বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সঙ্গিনী

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আজফার মুস্তাফিজ (০ পয়েন্ট)

X গল্পঃ সঙ্গিনী লেখকঃ আজফার মুস্তাফিজ ১| তিশার আজকাল মন ভালো থাকে না। কী একটা অজানা কারণে তার মন সবসময়ই খারাপ। তার স্কুল মাস্টার বাবা জামাল উদ্দিন কখনোই বুঝতে পারেন না সেটা। আঠারো বছরের একটা মেয়ে, সবসময় হাঁসি-খুশি, প্রফুল্ল থাকবে তা না সারাদিন বিষন্ন মুখে ঘরে বসে থাকে। তিশা নিজেও জানে না তার মন খারাপের কারণ কী! কিন্তু একদিন তার মন অনেক ভালো হয়ে গেল। আজ তার অনেক ভালো লাগছে। কিছু একটা ভেবে সে আয়নার সামনে গিয়ে বসল। তার চোখ দুটো খুব মায়াবী। সাজগোজের প্রয়োজন পড়ে না। সে এমনিতেই অনেক সুন্দরী। সে নারী রূপ সস্তা কিছু শব্দের দ্বারা বর্ননা করা সম্ভব নয়। সে চেষ্টা করাও অনুচিত। বলতে পারেন আমার দ্বারা সম্ভব হবে না। দুঃখিত। আজ সে সাজবে। চোখে কাজল দিল। আর কিছুই না। তারপর কেন জানি তার মনে হলো, শাড়ি পরলে ভালো হয় না! সে খুব একটা ভালো শাড়ি পরতে পারে না। কিন্তু একটা সবুজ রঙের শাড়ি গায়ে জড়িয়ে নেওয়ার পর আয়নায় নিজেকে একবার দেখলো। সবকিছুতেই তাকে দারুণ মানায়। তাদের বাড়িটি দুতলা। ওপরে সে ও ছোট ভাই থাকে। এবং নিচতলায় বাবা-মা। সে যখন সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছিল তার বাবা তখন টিভিতে খবর দেখছিলেন। জামাল উদ্দিন প্রায় অবসরে খবরের চ্যানেল নিয়ে পড়ে থাকেন। এই দেশে যদিও কখনোই ভালো খবর পাওয়া যাবে না। কিন্তু তিনি আশাবাদী। তিশার মা বাসার বিড়াল ছানাটিকে আদোর করছিলেন। সেটি প্রতিদিন তিশার পাশে আরাম করে ঘুমিয়ে থাকে। প্রথম তিনিই লক্ষ করলেন। তার মুখ হা হয়ে গেল। তিশার বাবা তাকে দেখে চিৎকার দিয়ে বললেন, "আরে আমার মেয়েকে কি সুন্দর লাগছে! এভাবে মাঝে মাঝে শাড়ি পরো না কেন?" তিশার মা বললেন, "কলেজ তো বন্ধ। কোথায় যাচ্ছিস?" তার মায়ের কন্ঠে কঠিন একটা শাসন পরিলক্ষিত। "আসলে মা, অনেকদিন বাসা থেকে বের হওয়া হয় না। ভাবছি একটু বান্ধবীর বাসা থেকে ঘুরে আসি।" জামাল উদ্দিন সাথে সাথে বললেন, "যাও মা, ঘুরে আসো।" তিনি মনে করলেন ঘুরাঘুরি করলে তিশার মন ভালো হয়ে যাবে। তিশা বাবার কাছে গিয়ে হাত বাড়িয়ে বলল,"পঞ্চাশ টাকা দাও তো।" তিশার বাবা একশো টাকার একটা নোট ধরিয়ে দিলেন। বাইরে একটা সাইকেলের ঝনমনে বেলের আওয়াজ শুনেই তিশার মন চঞ্চল হয়ে উঠলো। "আমি আসছি।" বলেই সে প্রায় ছুটে বেরিয়ে