বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
‘‘মরতে যাব কেন? আমি আর সন্তু গড়ের বাগানে আম কুড়োতে যাচ্ছিলাম।’’ ধরা গলায় উদাস মিঞার জেরার উত্তর দিলাম আমি।
‘‘কোথায় সন্তু? আমি তো কাউকেই দেখছি না তোমার সঙ্গে?’’ উদাসের গলার স্বর আবার কাঁপিয়ে তুলল রাত্রির নিস্তব্ধতাকে।
সামনের দিকে হাত দেখিয়ে আমি বললাম, ‘‘ওই তো! আগে হেঁটে যাচ্ছে।’’
আমার আর উদাসের কথাবার্তা শুনে সন্তু দাঁড়িয়ে পড়েছিল। হাত তুলে ওকে দেখাতেই ও পেছন ফিরে তাকাল।
এদিকে চড় খেয়ে উদাসের হাতের বাঁধনের মধ্যেই আমি তখন থরথর করে কাঁপছি।
সন্তু পেছন ফিরে তাকাতেই ওর মুখের চেহারা দেখে আমার বুকের রক্ত আরো হিম হয়ে গেল। ও কীরকম মুখের চেহারা সন্তুর? সন্তুর অত সুন্দর মুখটাকে এক নিমেষে কে এরকম হিংস্র করে দিল? গলার স্বরটাও বদলে ভয়ংকর হয়ে উঠল হঠাৎ। ওরকম গলার স্বর কোনো মানুষের হতে পারে না। এই সন্তুকে আমি চিনি না। এই সন্তুকে আমি দেখিনি কোনোদিন।
কিন্তু ও আমাকে চেনে। জিজ্ঞেস করল, ‘‘কী রে বাবলা, আম কুড়োতে আর যাবি না?’’
উত্তর দেবার মত অবস্থায় আমি তখন নেই। উদাস মিঞার চড় খাবার পরেও শরীরে যা জোর ছিল, সন্তুর বীভৎস মুখ আর ভয়ংকর গলার স্বর শুনে তাও হারিয়ে গেছে। গলা বুক শুকিয়ে কাঠ। ঠোঁট দুটোতেও কোনো সাড় খুঁজে পাচ্ছিলাম না।
আমি কিছু বলছি না দেখে ও আবার বলল, ‘‘যা—! এ যাত্রা খুব বেঁচে গেলি!’’
কথা শেষ হতে না হতেই আমার চোখের সামনে সন্তুর চেহারাটা যেন ভোজবাজিতে হঠাৎ মিলিয়ে গেল। আমি অজ্ঞান হয়ে গেলাম।
জ্ঞান ফিরতে দেখি মায়ের বিছানায় শুয়ে আছি। আমাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে মা, বাবা, দাদা, উদাস মিঞা আর সবার সামনে সন্তু।
সন্তুকে সবার সঙ্গে দেখতে পেয়ে আমি কীরকম বোকা হয়ে গেলাম। ওর বীভৎস মুখের চেহারা ভয়ংকর গলার আওয়াজ আমার আবার মনে পড়ে গেল।
বিছানার ওপর ধড়মড় করে উঠে বসে ভয়ার্ত গলায় বললাম, ‘‘সন্তু! তুই এখানে?’’
সন্তু কিছু বলল না। আমার কথা শুনে বাবা এক পা সামনে এগিয়ে এসে বললেন, ‘‘সন্তু বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিল।’’ তারপর শান্ত গলায় আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘‘তুই কার সঙ্গে আম কুড়োতে যাচ্ছিলি বাবলা?’’
কার সঙ্গে আবার? সন্তুর সঙ্গে। মনে মনে উত্তর দিলাম আমি।
কিন্তু বাবা বলছেন, সন্তু বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিল। তাছাড়া উদাস মিঞাও আমার সঙ্গে সন্তুকে দেখতে পায়নি। তাহলে কে আমার সঙ্গে আম কুড়োতে গিয়েছিল? উদাস আমাকে ধরে না ফেললে সে আমাকে কোথায় নিয়ে যেত? কোন বাগানে আজ আম কুড়োতাম আমি?
অনেক চিন্তা করেও সেই মুহূর্তে আমি নিজের থেকে এর উত্তর খুঁজে পেলাম না।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now