বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আজ মনটা ভীষণ খারাপ।বাসায় আজ খুব বকা খেয়েছি।বকা খাওয়াটা ই স্বাভাবিক।মিডটার্ম পরীহ্মায় যে রেজাল্ট করেছি তা দেখলে,যে কোন বাবা-মা ই তাদের সন্তানকে বকবেন।কলেজে উঠার পর আমার যে কি হল তা আমি নিজেও বুঝতে পারছি না।পড়ালেখায় একদমই মন বসাতে পারছি না।
সবাই হয়তো ভাবছেন,আমি প্রেমে পড়েছি।আসলে এরকম কিছুই না।প্রেম-টেম আমার দ্বারা হবে না।আর কোন মেয়ের এত শখ আছে যে আমার মত গাধার প্রেমে পড়বে।
রুমে বসে থাকতে আর ভাল লাগছে না,একটু ছাদে গিয়ে বসি।নীল আকাশ দেখে,নির্মল বাতাস খেয়ে হয়তো মন কিছুটা ভাল হতে পারে।ছাদের কোণায় গিয়ে বসলাম।নীল আকাশ দেখে আর নির্মল বাতাস খেয়ে কবিতা আবৃত্তি করতে ইচ্ছা করছে।কিন্তু কবিতার"ক"ও বের হল না মুখ দিয়ে।তারপর চিন্তা করে দেখলাম আমার মত গাধা কে দিয়ে কিছুই হবে না।
এভাবে যখন আমি আমার সম্ভাব্য ভবিষ্যত্ নিয়ে গভীর চিন্তায় মগ্ন,তখনই পিছনে দুই কপোতীর গলার আওয়াজ শুনতে পেলাম।মনে হয় দুই বোন।গলা তো নয় যেন এক একটা স্পিকার।স্পিকার দুইটাকে কিছু বলতেও পারছি না,আবার সহ্যও করতে পারছি না।একসময় স্পিকারের আওয়াজ বেড়ে গিয়ে আমার সহ্যের সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করল।আমি জোরে বলে উঠলাম"আপনারা কি শুরু করেছেন?কথা কি আস্তে বলা যায় না?ভদ্রতা বলেও তো একটা কথা আছে?স্পিকারের ভলিউম কমান।"স্পিকার দুইটা কিছু সময় চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো।তারপর ছোট স্পিকারটা কি যেন বলতে যাচ্ছিল,বড় স্পিকারটা চুপ করিয়ে দিল।এরপর বড় স্পিকারটা আমার পাশে এসে বলল"সরি",তারপর ছাদ থেকে স্পিকার দুইটা চলে গেল।
"যাক,বাঁচা গেল!!"বলে স্বস্তির নিশ্বাঃস ফেললাম।কিছুহ্মণ পর আমিও বাসায় চলে এলাম।.......নিজের কাছে খুব খারাপ লাগছে।আসলে মেয়েগুলোর সাথে এরকম ব্যবহার করা ঠিক হয় নি।মাঝে মাঝে আমার যে কি হয়?আমার ছোট বোনটার কাছ থেকে জানতে পারলাম,আমাদের বাসায় নতুন ভাড়াটিয়া এসেছে ওদের পরিবার।বড় স্পিকারটা পড়ে ক্লাস ১০ এ আর ছোটটা ক্লাস ৮ এ।তো আমি ঠিক করে নিলাম পরবর্তী যেদিনই ওদের সাথে দেখা হবে সেদিনই সরি বলে নিব।
……যাক,আজকে সরি বলে মুক্তি পেলাম।এতদিন আমি অর্ন্তদহনে পুড়ছিলাম।আজ সকালে আমি যখন কলেজে যাওয়ার জন্য গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে রিকশা খুঁজছিলাম,তখন দেখি বড় স্পিকারটা গেট দিয়ে বের হল,ছোট স্পিকারটা সাথে নেই।স্কুলে যাবে হয়তো।তো আমি এগিয়ে গিয়ে বললাম"সেদিন আমার খারাপ ব্যবহারের জন্য,সরি।"বড় স্পিকারটা বলল"না,ঠিক আছে"তারপর চলে গেল।
বড় স্পিকার আর আমি এখন খুব ভাল বন্ধু।নাহ,বড় স্পিকার বলতে ভাল লাগছে না।নামটি ই বলি।ওর নাম হল সুমাইয়া। আর ছোটটার নাম নিশি।যেদিন সরি বলেছিলাম সেদিন বিকালে নিহার সাথে অনেক কথা হয়।তারপর এভাবে কথা বলতে বলতে একসময় আমরা ভাল বন্ধু হয়ে যাই ।
কিন্তু ,আমার কাছে সুমাইয়া এখন শুধু বন্ধু না,এর চেয়েও বেশী কিছু।একজন বিখ্যাত ব্যাক্তির ভাষায়,একটা ছেলে আর একটা মেয়ে যত ভাল বন্ধুই হোক না কেন,একসময় তারা একে অপরের প্রেমে পড়বে।আমারও এই অবস্থা ই হয়েছে।কখন যে সুমাইয়ার প্রেমে পড়ে গেছি নিজেও বুঝতে পারি নি।আমার মত গাধাও তাহলে প্রেমে পড়তে পারে ?
