বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এদিকে ফারুখ বখত নিজের মাথার চুল প্রায় ছিঁড়ে ফেলছেন। এক্ষুনি বিজ্ঞান ক্লাস শুরু হবে। কিন্তু সেই ক্লাসে পড়ানোর জন্যে রাণুদিদি নেই–তাঁকে বাংলা ক্লাসে পাঠানো হয়েছে। বিজ্ঞান ক্লাস শুরু হবার পরপরই পৌরনীতির ক্লাস, যেটা তাঁর নিজের নেয়ার কথা। ফারুখ বখত কী করবেন বুঝতে পারছেন না। তিনি নিজে বিজ্ঞান ক্লাসটা নিতে পারেন কিন্তু অন্য কাউকে পৌরনীতি ক্লাসটা নিতে হবে। অন্য কেউ বলতে বাকি রয়েছে মাত্র দুইজন। স্কুলের বাবুর্চি তথা দারোয়ান তথা দপ্তরি চুনু মিয়া এবং স্কুলের নার্স মার্থা রোজারিও। চুনু মিয়া খুব চৌকস মানুষ, সে যদি একটা ক্লাস পড়িয়ে ফেলতে পারে অবাক হবার কিছু নেই। তিনি একবার চেষ্টা করে দেখার চেষ্টা করলেন। জানালা দিয়ে মাথা বের করে চিৎকার করে ডাকলেন, চুনু মিয়া
চুনু মিয়া প্রায় সাথে সাথে ছুটে এল। ফারুখ বখত মাথা চুলকে বললেন, “তুমি তো অনেক কাজের মানুষ।
চুনু মিয়া একগাল হেসে বলল, “আপনাদের দোয়া।”
“বাচ্চাদের একটা বিজ্ঞানের ক্লাস নিতে পারবে? বেশি কঠিন কিছু না, একটু আর্কিমিডিসের সূত্র–একটু নিউটনের সূত্র–”
চুনু মিয়া হাতজোড় করে বলল, মাপ করেন স্যার, “আমি মূর্খ মানুষ। পড়াশোনা করি নাই।”
“পড়াশোনা কর নাই?”
“না স্যার।”
ফারুখ বখত চোখ পাকিয়ে চুনু মিয়ার দিকে তাকিয়ে রইলেন। চুনু মিয়া মুখ কাঁচুমাচু করে বলল, “মার্থা আপা অনেক শিক্ষিত মানুষ। মার্থা আপাকে নিয়ে আসি?”
ফারুখ বখত খানিকক্ষণ কী-একটা ভেবে বললেন, “ঠিক আছে, আমি যাচ্ছি বিজ্ঞান ক্লাসটা নিতে। তুমি মার্থা আপাকে গিয়ে ডেকে আনো, বলো তাকে পৌরনীতি ক্লাসটা নিতে হবে।”
“পৌড়ানীতি?”
“পৌড়ানীতি না, পৌরনীতি।”
“ঐ একই কথা।” চুনু মিয়া এক গাল হেসে ঘর থেকে বের হয়ে গেল।
ফারুখ বখত হাত দিয়ে মাথার চুলগুলি ঠিক করে রওনা দিলেন। বিজ্ঞান ক্লাসে ছেলেমেয়েরা ভিড় করে দাঁড়িয়ে গল্পগুজব করছিল। ফারুখ বখতকে ঢুকতে দেখে সবাই চুপ করে গেল, ঢ্যাঙ্গামতন একজন জিজ্ঞেস করল, “স্যার আপনি?”
“হ্যাঁ। আমি। আমি আজকে তোমাদের বিজ্ঞান পড়াব।”
“সত্যি?”
“সত্যি।”
“আপনি পারবেন?”
ফারুখ বখত ভুরু কুঁচকে বললেন, “পারব না কেন?”
“কী পড়াবেন স্যার আজকে?”
