বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
.
.
মধ্যাহ্ন ভোজন অর্থাৎ দুপুরের খাওয়ার সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়েছি ৷ সংগ্রাম বলছি কেন? সেটা একটু পরেই বুঝতে পারবেন ৷ অফিসের কাজে দুদিন বাইরে থাকার কারনে আজ আমার জন্য স্পেশাল রান্না হয়েছে, চুই ঝাল দিয়ে মাংস ৷ আমি কিছুটা কনফিউশনের মধ্যে আছি, এটা ঝাল দিয়ে মাংস, নাকি মাংস দিয়ে ঝাল? একপিস মাংস মুখে দিয়ে হা করে রইলাম মিনিট দুই ৷ শ্রীমতী গিন্নী দেখলাম কাজের ফাঁকে ফাঁকে আড়চোখে আমার অবস্থা দেখে ঠোট চেপে মিটিমিটি হাসছে ৷ শুচিবাই বউটাকে একটু জ্বালানোর ইচ্ছে হলো,
– মেঘা এদিকে শোনো (আমি)
– কি? (মেঘা)
– আরে শোনো না...
– শুনতে পাচ্ছি, বলো
– এখানে এসো
মেঘা আমার পাশে এসে কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়ালো ৷ আমি আবার বললাম
– পাশে বসো
— (মেঘা পাশের চেয়ারে বসলো)
– বসে থাকবে, আমার খাওয়া শেষ করার আগে উঠবে না
– কেন?
– আমি বলছি তাই
– ওকে
আমি একহাতে মেঘার শাড়ির আঁচল ধরলাম ৷ তারপর খাওয়া শুরু করলাম ৷ একহাতে খাচ্ছি, আরেক হাতে মেঘার শাড়ির আঁচল দিয়ে নাক মুচছি বারবার ৷ ভ্রু কুচকে, নাক সিটকে তাঁকিয়ে আছে মেঘা ৷ কিছুটা রাগী ভাবও আছে, তবে সেটা সত্যি নয় ৷ কারন, আমার নাকের জলে চোখের জলে অবস্থা দেখার জন্যই মেঘা ইচ্ছা করেই মাংসে ঝাল বেশি দিয়েছে এবং এখন সে এটা বেশ এনজয়ও করছে ৷ বেশি ঝাল খেলে আমার যে ধরনের প্রতিক্রিয়া হয়, তা হলো- নাকে বারবার পানি আসে, মুখ ঘেমে যায়, চুলের গোড়া চুলকায় ৷ চুলের গোড়া চুলকানোর কথা বলতেই মনে পড়লো, এখনো তো চুলকাচ্ছে ৷ কিন্তু কেমনে চুলকাবো? দুই হাতই তো যার যার কাজে ব্যস্ত ৷
– মেঘা... (আমি)
– কি? (কটমট করে বলল মেঘা)
– চুলে একটু বিলি কেটে দাও না
– চুলকে দাও বললেই তো হয়
– হে হে, জানোই তো
– হু, এখন তাড়াতাড়ি খেয়ে আমায় উদ্ধার করেন, রাজ্যের কাজ বাকি
বলে মাথা চুলকে দিতে লাগলো মেঘা, আর আমি ভোজনে মন দিলাম ৷ অবশেষে দীর্ঘ সংগ্রামে খাওয়া শেষ করে বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম ৷ দুদিন ঠিক করে ঘুম হয়নি, এখন একটু না ঘুমালেই নয় ৷
অাধাঘন্টা ঘরে বিছানায় এপাশ ওপাশ করছি, কিন্তু ঘুমের কোন দেখা নাই ৷ মেঘাও হয়তো খেয়াল করছিল সেটা, তাই এসে মাথার কাছে বসে মাথাটা কোলে নিতে নিতে বলল,
– কত ঢং যে করতে পারো (মেঘা)
– তাতেও যদি একটু বেশি ভালবাসা পাওয়া যায় ক্ষতি কি? (আমি)
– হইছে ঘুমাও এবার, না ঘুমিয়ে চোখ মুখের যে হাল করেছ তা দেখার মত
আমি শান্ত ছেলের মত মেঘার কোলে মাথা রেখে চোখ বুজে রইলাম, আর মেঘা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো ৷
আশ্চর্য ব্যাপার!! আজ মেঘার হাতের ছোঁয়া ঘুম আনতে পারলো না চোখে ৷ তবু ঘুমের ভান করে শুয়ে রইলাম ৷ ঘুমিয়েছি ভেবে মেঘা আমাকে বালিশে শুইয়ে দিয়ে রান্না ঘরের দিকে চলে গেল, আর আমি চলে গেলাম ভাবনার জগতের দিকে ৷
বাবা মা ছেড়ে যেদিন এই ইট পাথরের শহরে এসেছিলাম, সেদিনই প্রথম দেখেছিলাম মেঘাকে ৷ মোটা ফ্রেমের চশমা আর মাথায় একটা ছাতা, স্কুলের ম্যাডামের মতই লাগছিলো ওকে ৷ সেই প্রথম ভাললাগা, সেই শুরু...
