বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সংক্রমন-০১

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X এক ‘আচ্ছা আপনি ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন নাকি শয়তানে?’ জানালা থেকে মুখ ঘুরিয়ে হঠাত্ই ইসাবেলের দিকে প্রশ্নটা ছুড়ে দেয় জানালার দিকে বসা মেয়েটি।আচমকা এমন অদ্ভুত প্রশ্নে অবাক হওয়ারই কথা ইসাবেলের এবং হয়েছেও সে। বুঝতে পারে না কি উত্তর দেবে। ‘সরি? শয়তানে বিশ্বাস!’ ভ্রু কুচকে বলে ওঠে ইসাবেল । ‘ইয়েস..শয়তান. ডেভিল স্পিরিট,লুসিফার..বিশ্বাস করেন?’ ‘ইয়ে মানে ঠিক বুঝলাম না...শয়তানে কেউ বিশ্বাস করে কিভাবে?’ ‘হুমম করে।অনেকেই করে।একটা গল্প বলি শুনবেন?’ ‘বেশ তো বলুন না।এমনিতেও রাতে ট্রেনে আমার ঘুম আসে না তার উপর বাচ্চাটাও ঘুমিয়ে গেছে।গল্প শুনতে পেলে মন্দ হয় না এসময়।’কোলের বাচ্চাটার দিকে এক পলক তাকিয়ে সম্মতি দেয় ইসাবেল। এই সময় মেয়েটিও এক ঝলক দেখে নেয় ইসাবেলের ঘুমন্ত বাচ্চাটিকে। তারপর বলতে শুরু করে,‘গ্রামটা জেনিথবার্গ শহরের একেবারে শেষপ্রান্তে।ছোট্ট গ্রাম।দক্ষিনে টুলটুলে নদী।গোটা ত্রিশেক ঘর বাড়ি।আগে অবশ্য বসতি আরও বেশি ছিল কিন্তু সেবছরের সেই ঘটনার পর বসতি কিছুটা কমে গেছে।’এটুকু বলেই থেমে যায় মেয়েটা। ‘সে বছরের ঘটনা?’ কৌতুহলী প্রশ্ন ইসাবেলের।কিন্তু সেদিকে খেয়াল নেই মেয়েটির।ও একমনে তাকিয়ে আছে ইসাবেলের ঘুমন্ত বাচ্চার দিকে।মুখজুড়ে কেমন ভাবলেশহীন শূন্য অনুভুতি। ‘শুনছেন? তারপর? কি হয়েছিল সে বছর?’ তাগাদা দেয় ইসাবেল ‘ও হ্যা শুনুন।’ সে বছর বলতে এখন থেকে প্রায় ২৫-২৬ বছর আগের কথা ।গ্রামের সবচেয়ে ধনী পরিবার ছিল বেনেট পরিবার ।যদিও তারা জেনিথবার্গের স্থানীয় ছিল,ব্যবসার জন্য এসেছিল।ব্যবসায় লাভ হয়ে রাতারাতি বড়লোক হয়ে গেল তারা।প্রাসাদের মত বাড়ি তুললো। House 666 ।ফ্রেড্রিক বেনেট আর জেনিফার বেনেটের দুই যমজ মেয়ে ইলিয়ানা বেনেট আর লিয়ানা বেনেট এই চারজন নিয়ে বেনেট পরিবার ।সুখী পরিবার । পরীর মত দুইটা মেয়ে নিয়ে বেনেট দম্পত্তীর সুখের অন্ত ছিল না।বেনেট দম্পত্তীও তাদের দানশীলতার জন্য বেশ খ্যাত ছিল।সবমিলিয়ে বলা যায় ঈশ্বরের সুনজর ছিল তাদের উপর।কিন্তু শয়তান বলেও যে একটা জিনিষ আছে হয়তো সেটা প্রমান করতেই শয়তানের কুনজর পড়তেও খুব একটা দেরী হল না।হুট করে একরাতে সাপের কামড়ে মারা গেল বেনেট দম্পতির দুই মেয়ে।সকালে বিছানায় তাদের নিথর দেহ পাওয়া গেল।সবাই বলে এই ঘটনার পর মিসেস বেনেট পাগল হয়ে গেছিলেন।সারাদিন এঘর ওঘর ছোটাছুটি করতেন অকারনেই।যখন তখন অকারনে চিল্লাচিল্লি করতেন। সবচেয়ে বাড়াবাড়ি ব্যপারটা ছিল মি.বেনেটকে নিয়ে।মিসেস বেনেট তার স্বামী মি বেনেটকে যেন সহ্যই করতে পারতেন না।তার ছায়াও মিসেস বেনেটের কাছে নরকের মত অসহ্য হয়ে গেল।এমনি করে চলল বেশ কিছু দিন।একদিন হঠাত্ করেই মিসেস বেনেট শান্ত হয়ে গেলেন।একদম চুপচাপ। কোন ছোটাছুটি না,চিল্লাচিল্লি না এমনকি তার কথাও বন্ধ হয়ে গেল।সারাদিন মৃত মেয়েদের ঘরে বসে থাকেন আর শান্ত দৃষ্টিতে চেয়ে থাকেন। নিজে তো ঘর থেকে বের হনই না,কাউকে ঐ ঘরে আসতেও দেন না।ঐ ঘরে ঢোকার অনুমতি শুধু একজনেরই ছিল।ঐ বাড়ীর পুরোনো কাজের মেয়ে মারিয়ার।মারিয়াই করতো জেনিফার বেনেটের সব কাজ।