বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সঙ্গীহীন অন্ধকারে

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X “সঙ্গীহীন অন্ধকারে” - আনিকা তাবাসসুম বৃষ্টি ১। ভোর বেলাতেই ঘুম ভেঙ্গে যায় নিশির । শীতের সকাল । উঠতে আলসেমি লাগলেও উঠে বসলো সে ।পাশ ফিরে পার্থকে দেখলো । ভোরের এই সময়টা খুব প্রিয় নিশির । হালকা রোদ পড়েছে পার্থর মুখে । দেখতেই ভালো লাগছে । আলতো করে একটু ছুঁয়ে দিল সে । সাথে সাথেই পার্থ চোখ মেললো । একটুতেই ঘুম ভেঙ্গে যায় ছেলেটার । নিশি একটু অপ্রস্তুত হয়ে দ্রুত উঠে পড়লো বিছানা থেকে । - পার্থ , সাড়ে ৬টা বাজে । তোমার ৮টায় না ফ্লাইট ?? - এইযে উঠে যাচ্ছি । এক কাপ চা , প্লিইজ ... - চা আনছি । গিজার অন করে দিয়েছি । গোসলটা আগে করে নাও । চট করে ফ্রেশ হয়ে নাশ্তা রেডি করে টেবিলে সাজায় নিশি । - তোমার চা । - টেবিলে রাখো । একবারেই খেয়ে নিব । - ঠাণ্ডা হয়ে যাবেতো । ধর তুমি । তুমি খেতে থাক । শার্টের বোতাম আমি লাগিয়ে দিচ্ছি । - থ্যাঙ্ক ইউ । - আচ্ছা, কবে ফিরবে ?? - এইযে তোমার এইটাই একদম ভাল লাগে না । এক কথা কতবার জিজ্ঞেস করবা ?? নিশি কেমন মিইয়ে যায় । লজ্জাবতীর নেতিয়ে পড়া পাতার মতন ।মুখে কিছুই বলে না । দ্রুত হাতে সব এক এক করে বুঝিয়ে দেয় পার্থর হাতে । কোনমতে একটু মুখে দিয়ে উঠে দাঁড়ায় পার্থ । - ওকে । আসছি তাহলে । - নাশতা তো শেষ করলেনা । - আর টাইম নেই । ফ্লাইট মিস করবো তাহলে । - আচ্ছা, আপেলটা নাও । খেতে খেতে যাও । হেসে ফেলে পার্থ । - আচ্ছা দাও । তুমি কিন্তু এয়ারপোর্টে যেতে পারতে । - না থাক । যাও তুমি । আল্লাহ হাফেয । দরজাটা বন্ধ করে একদম একা হয়ে যায় নিশি । একদম একা । খুব ইচ্ছা করছিল পার্থর সাথে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত যেতে । কিন্তু পার্থ এখন মুখে যাই বলুক ও চায় না। অফিসের লোকজন থাকবে... সারাটা ঘর এলোমেলো । কিচ্ছু ধরতে ইচ্ছা করছে না তার ।টেবিলে খাবার পড়ে থাকে । ঘরে গিয়ে বসে থাকে নিশি । প্রায়ই পার্থ এমন অফিসিয়াল ট্যুরে দেশে বা দেশের বাইরে যায় । যেতে হয় । প্রত্যেক বার ই তার এমন লাগে । অদ্ভূত দলা পাকানো একটা কান্না আটকে থাকে ভিতরে ।পার্থকে ছাড়া একটা দিন ও ভালো লাগে না তার । ২। - এইযে মিঃ , এতক্ষণে বুঝি আসার সময় হল আপনার ?? - স্যরি জয়া । একদম স্যরি । উঠতে দেরি হয়ে গেছিল আজ । - ওকে ।ফর দিস টাইম , মাফ করলাম , যাও । এখন বলো , নিশি কেমন আছে ? - ও আছে ওর মতন । কাজগুলো গুছানো আছে তো ? - সব রেডি ।