বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
সন্তু কোথায়...১
"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রামীম (০ পয়েন্ট)
X
প্রদীপচন্দ্র বসু
খেলার মাঠে সন্তুর সঙ্গে কথা হয়েছিল রাত্রে আম কুড়োতে যাব।
সন্তু আমার বাড়ির পাশেই থাকত। ঠিক এগারোটায় ঘড়ির কাঁটা মিলিয়ে ও এসে হাজির হল। বাড়ির বাইরের দিকে পড়ার ঘরে ওর জন্যে অপেক্ষা করছিলাম আমি। বাবা, দাদা সবাই ঘুমিয়ে পড়েছেন। ভেতর থেকে কারও গলার আওয়াজ পাচ্ছিলাম না। শুতে যাবার আগে মা দেখে গেছেন আমি পড়ছি। গ্রীষ্মের ছুটির পর স্কুল খুললে প্রি-টেস্ট পরীক্ষা। সেজন্য মা কয়েকদিন আগে পড়ার ঘরেই আমার শোবার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, পড়তে পড়তে ঘুম পেলে আমি যাতে ওখানেই শুতে পারি। আমি যথেষ্ট বড় হয়ে গেছি। একলা শুতে আজকাল আর ভয় করে না।
সন্তু এসে ডাকতে আমি চুপিচুপি পড়ার ঘরে তালা দিয়ে বেরিয়ে এলাম। আম কুড়োতে যাবার কথা বাড়ির কাউকে বলিনি। বললে এত রাত্রে কেউ আমাদের যেতে দিতেন না। ছোটবেলায় ক্লাস থ্রি-ফোরে পড়ার সময় বন্ধুরা মিলে প্রায় রোজই বিকেলবেলা আমবাগানে যেতাম। কুড়িয়ে পাওয়া আম খাবার লোভ উঁচু ক্লাসে ওঠার পর চলে গেছে। সেদিন খেলার মাঠে অনেকদিন পর পুরোনো ইচ্ছেটা কেন জানি হঠাৎ আমার আর সন্তুর মধ্যে মাথা চাড়া দিয়ে উঠল!
সেসময় আমরা মালদা জেলার মানিকচকে থাকতাম। মানিকচককে ঠিক শহর বলা যায় না। গঞ্জের মতো ছিল জায়গাটা। এমনিতেই মালদার আমের যথেষ্ট নাম়ডাক আছে। মানিকচকের আমবাগান আবার জেলাবিখ্যাত। তবে আমাদের নিজস্ব কোনও আমবাগান ছিল না। ঠাকুর্দা মারা যাবার আগে ভিটেবাড়িটা ছা়ড়া আর সব জমিজমা বিক্রি করে ফেলেছিলেন পিসীদের বিয়ে দিতে। ধানচালের ব্যবসা করে বাবা সংসার চালাতেন। আমরা বাজার থেকে আম কিনে খেতাম। এছাড়া চুরি করে কুড়িয়ে খাওয়া-টাওয়া তো ছিলই।
বিকেলে অল্পস্বল্প ঝড়বৃষ্টি হওয়ায় আকাশ পরিষ্কার ছিল। সন্তু আর আমি বাইরে বেরিয়ে দেখি চারপাশে জ্যোৎস্নার ঢল নেমেছে। আমাদের বাড়ি থেকে আমবাগানগুলি বেশ খানিকটা দূরে। লোকালয় ছা়ড়িয়ে যেতে হবে। সেজন্য দুই বন্ধু মিলে তাড়াতাড়ি পা চালালাম। বাড়ির লোকেরা টের পাবার আগেই ফিরে আসতে হবে।
নিস্তব্ধ রাত। পাতলা বাতাসে ভিজে মাটির সোঁদা গন্ধ। দিনের গরমভাব এখন নেই। পরিষ্কার জ্যোৎস্নার আলোয় মেঠো রাস্তা ধরে হেঁটে যেতে আমার ভালই লাগছিল।
পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে সন্তু জিজ্ঞেস করল, ‘‘কী রে বাবলা, ব্যাগ এনেছিস তো?’’