গেল। ২| পেছন থেকে ডাক দিল তিশা। হয়তো শুনতে পেল না। আবার ছেলেটিকে ডাক দিল সে। "এই সোহান, থাম না একটু।" সাইকেলের ব্রেক এ চাপ দিয়ে থামালো সে। পেছনে ফিরে তিশাকে দেখে তার চোখও কপালে উঠলো। একদৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল সে। তিশার গা জ্বলে গেল। কাছে গিয়ে মাথার পেছনে একটা চাঁটি মেরে বলল, "গাধা কোথাকার, এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন?" মাথা চুলকাতে-চুলকাতে সোহান বোকার মতো বলল, "তুই শাড়ি পরেছিস?" "দেখতে পাচ্ছিস না?" "ওহ আচ্ছা।" "কী আচ্ছা! বল আমাকে কেমন দেখাচ্ছে?" সোহান একবার তিশাকে আপাদমস্তক দেখে নিল। "ঠিকঠাকই তো মনে হচ্ছে। তুই কী নিজে নিজেই পরেছিস?" তিশা অভিমান করে বলল, "শুধুই ঠিকঠাক? এতো কষ্ট করে শাড়ি পরলাম! ধুর যাহ, তোর সাথে কথায় বলবো না।" পাতলা চটি পায়ে দ্রুত হেঁটে চলে গেল তিশা। পেছনে দাঁড়িয়ে সোহান আরও বোকা বনে গেল। "এমন কী বললাম?" গটগট করে হাঁটছিল সে। সাইকেল নিয়ে পাশে চলে এলো সোহান। "কী হয়েছে?" উত্তর দিল না তিশা। "কোথায় যাবি তুই?" রাগি চোখের দৃষ্টি নিক্ষেপণ করে সে বলল, "যেদিকে ইচ্ছা চলে যাব।" "ওহ আচ্ছা।" তিশার মাথায় রাগ আরও চড়াও হলো। একবার সোহানের দিকে তাকালো সে। এখন অনেক বেশি বোকা বোকা লাগছে। তিশার চোখে চোখ পড়িতেই সোহান আবার পায়ের দিকে তাকালো। তিশার মনে হচ্ছে সোহান তার দিকে তাকিয়ে আছে। কিন্তু সোহান ছেলেটা এমন না। মেয়েদের দিকে তাকাতে পারে না। দুইজন একসাথেই পড়ে। তিশা আবার সোহানের দিকে তাকালো। সে নিচের দিকেই তাকিয়ে আছে। "আচ্ছা তুই কী আমার সাথে সাথেই যাবি নাকি?" "কতদূর যাবি?" "বললাম তো যতদূর যাওয়া যায়।" "ধুর, তুই তো রাগ করে বললি।" "রাগ করবো কেন? তোর মতো বোকার ওপর রাগ করাও পাগলামি।" সোহান এবার হাসলো। হাঁসি দেখে তিশারও হাঁসি পাচ্ছিল। কিন্তু সে খুব শক্ত মেয়ে। চোখ-মুখ কঠিন করে তাকিয়ে বলল, "বল আমার সাথে যাবি কী না?" "তোর সাথে এভাবে একসাথে বেড়ালে, তোর আব্বা যদি জেনে যায়?" "জানলে কী হবে? বন্ধুর সাথে হাঁটলে কী হয়?" "না মানে.. ঐ আর কি!" দুজন হাঁটছে অনেকক্ষণ। উজিরপুরের গলি রাস্তা পেরিয়ে বড় সড়কে পৌঁছে গেছে তারা। একটা ছোট চায়ের দোকানে কিছু বখাটে ছেলে দাঁড়িয়ে ছিল। তারা কুৎসিত একটা নজরে দেখছিল তিশাকে। তিশা হঠাৎ সোহানের হাত চেপে ধরে বলল," দ্রুত চল।" একসময় কিছু সিটির আওয়াজ শোনা গেল। সোহান রেগে গিয়ে বললো, "দেখেছিস হারামীদের কাজ?" "ইশ, তোর মুখে গালি