বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সংক্রমন-০২

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X দুই ‘কয়েকদিন ধরেই বেশ ব্যস্ততা যাচ্ছিল লিন্ডার। নুতন একটা আর্টিকেলের কাজ হাতে পেয়েছে সে।এবারের কাজটা বেশ জমিয়ে করতে পারবে সে।টপিকটাও তার বহু আকাঙ্খিত । “Approved Movement of U.S.A , Considered on religeous concept : The BLACK ART ” কিছু লোকাল স্টোরি.মুভমেন্ট,অ্যকটিভিটিজ,কিছু ম্যাগাজিন পরিসংখ্যান আর কিছু স্পেশালিস্টের রেকর্ড এক জায়গায় করলে ফাটাফাটি একটা আর্টিকেল হয়ে যাবে তার।ভাবতেই মনটা আনন্দে ভরে ওঠে লিন্ডার ।কিন্তু আনন্দ স্থায়ী হতে পারে না কর্কশ কলিং বেলের আওয়াজে ।পতিদেব এলেন বুঝি,ভাবতে ভাবেতে উঠে গিয়ে দরজা খুলে দিল লিন্ডা। কিন্তু কোথায় কে? কেউই তো নেই । ফিরে আসতে গিয়ে মেঝেতে চোখ পড়ল তার।একটা পার্সেল পড়ে আছে।ওটা তুলে নিয়ে দেখলো পার্সেলটা তারই নামে।খামটা খুলতে খুলতে ভিতরে চলে গেল সে ছাড়া ছাড়া হাতের লেখার একটা চিঠি পেল ভিতরে । চিঠি একটা কিন্তু কাগজ অনেকগুলো। অনেক কিছু লেখা আছে সেগুলোতে।চেয়ারটা টেনে নিয় পড়তে শুরু করে লিন্ডা। প্রিয় অ্যনা, কেমন আছো মামনি?যেমনই থাকো ঈশ্বর তোমার সহায় হোন।খুব অবাক হচ্ছো,তোমাকে অ্যনা নামে ডাকছি বলে? সব বলছি।শুধু এটুকু জেনে রাখ তোমার আরও একটা পরিচয় আছে আর এখন সেই পরিচয়টাই তোমাকে দেবো আমি।খুবই অসুস্থতা এবং দুঃশ্চিন্তার মধ্যে থেকে লিখছি তোমায়।যখন এই চিঠিটা পৌছাবে হয়ত জীবিত থাকবো না আমি।কিছু গুরুত্বপূর্ন গোপন কথা বলার আছে তোমাকে। কথাগুলো জানার পর হয়তো আর দশটা মেয়ের মত থাকবে না তুমি। অবশ্য ছিলেও না কখনো।বেনেট পরিবারের খুব বিশ্বস্ত কাজের লোক ছিলাম আমি ।আমি এবং আমার ছেলে লিও থাকতাম এই ধনাঢ্য পরিবারের সাথে। দুটো ফুটফুটে মেয়ে ছিল তাদের।মিসেস বেনেটের ইচ্ছা ছিল তার তিনটি মেয়ে হবে এবং তাদের নাম হবে ইলিয়ানা, লিয়ানা এবং অ্যনা।হ্যা অ্যনা,তুমিই বেনেট দম্পত্তির ৩য় সন্তান।সব ঠিকঠাক ই চলছিল।অভিশাপের ছায়াটা হঠাত্ই নামে এই সুখী পরিবারটির উপর।ঘুমন্ত অবস্থায় সাপের কামড়ে মারা যায় তোমার দুই বোন ইলিয়ানা আর লিয়ানা ।তোমার মা জেনিফার বেনেট পাগলপ্রায় হয়ে গেলেন । আমিই তার দেখাশোনা করতাম।অন্যকাউকে তার আশেপাশেও আসতে দিতেন না তিনি। বিশেষ করে তোমার বাবাকে। তাকে তিনি সহ্যই করতে পারতেন না বলা চলে । একরাতে তোমার মা আমাকে ডেকে অবিশ্বাস্য কিছু সত্যি বললেন যা আমার কল্পনার বাইরে ছিল । তার ভাষাতেই বলি,“মারিয়া আমি খুব বিপদে আছি । কথা দাও সাহায্য করবে আমায়।” আমি তাকে আশ্বস্ত করতেই তিনি আবার বলতে শুরু করলেন,“ফ্রেড্রিকের সাথে আমার বিয়ে হয়েছিল বাবার অমতে।আমার মা ছিল না।একদিন চার্চ থেকে ফেরার পথে রাস্তায় তুষাড়ের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে বাসায় নিয়ে আসি এবং সেবা শুশ্রূষা করে সুস্থ করি ওকে।নিজের নাম ছাড়া আর কিছুই মনে ছিল না ওর ।