‘‘এনেছি। পকেটে আছে।’’ নিচু গলায় সন্তুকে বললাম আমি।
মিনিট দশেক হাঁটার পর পালেদের আমবাগানে আমরা প্রথম ঢুকলাম। বাগানটা খুব বড় না হলেও পুরনো। আমও ধরেছে অনেক। গাছের ওপর ছড়িয়ে পড়া জ্যোৎস্নায় আমগুলো ধূসর দেখাচ্ছিল। বেশ বড় বড় ফজলি আম ঝুলে আছে থোকায় থোকায়।
কিন্তু গাছতলায় খুঁজেপেতে একটা আমও পেলাম না দুজনে। আশ্চর্য ব্যাপার! বিকেলে ঝড় হল, অথচ একটা আমও বাগানে পড়ে নেই। এর মধ্যে কারা যেন সব কু়ড়িয়ে নিয়েছে। এদিককার আমবাগানে পাহারাদার বা মালি রাখার কোনো ব্যবস্থা নেই। ঢিল ছুঁড়ে বা চুরি করে কেউ আম খায় না। লোকে গাছতলায় কুড়িয়ে যা পায় তাই যথেষ্ট। কুড়িয়ে পাওয়া আম নিলে বাগানের মালিকও কিছু বলে না।
প্রথম বাগানে আম না পাওয়ায় আমাদের মন খারাপ হয়ে গেল। এরপর দুই বন্ধু ঢুকলাম পাশের বাগানে। বাগানটা এক মারোয়াড়ির। আমরা নাম জানতাম না। এই বাগানের গাছগুলি বেশ ঝাঁকড়া আর ঘন করে লাগানো। ফলে আগের বাগানের মত গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে জ্যোৎস্নার আলো বাগানে বিশেষ ঢুকছিল না। তাহলেও যা ঢুকছিল তাতে গাছতলার মাটি দেখতে পাচ্ছিলাম কোনোমতে। কিন্তু আমি আর সন্তু পরস্পরের মুখ দেখতে পাচ্ছিলাম না ভাল করে।
এ বাগানেও যখন একটা আমও কুড়িয়ে পেলাম না, খুব হতাশ হয়ে পড়লাম আমি। ঝড়ে পড়া আম সব কারা কুড়িয়ে নিল? সেই ছোটবেলা থেকে আম কুড়োচ্ছি, এরকম অভিজ্ঞতা হয়নি কখনও। হঠাৎ খেয়াল করলাম, আম খুঁজতে খুঁজতে আমি আর সন্তু আলাদা আলাদা হয়ে গেছি। আধো-অন্ধকারে সন্তুকে ধারে-কাছে দেখা যাচ্ছে না। আমার সঙ্গে টর্চ নেই। বাড়ি থেকে আনতে ভুলে গেছি।
সন্তুকে খুঁজে পাওয়ার জন্য আমি বাগানের মধ্যে অস্থির ভাবে ঘুরতে শুরু করলাম। নিস্তব্ধ রাত্রি। মাঝে মধ্যে টুপটাপ শব্দ ছাড়া আর কোনো শব্দ শুনতে পাচ্ছি না। ওগুলো পাতা ঝরার শব্দ। গাছ থেকে আম পড়লে ওরকম শব্দ হয় না। কারুর পায়ের শব্দও ওরকম নয়। তাহলে সন্তু গেল কোথায়? আম কুড়োনোর কথা আমার মাথায় উঠল। এক অজানা ভয়ে শিউরে উঠল আমার হাত-পা।
একা-একা সেই অন্ধকার বাগানের মধ্যে দাঁড়িয়ে আমি ডাকতে লাগলাম, ‘‘সন্তু! এই সন্তু! তুই কোথায়?’’ কেউ সাড়া দিল না। তার বদলে একটা রাতজাগা পাখি মানুষের গলার আওয়াজ পেয়ে বিকট স্বরে ডাকতে লাগল। আচমকা পাখির বিকট ডাক শুনে ভয়ে আমি চোখ বন্ধ করে ফেললাম। গায়ের লোম সব খাড়া হয়ে গেছে। আমি এখন কী করব?
এমন সময় পাশ থেকে কে যেন খুব আস্তে আমার নাম ধরে ডাকল। গলার স্বর শুনেই বুঝলাম সন্তু, অথচ বুঝতে পারলাম না কখন ও পাশে এসে দাঁড়াল। চলবে........
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now