বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

স্কুলের নাম পথচারী (২৫)

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান TARiN (০ পয়েন্ট)

X স্কুলের পড়াশোনার অংশটা কালামের একেবারেই ভালো লাগে না, তবু সে মোটামুটি নিয়মিত আসে, কারণ পড়াশোনা ছাড়াও সেখানে আরও নানারকম দুষ্টুমি করা যায়। সে একেকদিন একেকজনের পিছনে লাগে, ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের শেষ করে সে এখন বড়দের ধরেছে। গত কয়েকদিন সে যার পেছনে সময় ব্যয় করছে সে হচ্ছে চুনু মিয়া। চুনু মিয়া প্রত্যেকদিন দুপুরবেলা বাচ্চাদের খাবারের জন্যে একঝাঁকা রুটি এবং এক গামলা শবজি নিয়ে আসে। সেদিন কালামের কী মনে হল কে জানে হঠাৎ করে চুনু মিয়ার পায়ের মাঝে নিজের পা ঢুকিয়ে দিল। সাথে সাথে তাল হারিয়ে চুনু মিয়া আছাড় খেয়ে পড়ল, তার শবজি উঠে গেল আকাশে এবং নিচে নেমে আসার সময় সেগুলো এসে পড়ল তার শরীরে। তাকে দেখাতে লাগল বিশাল আধ-খাওয়া একটা শিঙাড়ার মত। চুনু মিয়া মেঝে থেকে কোনোমতে উঠে ন্যাংচাতে ন্যাংচাতে কালামকে ধরার চেষ্টা করল। তাকে ধরতে পারলে কী হত কেউ জানে না, কিন্তু তাকে ধরা গেল না। কিছুক্ষণের মাঝেই খবর পৌঁছে গেল ক্লাস টিচার মির্জা মাস্টারের কাছে এবং মির্জা মাস্টার কালামকে ডেকে পাঠালেন। মেঘস্বরে জিজ্ঞেস করলেন, “কালাম তুমি চুনু মিয়াকে ল্যাং মেরেছ?” কালাম মাথা চুলকে বলল, “জি স্যার মেরেছি।” “কেন মেরেছ?” “কেমন জানি লোভ হল স্যার। কারও ঠ্যাং দেখলেই আমার ল্যাং মারার ইচ্ছে করে। পায়ের মাঝে কুটকুট করতে থাকে স্যার।” “পায়ের মাঝে কুটকুট করে?” মির্জা মাস্টার হুংকার দেওয়ার চেষ্টা করলেন কিন্তু বেশি অবাক হয়েছিলেন বলে হুংকারে জোর হল না। বললেন, “খবরদার আর যদি পা কুটকুট করে ভালো হবে না কিন্তু। আর ল্যাং মারবে?” কালাম মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল। মির্জা মাস্টার আবার জিজ্ঞেস করলেন, “মারবে?” “জানি না স্যার। হঠাৎ করে লোভ লেগে যায়, তখন স্যার” “খবরদার তুমি আর চুনু মিয়ার ধারে কাছে আসবে না। চুনু মিয়াকে তুমি আর ছুঁতে পারবে না।” কালাম একগাল হেসে বলল, “ঠিক আছে স্যার, আমি আর চুন্ন চাচাকে ছোঁব!” কাজেই কালাম পরের দিন অসতর্ক চুনু মিয়ার পায়ের সামনে একটা কলার ছিলকে ফেলে দিয়ে তাকে আছড়ে ফেলে দিল, আগের দিন থেকে অনেক জোরে। চুন্নু মিয়া যখন তার মুণ্ডু ছিঁড়ে ফেলার জন্যে তাকে স্কুলের করিডোরে ধাওয়া করতে লাগল, কালাম তারস্বরে চিৎকার করে বলতে লাগল, “ছুঁই নাই, আমি ছুঁই নাই। খোদার কসম ছুঁই নাই!–” যে-বিষয়টিতে কাউলার অল্পকিছু উৎসাহ দেখা গেল সেটি হচ্ছে বিজ্ঞান। বিজ্ঞানের সূত্রে তার সেরকম উৎসাহ নেই–তার উৎসাহ শুধুমাত্র ধ্বংসাত্মক দিকটিতে। রাণুদিদিকে সে যেসব প্রশ্ন করল সেগুলি এরকম: বোমা বানানো কি খুব কঠিন? ইলেকট্রিক শক দেওয়ার কোনো যন্ত্র কি আবিষ্কার হয়েছে? ছাদের উপর থেকে নিচে কারও মাথায় ঢেলা ফেললে কী হয়? চিমটি দিলে ব্যথা লাগে কেন? অদৃশ্য হয়ে যাবার কোনো ওষুধ কি আবিষ্কার হয়েছে? কারও চায়ে কেরোসিন ঢেলে দিলে কী হয়? চুলে আগুন ধরিয়ে দিলে বোটকা গন্ধ কেন বের হয়?


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ স্কুলের নাম পথচারী (২৫)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now