বিচ্ছিরী লাগে।" "কেন?" তিশা সোহানকে আগে কখনও গালি দিতে শোনেনি। "গালি দেবে রাস্তার ছেলেরা। তুই কেন দিবি?" "আমিও তো রাস্তার ছেলে। বিকেলে বাজারের রাস্তায় বসে বই বিক্রি করে পেট চালাই।" সেটা তিশাও জানে। সে নিজে অনেক বই সোহানের কাছ থেকে কিনেছে। এই ছোটখাটো গল্প-উপন্যাস কিংবা কবিতার৷ বেশি দামী বই সেখানে পাওয়া যাবে না। সোহানের কোনো দোকান নেই। এই সাইকেলের পেছেনই একটা বড় বাক্স মতো লাগিয়ে, তার ভেতর অপরূপ কায়দায় বই সাজিয়ে নিয়ে যায়। খুব কম মানুষই আসে। কিন্তু একটা কাস্টমার এলেই সোহানের চোখ ঝলমলিয়ে ওঠে। সে বইয়ের সকল মহীমা বর্ননা করতে শুরু করে দেই। তার বাবা নেই। আগে কাজ করার প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু এখন একা মা পড়াশোনা ও বাড়ির খরচ হয়তো চালাতে পারছে না। তাই কলেজে ভর্তির পর থেকে সে এই বইয়ের ব্যবসা করছে। অন্যকিছু করলে হয়তো আরও কিছু বেশি পয়সা পেত। তবে আগেও যেমন সে টেলেন্টপুলে বৃত্তি পেত, কলেজেও পাচ্ছে। এছাড়া সে সেবার এসএসসিতে জেলার ভেতর প্রথম হয়েছিল। তাই কলেজ কর্তীপক্ষ তার বেতন ও পরিক্ষার ফিস নেন না। এতে সে কিছু টাকা মায়ের হাতেও দিতে পারে। তার মা নিজে সেলাইয়ের ভালো কাজ পারেন। নিজেদেরই ছোট একটা বাড়ি আছে। দুই রূমের। মা ছেলের চলে যায় আর কি! তিশা মুখ ঝামটা মেরে বলল, "ধুর, তুই কী ওদের মতো নাকি? গালি দিবি না।" সোহান কোনো কথা বলে না। হাঁটতে থাকে। তারা। "এই ক্ষুদা লেগেছে।" সোহান তিশার দিকে তাকালো। বোঝায় যায়। গরম ও রোদের উত্তাপে ফর্সা গাল একদম লাল হয়ে আছে। বড় বড় নিশ্বাস নিচ্ছে। "চল বাড়ি যায়।" "কেন?" "তোর যা অবস্থা নিশ্চিত অসুখে পড়বি। আর তোর বাবা-মা জানলে আমাকে আস্ত রাখবে না।" "তুই কেমন পুরুষ মানুষ রে? এতো ভীতু কেন?" সোহানকে যদিও এখনও ছোটোই মনে হয়। কিন্তু এই কথায় তার সাহস জেগে গেল। "আচ্ছা দেখা যাক। কতদূর যেতে পারিস তুই।" দোকান থেকে কলা পাউরুটি কিনে খাওয়া হলো৷ আবার চলা। পরিচিত এলাকা পেরিয়ে গেল। এতদূর তিশা আগে কোনোদিন আসেনি। শরীরে প্রচুর ক্লান্তি তাও, তার আনন্দে চোখ চকচক করছে। সোহান বলল, "এই অনেক পাগলামি হয়েছে, এবার একটা রিকশায় উঠে বাড়ি চলে যা।" "যাব না। কী করবি?" "তুই অনেক জেদি একটা মেয়ে রে।" "তাতে তোর কী রে?" সোহান কোনো উত্তর খুঁজে পাই না। তিশার অনেক কথার উত্তর অনেকেই দিতে পারে না৷ হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। সোহানের চোখে আকাশের মতোই অন্ধকার নেমে