কদ্দিন লাগবে আমাদের ? - ৩ দিন এনাফ ছিল । আর আসা যাওয়া ধরলে ৫ দিন । তবু ৮ দিন ই ধরেছি । তুমি তো কখনো বাইরে যাওনি । ঘুরবে একটু । লাগেজ নিয়ে প্লেনের দিকে এগোয় জয়া আর পার্থ । - তোমাকে বাসা থেকে এলাও করলো তাহলে ?? - না করার কি আছে ? অফিসের কাজে যাচ্ছি । বসের সাথে । বয়ফ্রেণ্ড তো নয় । - তাই নাকি ?? হেসে ফেলে পার্থ । জয়াও হাসে ... হাসতে হাসতেই বলে, - না আসতে দিলে খুশি হতে ?? - হুমম । - তোমাকে খুশি করতে পারলাম না বলে স্যরি । যাও , আমি এখন ঘুমাব । - লাইফে ফার্স্ট টাইম প্লেনে । তুমি ঘুমাবা ??? এনজয় ইট । - তুমি এনজয় কর । - আমার প্লেন ভাল লাগে না । - কি ভাল লাগে ?? ট্রেনে করে ঘুরতে ??? - কি করে জানলে ?? - নিশি বলেছিল ওর ট্রেন জার্নি খুব প্রিয় । ঐ খান থেকে গেস করলাম । পার্থ চুপ হয়ে গেল । - তোমাদের এত মিল পার্থ । তবু কেন এডজাস্ট হল না ??? - কে বললো হয়নি ? নিশি তো দিব্যি করে নিয়েছে আমার সবকিছুর সাথে... বিড়বিড় করে বলে পার্থ । অন্যমনস্ক হয়ে যায় । জয়াও আর কিছু বলে না ।। । । । - এই নাও , তোমার চাবি । ৫টা পর্যন্ত সময় দিলাম । ফ্রেশ হও , ঘুমাও , যা খুশি কর । ঠিক ৫টায় লবিতে মিট করছি । ওকে ? - সন্ধ্যার মিটিং শেষে একটু শপিং এ যাব প্লিজ ??? - আচ্ছা, নিয়ে যাব । তাহলে এখানে আর ডিনার করছি না । বাইরে করে নিব । - আচ্ছা । - আর ও আর একটা কথা । মানে ... - কি হল ? এমন ইতস্তত করছ কেন ? - রুম দুইটা নিয়েছি কেন বুঝতে তো পারছ ? আই মিন মাইন্ড তো করো নি । - উফফ , এই ব্যপার । এতটুক বুদ্ধি আমার আছে মিঃ পার্থ । আর মাইন্ড করার প্রশ্নই আসে না । জাস্ট টেল মি , মাই প্লেস অর ইওরস ? - ইওরস উইল বি বেটার । - ওকে । বি দেয়ার এট এলিভেন , ইজ ইট ওকে ? - মোর দ্যান ওকে । ইটস পারফেক্ট ! ৯০৩ আর ৯১৫ । দুই প্রান্তে ২টা রুম । দুজন হাঁটতে থাকে দুইদিকে । ৩। আবছা জালের মত পাতলা মেঘে ভরা আকাশ । আসন্ন শীতের ছায়ায় ঢেকে আছে ঢাকা শহর । বারান্দায় চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে নিশি । একটু আগেই কারেন্ট গেছে । জেনারেটরের শব্দে চারপাশটা অসহ্য লাগছে । কোথাও আলো জ্বলছে না । রাত প্রায় ১টা ।রাস্তার আলো গুলোও জ্বলছে না । আকাশে শুধু একফালি চাঁদ । ব্যথায় নীল হয়ে যাচ্ছে নিশি । প্রচণ্ড কষ্ট পাচ্ছে সে ।এমন একটা কথা । অথচ নিশি একাই জানে কেবল । কাউকে বলে নি সে এখনও । পার্থের জন্য অপেক্ষা করে যাচ্ছে ।এমন একটা দিন , যদি থাকতো !! কয়েকবার ফোন দিয়েছে ! প্রতিবার কেটে দিয়েছে পার্থ । তার পার্থ এমন কেন হয়ে যাচ্ছে ?? এত দূর , এত এত দূর কেন সরে যাচ্ছে ?? অনেক আগের একটা রাতের কথা মনে হয় নিশির ।