বেশ কিছুদিন হলো মামার বাসায় এসে উঠেছি, কলেজে ভর্তিও হয়ে এলাম গতকাল ৷ এর মধ্যে না না ব্যস্ততায় মেয়েটাকে ভুলতেই বসেছিলাম, মূলত ইচ্ছে করেই ভুলে যেতে চেয়েছিলাম ৷ কারন, এতবড় শহরে তাকে খুজে পাবো এমন বিন্দুমাত্র ভরসাও নেই আমার ভেতর ৷ কিন্তু যে গল্প উপরের গল্পকার এগিয়ে নিয়ে যেতে চান, তাকে আটকানোর সাধ্য কি আমার! তাই হটাৎ একদিন কাকতালীয় ভাবেই একদম হাতের কাছেই পেয়ে গেলাম তাকে ৷ আঁকার খাতাটা নিয়ে ছাদের কোনায় বসে উদ্ভট কি সব আঁকছিলাম ভুলে গেছি, হটাৎ একটু দূরের ছাদে চোখ পড়তেই বুকটা কেঁপে উঠলো ৷ একটু ভাল করে দেখতেই চিনতে ভুল হলো না, সেই চশমিশ মেয়েটাই একটা বই হাতে ছাদের এপাশ থেকে ওপাশে পায়চারি করছে আর পড়ছে ৷ যতটা খুশি হয়েছিলাম, রাগও ততটাই হয়েছিল ৷ আরে সেই যদি দেখা মিলিয়ে দিলে আবার, পাশের বাসায় দিলে কি এমন ক্ষতি হতো? যাই হোক, কি আর করার...
তারপর থেকেই শুরু হয় ওকে ফলো করা ৷ আমাদের বাসার সামনে দিয়েই কলেজে যেত রোজ, আর আমিও একই সময়ে বের হতাম ৷ বাজারের মোড় পর্যন্ত ওর আর আমার কলেজের পথ একই ছিল, তারপর দুই দিকে ৷ ওই পর্যন্তই যেতাম ওর পিছে, তারপর যে যার পথে ৷ এভাবেই চলল কয়েকমাস ৷ একদিন তো সাহস করে হাটতে হাটতে ওর পাশাপাশি গিয়ে বললাম,
– হায় (আমি)
– জী, কিছু বলবেন? (মেয়েটা)
– কলেজে যাচ্ছেন?
– দেখে কি শপিংয়ে যাচ্ছি মনেহচ্ছে?
– না মানে, রোজ দেখি আপনি এই পথে কলেজে যান, আমিও এই পথেই যাই, তাও একই টাইমে, তাই ভাবলাম একটু পরিচিত হই
– এখানে নতুন এসেছেন?
– হ্যা, এই মাস ছয়েক হবে
– ওহ, ফলো করেন কেন?
– কই? আমি কাকে ফলো করলাম?
– মেয়েদের চোখ ফাঁকি দেওয়া সহজ না
– (চুপচাপ হাটতে লাগলাম)
কিছুক্ষণ হাটতেই সেই অসহ্য মোড়টা আসলো, এবার ও অন্যপথে চলে যাবে ৷ মোড়ে আসতেই মেয়েটা বলল,
– আমি মেঘা (মেয়েটা)
– নাইস নেম (আমি)
– আপনি?