আসে। যদি বৃষ্টি হয়! এই বৃষ্টির ভেতর কোথায় যাবে? রাস্তার আশেপাশে কোনো বাড়িঘর নেই। একদম সেই সময়ই ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি শুরু হলো। তিশা বৃষ্টিতে ভেজার আনন্দে লাফাতে শুরু করলো। কে বলবে মেয়েটার বয়স আঠারো! বৃষ্টির পানি তার ঠোঁট ছুয়ে যায়। শাড়ি ভিজে গায়ে লেপটে জড়িয়ে যায়। সোহানের মনে হয় তার সামনে একটা বাচ্চা লাফালাফি করছে। আর এর কারণেই তার কপালে আজ দুঃখ আছে। একটা ছোট চালা দেওয়া মাটির ভাঙা ঘর মতো জায়গায় আশ্রয় নিল তারা৷ পরিত্যক্ত ঘরটি ঝুম বৃষ্টির পানি থেকে তাদের বাঁচাতে পারলো না। মাটির মেঝে কাদা হয়ে গেছে। একসময় পিছলে পড়ে যাচ্ছিল তিশা। খপ করে সোহানের শার্ট চেপে ধরলো। পটপট করে ওপরে দুইটি বোতাম ছিড়ে গেল। পুরোনো জামা তো তাই। তিশা তাও সামলাতে পারছিল না। আবার পিছলে গেল। সোহান ভালো যে তাকে চেপে ধরলো। অনেক ভয় পেয়েছে মেয়েটা। একদম সোহানের বুকের কাছে চলে এলো সে। কিন্তু কেন জানি মনে হচ্ছে তার থেকে বেশি ভয় সোহান পেয়েছে। বুকের ধুকপুকানি তারই বেশি শোনা যাচ্ছে। "ইশ, ছিড়ে দিলি তো।" তিশা কেমন একটা ঘোরমাখা নজরে মুখ ওপরে তুললো। চোখ চোখ রাখল। প্রকৃতি অনুকূল। শেষ বিকেল। বৃষ্টির কারণে অন্ধকার হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে অনেক আগেই সন্ধ্যা পেরিয়ে গেছে। দুটি উত্তপ্ত প্রাণ। আর কিছু সস্তা শব্দের বর্ননা, সকল রোমান্টিকতা এখানেই মিলেমিশে একাকার? কিন্তু না। সোহান ছেড়ে দিল তিশাকে। সত্যিই দুটি বোতামের জায়গায় কাপড়ও ছিড়ে গেছে। কেউ কোনো কথা বলতে পারে না। চুপচাপ। অসহ্য একটা নিরবতা। হঠাৎ তিশা বলে, "সোহান আমার হাতটা ধরবি?" সোহান না বলতে পারে না। পারবেও না৷ তিশার ডান হাতটা আলতো করে ধরে দাড়ায়। "তুই আমাকে ভালোবাসিস তাই না? বলিস না কেন? আমি তোকে অনেক ভালোবাসি কিন্তু।" বৃষ্টির জন্য মনে হয় শুনতে পেল না সোহান। কথা ঠিকঠাক বোঝা যায় না। আবার অসহ্য নিরবতা। বৃষ্টি থেমে গেল। ভাগ্য ভালো। রাস্তায় উঠতে একটা সিএনজি পেয়ে তিশাকে জোর করে উঠিয়ে দিল সোহান। "কোনো কথা না। একদম বাড়িতে গিয়ে নামবি।" "তাড়িয়ে দিচ্ছিস? হয়তো আর ফিরে আসা হবে না রে।" সোহান বুঝতে পারে না কিছুই। চোখে পানি? তিশা কেন কাঁদবে! তার থেকেও বড় কথা মনে হচ্ছে সেও কেঁদে ফেলবে। কিন্তু ছেলেদের তো কাঁদতে নেই। বিখ্যাত মানুষের কথা। ৩| এসএসসি পরিক্ষা দেওয়া এলাকার একটি ছেলে চায়ের দোকানে এসে কাঁচুমাচু করে সিগারেট চাচ্ছে। দোকানিও