বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
.
.
.
প্রখর সূর্যতাপকে মাথায় নিয়ে অনেকদূর হেঁটে একটা
গাছকে লক্ষ্য করে তার ছায়ার নিচে এসে দাড়ালাম।চশমা
খুলে মুখের ঘাম মুছে আবার চশমা দিতে গিয়ে খেয়াল
করলাম একটা মাঝ বয়সী লোক মাটিতে কাগজ বিছিয়ে
অনেক গুলো বই নিয়ে বসে আছে। আর একটা
মেয়ে খুব মনোযোগ দিয়ে বইগুলো দেখছে।
তারও পাশে আমার মত কিছু মানুষ হেঁটে যাওয়ার পথে
তাদের মুল্যাবান কিছু সময় ব্যয় করছে। মেয়েটা নিচুঁ হয়ে
থাকার কারণে তার মাথায় চুলে মুখ ঢেকে গেছে তার
চেহারা ঠিক মত দেখা যাচ্ছিল না।
.
আমিও মেয়েটির মত বই দেখতে শুরু করলাম। প্রায় বই
পড়া হয়েগেছে আমার। অবশ্য পরিচিত বইগুলোই এই
মানুষগুলো বিক্রি করে। অপরিচিত নাম বা লেখকের বই
কেউ কিনতে চায় না।
.
বেশ কিছুক্ষণ সময় হয়ে গেছে এবার এই জায়গা
থেকে যাওয়া দরকার। যাওয়ার আগে মেয়েটিকে বললাম-
দ্য আলকেমিষ্ট বইটা পড়তে পারেন। মেয়েটি এবার ঘাড়
ঘুরিয়ে আমার দিকে তাকালো। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে
রইলাম।
মেয়েটি কপাল কুঁচকে বলল-আআআপনি?
আমি কিছু না বলে মাথা নিচু করে চলে আসলাম।
.
মেয়েটি সাথে আমার তেমন কোন পরিচয় নেই।
অফিসে যাওয়ার পথে মেয়েটির সাথে আমার দেখা
হয়েছিল তাও মাস দুয়েক আগে। মেয়েটিকে বেশ
সুন্দর লাগছিল কালো পেন্ট আর সাদা শার্টে। আমাদের
বিয়ের কথাবার্তা চলছিল ।দেখা আর কথাও হয়েছিল
মেয়েটির সাথে। কোন এক কারনে রাজি হয়নি আমি।আর
হয়নি আমাদের কথা বলাও।
.
ঠিক দু'দিন পর অফিস থেকে বের হয়ে দেখি সাবিহা
নামের মেয়েটি দাঁড়িয়ে আছে। আমাকে দেখেই বলল-
বইটা অনেক সুন্দর ছিল।
.
আমি চুপ করে রইলাম।
.
মেয়েটি আবার বলল-বাতাসের গায়ে কন্ঠ দিয়ে কিছু
একেঁ পাঠিয়ে ছিলাম আপনার কাছে, পেয়েছিলেন কি?
.
আমি অল্প আওয়াজে বললাম-নাহ্।অনুভব করিনি তাই হয়তো
পাইনি।
.
মেয়েটি বলল চলুন না বসে এক কাপ কফি খাই। আমি না
বলতে পারলাম নাহ্।
কফিতে চুমুক দিতে যাব এমন সময়...
.
বিয়ে করছেন?(মেয়েটি কথাটি বলে আমার দিকে
তাকিয়ে রইল।
.
আমি বললাম-হুম।
.
মেয়েটি হতাশার আভা টেনে বলল-ওহ্।
আর তেমন কোন কথা হয়নি সেদিন আমাদের মাঝে।
.
আজ শুক্রবার। ছুটির দিন,বেশ বেলা পযর্ন্ত ঘুমানোর
অভ্যাস আমার।কিন্তু কোন এক আওয়াজে আমার ঘুম
ভেঙে গেল। ওঠে দেখি সাবিহা মেয়েটি আমার মায়ের
সাথে খুব জমিয়ে আড্ডা দিতেছে। আমার রাগ হওয়ার কথা
ছিল কিন্তু কেন যেন তা হল না। আমি আবার আমার রুমে
চলে আসলাম।
.
