বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-আজ ঘুরতে নিয়ে যাবা না?
-হুম যাবো তো।
-কখন?
-এইতো একটু পর।
-তোমার ভয়েস এমন লাগছে কেনো?
-জ্বর আসছে।
-মানে!ডাক্তার দেখাইছো?
-না।
-তোমার কি নিজের প্রতি কোনো মায়া নাই না কি!আর জ্বর আসছে সেটা আমায় একবার জানানোর প্রয়োজনও মনে করলানা।এমন খামখেয়ালি আর কতদিন!
-হুম।
-হুম মানে কি!এখনি ডাক্তারের কাছে যাবা।
-বিছানা থেকে উঠতে পারছিনা।
-কিইই!তোমার ফ্রেন্ডরা সবাই কোথায়?
-যার যার গার্লফ্রেন্ডের সাথে ১৪ফেব্রুয়ারি পালন করতে গেছে।
-হায় আল্লাহ্,ওকে ওয়েট আমিই আসছি।
-ওই না..না।
-কেনো?
-সবাই কি ভাববে!
-I don't care.
টুট..টুট
কল কেটে যাওয়ার পর আতংকে পড়ে গেলাম।প্রথমত এখানে লেখাপড়ার সুবাদে ম্যাচে থাকি।দ্বিতীয়ত ম্যাচ থেকে বালিকার বাসা মাত্র পাঁচ মিনিটের।তৃতীয়র বালিকা ম্যাচ মালিকের মেয়ে।বিধায় আজ বাঁচা অসম্ভব।
.
ভয়ংকর সেই আতংকের কথা ভাবতে ভাবতে আতংক হাজির।
বালিকা রুমে প্রবেশ করেই কাছে এসে মাথায় হাত দিয়ে দেখলো,তারপর রাগি একটা লুক "জ্বর কবে থেকে?"
একটা ঢোক গিলে উত্তর দিলাম "দুদিন যাবৎ।"
-আমায় জানালেনা কেনো?
-ভাবছি কমে যাবে।
-ভালো তো।
-হুম।
-এখনো চুপচাপ শুয়ে থাকবা নাকি ডাক্তারের কাছে যাবা?[ঝাড়ি দিয়ে]
-ওরে বাবা..হুম চলো।
অতঃপর বালিকার কাধের সাহারা নিয়ে কোনোভাবে ম্যাচ থেকে বেড়িয়ে রিক্সা ভাড়া করলাম।
তারপর পুড়ো পথ জুড়ে বালিলার কাধে মাথা রেখে ডাক্তারের কাছে পৌছালাম।
সেখানে ডাক্তার-ফি আর ওষধ কিনতে গিয়ে পকেটের অবস্থা কাহিল।তখনি আবার বালিকা বললো "সকালে খেয়েছো?"
উত্তর কি দিবো ভাবতে ভাবতে বলে দিলাম "ম্যাচে আজ রান্না হবে না।"
-তাহলে রেস্টুরেন্টে চলো।
-এখন কিছু খেলে অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে।[নিচু স্বরে]
-তাইবলে না খেয়ে থাকবা?
-বিস্কিট দিয়ে কাজ চালিয়ে নিবো।
-এতে অবস্থা আরো বেশী খারাপ হবে।
-ধুর কিছু হবে না।
-তুমি রেস্টুরেন্টে যাবা কি না!
-টাকা যা ছিলো ওষধ কিনতে শেষ হয়ে গেছে।
-হায় আল্লাহ্,তা বললেই তো পারো।আমার কাছে টাকা নাই না কি!
-হুম।
"এবার চলো" বলে বালিকা একটা রেস্টুরেন্টে নিয়ে গেলো।
.
খাবার সামনে প্রফুল্ল মনে প্রেমিক-প্রেমিকা আপন মনে গল্প করছে।সেখানে অর্ধমৃত এক আমি চুপচাপ নিধির সামনে বসে আছি।
কিছুক্ষণ বাদে ওয়েটার এসে দু-বাটি সুপ দিয়ে গেলো।
নিধি তখন আমার সামনে থেকে উঠে পাশের চেয়ারে বসে নিজহাতে সুপ খাইয়ে দিতে লাগলো।ভালবাসার এ যেনো এক গহীন পর্যায়।
নিধির এমন কর্মকাণ্ড দেখে রেস্টুরেন্টের সবাই আমাদের দিকে চেয়ে থাকায় ব্যস্ত হয়ে পরলো।
নিধি সেটা ভ্রুক্ষেপ করে নিজ কাজে ব্যস্ত রইলো।
তারপর খাওয়াদাওয়া শেষে নিধি ওর পার্স থেকে বিল মিটিয়ে রিক্সায় করে আমায় সহ ম্যাচের উদ্দেশে রওনা দিলো।
আমিও কম নই,যাওয়ার পথে ফুলার দোকানের সামনে রিক্সা থামিয়ে পকেটে অন্তিম সম্বল হিসেবে থাকা পঞ্চাশ টাকা দিয়ে গোলাপ কিনে নিধির সামনে তুলেধরে বস্ত রাস্তায় সকলকে অবাক করে বললাম "স্নিগ্ধ সকাল,ক্লান্ত দুপুর,নিশ্চুপ বিকেল,ডুবন্ত সন্ধ্যা,গভীর রাত প্রতিদিন প্রতিক্ষণ তোমায় বুকে জড়িয়ে অনেকটা ভালবেসে বলতে চাই "I LOVE YOU NIDHI"
বালিকা দিশেহারা হয়ে রিক্সা থেকে নেমে আমায় জড়িয়ে ধরলো।
.
তারপর আবার আপন গতিতে রিক্সা চলতে লাগলো,আর রিক্সায় বসে থাকা নিষ্পাপ দুটি মন বস্ত শহরে ব্যস্ত লোকের ভিড়ে মনে মনে ব্যস্ত হয়ে পড়লো উদ্দেশ্যহীন চলার পথে দুজন দুজনকে নিয়ে দেখা স্বপ্ন পূরণের উদ্দেশ্যে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now