– জী? ওহ, আমি প্রিতম (কিছুটা নার্ভাস)
– আচ্ছা
বলেই মেঘা চলে যেতে লাগলো, একটু সামনেই যেতেই সাহস করে আবার ডাক দিলাম
পেছন থেকে
– মেঘা... (ডাকতে গিয়ে গলাটা কেঁপে উঠলো)
– (পিছন ফিরে তাঁকিয়ে হাতের ইশারায় জিগ্গেস করলো- কি?)
– ফ্রেন্ডস?
একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে চলে গেল মেঘা ৷ আমিও একবুক ধুকপুকানি নিয়ে কলেজের দিকে পা বাড়ালাম...
শুরু হলো নতুন একটা অধ্যায় ৷ দুইজন দুই কলেজের হলেও খুব ভাল বন্ধুত্ব হয়ে যায় আমাদের ৷ একসাথে কলেজে বের হওয়া, ক্লাস ফাঁকি দিয় ঘুরতে যাওয়া, খুনসুটির মধ্যে কখন সময়গুলো পেরিয়ে যাচ্ছিল বুঝতেই পারিনি ৷ বুকের বাঁ পাশে পোষা ভালবাসার পাখিটাও খাঁচা ভেঙে তার ভালবাসার ঠিকানায় যেতে ছটফটিয়ে মরে, কিন্তু সাহস হয়ে ওঠে না আমার ৷ তাই ভালবাসা গুলো সব গোপন আঁকার খাতায় পেন্সিলের আঁচড়েই জমা হয় মেঘার অজান্তেই আঁকা ওর কিছু ছবিতে ৷ মেঘা প্রায়ই বলে, ওর একটা ছবি এঁকে দিতে, আমি ওকে রাগানোর জন্য ফাজলামি করে এড়িয়ে যাই ৷ মেঘাও রাগ করে কখনো ওর ছবি না আঁকার জন্য ৷ কিন্তু ও তো আর জানে না, পুরো একটা খাতা জুড়ে শুধু ওর ছবিই আঁকা আছে ৷ হয়তো কখনো জানবেও না ৷ কিন্তু সেটাও মনেহয় চাননি উপরের গল্পকার সাহেব ৷ একদিন ছুটির দিনে বাইরে থেকে ঘুরে দুপুরের দিকে বাসায় ফিরতেই মামি বলল,
– কোথায় ছিলি? ফোনটাও নিয়ে যাসনি ৷ তোর ফ্রেন্ড এসে বসে আছে কতক্ষণ ধরে (মামি)
– আমার ফ্রেন্ড? কে?
– মেঘা নাম বলল
– ওহ
আমি তড়িঘড়ি করে রুমে এসে দেখি মেঘা আমার খাটের উপর গুম মেরে বসে আছে, চোখদুটোও লাল, মনেহচ্ছে এখনি কেঁদেছে ৷ টেবিলে উপর চোখ পড়তেই আঁতকে উঠলাম, মেঘার ছবির খাতাটা টেবিলের উপরেই ছিল, নিশ্চই দেখে নিয়েছে ৷ আমি চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলাম ৷ বেশ কিছুক্ষণ নিরবতা শেষে আমিই মুখ খুললাম
– কখন এলি? (আমি)
– (নিরব)
– হটাৎ আসলি যে?
মেঘা আমার সামনে এসে দাঁড়লো, চোখের দিয়ে তাঁকিয়ে বলল,
– ভালবাসিস?
– (আমি চোখ নামিয়ে মাথা নিচু করে রইলাম)
– বলিসনি কেন গাধা??
– না মানে...
– চুপ...