“আজকে আমি তোমাদের পড়াব বিদ্যুৎ। স্থির বিদ্যুৎ।” ফারুখ বখত সবার দিকে তাকিয়ে একটু হাসার মতো ভঙ্গি করলেন। ছাত্রছাত্রী কেউ না হেসে ফারুখ বখতের দিকে তাকিয়ে রইল। ফারুখ বখত একটু কেশে বললেন, “বিদ্যুৎ কী তোমরা সবাই জান। বিদ্যুৎ মানে হচ্ছে ইলেকট্রিসিটি। ইলেকট্রিসিটি মানে হচ্ছে বিদ্যুৎ”এইটুকু বলে ফারুখ বখত বুঝতে পারেন তিনি বিদ্যুৎ সম্পর্কে আর কিছুই জানেন না। হঠাৎ করে তিনি কেমন জানি বিপন্ন রোধ করতে থাকেন। তার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল; তিনি কয়েকবার ঢোক গিললেন।
সামনে বসে থাকা সাদাসিধে চেহারার একটা মেয়ে বলল, “স্যার স্থির বিদ্যুৎ মানে কী?”
“স্থির বিদ্যুৎ মানে হচ্ছে যে বিদ্যুৎ স্থির। মানে যেটা নড়াচড়া করে না।”
“বিদ্যুৎ আবার নড়াচড়া করে কেমন করে?”
ফারুখ বখত চোখে অন্ধকার দেখলেন, একটু কেশে বললেন, “তোমাদের এখন স্থির বিদ্যুৎ দেখাব।”
“স্যার স্থির বিদ্যুৎ দেখা যায়?”
“এ্যাঁ–ইয়ে মানে মনে হয় দেখা যায়। তিনি তখন টেবিলের উপর রাখা ভ্যান ডি গ্রাফ যন্ত্রের কাছে গিয়ে বললেন, “এটার নাম ভ্যান-ভ্যান ভ্যান”
হঠাৎ করে তিনি নামটা ভুলে গেলেন, আর সব ছেলেমেয়ে খুশিতে হেসে ফেলল।”কী সুন্দর নাম, ভ্যান ভ্যান ভ্যান।”
ফারুখ বখত বুঝতে পারলেন যতই সময় যাচ্ছে ততই তিনি গোলমাল করে ফেলছেন। জোর করে আবার একটু হেসে বললেন, “এখন তোমাদের দেখাব স্থির বিদ্যুৎ।”
ফারুখ বখত গিয়ে ছোট ভ্যান ডি গ্রাফ যন্ত্রের মডেলটির সুইচ অন করে দিলেন, সাথে সাথে ঘড় ঘড় শব্দ করে সেটা চালু হয়ে গেল। কালো রঙের একটা বেল্ট ঘুরতে থাকে কিন্তু তার বেশি কিছু নয়। সামনে বসে থাকা একজন জিজ্ঞেস করল, “স্যার স্থির বিদ্যুৎ কোথায়?”
ফারুখ বখত মাথা চুলকালেন। তিনি নিজেও জানেন না স্থির বিদ্যুৎটি কোথায়, অনিশ্চিতের মতো ভ্যান ডি গ্রাফের মডেলটির কাছে এগিয়ে গেলেন। তারপর তিনি যেটা করলেন বিজ্ঞানের সত্যিকারের শিক্ষকরা সেটা করে না, ভ্যান ডি গ্রাফের উপরের বড় গোলাকার অংশটি একটু ছুঁয়ে দেখতে চাইলেন। উপস্থিত ছেলেমেয়েরা চমৎকৃত হয়ে দেখল ভ্যান ডি গ্রাফের গোলক থেকে বিশাল একটা বিদ্যুৎ ঝলক প্রায় বজ্রপাতের মতো ফারুখ বখতের দিকে ছুটে গেল এবং ফারুখ বখত বিকট চিৎকার করে ঘরের এক কোণায় ছিটকে পড়লেন। দেয়ালে তাঁর মাথা ঠুকে গেল, প্রথম তার চোখের সামনে নানা রঙের আলো খেলা করতে লাগল এবং শেষে হঠাৎ করে সবকিছু অন্ধকার হয়ে গেল।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now