আমার বাবা ওকে আমাদের কাঠের ব্যবসায় লাগিয়ে দেয় ।এরই মধ্যে আমাদের ভিতর প্রণয় সম্পর্ক গড়ে ওঠে।বাবা মেনে নেবে না জেনেই ঘর ছাড়ি আমরা।নুতন ব্যবসা শুরু করে ফ্রেড্রিক।সেবারের ব্যবসা লাভের মুখ দেখে আর আমার কোলজুড়ে আসে ইলিয়ানা আর লিয়ানা।সেবারই ঘিঞ্জি জেনিথবার্গ শহরটা ছেড়ে গ্রামের দিকে এসে পড়ি।গ্রামেই ফ্রেড্রিক ওর ব্যবসাটা চালু করে। ঈশ্বরের দয়ায় অল্পদিনে গ্রামের ধনী পরিবারে পরিনত হয়ে যাই।ফ্রেড্রিকের বদান্যতার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে।বেশ লাভও হয় সেবার। বাড়িটা তৈরী করি গ্রামের এই শেষদিকে নদীর ধারে।বাড়ীটার নাম রাখে ফ্রেড্রিক House 666 । নামের রহস্যটা তখন না বুঝলেও বুঝতে খুব একটা দেরিও হল না ।চুড়ান্ত অপ্রত্যাশিতভাবে সামনে চলে এলো সবকিছু ।একদিন দেয়ালের বড় আয়নাটার সামনে দাড়িয়ে চুল আচড়াতে আচড়াতে হঠাত্ নজরে এলো দেয়ালে আটকানো ওয়েল পেইন্টিংটা।কি যেন আকা আছে ওতে যা আগে দেখিনি।ওটা চিরকালই আমার বোঝার সীমার বাইরে ছিল।সেই কবে ফ্রেড্রিক এঁকেছিল,কিন্তু আমি কোনদিনই ছবিটার মর্ম উদ্ধার করতে পারিনি।আজ সেই দুর্বোধ্য ছবিটা যেন অর্থ পেয়ে গেছে।অদ্ভুত আঁকিবুকিগুলো একে অপরকে নিয়ে কিছু একটা বলতে চাইছে।চমকে উঠেছিলাম ওটা বুঝতে পেরে যে ওটা একটা কুত্সিত মুখাবয়ব পেয়ে গেছে।আর নিচে সেই স্পষ্ট বার্তাঃ “The DEVIL in you is waiting to fix,the Kingdom of SIX” এরপর বেশকিছুদিন ধরে ছবিটা লক্ষ করলাম আমি । অন্যসময় ছবিটা নিরীহ হলেও গোধুলীর লাল আলোতে ছবিটা জীবন পায় ।এটুকু বুঝলাম যে ফ্রেড্রিক ছবিটা এমনভাবে একেছিল যে অন্যসময় ছবির কিছু অংশ অদৃশ্য থাকবে এবং ছবিটা অসম্পূর্ন দেখাবে।এই অদৃশ্য অংশটি ফ্রেড্রিক হালকা সবুজ রং দিয়ে এঁকে পুরো ছবিটা সবুজ কাচে ঢেকে দিয়ে এই আংশটা আড়াল করেছিল।কিন্তু গোধুলীর হালকা লাল আলো সবুজ কাঁচে পড়ে সবুজ অংশ গুলো কালো রং পেয়ে ছবিটা সম্পুর্ন করে।অদ্ভুতুড়ে ছবিটার বিষয়ে ফ্রেডরিককে জিগ্যেস করা জরুরী হয়ে পড়ে।যদিও তা হয়ে উঠল না শেষ পর্যন্ত। সেদিন অনেক রাতে ঘুম ভেঙে যায় আমার।পাশে ফ্রেড্রিক ঘুমুচ্ছিল।আমি আনমনে ওর মাথায় হাত দিতে গেলাম।কিন্তু কেন জানি ওকে ছুতে পাচ্ছিলাম না। হাতটা সোজা ওর মাথা ভেদ করে বালিশে গিয়ে ঠেকছিল।যেন কোন ছায়া ধরার বৃথা চেষ্টা করছি আমি।অথচ ও ওখানেই ছিল।স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম।ভয় পেয়ে ছিটতে সরে আসলাম বিছানা থেকে আর পা ফসকে ধাক্কা খেলাম দেয়ালের বড় আয়নাটাতে।চুড়ান্ত অবাক হয়ে লক্ষ করলাম আয়নাটা খানিকটা সরে গেল পেছন দিকে।আজব তো! উঠে দাড়িয়ে একটু ধাক্কা দিতেই আয়নাটা আরো একটু পিছনে সরে গেল।কুপি বাতির আলোতে আয়নার নিচে মেঝেতে একটা ডালা মত দেখতে পেলাম। বিস্ময় তখনো বাকী ছিল আমার জন্য।ডালাটা টেনে তুলতেই নিচের দিকে নেমে যাওয়া একসারি সিড়ি দেখতে পেলাম।বিস্ময়টা ততক্ষনে কৌতুহলে পরিনত হয়েছে।কালিভরা বাতিটা নিয়ে নিচে নেমে গেলাম।