সেদিন একগুচ্ছ রজনী গন্ধা নিয়ে এসেছিল হাতে করে । দরজা খুলে দিতেই ফুলগুলো বাড়িয়ে ঘোরলাগা আবেগী গোলায় আবৃত্তি করে উঠলো – “আমি যদি হঠাত্ করেই, পেছন থেকে তোমার চোখে আঙুল চেপে বলেই ফেলি "বলতো কে?" ভিন্ন স্বরে - কাঁপছো তুমি,ভাবছো ডরে কে আর তোমায় এমন করে, দিচ্ছে ছোঁয়া - দু চোখ ধোয়া পাগলামি সব তোমায় ঘিরে, কি জ্বালাতন - কি জ্বালাতন” পার্থটা এমন কেন হয়ে গেল ???? কেন ?? এই ছেলে এত যে ভালবাসতো নিশিকে , কি করে বদলে গেল এইভাবে ??? কাল সকালে পার্থ ফিরছে । নিশি কি যাবে ? যাবে পার্থকে আনতে এয়ারপোর্টে ? পার্থকে না দেখে অস্থির লাগছে তার । কথাটা না বলা পর্যন্ত সে শান্তি ও পাচ্ছে না । নিশি যাবেই । ৪। - তোমাকে কে আসতে বলেছে বলতো ?? অযথা ঝামেলা যে করনা ! আমি কি বাসায় যেতে পারতাম না । - রাগ করছ কেন ?? তোমাকে অনেকদিন দেখিনা । এজন্যি তো... - দেখ না তো কি ??? আমি তো বাড়িতেই যেতাম । নাকি ?? মনটা খারাপ হয়ে গেল নিশির । জানতো এমন কিছুই হবে । তবু এল সে । কেন যে এল ?? আসলেই তো । পার্থ তো বাসাতেই যেত । আর একটু অপেক্ষা নাহয় করতই সে । ড্রাইভিং সিটে বসলো নিশি । বিরক্তমুখে পার্থও উঠে বসল । অল্প দূরে জয়া দাঁড়িয়ে । বিশ্রীভাবে শেষ হল সব । জয়াকে নিজে বাড়ী পৌছে দিবে ভেবেছিল । নিশিকে বলেছিল ড্রাইভার দিয়ে গাড়ি পাঠিয়ে দিতে । সেখানে নিশি কি করলো?? এখন এই রাতে মেয়েটা ট্যক্সি ধরে যাবে ? ... ... - পার্থ , এইই ... ঘুমিয়ে গেছ ?? - না । বলো । - আমার উপর খুব রাগ করেছ ?? - না । - খেলে না যে ? - খেতে ইচ্ছা করেনি তাই খাইনি । - মিথ্যে কথা । তুমি রাগ করে আছ । আস না প্লিইজ । লহ্মী না ?? আমি এত কষ্ট করে রান্না করলাম । আর তুমি টেবিলে বসলেই না ??? চোখ খুলে নিশির দিকে তাকালো পার্থ । হাল্কা বেগুনি একটা তাঁতের শাড়ি অগোছালো হয়ে আছে গায়ে । চুলটা খোপা করা । নীল আলোতে ভীষণ মায়াবী লাগছে মুখটা । কেমন বিষন্ন ... নিশি ... –আদর আদর গলায় ডাকল পার্থ । - বলো । - এখন খেতে ইচ্ছে করছে আবার । একটু গরম করে দিবা ??? ১০০ ওয়াটের আলো জ্বলে উঠলো তার চোখে মুখে । ছুটে রান্নাঘরে গেল সে । রাত গভীর হয় । পার্থর আরো একটু কাছে যেতে চায় নিশি ।নিশিকে একহাতে জড়িয়ে ধরে পার্থ । অনেকদিন পর হঠাত নিশির ঠোঁটে ঠোঁট রাখে সে । মাদকতায় ডুবে যায় নিশি । ঘুমিয়ে যায় একসময় পার্থ । ঘুম আসে না নিশির । নিজেকে পৃথিবীতে সবচাইতে সুখী মনে হয় তার । ৫। - কি খবর , জয়া । - এইত । স্যার ফাইলটা... ‘স্যার’ শব্দটা কানে কেমন যেন লাগলো তার । - রাতের জন্য রাগ করে আছ ?? আমি স্যরি জয়া । - স্যরি বলছেন কেন ?? ইটস ওকে ।ম্যাম তো আসতেই পারেন । রাগের থেকে অভিমান টাই বেশী কাজ করছে । বুঝে পার্থ । হঠাত করেই ভুলে যায় সব আবার । কাল রাতের কথা । নিশির কথা । মাথাটা কেমন ফাঁকা লাগে । সেখানে শুধু জয়া আছে । গভীরভাবে । আর কিছু না । কেমন একটা টান । নিশি সুন্দর , তবু এমন ভিত কাঁপানো সৌন্দর্য কোথায় তার ?? - জয়া , ২টায় Xian এ তোমাকে দেখতে চাই । - কেন ? - ইটস মাই অর্ডার । কথাটা কেটে কেটে বলে পার্থ । তার কণ্ঠে এমন কিছু থাকে জয়া চুপ হয়ে যায় । আবছা আলোয় স্পষ্ট জয়ার ফর্সা মুখটা দেখে পার্থ ।