিবিন ? বড় বাবা কোন জবাব দেননি সেদিন, শুধু বলল দেখো।এ নিয়ে কিছুদিন ভাবলেন। একদিন তার ছেলেকে ডেকে বলল- দ্যাখ সোলেমান ব্যবসা করবিন ভালো কথা, মোর’তো অতো টেকা-পয়সা নাই যে তোক দিমু। এই ধর, ৫ টাকা তোক দিনু, একটা কথা মনে রাখিস সতৎ ভাবে ব্যবসা করবু, তাহলে জীবনে বড় হবার পারবু। সোলেমান ৫ টাকা পুঁজি পেয়ে ব্যবসা আরাম্ভ করলেন। প্রথমে সে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করলেন। মোকাম থেকে পাইকারি কাপড় কিনে বিভিন্ন হাটে হাটে বিক্রি করতেন। কাক ডাকা ভোরে কাপড়ের বোঝা মাথায় করে মাইল মাইল দূরে হাটে গিয়ে বসতেন। সারাদিন বিক্রির পর ক্লান্ত শরীরটা নিয়ে যখন বাড়ী ফিরতেন তখন হয়তো দাদীর কোলে মাথা রেখে সারাদিনের সব ক্লান্তি ভুলে যেতেন। তিনি খুব তারাতারিই ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জন করেন। মনে হয় ভাগ্যলক্ষ্মী সুপ্রসন্ন ছিলেন তার প্রতি। আমার জন্মের পর থেকেই দেখেছি বাজারে তার বিশাল ৩/৪ টা কাপড়ের দোকান, পাটের গুদাম, পাট বেলিং মেশিন, তিন তলা বাড়ী, গাড়ি, মোটর সাইকেল, কি নাই তার। ৩০/৪০ জন কর্মচারী। তার এতো সম্পত্তি যা এক দিনে দেখে শেষ করা যেত না। বলতে গেলে ছোট খাট একজন জমিদার। দাদার বড়লোক হওয়ার পেছনে একটা প্রবাদ প্রচলিত ছিল অত্র অঞ্চলে। “এক পাগলী নাকি তাকে বড়লোক বানিয়েছে” প্রবাদটা এমন- একদিন সোলেমান কবিরাজ খুব ভোরে এক হাটে কাপড় নিয়ে বসে আছেন। তখন হঠাৎ এক পাগলী এসে বলে- এডা টেকা দে। সে উচ্চবাচ্চ না করে পাগলীকে এক টাকা দেয়। পাগলী টাকাটা নিয়ে তার দোকানের সামনে বসে থাকে যতক্ষণ হাট না ভাঙ্গে। সে দিন তার ভালই বিক্রি হয়েছিল। সন্ধ্যা নামে নামে হাট ভাঙ্গা শুরু হয়েছে দাদা অবিক্রীত মালামাল বাঁধছিল বাড়ী ফিরবে বলে। এতক্ষণ পাগলী তার আপন খেয়ালেই বসে ছিল। বাড়ী রওনা হওয়ার মুহূর্তে পাগলী বলে- মুইও যামু তোর সাথে। এই টেকা ধরেক, তোর সিন্দুকত রাখে দিস। দাদা খুশি মনে তাকে বাড়ীতে নিয়ে আসেন। থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করেন। তারপর থেকে পাগলী তার বাড়ীতেই থাকেন। পাগলীর দেওয়া টাকা সিন্দুকে রাখার পর থেকেই নাকি সিন্দুক ভরে থাকত টাকায়। তারপর থেকেই নাকি সে বড়লোক। এমনও প্রচলন আছে যে- এক সময় ভারত থেকে মসলা আমদানির ব্যবসা করতেন তিনি। একবার তেজপাতার চালান এসেছে ভারত থেকে। বস্তা খুলে দেখে তেজপাতার পরিবর্তে শুধু টাকা আর টাকা। তারপর থেকেই নাকি বড়লোক।( ঘটনাটি ব্রিটিশ আমলের ) আমার জ্ঞান হওয়ার পর দাদাকে জিজ্ঞাস করেছিলাম এ ব্যপারে দাদা বলে- দূর কে বলছে, বলে এড়িয়ে যেত। বাবা-চাচার কাছ থেকেও জানতে পারিনি। হয়তবা তারাও জানত না। কিন্তু আমার জ্ঞান হওয়ার পর দেখেছি কালীপূজার সময় হিন্দুরা খুব আনন্দ উৎসব করতো। জায়গায় জায়গায় দিয়া বাতি জ্বালাত, আর লটারির উৎসব চলত। লটারিতে ভালো ভালো উপহার থাকত। ১০/১৫ দিন আগে থেকেই টিকেট বিক্রির ধুম পড়ে যেত। দেখতাম মানুষ “সোলেমানের পাগলী” নামে টিকেট কিনত। তখন থেকেই আমার শিশু সুলভ মন এই নামের অর্থ খুঁজার চেষ্টা করত। যারা কিনত তাঁদেরকে প্রশ্ন করতাম। তারা সবাই পাগলীর ঘটনাবলী বলত। আসলে পৃথিবীতে অলৌকিক বলে কিছু আছে। কেউ দেখতে পায়, কেউ পায় না। এই ঘটনার রহস্য উন্মুচন করতে পারিনি এখনও। আমার দাদা, সেই পাগলী আর আমার স্রষ্ঠাই শুধু জানেন


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সোলেমানের পাগলী

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now