বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
শরীরটা বিছানায়
এলিয়ে দিলেন
রহমান সাহেব।
চোখ দুটো বন্ধ
করলেন। এই
মুহূর্তে তিনি নিজেকে মৃত
ভাবছেন। তার
মনে একটা অদ্ভুতু
রকমের
স্বস্তি অনুভূত
হচ্ছে।
জাগতিক সকল
প্রকার বন্ধন,
পিছুটান
প্রভৃতি সকল
থেকে তিনি মুক্ত।
মাঝে মাঝেই
তিনি এ
কাজটা করেন।
নিজেকে মৃত
ভাবেন।
এতে ক্ষনিকের
জন্য হলেও,
অতীতকে ভুলে থাকা যায়।
রহমান
সাহেবের
অতীতটা খুবই
করুণ।
প্রায় সবার
জীবনেই
নির্মমতার
ছোঁয়া থাকে।
কিন্তু, রহমান
সাহেবের
জীবনে নির্মমতার
স্পর্শ একটু
বেশীই যেন।
দুই সন্তান
নিয়ে ছিল রহমান
সাহেবের সুখের
সংসার। কখন
যে এই সুখের
সংসার
ধীরে ধীরে অভিশপ্ত
অনলে রূপ
নিল,
টের ও পেলেন না।
আজ জীবনের
দ্বারপ্রান্তে এসে নিজেকে
কেমন
যেন
অপরাধী মনে হয়।
এসব
ভাবতে ভাবতে নিজের
অজান্তেই
চোখ
দুটো ঝাপসা হয়ে আসে,
রহমান সাহেবের।
চশমাটা টেবিলের
উপর
খুলে রাখলেন।
কষ্টবোধকে ঝাপসাভাবে দেখাই
শ্রেয়।
ধর্ষনরত কন্যার
আর্তচিৎকার
এখনো তিনি শুনতে পান।
কিন্তু,
প্রতিবাদ
করতে গিয়ে তীব্র
আঘাতে জ্ঞান
হারিয়েছিলেন
তিনি।
এরপর,
মেয়েকে ঝুলতে দেখেছিলেন,
গ্রামের বড়
বটবৃক্ষটাতে।
নিজ
হাতে কন্যারত্নকে কবর
দিয়েছিলেন
সেদিন।
সেসব
অপরাধী এখনো সমাজে বুক
ফুলিয়ে হাঁটে।
যারা পৈশাচিকভাবে ইতি
ঘটিয়েছিল তার
কন্যার সুস্থ
জীবনের।
তিনি পিতা হয়ে কিছুই
করতে পারেননি আজও।
বুকফাটা আর্তনাদ
করে সাহায্য
চেয়েছিলেন সবার
কাছে।
সমাজের কাছে।
কিন্তু, সমাজ এসব
দোষত্রুটি ক্ষমাসুন্দর
দৃষ্টিতে দেখে।
এড়িয়ে যায়। রহমান
সাহেবের
ক্রন্দন সমাজের
দৃষ্টি আকর্ষনে ব্যর্থ।
আমাদের এ সমাজ
নষ্ট। মলিন।
বিবর্ণ।
অন্ধ।
সকল
কষ্টকে সঙ্গী করে নিজের
একমাত্র
ছেলেকে পড়ালেখা
করিয়েছিলেন।
দীক্ষিত
করেছিলেন
জ্ঞানাদর্শে।
আজ সে ভিনদেশে।
প্রতিষ্ঠিত।
অনেক অনেক
অর্থের মালিক।
ধনী পুত্রের
পিতা হিসেবে রহমান
সাহেব
হয়তো মানানসই
নন।
ছেলেকে দেখেছিলেন,
প্রায়
পাঁচ বছর আগে।
চোখ বন্ধ করে,
তিনি ছেলের
বর্তমান
প্রতিচ্ছবি অনুমান
করারবৃথা চেষ্টা করেন।
ছেলেটা বোধয় খুব
সুখে আছে।
এতদিনে হয়তো, এই
বৃদ্ধ
পিতাকে ভুলে বসেছে সে।
অর্থ
প্রাচুর্যের
আড়ালে বৃদ্ধ
পিতার
অবয়বটা আজ
হয়তো ম্লান।
এটাই
তো বাস্তবতা...!
চোখ দুটো বড্ড
বেশী বিরক্ত
করে রহমান
সাহেবকে।
এই তো, আবার
ঝাপসা হয়ে এলো...!
ঝাপসা চোখে ধূলোয়
মলিন
ছবিটার
সামনে গিয়ে দাড়ান
তিনি।
ছবিটা তার
স্ত্রী আনোয়ারা বেগমের।
অনেক আগেই
পৃথিবীর
মায়া ত্যাগ
করেছেন তিনি।
মা—মেয়ে খুবই
সুখে আছে হয়তো.........
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now