গাঢ় করে কাজল টানা । পার্থর হাতে হাত টা রাখে জয়া । জয়ার উষ্ণতা পাগল করে দেয় পার্থকে । সব ভুলিয়ে দেয়... নিশিকে ও । কিছু বলতে যাবে , তখনি শার্টের পকেটে ফোনটা বেজে ওঠে । নিশির ফোন । ফোনটা কেটে দিয়ে সাইলেন্ট করে দেয় পার্থ । জয়ার ধরে রাখা হাতটা ছাড়ে না পার্থ । দুজনে ডুবে যায় ভবিষ্যতের ভাবনায় । তাদের সম্পর্কের পরিণতি নিয়ে । নীরবতায় আটকে পড়ে অযথাই দুজনে । সত্যের মুখোমুখি হতে ভয় । হঠাত কি হয় পার্থর ! দুহাতে চেপে ধরে জয়ার হাত । মৃদু হাসে জয়া । অফিসে ফিরে ফোনটা হাতে নেয় পার্থ । 4 missed calls ... 1 message received ... সবই নিশির । “ tmr officer pashe xian e ashsi.... ami ar tuli .... ektu ashte parba... please ????’’ “oh god !” বিড়বিড় করতে থাকে পার্থ । তারমানে ওখানে নিশিও... আর ভাবতে পারে না । চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ায় সে । লুকোচুরি অনেক হয়েছে ।সব এবার সামনাসামনি হওয়া উচিত । আজ এখনই নিশির মুখোমুখি হবে পার্থ । আমি আর পারছি না। অনেক হয়েছে । অফিস থেকে বের হয় পার্থ । তখনও দিনের আলো মরেনি । গাড়ীটা ইচ্ছে করেই নেয় না । বাসার দিকে হাটতে থাকে সে । তখনি তার সামনে ছোট্ট একটা মেয়েকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায় একটা সিএনজি । হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে পার্থ । তার সামনে মেয়েটা পড়ে আছে ।রক্তাক্ত হয়ে । সবাই ঘিরে ধরছে । সবার সাথে সাথে সেও মেয়েটাকে নিয়ে পাশের হসপিটালে যেতে থাকে । “O-” রক্ত লাগবে । দেখুন জোগার করতে পারেন কিনা ... – ডক্টর একথা বলেই আবার ওটিতে চলে যায় । তখনি মনে পড়ে পার্থর , তার ব্লাড গ্রুপ ও তো “O-” ... এগিয়ে যায় সে । - জয়া , তোমার ব্লাড গ্রুপ কি “O-” ??? - নাতো । কেন ?? - না , এমনি । একটা বাচ্চা মেয়ের জন্য লাগত । - তুমি কই ? - সিটি হসপিটালে । - আমি ও আসছি , দাঁড়াও । “এক্সকিউজ মি , মিঃ পার্থ , এই মূহুর্তে ব্লাড আমরা ম্যনেজ করছি । আপনার টা নেয়া যাচ্ছে না । আপনি একটু এদিকে আসুন ।” ডক্টরের কথায় ভিতরে ভিতরে ভয় পেয়ে যায় পার্থ । ততক্ষণে জয়া এসে পড়েছে । জয়া পার্থর হাতটা এসে ধরে । সাহস পায় পার্থ । ডক্টর অনুপমের পিছনে তারা দুজন এগিয়ে যায় । “সিট ডাউন প্লিজ ।” “এনি প্রব্লেম , ডক্টর ? ” “দেখুন , আপনার ব্লাডে ... আপনার ব্লাডে HIV+............ কোনো কথা মাথায় ঢুকে না পার্থর । বিস্ফোরিত চোখে তাকিয়ে থাকে সে । এক মূহুর্তে সব শূণ্য লাগে ।