(২বছর পর)....
আজ আমি পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ।আজ আমার ভালবাসা তার আশ্রয় খুঁজে পেয়েছে।সুমাইয়া আমার ভালবাসাকে গ্রহণ করেছে।গত ২টি বছর সুমাইয়াকে আমি আমার থেকেও বেশী ভালবেসে এসেছি।কত রাত যে নির্ঘুম কাটিয়েছি,শুধু সুমাইয়াকে ভেবে।ওর কথা না শুনে,ওকে একদিন না দেখে থাকতে পারতাম না।ও ই ছিল আমার সকাল,আমার বিকাল,আমার রাত ।সবকিছু ছিল সুমাইয়া। ।কিন্তু , সুমাইয়া কখনোই আমার এই ভালবাসাকে বুঝতে চায় নি।শুধু বলেছে,"আমি পারব না।"এই কথা শুনার পরও আমি পিছপা হই নি।আরও বেশী ভালবেসেছি ।অনেক কাছে থেকেও মনে হয়েছে আমি সুমাইয়া থেকে অনেক দূরে।মাঝে মাঝে সুমাইয়া রাগ করে অনেক দিন কথা বলতো না,দেখা করতো না,তখন খুব কষ্ট হত।তবুও ধৈর্য্য ধরে থাকতাম।আমার মত একটা গাধা এত ধৈর্য্য যে কিভাবে ধরলো তা আমি নিজেও জানি না।আর এই ধৈর্য্যের ফল ও আমি আজকে পেলাম। সুমাইয়ার বাইরের সৌন্দর্য দেখে আমি নিহাকে ভালবাসি নি,সুমাইয়ার মনটা দেখে আমি ওকে ভালবেসেছি। ওর মনটা খুবই সুন্দর।আমি সারাজীবন ঐ সুন্দর মনের সুন্দর মানুষটাকে আগলে রাখতে চাই।
সুমাইয়াই আমার জীবনের সবকিছু ,অনেক ভালবাসি ওকে, অনেক ভালবাসি।সকালে যখন ওর "আমি তোমাকে ভালবাসি"লেখা এস এম এস টা পেলাম তখন মনে হয়েছিল আমি পুরো পৃথিবীটাকে পেয়ে গেছি।"হৈমন্তী"গল্পের অপুর মত বলতে ইচ্ছা করছে যে "আমি পাইলাম,আমি ইহাকে পাইলাম।"
আজ বিকালে সুমাইয়া দেখা করতে বলেছে।ওর প্রেমিক হিসেবে আজকে ওর সামনে দাঁড়াবো। ওর হাতটি আমার হাতে রাখবো।আর এই হাত কখনো ছাড়তে দিবো না।ও ভাল কথা একটা সাদা গোলাপ নিতে হবে।নিহা আবার সাদা গোলাপ খুব পছন্দ করে।
(১০ বছর পর).....
আজকে আমার আর সুমাইয়ার চতুর্থ বিবাহবার্ষিকী।যেদিন সুমাইয়া আমাকে ভালবাসে একথা বলেছিল,সেদিন এর পর আমাদের আর পিছনে ফিরে তাকতে হয় নি।আমার পড়ালেখা শেষ হয়ে যাবার পর,একটা ভাল চাকরিও পেয়ে যাই।তারপর,বাবা-
মাকে জানিয়েছিলাম সুমাইয়ার কথা।বাবা-মা ও আপত্তি করেন নি।পারিবারিক সম্মতিতেই আমাদের বিয়ে হয়ে গেল।
একে একে চারটি বছর পেরিয়ে এলাম আমি আর সুমাইয়া ।ও বলতে ভুলে গেছি আমাদের ২বছরের ফুটফুটে একটা মেয়ে আছে,ওর নাম রিমি।একেবারে মায়ের মত হয়েছে।
আমাদের ৪র্থ বিবাহবার্ষিকীর আজকের দিনে আমি আর সুমাইয়া বসে আছি সেই ছাদে,সেই জায়গায় যেখানে আমাদের প্রথম দেখা।আকাশে চাঁদ উঠেছে,মৃদু মৃদু বাতাস ও বইছে।পাশাপাশি বসে আছি আমি আর সুমাইয়া। । । সুমাইয়ার মাথাটা আমার বুকে,আর আমি ওকে জড়িয়ে ধরে রেখেছি।হঠাত্ সুমাইয়া বলল,"মোরশেদুল ,আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি।"আমি তখন বলে উঠলাম"আমিও আমার স্পিকারকে অনেক ভালবাসি"।এ কথা বলার পর দুইজন ই একসাথে হেসে উঠলাম ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now