বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বিজ্ঞানের প্রতি কালামের এই গভীর ভালোবাসা দেখে রাণুদিদির যতটুকু খুশি হওয়ার কথা ছিল খুব সংগত কারণে তিনি সেরকম খুশি হলেন না, বরং তাকে খুব চিন্তিত দেখা গেল!
রাণুদিদি বরাবরই তার ক্লাসের ছেলেমেয়েদেরকে হাতেকলমে বিজ্ঞান শিখিয়ে এসেছেন। ক্লাসে কালামকে আবিষ্কার করার পর থেকে হঠাৎ করে হাতেকলমে বিজ্ঞান শেখানো ব্যাপারটি তিনি ভয় পেতে শুরু করেছেন। যেমন ধরা যাক, বিদ্যুৎ পরিবাহী এবং অপরিবাহী ব্যাপারটি। যেদিন তিনি ক্লাসে বললেন পানি হচ্ছে বিদ্যুৎ পরিবাহী, তিনি আতঙ্কিত হয়ে দেখলেন সাথে সাথে কালামের মুখে একগাল হাসি ফুটে উঠল। রাণুদিদি চোখ পাকিয়ে বললেন, “কালাম, তুমি দাঁত বের করে হাসছ কেন?
“বিজ্ঞানের একটা পরীক্ষা করব সেটা চিন্তা করে আনন্দ হচ্ছে।”
“কী পরীক্ষা?”
কালাম মাথা নেড়ে বলল, “এখন বলা যাবে না।”
“কেন বলা যাবে না?”
“এখন বললে আপনি জেনে যাবেন, তাহলে আর কোনো মজা থাকবে না?”
রাণুদিদি খুব দুশ্চিন্তায় ছিলেন এবং দেখা গেল তাঁর দুশ্চিন্তা অমূলক নয়। পরের দিন কম্পিউটারের শিক্ষক মহসিন মাথার চুল ছিঁড়তে ছিঁড়তে এসে জানাল কালাম এক বালতি লবণগোলা পানি এনে তার কম্পিউটারের মাঝে ঢেলে দিয়েছে। সে নাকি পানির বিদ্যুৎ পরিবাহিতা হাতেকলমে পরীক্ষা করে দেখছিল। কম্পিউটারের মনিটর থেকে আগুনের ফুলকি বের হয়ে এসে একটা বিতিকিচ্ছির ব্যাপারে ঘটেছে। কালামকে জোর করে কম্পিউটার শেখানোর ফলে এরকম হলে সে ভুলেও এই পথে পা মাড়াত না!
কালামের একমাত্র সাফল্য দেখা গেল অঙ্ক ক্লাসে। পাইকারি দোকান থেকে কলা কিনে রেলগাড়ি কিংবা বাসস্টেশনে খুচরো বিক্রি করে করে সে সংখ্যা এবং যোগ-বিয়োেগ খুব ভালো শিখে গেছে। তবে যে-কোনো সমস্যার উত্তর সে টাকাতে দিয়ে থাকে। যেমন, তাকে যখন বলা হয়”করিমের কাছে চারটি বই, রহিমের কাছে তিনটি বই, মোট কতটি বই?” কালাম উত্তরে বলে সাত টাকা! অঙ্কের ঘাঘু শিক্ষক প্রফেসর আলি কালামের মাথা থেকে টাকা রোগ সরিয়ে সাধারণ ছাত্রে পালটানোর চেষ্টা করছেন কিন্তু এখনও খুব লাভ হয়নি। লাভ হবে সেরকম মনে হয় না।
কালামের জন্যে যে-মানুষটির কাজকর্ম খুব বেড়েছে তিনি হচ্ছেন মার্থা রোজারিও। প্রত্যেক দিনই কিছু ছেলেমেয়েকে তার কাছে হাজির করা হয় যাদের হাত বা পায়ের ছাল উঠে গেছে, খানিকটা চুল ছিঁড়ে এসেছে, নাক থেকে রক্ত বের হচ্ছে, পা মচকে গেছে–কখনো কখনো আরও বেশি, এক কান দিয়ে কিছু শুনছে কিংবা ডান পায়ে কোনো অনুভূতি নেই! এই সমস্ত রোগীর বেশিরভাগই কালামের নিজের হাতে তৈরি করা, তারা হয় কালামের নানা ধরনের পরিকল্পনায় অংশ নিয়েছে কিংবা তার দ্বৈতযুদ্ধের আহ্বানে সাড়া দিয়েছে। মার্থা রোজারিও মোটামুটিভাবে ত্যক্তবিরক্ত হয়ে আছেন, এই ছেলেটিকে কীভাবে ঠিক করা যায় তিনি ভেবে পান না। পড়াশোনা শেষ করে কোনোদিন স্কুল থেকে পাস করে বের হয়ে যাবে তার কোনো আশা নেই, খোঁজ নিয়ে শুনেছেন সে এখনও স্বরবর্ণের প্রথম অক্ষর ‘অ’-তে আটকে আছে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now