তাকিয়েই থাকে সে । তাকিয়েই থাকে । অমোঘ এক নিয়তির দিকে । ডক্টর জয়ার দিকে তাকায় । - আপনি কি উনার ওয়াইফ ?? আঁতকে উঠে জয়া । - নানা, আমি উনার কলিগ । আর কিছু না । অদ্ভূত দৃষ্টিতে তার দিকে তাকায় পার্থ । সে দৃষ্টি গ্রাহ্যই করে না জয়া । - তাহলে উনার ওয়াইফ কে ও একটু টেস্ট করাতে হবে । দেখুন , মিঃ পার্থ , প্লিজ একটু শুনুন । আপনাকে...... কোন কথাই শুনে না সে । ছুটে বের হয়ে যায় পার্থ । ৬। ৭/৮টা দিন কেটে গেল এলোমেলো । বাসায় থাকে পার্থ । অফিসে যায় না । এর মধ্যেই খবর পেয়েছে জয়া রিজাইন করেছে । কোন ভাবান্তর হয় নি তার । সেই একভাবেই পড়ে আছে সে । নিশির সাথে । নিশি জানে না কি হয়েছে , কিন্তু বোঝে কিছু একটা হয়েছে । জানতে চেয়েছে অনেকবার । কিচ্ছু বলেনি পার্থ । কেমন অসহায়ের মত চুপচাপ পড়ে থাকে । এত মায়া লাগে নিশির ... ৩ মাস তাদের বাবুটার । এখনও বাবুটার বাবাই জানে না । কেন যেনো বলতে পারছে না । এখনো কাউকে বলেনি । শুধু মা জানেন । বাবুটার বাবাই বা কি ??? কিচ্ছু দেখে না ?? কিচ্ছু বুঝতে পারে না ???? আশ্চর্য লোক একটা !!! - পার্থ... চোখ তুলে তাকায় পার্থ । চোখ দুইটা এত বিষন্ন ! বুকটা ব্যথা করে ওঠে নিশির । জড়িয়ে ধরে পার্থকে সে । - নিশি ??? - হুমমম ? - তুমি আমাকে ডিভোর্স দিয়ে দাও নিশি । এক ঝটকায় উঠে বসে নিশি । বিছানা থেকে নেমে লাইট অন করে সে । - আমি তোমাকে ডিভোর্স দিব ?? কেন ??? কি হয়েছে তোমার ?? কেন তুমি এমন করছ , পার্থ ??? অনেক দিন ধরে খেয়াল করছি তুমি আমাকে আর সহ্য করতে পারছ না । তুমি জয়ার কাছেই যেতে চাও তাহলে ?? বল ... - এখানে জয়াকে টানছ কেন ?? - তো কাকে টানবো?? তুমিই বলে দাও । জয়াই তো এখন সব কিছু । এয়ারপোর্টে তুমি কেন ওর হাত ধরে ছিলে ?? বল । অফিসের কাজে জয়াকে নিয়ে থাইল্যণ্ড গেছ । ভাল কথা । ওর হাত ধরে থাকাটা ও কী অফিসের কাজ় ??? বল xian এ তুমি কি করছিলে বল তার সাথে ??? জানতে চেয়েছিলাম আমি ? - নিশি , শোন... - না , আমার কথা তুমি শোন । দিনের পর দিন আমাকে আভয়েড করেছো । একটা কথাও শুনোনা ।রাতে ফিরো যখন খুশী । আমি খাবার নিয়ে প্রতিটা রাত বসে থাকি আর তুমি জয়াকে নিয়ে বাইরে থেকে খেয়ে আসো । আমি খেয়েছি কিনা জানতেও চাও না । পাগলের মত কাঁদে নিশি । কিছুই বলে না পার্থ । বলার কিছু নেই ও তার । - আমি পারতাম তোমাকে ছেড়ে যেতে ... যাইনি । কেন ??আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারিনা পার্থ । আমি জানিনা আমি পাগল কি না। কিন্তু আমি পারিনা । আমি তোমাকে না দেখে থাকতে পারবো না । আমি মরে যাব । - সেটা তুমি আমার সাথে থাকলেও যাবে । আমি তোমার কাছে ক্ষমাও চাইছি না । কারন ক্ষমা পাওয়ার কোন অধিকার নেই আমার । শুধু তোমার বাকিটা জীবন আমি আর নষ্ট করতে চাই না । তুমি চলে যাও নিশি । সেদিন একটা বাচ্চা কে রক্ত দিতে গিয়ে জেনেছি , HIV + আমার । অবিশ্বাসী্র দৃষ্টি নিয়ে স্তব্ধ দাঁড়িয়ে থাকে