বলেই আমার বুকে ঝাপিয়ে পড়ে কেঁদে দিলো মেঘা ৷ কিছুক্ষণের জন্য যেন মাথার সমস্ত ক্রিয়া বন্ধ হয়ে গেল, বুঝেই উঠতে পারলাম না কি করা উচিত ৷ নিজের অজান্তেই শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম মেঘাকে ৷
আরও একটা নতুন অধ্যায়ের সূচনা ৷ কখনো নদীর পাড় ধরে গোধূলীর অস্তমিত সূর্যকে ধরতে যাওয়া, কখনোবা রেল লাইনের দুই পাটি মিলনস্থানের সন্ধানে মাইলের পর মাইল ঠা ঠা রোদ্দুরে হেটে যাওয়া, কখনো এক প্যাকেট ঝালমুড়ি নিয়ে টানাটানি করতে গিয়ে পুরোটাই বরবাদ করে কিছুক্ষণ চুপ থেকে হটাৎ হো হো করে হেসে ওঠা এমন সব আজগুবি পাগলামির মধ্যে দিয়ে মন্থর গতিতে এগিয়ে চলেছিল একটা ভালবাসার গল্প ৷ যার শেষ পরিনতি হয়েছিল একটা ধর্মীয় বন্ধনে পরষ্পরকে চিরজীবনের মত একসাথে বেঁধে নেওয়ার মধ্যে দিয়ে ৷ মেঘার মা-বাবা প্রথমে মেনে না নিলেও একমাত্র মেয়ের উপর বেশিদিন রাগ করে থাকতে পারেনি ৷ হটাৎ একদিন এসে মেঘাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদেছিল ওর বাবা ৷ পুরুষ মানুষকে এভাবে কাঁদতে আমি কখনোই দেখিনি ৷ সেদিনই বুঝেছিলাম একটা মেয়ে তার বাবা মায়ের কাছে কতটা যত্নের হয় ৷ মনের মধ্যে একটা অপরাধ বোধ কাজ করছিল ৷ সেদিনই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, কখনো কষ্ট পেতে দেবো না মেঘাকে ৷ কিন্তু সে প্রতিজ্ঞাও মনেহয় আর রাখা হলো না ৷ প্রতিজ্ঞা রক্ষা করার জন্য আমিই তো আর বেশিদিন নেই ৷ মহান গল্পকার মাথার মধ্যে মরণ ব্যাধি ঢুকিয়ে দিয়েছে আর ডাক্তার এক বছর সময় বেঁধে দিয়েছে ৷ গত দুদিন অফিসের কাজের অজুহাতে হাসপাতালেই ছিলাম ৷ একগাদা পরিক্ষা নিরিক্ষা করে নিশ্চিত করা হয়েছে আমার জীবনসীমা ৷ কিন্তু এখনো আমার অনেক কিছুই দেখার বাকি, অনেককিছু করার বাকি, এখনি কেন চলে যাবো আমি? আমি চলে গেলে মেঘার কি হবে? সত্যিটা জানলে কি করে সামলাবে ও নিজেকে? ভাবতে ভাবতেই মাথার ব্যাথায় দুহাতে মাথাটা চেপে ধরে লাফিয়ে উঠে বসলাম ৷ আমাকে এভাবে উঠে বসতে দেখে মেঘা ভয়ার্তভাবেই ছুটে আসলো,
– এই কি হয়েছে, এমনভাবে উঠে বসলে কেন? (মেঘা)
– (দুহাতে সমস্ত শক্তি দিয়ে মাথাটা চেপে ধরে আছি)
– বাবু, কি হয়েছে তোমার? খারাপ কোন স্বপ্ন দেখেছো?