বেশ অনেকটা জায়গা নিয়ে বেসমেন্টটা তৈরী করা হয়েছে এবং সুকৌশলে গোপন করা হয়েছে তা বুঝতে আমার দেরীই হয়েছিল। বাতির বোজা বোজা সোনালী আলোতে দেয়ালের অস্পষ্ট কিন্তু প্রখর ডেভিল সাইন এবং এ্যম্বিগ্রামিক লেখাগুলো দেখছিলাম।ঘরের মাঝখানে একটা গোল বেদীমত জায়গা।তার উপর একটা গর্তে পোড়া কাঠ আর ছাই এর স্তুপ।গর্তটার পাশেই একটা চামড়ার বাধানো কালো নোটবুক।ইতস্তত করে খুলে পড়া শুরু করলাম।এরপরই আমার সব কৌতুহল বিস্ময়ে পরিনত করে সব রহস্য জট খুলতে লাগল। মারিয়া,ফ্রেড্রিক কোন সাধারন মানুষ নয়।প্রথম জীবন থেকেই সে শয়তানের উপাসক।কোন এক দুর্ঘটনায় সে এসে পড়ে আমাদের এলাকার রাস্তায়।তারপর আমি তুলে আনি ওকে।বাবার অমতে পালিয়ে বিয়ে করি।এই বাড়ীটা ও তৈরী করেছেই এমন ভাবে যাতে করে ও ওর সাধনা আবার শুরু করতে পারে ।এবং সাধনার এই পর্যায়ে ওর দরকার ৬ টা মৃত মানুষের একটি করে বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি আর এই ছয়টা আঙুলের হাড় দিয়ে সাধনা করতে পারলেই ঐ ছয়জনের আত্মা ওর অনুগত হয়ে যাবে । তখন ঐ আত্মাগুলো দিয়ে ও সব কিছু করতে পারবে।আর সবথেকে বড় কথা এই সাধনা সফল হলে ও এক অসীম ক্ষমতা পেয়ে যাবে। আর সেটা হলো সর্ববিরাজমান হওয়ার ক্ষমতা।যখন যেখানে ইচ্ছা ওর আত্মা চলে যেতে পারবে সেটা ঘুমিয়ে ঘুমিয়েই হোক আর জেগে জেগেই হোক।মূল কথা,যখন ইচ্ছা ও ওর আত্মা পরিভ্রমন করাতে পারবে।এতটুকুই জানতে পারি সেদিন আমি।সবকিছু কেমন যেন অচেনা হয়ে যেতে থাকল।ডায়রীটা ওখানে রেখেই বেরিয়ে এলাম আমি।যেমন ছিল সব তেমন করেই রেখে দিলাম।ভোর হয়ে গেছে ততক্ষনে। আমি ফ্রেড্রিককে ডাকতে ওর মাথায় হাত দিলাম। এবার ছুতে পারলাম ওকে।রাতের মত হল না।তবুও ভয় পেলাম।ভয় পেতে হলো এই অচেনা মানুষটাকে।প্রতিদিনের মতই মেয়েদের ঘরে গেলাম ওদের ঘুম ভাঙাতে। মেয়ে দুটোর বিষে নীলদেহ নিথর হয়ে পড়েছিল বিছানার উপর।সব শেষ হয়ে গেল আমার। পাগলপ্রায় হয়ে গেলাম যেন।শোকে বিহবল আমি ভুলেই গেছিলাম আয়নার নিচের বেসমেন্টটার কথা।এক সপ্তাহ পর মনে পড়তেই আবার গেলাম সেখানে।ডায়রীটা দেখাতে হবে ফ্রেড্রিককে।জনতে চাইব সবকিছু।ডায়রীটা খুললাম।নতুন কিছু লেখা যোগ হয়েছে।পড়লাম।ফ্র েড্রিক তার প্রয়োজনীয় ৬ টা হাড়ের ভিতর ২ টা পেয়ে গেছে।মেয়ে দুটোকে সাপের কামড়ে হত্যা করে সেমেট্রির কফিন থেকে দুটো বৃদ্ধাঙুলি কেটে এনেছে পিশাচটা।বুঝতে বাকী রইল না ওর পরবর্তী শিকার হতে চলেছি আমি।তাই পাগলের অভিনয় শুরু করি আমি।কারন আমি জানতাম আইনের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসতে মোটেও সময় লাগবে না ওর।যতটা সম্ভব ওর থেতে নিরাপদে থাকতে শুরু করি আমি।কিন্তু ভাগ্য আমাকে নিয়ে আবারও পরিহাস করলো।আজই জানতে পারলাম আমি অন্তঃসত্বা।মারিয়া,এই মৃত্যপুরীতে আমার সন্তানের অস্তিত্ব বুঝতে দেওয়া যাবে না।আজ তোমার সাহায্যের খুব প্রয়োজন আমার মারিয়া।”


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সংক্রমন-০২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now