অবাক। ছেলেটির নাম রনো। অসম্ভব ভালো ছেলে। সোহান নিজের দোকানে বসে সব দেখেছে। রনো যখন চলে যাচ্ছিল হাত তুলে তাকে ডাক দিল সে। তিনি এলাকার বড় ভাই। তার ডাকে সাড়া না দিয়ে পারা যাবে না। "কী খবর?" "এই তো ভাই ভালো। তোমার?" জবাব দিল না সোহান। "আর লাইব্রেরিতে আসিস না কেন?" আর কোনো ব্যাক্তিকে লাইব্রেরিতে দেখা না গেলেও, এই ছেলেকে রোজ দুই বেলা করে পাওয়া যেত৷ বন্ধুরা তার বাড়িতে না গিয়ে লাইব্রেরিতে খোঁজ করতে আসতো। মাঝে মাঝে বন্ধুদেরকেউ বই ধরিয়ে দিত। সোহানের বইয়ের দোকানে সবাই চাইলেই ফ্রিতে বই পড়তে পারে৷ রনো অবাক হয়, এই সুযোগ কেন হেলায় হারাচ্ছে মানুষ। সোহানের লাইব্রেরীতে অনেক বই। অনেক। বিশাল দোকান। রনো ভাবে একদিন সব পড়ে ফেলবে। "আসলে পড়ালেখার খুব চাপ ভাই।" রনো চোরের মতো বলল৷ ভ্রু কুচকে সোহান প্রশ্ন করল, "কলেজের পড়া শুরু করে দিয়েছিস? বাহ ভালোই তো।" ধরা পড়ে গেছে সে। "এই, সিগারেট কার জন্য?" "আসলে ভাই, আমি খাই না। আমার কিছু বন্ধুরা.." "থাম! বের কর। কতদিন হলো খাস?" সিগারেটের প্যাকেট নিয়ে নিল সোহান। একটি ধরিয়ে ঠোঁটে গুজল। প্যাকেটটা নিজের পকেটে ধুকিয়ে নিল। "বললি না। কতদিন?" "সত্যিই বলছি ভাই। দুই একটাই খেয়েছি আগে। বাড়িতে বলো না প্লিজ।" "ভয় পাচ্ছিস? ভয় নেই। নে।" ঐ সিগারেটটাই দিল সোহান। রনো ভয়ে ভয়ে হাতে নিল। "বল কী ব্যাপার? শুনলাম পত্রিকায় লেখা পাঠাস?" রনো অবাক হয়ে গেল। সে ভেবেছিল আজ তার কপালে দুঃখ আছে। বাড়ির সবাই নিশ্চিত জেনে যাবে। রনো একটা মিথ্যা হাঁসি দিল। সোহানও হাসল। "না আসলে, এই আর কি! এমনিই। ছাপা হয় না।" "পাঠাতে থাক। একদিন হবেই।" রনোর পিঠ চাপড়ে দেই সোহান। এবার একটু গম্ভীরমুখে বলল, "এবার বল আসলেই কী ব্যাপার? প্রেম-ভালোবাসা নাকি?" রনোর মুখ শুকিয়ে গেল। সোহান ভাই ধরে ফেলেছে। রনোকে ছোট থেকেই চেনে সোহান। "শোন এইসব আবেগীয় ব্যাপার। প্রেম কর, ভালোবাস। সমস্যা নেই। কিন্তু নিজের ক্ষতি করা উচিত হচ্ছে কী?" "না, আসলে ভাই..।" "কী? প্রেমিকা ছেড়ে দিয়েছে? ছ্যাকা খেয়ে ব্যাকা হয়ে, দেবদাস সেজে হুঁকো টানলে হবে?" একটা অট্টহাসি হাসে সোহান। এবার রনো নিজেও হেসে ফেলে। সোহান ভাইয়ের হাঁসিটা অসাধারণ। দেখলে সবার মন ভালো হয়ে যায়। "দে, সিগারেট দে।" রনো মুখে না দিয়ে হাতেই ধরে ছিল। "এটা তোর মতো পিচ্চির জন্য না। আগে পুরুষ হয়ে নে।" রনোর আবার মন খারাপ হয়ে গেল। সোহান ভাই দুই কাঁধে হাত রেখে বলল, "এই বয়সে প্রেম হচ্ছে মাস্টারবেসনের