বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সন্দেহের ইট আর বিশ্বাসের সিমেন্ট

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোহাম্মদ শাহজামান শুভ (০ পয়েন্ট)

X লেখকঃ মোহাম্মদ শাহজামান শুভ। বাড়ির ভিতরে হঠাৎ ঝড় বয়ে গেল। স্ত্রীর হাতে স্বামীর ফোন ধরা পড়েছে—এ যেন গোপন ভাণ্ডারের তালা খোলা। ফোনের স্ক্রিনে দেখা যাচ্ছে অদ্ভুত সব নাম— আমার জীবন, আমার পাগলী, আমার স্বপ্নের রানি। স্ত্রীর চোখ রক্তবর্ণ, কপালে ভাঁজ, ঠোঁটে বিদ্যুতের মতো কাঁপন। মনে হলো, এখনই হয়তো বজ্রপাত হবে। স্ত্রী দেরি না করে ফোন ধরল প্রথম নাম্বারে। ওপাশ থেকে ভেসে এল পরিচিত কণ্ঠ—“হ্যালো মা বলছি।” স্ত্রী হাঁ করে তাকাল, যেন বিদ্যুৎ লাইনের ফিউজ উড়ে গেছে। শাশুড়ির গলা! এবার তার চোখে জল নয়, ধোঁয়া উঠতে লাগল—“এই লোক নিজের মাকে আমার জীবন সেভ করে রেখেছে?” দ্বিতীয় নাম্বারে কল করতেই ফোন ধরল এক কচি কণ্ঠ—“হ্যালো আপু, আমি তো তোমার ননদ, তুমি কেমন আছো?” এবার স্ত্রী এমনভাবে স্তম্ভিত হলো, যেন ভাতের হাড়িতে লবণ দিতে গিয়ে চিনি ঢেলে ফেলেছে। আমার পাগলী আসলে স্বামীর ছোট বোন! এবার স্ত্রী একটু থামল। কিন্তু তৃতীয় নাম্বারে কল করার সাথে সাথে ঘরে হঠাৎ তার নিজের ফোন রিং হতে শুরু করল। স্ত্রীর মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল—“আমার স্বপ্নের রানি” সে নিজেই! আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের দিকে তাকাতেই চোখ গড়িয়ে পানি নেমে এল। এতদিন যে নির্দোষ মানুষটিকে সন্দেহ করেছে, সেই মানুষ আসলে প্রেমে-ভালোবাসায় নিজের পরিবারকেই ধরে রেখেছে। অপরাধবোধে ভরা স্ত্রী এবার ভেবে নিল—“না, আজকের পর থেকে আমি আমার স্বামীকে আর কোনোদিন সন্দেহ করব না। বরং এই মাসের বেতনের পুরো টাকাটা ওকে দিয়ে দেব।” পরের দিন অফিস থেকে এসে বেতনের খাম স্বামীর হাতে তুলে দিল সে। স্বামী প্রথমে ভান করে বলল—“না না, আমি নেব না।” কিন্তু ভিতরে ভিতরে তার মুখে লুকানো হাসি তখন হুগলির বন্যার মতো বইছে। টাকা হাতে পেতেই সে গোপনে এক জায়গায় ছুটল—বাজার। কিন্তু এখানে ঘটল আসল নাটক। বাজারে গিয়ে সে সরাসরি গেল একটি সোনার দোকানে। হাতে থাকা বেতনের টাকার অর্ধেক বের করে দিলেন দোকানিকে—“একটা সুন্দর উপহার বানান তো, খুব দামি, খুব চকচকে। আমার এক বিশেষজনের জন্য।” দোকানি ভেবেই নিল—“আহা! স্বামী বেচারা নিজের স্ত্রীর জন্য কী চমৎকার সারপ্রাইজ তৈরি করছে।” কিন্তু সত্যিটা ছিল ভিন্ন। স্বামী উপহার কিনে এল যার জন্য, তার নাম সে ফোনে সেভ করে রেখেছে গদাই ভাই রাজমিস্ত্রি নামে! হ্যাঁ, গল্পে বাঁক এখানেই। কারণ “গদাই ভাই