বলতে বলতে মেঘার ভয় আর কাঁন্না দুটোই চোখে পড়লো আমার ৷ এটুকুতেই এই অবস্থা? সারাজীবন কাটাবে কি করে ও? না, ওকে শক্ত হতে হবে, আমি শক্ত কবরো ওকে ৷ এক ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলাম
– কিছু হয়নি, যাও নিজের কাজে যাও (ধমকের সুরে বললাম)
– এমন করছো কেন? বলোনা বাবু
– বললাম তো কিছু হয়নি (চিৎকার করে বললাম)
মেঘা চমকে উঠল, কখনো রেগে কথা বলিনি তো ওর সাথে, তাই একটু অবাক হয়েছে হয়তো ৷ কিন্তু এভাবেই ওকে শক্ত হতে হবে ৷
সেদিন থেকেই শুরু হয় মেঘার সাথে আমার খারাপ ব্যবহার ৷ প্রত্যেকটা বিষয়ে ত্রুটি খুজে ওর উপর মানসিক নির্যাতন করা, রাতের পর রাত বাড়ি না ফেরা ৷ আমার হটাৎ এমন পরিবর্তনে মেঘা অনেক কষ্ট পেত বুঝতে পারতাম ৷ আড়ালে কাঁদত আর বুক ফেটে যেত আমার ৷ কিন্তু এত কিছুর পরও মেঘার মধ্যে আমায় ছেড়ে যাওয়ার কোন প্রবনতাই দেখলাম না ৷ শেষ পর্যন্ত এক বান্ধবীকে (প্রেমা) সব বলে তাকে বিয়ে করার নাটক করে বাড়িতে নিয়ে আসলাম ৷ এবার আর সহ্য করতে পারলোনা মেঘা, মেয়েরা শত কষ্ট সহ্য করতে পারে, কিন্তু ভালবাসার ভাগ দিতে পারে না ৷ এটাই কাজে লাগলো, মেঘা চলে গেল ওর বাবার কাছে ৷ ওর বাবা মা কথা বলতে চাইলে তাদের সাথেও খারাপ ব্যবহার করি আমি ৷ তারপর থেকে যোগাযোগ বন্ধ করে দেই মেঘার সাথে ৷
প্রায় তিনমাস পর, হটাৎ একদিন মেঘা এসে হাজির হয় আবার ৷ দরজা খুলে দিতেই জড়িয়ে ধরে পাগলের মত কেঁদেছিল সেদিন ৷
– তুমি এত স্বার্থপর কিভাবে হলে? কিভাবে এমন একটা পরিস্থিতিতে আমাকে দূরে সরিয়ে দিলে? প্রেমা আপুর সাথে না দেখা হলে জানতেই পারতাম কখনো ৷ তোমার ভালবেসে কাছে পাবার এই শেষ সুযোগটা হারাতাম সারাজীবনের মত...
মেঘার কাঁন্নায় হু হু করে কেঁদে উঠলো বুকের ভিতরটা ৷ না, যে কটাদিন বাকি আছে, মেঘাকে ভালবাসার শেষ সুযোগটা হাতছাড়া করবো না ৷
তারপরের অনেকগুলো দিন অতীত হয়েছে, ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টেছে অনেকবার ৷ ঋতুচক্রের পরিক্রমায় কালো মেঘ জমেছে উত্তরের আকাশে ৷ ঝড়ো বাতাস শুরু হয়েছে একটু আগেই ৷ উন্মাদ কোন পিশাচ যেন তান্ডব শুরু করেছে ধরিত্রীর বুকে ৷ হটাৎই ঝুমঝুম শব্দ করে বৃষ্টি শুরু হলো ৷ বৃষ্টির বড় বড় ফোট গুলো আমার সমাধির উপরে পড়ে ছিটকে যেতে লাগলো চারিদিকে ৷ এমন দিনে কফি খেতে আমার খুব ভাল লাগতো ৷ ব্যালকনিতে বসে আমি কফি খেতাম, আর মেঘা হাত বাড়িয়ে বৃষ্টি ফোঁটার সাথে খেলা করতো ৷ ওই তো মেঘা আসছে, হাতে কফির মগটাও আছে ৷ মেঘা কফির মগটা রাখলো আমার সমাধির উপরে ৷ তারপর অন্ধকারের মত কালো ছাতাটা মাথায় দিয়ে পাথরের মত দাঁড়িয়ে রইলো একপাশে ৷ বিদ্যুতের ঝলকানিতে দুগাল বেয়ে গড়িয়ে পড়া বিন্দুগুলো চিকচিক করে উঠছে মাঝে মাঝে ৷ হটাৎ ছাতাটা একপাশে ফেলে দিয়ে মাটিতে ধপ করে বসে পড়লো মেঘা, চিৎকার করে কেঁদে উঠলো আকাশের দিকে তাঁকিয়ে ৷ সে আত্মচিৎকার ঝড়ো হাওয়ায় প্রতিধ্বনিত হয়ে মেঘের চিৎকারের সাথে মিলিয়ে গেল ৷
:
----------------- সমাপ্ত -----------------
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now