বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কিছুদিন আগে তুরষ্কের টিভি সিরিজ দেখছিলাম। যেখানে বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের ''আমার সাহসী ছেলে/মেয়ে, বুদ্ধিমান বাবা /বুদ্ধিমতি মা আমার " এধরনের সম্বোধন করে ডাকছে।
বিষয়টি আমাকে বেশ মুগ্ধ করলো।সেখানে যখন পরিবারের ছোট ছেলেটি (বছর পাঁচেকের) একটি কাঁচের গ্লাস ভেঙে ফেললো, তখন বাবা-মা খুব শান্তভাবে বাচ্চাটিকে তার কাজের খারাপ দিক বুঝিয়ে বললো। এতে বাচ্চাটির মনে একটি পজিটিভ ধারণার সৃষ্টি করা হলো।
ভাবলাম, আমাদের দেশের পিতা-মাতা হলে এ পরিস্থিতিতে কি করতো। বেশির ভাগ হয়তো রেগে যেতো। হয়তো দু একটা গালিও দিয়ে বসতো।যদিও নাটক -সিরিয়ালে সাধারণত ভালো দিকগুলোই বেশি দেখানো হয়, তবু্ও বাচ্চাদের এ ধরনের সম্বোধন করা আমার বেশ ভালো লেগেছিলো।
সিরিজটিতে দেখানো হচ্ছিলো, ছোটবেলা থেকেই পিতা-মাতারা তাদের সন্তানদের মধ্যে একটা সাহস ও পজিটিভ ধারণার সৃষ্টি করছে।
আমাদের দেশের, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের বাচ্চারা দুষ্টুমি করলে পিতা-মাতা বা পরিবারের অন্য সদস্যরা তিক্ত হয়ে বিভিন্ন পশু-পাখির বাচ্চার নামে তাদের ডাকা শুরু করে।
বিশ্বাস করুন, "সাহসী, বুদ্ধিমান" সম্বোধন করা ও বিভিন্ন পশুপাখির বাচ্চা নামে সম্বোধন করা বাচ্চাদের মানসিকতা কখনোই এক হবে না।
আমার পরিচিত এক ব্যক্তি জার্মানিতে থাকতেন।তিনি দেশে ফেরার পর বিভিন্ন বিষয়ে তার সাথে কথা বললাম। সেখানে বাচ্চাদের নাকি ধারণা দেওয়া হয়,জর্মনরাই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতি। আর বাচ্চারা কোনো কাজে পিছিয়ে গেলে বা সফল হতে না পারলে পিতা-মাতা সবসময় বলতে থাকে, "তোমার দ্বারা সব সম্ভব। চেষ্টা করো।মনে রেখো,তুমিই একাজের জন্য উপযুক্ত। "
আর আমাদের দেশের কোনো বাচ্চা যদি পরীক্ষায় সামান্য কম নম্বর পায়, তবে তথাকথিত সচেতন পিতা-মাতাকে বলতে শোনা যায়," তোমার বন্ধু..... তো বেশি নম্বর পেলো।তুমি কেনো কম পেলে?তোমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবেনা।"
হ্যাঁ, 'তোমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবেনা ' বাক্যটি শুনেই এদেশের বেশিরভাগ ছেলেমেয়ে বেড়ে ওঠে। আমাদের স্বকীয়তার বিকাশ এই বাক্যটির দ্বারাই কতটা ব্যহত হচ্ছে, একবার ভেবে দেখেছেন?
মুখ দিয়ে উচ্চারিত একটি উৎসাহমূলক শব্দই অন্যজনের সাফল্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। আমি যখন ক্রিকেট খেলতে যেতাম, তখন যদি কেউ বলতো,"আজ তুই ভালো খেলবি" ঠিক সেদিন স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশিই ভালো খেলতাম। আর যেদিন কেউ মজা করে হলেও বলতো," আজ তুই ডাক মারবি" সেদিন ডাক না করলেও ভালো খেলতে পারিনি।
আবার একটা ইরানীয় টিভি সিরিজ "লিটল এঞ্জেলস " এ দেখলাম, সেখানে মৌলবি আহমাদ ও লাইলে নামে এক দম্পতির এক সাথে তিনটি কন্যা সন্তানের জন্ম হলো। একসাথে তিনটি কন্যা সন্তানের জন্ম হওয়ায় পুরো এলাকার বাসিন্দারা মৌলবি আহমাদ নামের ওই যুবককে "সৌভাগ্যবান পিতা" বলে সম্বোধন করতে লাগলো।
আমাদের প্রতিবেশি এক লোক পুত্র সন্তানের আশায় চারটি কন্যা সন্তানের জন্ম দিলেন। পুত্র সন্তান না থাকায় তার দূর্ভাগ্যের কথা অন্য প্রতিবেশিরা বলে বেড়াতে লাগলো।
বিশ্বাস করুন, যে মেয়েদের পিতাকে তাদের কারণে "সৌভাগ্যবান পিতা " আর যে মেয়েদের পিতাকে তাদের কারণে "দূ্র্ভাগা" বলা হয়, তাদের মানসিকতা কখনোই এক হবে না।
মানুষকে সম্বোধন করার মধ্যদিয়েই তাকে উৎসাহিত ও নিরুৎসাহিত দুটোই করা যায়।
যে বাচ্চারা ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন কাজে তার পরিবারের থেকে উৎসাহ পেয়ে থাকে, তাদের মধ্যে একটি পজিটিভ চিন্তাধারা নিয়ে তারা বেড়ে ওঠে।
অন্যদিকে যে বাচ্চাদের বলা হয়," তোমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবেনা " সে তার মাঝে একটি নেগেটিভ চিন্তাধারা নিয়ে বেড়ে ওঠে এবং সত্যিই বিশ্বাস করে ফেলে যে, তাদের দিয়ে কিচ্ছু হবেনা।
বিশ্বাস করুন, "সাহসী, বুদ্ধিমান, পরিশ্রমী" সম্বোধন করা বাচ্চাদের মানসিকতা ও কাজ করার ক্ষমতা আর " অপদার্থ, গাধা,তোমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবেনা, পশুপাখির বাচ্চা " সম্বোধন করা বাচ্চাদের মানসিকতা ও কাজ করার ক্ষমতা কখনোই এক হবে না।
আমি বলছি না অন্যসব দেশের চেয়ে আমাদের দেশের পিতা-মাতারা খারাপ। কিংবা জাতি হিসেবে আমরা অন্যদের চেয়ে ছোট।
কিন্তু সম্বোধন করাটা আরেকটু সুন্দর হলে খারাপ কি?
যদি সামান্য একটু সম্বোধনে উৎসাহ মানসিকতা ও কাজের গতি দুটোই বাড়িয়ে দিতে পারে, তবে আমাদের ভালো দিকটি গ্রহণ করতে আপত্তি থাকার কথা অবশ্যই নয়।
#সম্বোধনে_উৎসাহ
-মাহিন আলম
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now