নিশি । দুহাতে মুখ ঢেকে শিশুদের মত কাঁদতে থাকে পার্থ । তাতেও বিচলিত হয় না নিশি । আলতো একটা হাত রাখে পেটের উপর । ‘পার্থ , তাহলে ওর কি হবে ????” – গলায় জড়তা নিশির । কিছু বলার আগেই পার্থর কোলে এলিয়ে পড়ে নিশি । ‘নিশি তুমি কার কথা বলছ ??? ক্লান্ত দু হাতে আগলে ধরে যেন পেটের ভেতর একটা শিশুকে নিশি । - নিশি... তুমি...। আমাকে বলনি কেন ??? - বলতে চেয়েছি । পারিনি । সময় হয়নি তোমার... এখন কি হবে ?? ওর কি হবে ? ও তো ভাল আছে না ?? । তুমি আমাকে ধরে রাখ প্লিজ । আমি পারছি না ।আমাদের বাবুটার কিছু হবেনাতো, তাইনা ?? কিছুই বলে না পার্থ । চোখের পানি ও আসছে না আর ।অসহায়ের মত দুজন দুজনকে দেখে । এভাবেই পড়ে থাকে দুজন অনেকটা সময় । ঘণ্টার পর ঘণ্টা । কখন সকাল হয়ে নতুন আলোর দিশা ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবীতে টের পায় না কেউ । ফোনের শব্দে ঘোর ভাঙ্গে পার্থর । মূর্তির মত পড়ে থাকা নিশিকে কোলে নিয়ে বিছানায় রাখে পার্থ । তারপর ফোনটা ধরে । অচেনা নাম্বার । - হ্যালো , পার্থ বলছেন ?? - জী। - আমি ডক্টন নীহার বলছি , সিটি হসপিটাল থেকে । - জি বলেন । - আমি খুব দুঃখিত এত সকালে বিরক্ত করার জন্য । কিন্তু ব্যপারটা জরুরি । আপনি ডক্টর অনুপমকে চেনেন ?? - নাতো , কেন ? - আপনি একটা বাচ্চা কে ব্লাড দিতে এসেছিলেন , মনে আছে ? - জি মনে আছে । - তখন ডঃ অনুপম আপনাকে যে ব্লাড রিপোর্ট দিয়েছেন সেটা ভুল ছিল । আপনার ব্লাডে এমন কোন ভাইরাস ই নেই । অন্য একজনের রিপোর্ট এর সাথে এক্সচেঞ্জ হয়ে গিয়েছিল । - কি ?? - আমরা ভীষনভাবে দুঃখিত এই ভুলের জন্য । যদিও ভুলটা অনাকাংখিত তবুও আপনি চাইলে আমরা উনার বিরুদ্ধে স্টেপ নিব । তার হাত থেকে ফোনটা পড়ে যায় । কাঁপা কাঁপা হাতে আবার উঠিয়ে নেয় । - ডক্টর আপনি কি শিওর ? - ১০০ % । - আপনি ডক্টর অনুপম কে আমার পক্ষ থেকে একটা thanks দিবেন । - জি ? কি দিব ? - Thanks. ফোনটা কেটে দেয় পার্থ । ডক্টর অনুপম ই তো তাকে ভালবাসাটা চিনিয়ে দিয়ে গেলেন । ছুটে গিয়ে নিশির সামনে হাঁটু গেড়ে বসলো পার্থ । তোমার কাছে ক্ষমা চাওয়ার দুঃসাহস দেখাচ্ছি আমি নিশি । আমার এই মূহর্তে কি যে লাগছে নিশি । এত খুশী মনে হয় আমি জীবনে কোনদিন হইনি । আমি সত্যি ক্ষমা চাইছি তোমার কাছে । আর আমাদের বাবুটাকে নিয়ে তুমি চিন্তা করো না । ও ভাল আছে । ওকে তো ভাল থাকতেই হবে । ফ্যলফ্যল করে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে নিশি । প্রবল মমতায় পার্থর চোখের পানি মুছিয়ে দেয় সে । - আর একটা বার আমরা সবকিছু প্রথম থেকে শুরু করতে পারি না পার্থ ???


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সঙ্গীহীন অন্ধকারে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now