বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ফরাসত আলিকে থানা থেকে উদ্ধার করে আনার পর বেশ কিছুদিন কেটে গেছে। চুনু মিয়া কয়েকদিন আড়ালে আড়ালে ছিল–কিন্তু ফরাসত আলি নেহায়েৎ ভালো মানুষ–চুনু মিয়ার উপরে সেরকম রেগে যাননি বলে সে এখনও চাকরিতে বহাল আছে। পথচারী স্কুলের কাজকর্ম মোটামুটি ভালোই চলছে, যারা পড়াচ্ছে বা কাজ করছে সবাই তাদের কাজে বেশ অভ্যস্ত হয়ে এসেছে। ঠিক এরকম সময়ে একটা চিঠি এল। হলুদ রঙের খামে একটা সরকারি চিঠি। খামটাকে দেখে বোঝার উপায় নেই কিন্তু ভিতরের চিঠিটা পড়ে ফারুখ বখত আর ফরাসত আলির হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে গেল।
চিঠির উপরে নানা ধরনের সংখ্যা, তারিখ এবং কটমটে লেখা, সরকারি চিঠিতে যেরকম থাকে। কাগজের মাঝামাঝি জায়গা থেকে চিঠি শুরু হয়েছে। ওপরে সম্বোধন নেই, তার বদলে লেখা, যাহার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। চিঠিটা এরকম।
এতদ্বারা জানানো যাইতেছে যে, গণপূর্ত বিভাগে স্থানীয় এলাকার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ চিকিৎসক আইনজীবী এবং সরকারি কর্মচারীবৃন্দ এই মর্মে অভিযোগ করিয়াছেন যে অত্র অঞ্চলে একটি বেআইনি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হইয়াছে। শিক্ষাদানের পটভূমিকায় এই প্রতিষ্ঠানটি প্রকৃতপক্ষে একটি বিপজ্জনক স্থান এবং ছাত্রছাত্রীদের প্রাণের উপর হুমকিস্বরূপ।
কেন এই বেআইনি প্রতিষ্ঠানটিকে অত্র অঞ্চল হইতে সম্পূর্ণরূপে অপসারিত করা হইবে না, পত্রপাঠমাত্র সেই সম্পর্কে অত্র বিভাগকে অবহিত করিবার জন্য নির্দেশ দেয়া হইতেছে।
চিঠি এইখানে শেষ, তার নিচে নানা ধরনের সংখ্যা এবং চিহ্ন এবং একজন মানুষের স্বাক্ষর। স্বাক্ষরটি ইংরেজি বাংলা বা আরবি যে-কোনো ভাষায় হতে পারে–দেখে বোঝার কোনো উপায় নেই।
চিঠি পড়ে ফারুখ বখত বললেন, “সর্বনাশ!”
ফরাসত আলি কিছু না বলে একটা লম্বা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। এরকম সময়ে তিনি দাড়ি চুলকাতে থাকেন, এখন সে-চেষ্টা করতে গিয়ে আবিষ্কার করলেন মুখমণ্ডল চাঁছাছোলা এবং তখন তিনি নিজের দাড়ি এবং চুলের জন্যে আরেকটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে জিজ্ঞেস করলেন, “কী লিখেছে চিঠিতে?”
ফারুখ বখত মাথা চুলকে বললেন, “ঠিক বুঝতে পারলাম না। মনে হচ্ছে খুব খারাপ চিঠি।”
ফরাসত আলি বললেন, “আমাদের দেশে বাংলা ভাষা চালু হয়ে গেছে না? সরকারি চিঠি বাংলায় লেখার কথা না?”
ফারুখ বখত গম্ভীর গলায় বললেন, “এটা বাংলা চিঠি।”
“বাংলা নাকি?” ফারুখ বখত অবাক হয়ে বললেন, “তা হলে কিছু বুঝতে পারলি না। কেন?”
“সরকারি চিঠি পড়ে কিছু বোঝা যায় না!”
“আবার পড় দেখি! আস্তে আস্তে পড়িস।”
ফারুখ বখত আস্তে আস্তে পড়লেন, কয়েকটা শব্দ এবারে আগের থেকে বেশি বোঝা গেল কিন্তু তবু অর্থ পরিষ্কার হল না। তারা আন্দাজ করলেন কিছু একটা জিনিস বেআইনিভাবে করা হচ্ছে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now