বিয়ের কথাবার্তা যখন চলছিল তখন মেয়েটি বলেছিল সে
আমাকে পছন্দ করে।এইসব যখন ভাবছিলাম তখন কেউ
দরজার কড়া নেড়ে বলল-আসতে পাড়ি?
.
আমি বুঝতে পারলাম কে হতে পারে আর আমি এটাও জানি কি
প্রশ্ন আমাকে করবে ।
আমি মাথা নাড়লাম।
.
আপনি আমাকে মিথ্যা বলছেন কেন?(মেয়েটি তড়িৎ
গতিতে কথাটি বলল)
.
তোমার কি মনে হয় আমি মিথ্যা বলছি?(উল্টো প্রশ্ন
করলাম তাকে)
.
মেয়েটি মাথা নিচু করে বসে থাকে। কিছুক্ষণ পর
মেয়েটি ফুঁপিয়ে কেঁদে কেঁদে বলল-শুধু একটু
ভালোবাসতে চাই, ভালোবাসতে তো বলেনি।
.
প্রতিটি গল্পেই থাকে কিছু গল্প । অব্যক্ত, স্মৃতি- বিস্মৃতির
গল্প। গল্পটা ছোট্ট করে বলতে গেলে-
ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম কিন্তু তাকে ভালোবাসার
আগলে রাখতে পারিনি। পারিনি তার সাথে হারিয়ে যেতে।
হারিয়েছি কোন বয়স না হওয়া বাচ্চাকে আর তার মাকে ।আর
আমি হারিয়েছি আমার আমিকে।
.
সাবিহা নামের মেয়েটি কেঁদেই চলেছে ।
আমি শান্ত স্বরে বললাম-সত্তি..!!! কিছু মানুষ নিজে না
কেঁদে অন্যকে শুধু কাঁদিয়ে যায়।
.
এবার আর কান্না ধরে রাখতে পারলাম নাহ্..কান্না করতে
করতে বলতে শুরু করলাম-দেখ না_সে ঠিকই কান্না না
করে উপরে চলে গেছে, কান্নার জন্য রেখে
গেছে আমাকে। কান্না দেখতে এই মানুষগুলো খুব
আনন্দ পায় তাই না সাবিহা...?
.
মেয়েটি কিছু না বলে অপ্রস্তুত এই আমিকে জড়িয়ে
ধরে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকে।
আমি কাঁপা হাতে তার মাথায় হাত বুলাতে শুরু করি।
.
জীবনে যাকে ছাড়া নিজেকে কল্পনা করতে পাচ্ছেন
না... ঠিকই আপনি তাকে ছাড়া বাঁচবেন, হাসবেন আবার
অন্যকে জড়িয়ে ধরে কান্নাও করবেন । শুধু থাকবে
কোন রাতের অন্ধকারে চোঁখে নোনা জল গড়ানো
স্মৃতি- বিস্মৃতি গল্প ।কি আজব এই বাস্তবতা তাই না?
.
আমি অল্প আওয়াজে বললাম-কেউ চাইলেই, সারাজীবন
এইভাবে জড়িয়ে ধরে কান্নায় অধিকারটুকু নিতে পারে।
.
সাবিহা নামের মেয়েটি এই কথা শুনে আরও প্রবল বেগে
কাঁদতে শুরু করে। মেয়েটি আমার দুহাত টেনে নিয়ে
পিঠে জড়িয়ে দেয়। আমিও কান্না করতে করতে শক্ত
করে জড়িয়ে ধরি যেন কোথাও যেতে দিব না ।
আর মেয়েটি পরম মমতায় জড়িয়ে ধরে বুকে মাথা
রেখে কাঁদতেই থাকে ।
.
কোন সুখের আবেশে আমরা কেঁদে দেই।কারো
শাসনেও কাঁদি,কারো বারণেও কাঁদি। কাউকে হারানোর
ভয়েও আমরা কাঁদি আবার কাউকে হারিয়েও কাঁদি। এই কান্নাই
যেন নিত্য দিনের সব । আর এই কান্নতেই মিশে আছে
এই রকম হাজারো স্মৃতি-বিস্মৃতি গল্প...।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now