রাজমিস্ত্রি” আদতে কোনো রাজমিস্ত্রি নয়। গদাই ভাই আসলে ছিল স্বামীর বহুদিনের আড্ডার সঙ্গী, আর মাঝে মাঝে খুচরো প্রেমের সাথীও বলা চলে। তবে ব্যাপারটা তেমন নেতিবাচক নয়। কারণ গদাই ভাই ছিলেন প্রকৃতই গদাইমারা ধাঁচের মানুষ, যিনি বন্ধুত্ব-প্রেমের সীমারেখা না মেনে সবকিছুতেই ঢুকে পড়তেন। স্বামী কখনো একাকিত্বে পড়লে গদাই ভাই-ই তাকে চায়ের দোকানে টেনে নিয়ে যেতেন, এক কাপ চায়ে দশটা কবিতা শোনাতেন, আবার কখনো রিকশায় চড়ে দুজন মিলে বাসন্তী রোদের দিকে তাকিয়ে গান গাইতেন। স্ত্রীর অজান্তে এই বন্ধুত্ব-প্রেম মিশ্রিত সম্পর্ক চলছিল বহুদিন। তবে এটিকে কোনো পরকীয়া বললে ভুল হবে, কারণ গদাই ভাই রাজমিস্ত্রি আসলেই স্বামীর জীবনের এক খোলা আকাশ। তিনি কখনো মশকরায় বলতেন—“তোর বউ তোকে যদি ছাড়ে, মনে রাখিস, আমি কিন্তু আছি।” স্বামী মজা করে বলত—“তুই না থাকলে আমার সংসারের সিমেন্ট বালু নড়বড়ে হয়ে যেত।” তাই সেদিন দামি উপহার হাতে গদাই ভাইকে দিয়ে বলল—“শোন, এটা তোর জন্য। আমার বউয়ের বেতনের টাকা দিয়ে কিনেছি।” গদাই ভাই প্রথমে আঁতকে উঠল—“আরে ধুর! তোর বউ জানলে তো আমায় ইট বেঁধে ডোবাবে।” স্বামী তখন কানে কানে ফিসফিস করে বলল—“শোন, বউকে আমি যা বলব, তুই শুধু হেসে সম্মতি দিবি।” ঘরে ফিরে স্ত্রীকে উপহার দেখিয়ে স্বামী বলল—“এই যে, দেখো, তোমার বেতনের টাকায় আমি একটা উপহার কিনেছি তোমার জন্য।” স্ত্রী লজ্জায় লাল হয়ে গেল, ভেবেই পেল না কী বলবে। কিন্তু হঠাৎ পাশের ঘর থেকে গদাই ভাই উঁকি মেরে বলল—“আপু, আপনার উপহারটা আমি একটু আগে দেখে এসেছি, দারুণ!” স্ত্রী প্রথমে চমকে উঠল, তারপর এমনভাবে হেসে উঠল যে ঘরের দেয়াল পর্যন্ত কেঁপে গেল। স্বামী হেসে বলল—“দেখো, এটাই আমাদের সংসারের আসল রহস্য। এখানে সন্দেহের জায়গা নেই, আছে শুধু মজার মিলন।” সেদিনের পর থেকে স্ত্রী আর কখনো স্বামীর ফোন ঘাটল না। বরং মাঝে মাঝে গদাই ভাই রাজমিস্ত্রিকেই ফোন দিয়ে বলত—“শুনুন দেবর মশাই, আজ আপনার দাদাকে একটু তাড়াতাড়ি বাড়ি পাঠান, আমি একা একা বিরিয়ানি রান্না করেছি।” গদাই ভাই তখন উত্তর দিতেন—“আরে আপু, চিন্তা কইরেন না, আমি তো আপনার সংসারের রাজমিস্ত্রি। সংসারের দেয়ালে কোনো ফাটল ধরতে দেব না।” এভাবেই সন্দেহ, ভুল বোঝাবুঝি আর কৌতুকের ভাঁজ মিলিয়ে এক অদ্ভুত রঙিন সংসার চলতে থাকল—যেখানে স্ত্রী ছিল স্বপ্নের রানি, শাশুড়ি ছিল জীবন, ননদ ছিল পাগলী, আর গদাই ভাই রাজমিস্ত্রি ছিল সংসারের অটুট ইট-সিমেন্ট।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সন্দেহের ইট আর বিশ্বাসের সিমেন্ট

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now