পুরো বাড়ীতে এমনকি পুরো গ্রামে এই একজনই ছিল যে জেনিফার বেনেটের সব খোজ জানত যা মি বেনেটও জানতো না । মেয়েরা মারা যাওয়ার পর থেকে মি বেনেট যেন তার স্ত্রীকেও হারালেন ।একই বাড়ীতে থাকেন অথচ চোখের দেখাটাও দেখতে পান না। সম্ভবত এই জিনিসটাই মি বেনেটকে একেবারে দুমড়ে মুচড়ে ফেললো।আগের সেই হাসিখুশি দানশীল মানুষটা কেমন যেন একগুয়ে আর বদরাগী হয়ে উঠলেন।সবসময়ই তার চেচামেচি আর খিচখিচানী লেগেই থাকতো ।কেমন যেন চোখের পলকে বিধ্বস্ত হয়ে গেল সাজানো গোছানো সুন্দর একটা পরিবার । হঠাত্ একদিন শোনা গেল মিসেস বেনেট আর মারিয়া কে পাওয়া যাচ্ছে না । ধারনা করা হলো,তারা বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে। চারিদিকে লোক লাগানো হল।তুমুল খোজাখুজি চলল কিন্তু ঈশ্বর সহায় হলেন না।তাদেরকে কোথাও পাওয়া গেলনা।এরই মাস দুয়েক পর আপনা আপনিই ফিরে এলেন মিসেস বেনেট।সাথে মারিয়াও ।একেবারে সুস্থ স্বাভাবিক আর হাসিখুশি আগের মত।শুধু গত দুমাস কোথায় ছিলেন এব্যাপরে দুজনের কেউই মুখ খুললেন না। সম্ভবত মিসেস বেনেটের সুস্থ হয়ে যাওয়াটাই মুখ্য ছিল মি বেনেটের কাছে তাই তিনিও ব্যপার টা নিয়ে আর ঘাটালেন না । আপাত দৃষ্টিতে সব ঠিকঠাক হয়ে গেলেও একমাসের ভিতর পরিস্থিতি আবার জট পাকিয়ে গেল।এবার নিখোঁজ হলেন মি বেনেট এবং মিসেস বেনেট ।আবার শুরু হল খোজাখুজি ।এবারও পাওয়া গেল না। সন্দেহের তীর গিয়ে পড়লো মারিয়ার উপর ।ধনাঢ্য এবং নিঃসন্তান বেনেট দম্পত্তির সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার জন্যে প্রথমে খুন এবং পরে গুমের অভিযোগ উঠল বাড়ীর একমাত্র কর্মচারী মারিয়ার উপর ।দুদিনের মাথায় সেও হাওয়া হয়ে গেল । সম্ভবত পালিয়েছে সে ।তবে অবাক করা বিষয় এটা ছিল যে বেনেট দম্পত্তির ব্যবহার্য সব জিনিসই আক্ষত আছে বাড়িতে ।তদন্ত, খোজাখুজি সবই চলতে লাগলো, কিন্তু চার মাসেও কোন হাল করতে না পেরে আসবাবপত্রসহ পুরো বাড়িটা একরকম বেআইনীভাবেই নিলামে তুলে দিল স্থানীয় সরকার।স্থানীয় কেউই সাহস পেল না বাড়িটা কেনার,তাই একরকম পানির দরেই বাড়ীটা কিনে নিল এক ব্যবসায়ী দম্পত্তি। House 666 কে অভিশপ্ত প্রমাণ করার জন্যই কিনা,একমাসের মাথায় ঐ ব্যবসায়ী দম্পত্তিও নিখোজ হলেন ঐ বাড়ি থেকে ।পুরো বাড়ী, পুরো গ্রাম, এমনকি পুরো শহর তন্ন তন্ন করে খুঁজেও কোন হদিস পাওয়া গেল না। সবাই বলতে লাগলো ঐ বাড়িতে কিছু একটা অবশ্যই আছে যার জন্যে একের পর এক মানুষ নিখোজ হচ্ছে।প্রথমে বেনেট দম্পত্তির দুই মেয়ে মারা গেল,তারপর বেনেট দম্পত্তি নিখোজ হলো,তারপর এই ব্যবসায়ী দম্পত্তিও উধাও।কিছু তো একটা আছেই ।এত খোজাখুজির পর ও যখন হদিস মিললো না তখন অগত্যা বাড়িটাকে সিলড্ করে দিল স্থানীয় সরকার।ব্যাস,House 666 হয়ে গেল ইভিল ইয়ার্ড।কেউ ছায়াও মাড়াতো না ঐ বাড়ির। শয়তানের নাকি পছন্দ হয়েছে বাড়ীটা।’ একনাগাড়ে গল্পটি বলে থামলো মেয়েটি । ‘তাহলে ঐ বাড়ীর আসল রহস্য কি? সত্যিই কি শয়তান ছিল নাকি বাড়িতে?’চোখ বড়বড় করে কৌতুহল ঢেলে কথাটা বলল ইসাবেল ‘যদি সত্যিই জানতে চান তবে গল্পটা এগুবে বটে। শুনবেন?’ বলল মেয়েটি। ‘অবশ্যই,’ বলেই মেয়েটির দিকে তাকালো ইসাবেল।চোখে মুখে স্পষ্ট কৌতুহল। মৃদু হেসে মেয়েটি আবার শুরু করল।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সংক্রমন-০১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now