বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
চোখ খুলে ওর দিকে ঘুরে বললাম, ‘‘কী রে, তুই কোথায় চলে গিয়েছিলি?’’
‘‘আমি তোর পাশেই ছিলাম।’’ উত্তর দিল সন্তু।
‘‘তাহলে আমি তোকে দেখতে পাচ্ছিলাম না কেন?’’
‘‘অন্ধকারে ওরকম হয়।’’
সন্তু আমার পাশে এসে দাঁড়ালেও ওর মুখটা ভাল দেখতে পাচ্ছিলাম না। তবে ওকে কাছে পাওয়ায় আমার ভয়টা কমতে শুরু করল।
আমি বললাম, ‘‘সন্তু, একটা আমও পাচ্ছি না আজ। কপাল খারাপ। চল বাড়ি ফিরে যাই।’’
আমার কথায় গুরুত্ব দিল না সন্তু। বলল, ‘‘ফিরে যাব কী! তার চেয়ে বাবলা— চল আমরা গড়পারের আমবাগানে যাই। এদিককার বাগানের আম ধারে-কাছের লোকজন কুড়িয়ে নিয়ে গেছে। অতদূরে কেউ আম কুড়োতে যায় না। ওখানে গেলে নিশ্চয়ই পাওয়া যাবে।’’
সন্তুর কথা শুনে আমি একটু অবাক হলাম। ওর বুদ্ধিসুদ্ধি কি সব লোপ পেয়ে গেছে? গড়পারের আমবাগান এখান থেকে অন্তত মাইল দুয়েক দূরে হবে। নদীর সরু বাঁধের ওপর দিয়ে হাঁটতে হবে একটানা। দিনের বেলা হলে না হয় একটা কথা ছিল। এই নিশুতি রাতে ওখানে কেউ যায় বলে আমি শুনিনি। ধারে-কাছে মানুষের বাড়িঘর নেই।
বাগানের মধ্যে এতক্ষণ ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। খানিক আগে পাখির চিৎকার শুনে আচমকা ভয় পাওয়ায় সেই ক্লান্তি এখন শরীরে জেঁকে বসেছে। রাত কত হয়েছে জানি না! একবার ভাবলাম গড়পারের আমবাগানে যাব না। ফিরতে দেরি হলে বাড়ির লোক জেনে যেতে পারে। তখন আম কুড়োনো বরাবরের জন্য ঘুচে যাবে। আবার ভাবলাম, এত কষ্ট করার পরেও একটা আম নিয়ে বাড়ি ফিরব না? পকেটের ব্যাগ পকেটেই থেকে যাবে? সাতপাঁচ ভেবে শেষপর্যন্ত সন্তুর কথায় রাজী হয়ে গেলাম। ওকে বললাম, ‘‘সন্তু, গড়পারের বাগানে যেতে পারি কিন্তু তাড়াতাড়ি ফিরতে হবে।’’
‘‘নিশ্চয়ই।’’ একটু মুচকি হেসে সম্মতি জানাল সন্তু। অন্ধকারে ওর মুখের হাসি দেখতে না পেলেও গলার স্বর শুনে তা বুঝলাম। আমি খুব ভয় পেয়ে গেছি ভেবে বোধ হয় ওর এই হাসি।
নদীর বাঁধের ওপর দিয়ে আমরা দু’জনে হাঁটছি। হাঁটছি তো হাঁটছিই! বাঁধটা সরু থাকায় দুজনের পাশাপাশি হাঁটা সম্ভব হচ্ছিল না। সেজন্য সন্তু আগে যাচ্ছিল, আমি পেছনে। তাড়া থাকায় সন্তু এবার এত জোরে হাঁটতে শুরু করেছে যে আমি কিছুতেই ওর সঙ্গে তাল মেলাতে পারছিলাম না। পেছন থেকে মনে হচ্ছিল ও যেন উড়ে যাচ্ছে!
নদীর চড়া, জলের মৃদু স্রোত চারপাশের গাছপালা, পাটক্ষেত, দূরের আমবাগান, সামনে সন্তু— জ্যোৎস্নার আলোয় চারপাশের সবকিছুই আবছা দেখালেও স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল। আমার মনে হল নদীর ধারে জ্যোৎস্না লোকালয় থেকে আরো বেশি উজ্জ্বল হয়। হাঁটতে হাঁটতে আমরা বাঁধের পাশে মাঝিদের কুঁড়েঘর পার হয়ে গেলাম। সন্তু আগে থাকায় আমাদের কথাবার্তা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। দুজনেই চেষ্টা করছিলাম গড়পারের আমবাগানে কত তাড়াতাড়ি পৌঁছানো যায়।
তাড়াতাড়ি করায় হাঁটতে আমার বেশ কষ্ট হচ্ছিল। মাঝে মাঝেই সরু বাঁধের ওপর পা ঠিকমত পড়ছিল না। হড়কে যাচ্ছিল। দু একবার হোঁচট খেতে খেতে বেঁচে গেছি। বাঁধের ওপর আবার গরমের দিনে সাপের ভয় খুব। না দেখেশুনে একবার পা ফেললে আর নিস্তার নেই। অথচ সন্তুর হাঁটা দেখে মনে হচ্ছিল ও এসবের কোনো পরোয়া করছে না।
কতক্ষণ এভাবে একটানা হেঁটেছি মনে পড়ছে না। হঠাৎ কে যেন পেছন থেকে ছুটে এসে আমায় জাপটে ধরল! আমি ছটফট করে নিজেকে ছাড়াতে প্রাণপণ চেষ্টা করলাম। পারলাম না। আমার ছটফটানি থামতে সে পেছন থেকেই আমার গালে প্রচণ্ড জোরে একটা চড় মারল। চড় খেয়ে আমি নিস্তেজ হয়ে পড়লাম। কোনো মতে নিজেকে সামলে নিয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখি উদাস মিঞা আমাকে ধরে রেখেছে। উদাস মিঞা নৌকা চালায়। আমাদের খুব পরিচিত মাঝি ও। চোখাচোখি হতেই বাজখাই গলায় জি়জ্ঞেস করল, ‘‘কেউ কোথাও নেই, এই নিশুতি রাতে একা-একা তুমি কোথায় যাচ্ছিলে? মরার সাধ হয়েছে তোমার?’’
চলবে........
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now