মতো, ক্ষনিকের সুখে ভাসা। মাস্টারবেট করিস?" রনোর গাল লাল হয়ে গেল। সোহান আবারও হাসলো। "ঝেড়ে ফেলে দিস। শান্তি পাবি।" রনো বলল, "সোহান ভাই, আপনি হয়তো বুঝবেন না। আমার মানসিক অবস্থা খুব খারাপ। তাই.." "সত্যিকারের ভালোবাসতি নাকি?" রনো কিছু বলছে না। তার চোখ টলমল করে উঠছে। কিন্তু ছেলেদের তো কাঁদা বারন। সোহান ভাই ওকে চেঁপে ধরে বলল, "আরে বোকা। তুই এসবের ভেতর যাবি কেন? টাকা ইনকামের চিন্তা কর, হাজার প্রেম আসবে। একটা গল্প শুনবি?" "কীসের গল্প?" "এই একটা বৃষ্টি ও রাস্তার গল্প। প্রেমের গল্প।" গল্প শেষে কিছু প্রশ্ন এসে গেল রনোর মাথায়। "তুমি কী মেয়েটিকে ভালোবাসতে? মেয়েটি এখন কোথায়?" "জানি না রে।" "কেন?" সোহান হাসলো, "তখন টাকা ছিল না। চাকরি ছিল না। তাই ভালোবাসা বলেও কিছু ছিল না।" "আর এখন? " "এখনোও তো চাকরি নেই। সেই বাজারের রাস্তার পাশেই আছি৷ বইগুলো ছিল, আছে। সংসার বড় হয়েছে শুধু।" "তুমি তো কিছুদিন ভালো একটা সরকারি চাকরি করলে। ব্যাংকে মনে হয়। সেটা ছাড়লে কেন?" "অনেক টাকা হয়ে যাচ্ছিল। টাকা হয়ে গেলে আর মানুষ থাকা যায় না। এখনই ভালো কিছু টাকা হয়েছিল আর ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে এই বিশাল রাজত্ব বানিয়েছি। টুকটাক করে চলছি। মাথার ওপর ঋণ থাকলে মনুষ্যত্ব বজায় থাকবে।" "আচ্ছা! তাহলে বিয়ে করছ না কেন তুমি? ঐ মেয়ের জন্য..?" "আরে না! আমার যখন টাকা হয়ে গিয়েছিল, ভাবলাম একটা পিচ্চি মেয়ে বিয়ের নামে কিনে আনলে কেমন হয়? তবে তারপর আর মন সাই দিল না। অন্যের ভালোবাসা ছিনিয়ে নিচ্ছি না তো? এমন ভয় হলো। বাদ দিলাম।" "বাহ, সোহান ভাই! তোমার গল্পটা তো দারুন।" "কি বলিস?" "হ্যাঁ। একদম লেখার মতো। আমি ভাবছি লিখে ফেললে কেমন হয়?" "হ। লিখতে থাক। শোন কিছু বাড়িয়ে, নাড়িয়ে, গুলিয়ে, মিশিয়ে লিখবি। আর মাঝে মাঝে শুধু ১৮+ ঢুকিয়ে দিবি। তাহলে অনেক পাঠক আসবেই।" "ধুর, কী যে বলো!" "আরে মজা করছিলাম। দাড়া।" সোহান লাইব্রেরির তাক থেকে একটা মোটা বই নিয়ে এলো। "এই নে শরৎ সমগ্র। ফ্রি দিলাম তোকে। গিয়ে দেবদাস পড়বি। তারপর দেবদাসের মতোই একটা গল্প লিখবি।" রনো সত্যি সত্যি বাড়ি গিয়ে লিখতে বসেছিল। কিন্তু দুই লাইনও লিখতে না পেরে একটা বিচ্ছিরি গালি বের করে বলল, "আমার দ্বারা লেখা হবে না।" ।সমাপ্ত। ©আজফার মুস্তাফিজ


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সঙ্গিনী
→ জীবন সঙ্গিনী

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now